উদ্যোক্তা হতে হলে /Be an Entrepreneur

 

উদ্যোক্তা হতে হলে অন্তরদৃষ্টি প্রসারিত করো
ভবিষ্যতের ভাবনা এখনই ভাবতে পারাই উদ্যোক্তার হওয়ার প্রধান শর্ত ।  উদ্যোক্তা হওয়ার এটাই একমাত্র শর্ত। উদ্যোক্তাদের অন্তর্দৃষ্টি থাকতে হয় এবং ভবিষ্যৎ দেখতে পারার যোগ্যতা থাকতে হয়। তা না হলে উদ্যোক্তা হওয়া কঠিন।

কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে

জীবনে সফল হতে হলে অবশ্যই আপনাকে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।  আজকে থাক, কালকে করবো, সময় তো আছেই;  আরে এটা তো একদম সহজ কাজ,  বেশীক্ষণ সময় লাগবে না এই ধরনের চিন্তাও কাজ পুরোপুরি বর্জন করতে হবে।  

শেষ মুহূর্তে হয়ত কাজটি করে ফেলবেন । কিন্তু শেষ মুহূর্তের কাজ অনেক সময়ই ভালো হয় না।   অলস মস্তিষ্কে শয়তানের বাস একথাটির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত।  সময়ের কাজ সময়ে করলে অলসতা একেবারেই কাছে আসতে পারবেনা । 

 কিছু মানুষ আছেন যারা বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে থাকেন।  তারা সবসময় অলীক কল্পনায় ডুবে থাকতে পছন্দ করেন।  কল্প বিলাসীরা মনে মনে সারা বিশ্ব ঘুরে এসে দেখে দাঁড়িয়ে আছে এক টুকরো হতাশার সামনে। অলীক কল্পনার জগত থেকে বের হয়ে আসুন।  বাস্তবতার মুখোমুখি হন,  কারণ বাস্তবতা অনেক কঠিন।

“অন্যের ব্যক্ত ধারণা দিয়ে আপনার নিজের অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনাকে নিমজ্জিত করবেন না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল অন্তর্দৃষ্টি অনুসরণ এবং সাহসের মানসিকতা থাকা”। কথাটি বলেছেন  প্রযুক্তি  উদ্ভাবক  স্টিভ জবস ।

তুলনা করবেন নিজের সাথে নিজের 

 এ তো ছিল সফল হওয়ার জন্য কিছু অর্জন আর উৎসাহ।  তবে সফল হওয়ার জন্য কিছু অভ্যাস, আচরণ ত্যাগ করতে হয় । এটিকে বলা যায় বর্জনে অর্র্জন । প্রথমেই আপনি অন্যকে শক্তভাবে  না বলতে শিখুন। 

 অপছন্দের মানুষ কিংবা অসৎ মানুষদের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখুন।  অনেকেই অন্যদের সাথে নিজেকে তুলনা করেন।  ফলে কখনো অহংকারী হন,  আবার কখনো হীনম্মন্যতায় ভোগেন। কিন্তু সফল মানুষেরা কখনোই সেটা করেন না। 

 তারা তুলনা করেন, তবে অন্য কারো সাথে নয়, নিজের সাথে নিজের ।  আজকের আপনি আর গতকালের আপনিকে তুলনা করুন। দেখুন গতকালের ভুল থেকে একটু হলেও বেড়িয়ে আসতে  পেরেছেন কিনা । যদি হয়ে থাকে তাহলে আপনি অবশ্যই কিছু অর্জন করেছেন ।

কারো পিছুলাগা বা অন্যের সমালোচনা করা ছেড়ে দিন । অন্যের নয়,নিজের খুঁতগুলো বের করার চেষ্টা করুন। সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নিন ।  তাহলেই সফলতা ধরা দেবে আপনার হাতে।  আবার আমরা অনেক সময় কাজের চাপে কাছের মানুষদেরকে অবহেলা করি । 

 অবহেলা করি নিজের শখ আর ভালো লাগাকেও।  এতে করে আমরা সফল হলেও হারিয়ে ফেলছি প্রিয় কিছু মানুষ । নিজের সুখের উৎস । তাই কাজের পাশাপাশি এসব ব্যাপারকেও গুরুত্ব দিতে শিখুন।

নিজের চিন্তাকে নতুন পথে পরিচালনা করুন

আজ যারা সফল,  গতকাল তারা নিজের চিন্তাকে নতুন পথে পরিচালনা করেছিলেন।  আপনি যত বেশী সফল হবেন,  আপনি তত বেশী সফল হতে চাইবেন,  আর আপনি ততই সফল হওয়ার নতুন পথ খুঁজে পাবেন।  একবার আপনি সফল হয়ে গেলে আপনার শত্রুও তখন আপনার সাথে বন্ধুত্ব করতে চাইবে । তাই আজ থেকেই সাধনা শুরু করে দিন।  একদিন সাফল্য আপনার হাতে ধরা দিবেই।

উদ্যোক্তাদের অন্তর্দৃষ্টি থাকতে  হয়

জীবনের নানা দোলাচলের মাঝে তাঁকে টপকে যেতে হয় একের পর এক বাধার সিঁড়ি। স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার সুতীব্র বাসনা তাঁকে পথ দেখায় অবিরাম। সেই পথে হাঁটতে হাঁটতে কেউ কেউ পৌঁছে যান সাফল্যের সোনালী বন্দরে। 

তেমনই একজন সফল ব্যক্তিত্ব মোস্তফা কামাল। তিনি দেশের শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান। মেঘনা ঘাটের পূর্ব-পশ্চিম প্রান্তজুড়ে কয়েক কিলোমিটারব্যাপী গড়ে তুলেছেন এক বিশাল শিল্প সাম্রাজ্য। 

ভবিষ্যতের ভাবনা এখনই ভাবতে পারাই উদ্যোক্তার হওয়ার প্রধান শর্ত বলে মনে করেন মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আগামীকাল কী হবে, কী প্রয়োজনীয়তা মানুষ অনুভব করবে, কী সমস্যার মুখোমুখি হবে সেসব এখনই ভাবো। তারপর সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নাও। উদ্যোক্তা হওয়ার এটাই একমাত্র শর্ত। উদ্যোক্তাদের অন্তর্দৃষ্টি থাকতে হয় এবং ভবিষ্যৎ দেখতে পারার যোগ্যতা থাকতে হয়। তা না হলে উদ্যোক্তা হওয়া কঠিন।

কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে

 নিজেকে এমনভাবে তৈরি করুন যেন সবসময় অন্যদের কাছে আপনাকে আত্মবিশ্বাসী দেখায়।  যখন কেউ নিজেকে ভালভাবে জানে, তখন সহজাতভাবে নিজের আত্মবিশ্বাসের জায়গাটি আরও বেশি মজবুত হয়ে যায়। 

 এটি এক জাদুকরি শক্তি যা নিজের কর্মকাণ্ড এবং নিজের শক্তি-সামর্থ্যের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।  তবে আন্তরিকতা ও নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে।  যদি তা না থাকে,তবে আমরা কখনোই আমাদের কাজে সফল হতে পারব না। ভালোবাসা ও সৎসাহস- এই দুটি জিনিস যখন বাড়ে, তখন মানুষ নিজেকে উজাড় করে দিয়ে সফলতার দিকে এগিয়ে যায়।

সাধারণ মানুষের অসাধারণ হয়ে ওঠার একটা গল্প থাকে। সেই গল্পের পাতায় পাতায় থাকে সংগ্রাম আর টিকে থাকার লড়াই। সেইসব কষ্টকর দিনের স্মৃতিচারণা করে মোস্তফা কামাল বলেন, সেদিন যদি বাবা বাইসাইকেল কিনে দিতেন, তাহলে হয়ত তার উদ্যোক্তা হওয়া হতো না। একটি বাইসাইকেলের ব্যর্থতা তাঁর জীবনে এনে দিয়েছে অসীম সাফল্য। 

এখন মেঘনা গ্রুপের পণ্য আনা নেওয়ার জন্য রয়েছে নিজস্ব আড়াই হাজার গাড়ি। আরো রয়েছে প্রায় ১০০টি অভ্যন্তরীণ জাহাজ ও ১২টি আন্তর্জাতিক জাহাজ। মোস্তফা কামাল বলেন, এসএসসি পাশ করার পর বাবার কাছে আবদার করলাম একটা বাইসাইকেল কিনে দেওয়ার। ভাবলাম, সাইকেল পেলে কলেজে যাওয়া আসার সুবিধে হবে। 

এতটা পথ আর হাঁটতে হবে না। বাবা ছোটখাটো একটা সরকারি চাকরি করতেন। তার সামর্থে কুলালো না। তিনি সাইকেল কিনে দিতে অপারগ হলেন। আমিও তখন রাগ করে বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে এলাম। 

ঢাকায় আসার পর মোস্তফা কামাল নেমে পড়েন উদ্যোক্তা হওয়ার এক কঠিন সংগ্রামে। তিনি ঢাকায় এসে যাত্রাবাড়িতে থাকতেন। সেখানে থেকে ৭৫ টাকায় একটি চাকরি নেন। এ আয় থেকে কিছু টাকা জমাতে থাকেন। 

যাত্রাবাড়িতে এক কাকার সুপারির দোকানে বসতেন তিনি। আর এখান থেকে তিনি ব্যাবসার অনুপ্রেরণা পান। সেই জমানো টাকা দিয়েই তিনি ব্যাবসা শুরু করেন।শুরুতেই ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে সুপারী, আদা, রসুনসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এসে ঢাকায় বিক্রি করেন।

কথায় নয় কাজে বড় হওয়ার চেষ্টা করুন 

কথা কম কাজ বেশি। সফল মানুষরা কথা কম বলেন। তাই কথায় নয় কাজে বড় হওয়ার চেষ্টা করুন ।  চুপচাপ থাকলে মনের সঙ্গে সংযোগ বাড়ে, এর চেয়ে ভালো নিজের সঙ্গে কথা বলুন।  আপনার কাজের মান বাড়বে।  

লোকে অনেক কথাই বলবে। কান দিবেন না।  শুধু এটাই মনে রাখুন সময় এবং পরিস্থিতিই জানান দিয়ে দিবে অন্যদের চাইতে আপনি কতটা সফল ।  অন্য কারো ইচ্ছের প্রতিফলন না করে নিজের ভালো লাগার কাজটি করুন। জীবনের একটা উদ্দেশ্য খুঁজে বের করুন এবং বিশ্বাস করুন যে, আপনি ব্যতিক্রমী কিছু করতে সক্ষম।

 জীবনে ভালো কিছু সব সময় দেরিতেই আসে। সাফল্য ধরা দিতে সময় নেয়। তাই বলে কখনো তাড়াহুড়ো করবেন না এবং নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে চেষ্টা করুন। নিজের খারাপ সময়গুলোকে শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করুন। কারণ এটাই হয়ে উঠবে আপনার জন্য সফলতার গল্প। জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য হোঁচট খাওয়া একটা শিক্ষা।  হোঁচট খেলে আপনার আত্মবিশ্বাসের জায়গাটি আরও শক্তিশালী হবে।  কারণ আপনি বিশ্বাস করেন নিজ শক্তিতেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

নিজেকে কামলা বলে পরিচয় দিলেন মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আমি একজন কামলা। কাজপাগল মানুষ। কাজ না করলে আমার ভালো লাগে না। সারাদিন কাজের মধ্যে ডুবে থাকতেই পছন্দ করি। 

মাত্র ১৭৫ টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসায় নেমেছিলাম। যাত্রাবাড়ির লজিং বাড়ি থেকে চার আনা পয়সা খরচ করে বাসযোগে গুলিস্তান আসতেন। তারপর গুলিস্তান থেকে  হেঁটে পুরাতন ঢাকার মৌলভীবাজারে হাজী মোহাম্মদ হোসেনের দোকানে পৌঁছতেন এবং সারাদিন কাজ শেষে আবার পায়ে হেঁটে  ফিরে আসতেন।

মাইলের পর মাইল ১৬ কেজি ওজনের তেলের ক্যান মাথায় করে বহন করতেন মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, তাঁর জন্ম কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ভারত সীমান্তের কাছাকাছি । মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সীমানাপ্রাচীর টপকিয়ে ভারতে যেতেন এবং সেখান থেকে ভোজ্য তেলের ক্যান কিনে বাংলাদেশে এনে বিক্রি করতেন। 

এই পুরোটা পথ  ১৬ কেজি ওজনের তেলের ক্যান মাথায় করে বহন করতেন মোস্তফা কামাল। পরে তাঁর মা বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে এ কাজ থেকে নিবৃত্ত করেন। কিন্তু রক্তের মধ্যে যার ব্যবসায়ী হওয়ার নেশা, তিনি কেন বসে থাকবেন। ঠিকই ঢাকায় এসে আবার সেই কষ্টকর, দুর্গম পথ বেছে নেন।

উদ্যোক্তা হওয়ার পথে পা বাড়িয়ে দেখলেন, এ পথে বিস্তর কাঁটা। পদে পদে বাধা। ১৯৮২ সালে প্রথমবারের মতো পামওয়েল আমদানী করেন। কিন্তু সেই তেলের মান সামান্য খারাপ ছিল,নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি যেটা বুঝতেই পারেননি। ফল হলো ভয়াবহ। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাস করতে পারেন না। 

এভাবে প্রায় দুই বছর ধরে তেলের ড্রামগুলো পড়ে থাকল বন্দরে। মোস্তফা কামাল প্রায় পথে বসে গেলেন। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ভাবলেন, পরিবহণ ব্যবসায় নামবেন। অনেক ভেবে চিন্তে গুলিস্তান থেকে মিরপুর-১১ নম্বর রুটে একটি ভক্স ওয়াগন গাড়ি নামালেন। কিন্তু বেশিদিন চালাতে পারলেন না। ড্রাইভার, হেলপারদের দৌরাত্মে পরাজিত হয়ে ব্যবসায় লস করলেন। কিন্তু হাল ছাড়ার মানুষ তো তিনি নন। 

তাই ঝুঁকলেন শিল্প প্রতিষ্ঠার দিকে। অল্প টাকায় তিনি মেঘনা নদীর পাড়ে জমি কিনে তাতে তেলের কারখানা দেন। যাতে তিনি নিজেই তেল পেকেট জাত করে পুণরায় উঠে আসার চেষ্টা করেন। আর তিনি তাতে বেশ কিছু সাফল্য অর্জন করেন। পর্যায়ক্রমে তিনি প্রায় ১৫টি কোম্পানির মালিক হন।

 যে কোন পরিস্থিতির  ভালো দিকটা খুঁজে বের করুন

একথা আমরা সবাই জানি যে, ভালোরও কিছু মন্দ দিক থাকে আবার মন্দেরও কিছু ভালো দিক আছে ।  জীবনে যাই হয়ে যাক না কেন, যেমন পরিস্থিতিই আসুক এর ভালো দিকটা খুঁজে বের করুন। যা হচ্ছে, যা হবে এবং যা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে সব কিছুই ভালোর জন্য হয়েছে; এই মানসিকতা থাকলে যেকোনো পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ হয় । 

সমস্যা যাই হোক, তার সমাধান আছে। একটু খুঁজুন, পেয়ে যাবেন। পৃথিবী নশ্বর, সেই সাথে আমাদের সমস্যাগুলোও নশ্বর। হতাশ না হয়ে হাসিমুখে সমস্যাগুলোকে মোকাবেলা করুন। মনেপ্রাণে বিশ্বাস করুন, সমস্যা সাময়িক। দেখবেন, খুব সহজেই আপনি সমস্যার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন। ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা মানসিক অস্থিরতা কমিয়ে সঠিক পথ বেছে নেয়ার শক্তি যোগায়। ইতিবাচক থাকুন, নিজের উপর বিশ্বাস ধরে রাখুন, আজ  নয়তো কাল সাফল্য আসবেই।

 আবারও বলছি সফল হওয়ার জন্য কিছু িআচার আচরণ,চিন্তা ভাবনা বদলাতে হবে। বাজে অভ্যাসগুলো খানিকটা অক্টোপাসের মতন। আষ্টেপিষ্ঠে জড়িয়ে রাখে, যতই ছাড়াতে চাইবেন, ততই আরো কঠিনভাবে আপনাকে জড়িয়ে ধরবে। 

ভালো বা খারাপ, যেকোনো অভ্যাসে একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া বেশ কঠিন। ধূমপান, মদ্যপানের মত অভ্যাস শুধু অর্থের অপচয়ই করে  না, আপনার কার্যক্ষমতা হ্রাস করে, শুষে নেয় আপনার জীবনীশক্তি।

 তাই আজই  প্রতিজ্ঞা করুন, বাজে অভ্যাসগুলো ছেড়ে দেবেন, তাতে যত কষ্টই হোক। নিজের কঠোর পরিশ্রমের ফল সুস্থভাবে উপভোগ করার জন্য হলেও খারাপ অভ্যাস ছেড়ে ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন। এর মধ্যে প্রথমেই আপনি শক্তভাবে  না বলতে শিখুন। কঠিন জীবন সহজ করার উপায় একটাই নিজেকে কঠিন থেকে কঠিনতর করে তোলা। 

জীবন আমাদের নানান অদ্ভুত অসহায় অসহ্য পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করায়। জীবনের নিয়মই এই। জীবন মানুষকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে; সহ্যের পরীক্ষা, ধৈর্যের পরীক্ষা, সামর্থ্যের পরীক্ষা। এত এত পরীক্ষার মাঝে হতাশ হয়ে পড়া অস্বাভাবিক না। 

তবে মনে রাখবেন, সাফল্যের কোনো শর্টকাট রাস্তা নেই। তার জন্য আপনাকে এই দীর্ঘ সমস্যাবহুল, পরীক্ষাসাপেক্ষ রাস্তার মধ্য দিয়ে যেতেই হবে। নিজেকে শক্ত করুন। আপনি পারবেন, পারতে যে হবেই! টিকে থাকার জন্য আপনাকে পারতেই হবে, নিজের লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য পারতে হবে, ছোট ছোট ছেলেমানুষি স্বপ্নগুলিকে সত্যি করার জন্য পারতে হবে। 

আশায় বাঁচে চাষা শুধু চাষী নয়, আমরা সবাই আশায় আশায় বেঁচে থাকি। কাল আরো ভাল কিছু হবে, এরপর থেকে সব ঠিকঠাক চলবে এমন হাজারো আশা আমাদের বেঁচে থাকার শক্তি যোগায়, সাহস যোগায়। যে মুহূর্তে আপনি ভাবছেন সব শেষ;  সব হারিয়ে ফেলেছেন,  হয়তোবা তার পরমুহূর্তেই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে এমন কিছু যা দারুণ বিস্ময়কর !

 কে বলতে পারে হয়ত কালো রাত্রের পর ভোরের উষ্ণতা নিয়ে দেখা দেবে কোনো নতুন সম্ভাবনা। লেগে থাকুন, কাল আপনার সাথে কি হবে তা আপনি জানেন না, আমরা কেউ জানি না। সব ব্যর্থতা মুছে গিয়ে সাফল্য আসবেই, শুধু একটু সময়ের অপেক্ষা, আরো একটু ধৈর্যের পরীক্ষা।

বৃক্ষ তোমার নাম কি ,ফলে পরিচয়

যতই সাধারণ, যতই উদাসীন হই না কেন নিজের একটা পরিচিতি আমরা সবাই চাই। সবাই আমাকে এক নামে চিনুক, আমাকে জানুক  এমন একটা গোপন ইচ্ছা কম বেশি আমাদের সবারই থাকে। এই সুযোগটা আপনি পেতে পারেন শুধুমাত্র আপনার কাজের মাধ্যমে। 

আপনার কাজই আপনাকে পরিচিতি এনে দেবে; আপনার পরিশ্রম, আপনার মেধার স্বীকৃতি পাইয়ে দেবে আপনার কাজ। বিশ্বায়নের এই যুগে প্রত্যেক মানুষ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। অন্যের সুখ সুবিধা দেখার, পরের কাজ এগিয়ে দেয়ার সময় কোথায়! পরের ভরসায় না থেকে নিজের কাজটুকু নিজেই করে নেওয়ার অভ্যাস থাকা ভালো। 

কাজ করতে হবে নিজেকেই। ক্ষেত্রবিশেষে অন্যের সাহায্য পাওয়া যেতে পারে, তবে বেশির ভাগ সময় তা পাওয়া যায় না। শুধু চুপচাপ কাজ করে যান আর দেখে যান, আপনার নিজের কর্মই আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে সাফল্যের দিকে। যতই উপেক্ষা আসুক আপনার কাজ আপনার পরিচয় জানান দেবেই। আপনাকে কেউ আটকাতে পারবে না, কেউ দমাতে পারবে না।

বাবার উপদেশ, পরামর্শ তিনি সব সময় মেনে চলেন। তাঁর ভাষায়, বোস্টনের বেবসন কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে যখন মেঘনা গ্রুপে যোগ দিলাম তখন বাবা বললেন, বইয়ের পড়াশোনা আর বাস্তবজীবন কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। 

জীবনে এমন অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হবে যা তুমি বইয়ের পাতায় কখনোই পাবে না। এই উপদেশ আমি সব সময় মনে রাখি।বাবা মোস্তফা কামালের উপদেশ সব সময় মনে রাখেন তানজিমা মোস্তফা। তিনি বলেন, বাবার আরো একটি উপদেশ আমি সবসময় মনে রাখি। সেটা হচ্ছে, কথা দিয়ে কথা রাখবা। কোম্পানির ক্ষতি হলেও কমিটমেন্ট রক্ষা করবা। এটাই সফল হওয়ার একমাত্র চাবি। বাবার এই উপদেশ সাড়ে আট বছরের কর্মজীবনে একবারের জন্যও তিনি  ভোলেননি বলে জানান তানজিমা মোস্তফা।

সফলতার একটাই মন্ত্র , পরিশ্রম

বাবা এখনো আঠারো ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। ছুটির দিনগুলোতে বাবাকে যদি কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কথা বলি, তখন বাবা বলেন কাজ ছাড়া থাকলে নাকি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। তাই সব সময় কাজ নিয়েই থাকেন।বাবার কাছ থেকে সবচেয়ে বড় যে শিক্ষাটা নিয়েছি সেটা হচ্ছে কঠোর পরিশ্রম। এভাবেই বাবাকে মূল্যায়ন করলেন মোস্তফা কামালের দ্বিতীয় মেয়ে তানজিমা মোস্তফা।

 সবশেষে শুধু এটুকুই বলা যায়, এখন থেকেই নিজেকে গড়ে তুলুন সফলতার মুকুট পরার জন্য। এ জীবন আপনার। আপনাকেই সাফল্যের দুয়ার খুঁজে নিতে হবে। আপনার ভাগ্য আপনার কপালে নয়, আপনার হাতের মোঠোয়। 

Post a Comment

Previous Post Next Post