এসএসসি বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়


 দাদা এবং নাতনির কথোপকথন
দাদা: টিভিতে একটি প্রামাণ্য চিত্র দেখছিলাম, প্রামাণ্য চিত্রের কাহিনি দেখে কষ্ট লাগলেও মুহূর্তের মধ্যে আমার মনটা ভালো
হয়ে গেল।
নাতনি: কী দেখে মনটা ভালো হয়ে গেল?
দাদা প্রামাণ্য চিত্রে যে নির্বাচনটি দেখছিলাম সেখানে জনগণ হাসিমুখে ভোট দিয়েছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন একটি দল পেয়েছে। এরপরও বিজয়ী দলটি ক্ষমতা হাতে পায়নি। ফলে জয়ী দলটি অন্য উপায়ে স্বাধীনতা লাভ করে।
ক. 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কখন গঠিত হয়?
খ. ১৯৬৯ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন সংঘটিত হয়-ব্যাখ্যা দাও।
গ. উদ্দীপকে দাদার বক্তব্যটির সাথে ইতিহাসের কোন নির্বাচনের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উক্ত নির্বাচনই কি স্বাধীনতা যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়? সে সম্পর্কে তোমার বক্তব্য উপস্থাপন কর।

  
'ক.রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয়।

খ. পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ১৯৬৯ সালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন সংঘটিত হয়। ইতিহাসে এটি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। এটি পরবর্তীতে বিপ্লবাত্মক রূপ পরিগ্রহ করে। এর ফলে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে।

গ . উদ্দীপকের দাদার বক্তব্যটির সাথে ইতিহাসের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের মিল রয়েছে। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ফলে ৬ দফা ও ১১ দফার প্রতি জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক বিজয় ঘটে। উদ্দীপকের দাদার বক্তব্যটিতে '৭০ সালের নির্বাচনের পটভূমিকে তুলে ধরা হয়েছে। দাদার বক্তব্য অনুযায়ী জানা যায় যে, সবাই হাসিমুখে ভোট দিয়েছে এবং একটি দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছে। এ দলটি হলো আওয়ামী লীগ। কিন্তু জয়ী হওয়া সত্ত্বেও তারা ক্ষমতা পায়নি। পাকিস্তানের সরকার ও স্বার্থান্বেষী মহলের জন্য এ নির্বাচনে বাঙালির জয়লাভ বিরাট পরাজয়। তাই তারা বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্র করতে থাকে। ফলে বাঙালি জাতি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয় এবং সশসূত্র সংগ্রামের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। এভাবে জাতীয়তাবাদের উত্থান হয়। 

ঘ. হ্যাঁ, উক্ত নির্বাচনই অর্থাৎ ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনই স্বাধীনতা যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনটি ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্ব মুহূর্তের জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটিয়েছিল। উদ্দীপকে দাদা ও নাতনির। কথোপকথনে ১৯৭০ সালের এ নির্বাচনেরই আভাস পাওয়া যায়। উক্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয় ঘটে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সরকার ও স্বার্থান্বেষী মহলের জন্য এটি ছিল বিরাট পরাজয়। তারা বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্র করতে থাকে। ফলে বাঙালি জাতি পশ্চিম পাকিস্তানের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পিছনে নির্বাচনের অপরিসীম গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে মুক্তিযুদ্ধের চরিত্র দানে বিশাল ভূমিকা রাখে। পরিণতিতে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। আমি মনে করি, উক্ত নির্বাচন তথা ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনই আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।

Post a Comment

Previous Post Next Post