ক-অংশ: গদ্য
প্রমিতা ভালো গান
করে সকল পর্যায়ে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। তাকে নিয়ে তার পরিবারের অনেক গর্ব। হঠাৎ
সড়ক দুর্ঘটনায় বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে সে। গান গাওয়া বন্ধ হয়ে যায় প্রমিতার।
একসময় যারা তার বন্ধু ছিল তারা একে একে কেটে পড়ে। আজ তার পাশে কেউ নেই। সেও ধীরে
ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেয়, সবার থেকে চোখের
আড়াল হয়ে একাকিত্বকে সঙ্গী করে দিন কাটে তার।
ক. প্রতাপ সুভার
মর্যাদা বুঝত কেন?
খ. সুভাকে সুভার মা বিধাতার অভিশাপ মনে করে কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের প্রমিতার
নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার মধ্য দিয়ে সুভার মানসিকতার কোন দিক প্রকাশিত হয়েছে?
ব্যাখ্যা কর।
ঘ. প্রমিতা ও সুভার
প্রতি পরিজনদের আচরণ কীরূপ হলে তাদের জীবনের পরিণতি ভিন্ন হতে পারত? যৌক্তিক মতামত দাও।
১ নম্বর সৃজনশীল
প্রশ্নের উত্তর
ছিপ ফেলে মাছ
ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বলে প্রতাপ সুভার মর্যাদা বুঝত।
কথা বলতে পারত না বলে সুভাকে তার মা বিধাতার অভিশাপ মনে করেন। 'সুভা' গল্পের সুভা জন্ম থেকেই বোবা। তার অনুভব ও অনুভূতি থাকলেও মা তাকে মেনে নিতে
পারেনি। সে সুভাকে তার গর্ভের কলঙ্ক মনে করত। কারণ মায়েরা কন্যা-সন্তানকে নিজেদের
অংশ মনে করে। ফলে মেয়ের কোনো সমস্যা বা ত্রুটিকে মায়েরা তাদের নিজেদের ত্রুটি
বলে ধরে নেয়। সুভার মায়ের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। সুভা কথা বলতে পারত না বলে সুভার
মা তাকে বিধাতার অভিশাপ বলে মনে করত। সে নিজের ত্রুটির কথা স্মরণ করে সুভাকে দেখলে
বিরক্তি বোধ করত।
উদ্দীপকের
প্রমিতার নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সুভার নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে করে
সবার কাছ থেকে আড়াল করার মানসিকতার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। শারীরিক ও মানসিক
প্রতিবন্ধিতার কারণে মানুষ পরিবা সমাজের নানা অবহেলার শিকার হয়। তাদের নলে দূরত্ব
তৈরির
ফলে তারাও
নিজেদেরকে গুটিয়ে নেয়। অথচ তাদের প্রতি সহনশীল ও স্বাভাবিক আচরণ করা উচিত।
উদ্দীপকে প্রমিতার হঠাৎ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলা এবং সেই কারণে
পরিবার ও সমাজের লোকজনের অবহেলার শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে
প্রমিতা দুর্ঘটনা পড়ার আগে ভালো গান করে সুনাম অর্জন করলেও বাকশক্তি হারানোর পর
ধীরে ধীরে পরিবারের অন্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কেউ তাকে আর আগের মতো
ভালোবাসে না। সবার অবহেলার কারণে সেও নিজেকে গুটিয়ে নেয়। এই দিক দিয়ে 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে প্রমিতার মিল রয়েছে। সুভা বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী। জন্ম
থেকেই সে কথা বলতে পারত না বলে তার মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করত। তার বয়সী
ছেলে-মেয়েরা তার সঙ্গে মিশতে চাইত না। প্রতিবেশীরা তার সামনেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে
নানা কথা বলে। এসব কারণে সে নিজেকে সবার কাছ থেকে আড়াল করে রাখত। তাই বলা যায় যে,
উদ্দীপকের প্রমিতার
নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সুভার নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে করে নিজেকে
আড়াল করার মানসিকতার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।
আমার মতে,
প্রমিতা ও সুভার প্রতি
পরিজনদের আচরণ সহনশীল ও স্বাভাবিক হলে তাদের জীবনের পরিণতি ভিন্ন হতে পারত।
গ. আমাদের সমাজ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি
স্বাভাবিক আচরণ করে না এবং সহানুভূতি দেখায় না। আমরা পরিবারের বিশেষ
চাহিদাসম্পন্ন মানুষকে নানাভাবে অবহেলা করি। এতে তারা আরও বেশি কষ্ট পায়। আমাদের
উচিত তাদের প্রতি সহনশীল ও স্বাভাবিক আচরণ করা।
'সুভা' গল্পে সুভা বিশেষ
চাহিদাসম্পন্ন এক কিশোরী। সে কথা বলতে না পারলেও সবকিছু বুঝতে পারে। তার অনুভূতি
সে প্রকাশ করে চোখের ভাষায় ও কাজের মাধ্যমে। অথচ সে পরিজনদের কাছ থেকে স্বাভাবিক
আচরণ পায় না। তার মা তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করে দূরে সরিয়ে রাখে, সহ্য করতে পারে না। তার বয়সী ছেলে-মেয়েরাও তার সঙ্গে মেশে না। প্রতাপও ছিপ
ফেলে মাছ ধরার সময় একজন মৌন সঙ্গী ছাড়া সে তাকে আর কিছুই ভাবে না। উদ্দীপকের
প্রমিতাও অনুরূপ অবহেলার শিকার। সে দুর্ঘটনায় পড়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলায় ধীরে
ধীরে পরিবারের সবাই তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। বন্ধুরাও তাকে ছেড়ে চলে যায়।
'সুভা' গল্পের সুভা ও
উদ্দীপকের প্রমিতা তাদের পরিজনদের দ্বারা অবহেলার শিকার হয়েছে। এটা তাদের জন্য
আরও কষ্টের বিষয় পরিবার-পরিজনদের সহায়তা ও সহানুভূতি পেলে তারা সমাজের অন্য সব
স্বাভাবিক মানুষের মতো বাঁচার স্বপ্ন দেখত। আশাহত হয়ে নিজেদের গুটিয়ে নিত না।
কারণ বিশেষ চাহিদাসম্পন্নরা যদি তাদের কাছের মানুষদের দ্বারা অবহেলার শিকার না
হয়ে তাদের যথাযথ সহানুভূতি লাভ করে, তখন তাদের
নিজেদের জীবনকে এতটা দুঃসহ মনে করত না। ফলে তাদের জীবনের পরিণতি ভিন্ন হতে পারত।
দশম শ্রেণির
শিক্ষার্থী সৌমিকের পত্রিকার সাহিত্যের পাতাগুলোর প্রতি আগ্রহ বেশি। মামার সাথে
বইমেলায় গিয়ে অবসরকালীন বিনোদনের জন্য সে কয়েকটি বই কিনে নেয়। মামা তাকে বলেন, জ্ঞানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করতে হলে বই পড়ার বিকল্প নেই। সৌমিকের বই পড়ার
আগ্রহ দেখে মামা তাকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিতে ভর্তি করে
দেন।
ক. সুশিক্ষিত লোক
মাত্রই কী?
মনের হাসপাতাল
বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকের
মূলভাব 'বই পড়া' প্রবন্ধের কোন
দিকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটির
মূলভাব মূলত 'বই পড়া' প্রবন্ধের
মূলভাবের অংশবিশেষকে প্রস্ফুটিত করে।"- বক্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
২ নম্বর প্রশ্নের
উত্তর
ক. সুশিক্ষিত লোক
মাত্রই স্বশিক্ষিত।
খ. লাইব্রেরিতে
স্বচ্ছন্দচিত্তে সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে আমাদের মানসিক শক্তি গড়ে ওঠে বলে 'বই পড়া' প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী লাইব্রেরিকে মনের
হাসপাতাল বলেছেন।
প্রমথ চৌধুরীর মতে, কেবল উদরপূর্তি হলেই আমাদের মন ভরে না। আর মনের
দাবি মেটাতে না পারলে আমাদের আত্মা বাঁচে না। মনকে সতেজ ও সরাগ রাখতে না পারলে
আমাদের প্রাণ নির্জীব হয়ে পড়ে। এ জন্যই প্রয়োজন লাইব্রেরি। লাইব্রেরিতে আমরা
স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহিত্যচর্চা করতে পারি। এতে আমাদের মন সুস্থ ও সতেজ থাকে। এ
কারণেই লেখক লাইব্রেরিকে মনের হাসপাতাল বলেছেন। গ. উদ্দীপকের মূলভাব 'বই পড়া' প্রবন্ধে বর্ণিত লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তার
দিকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ।
সুশিক্ষিত লোক
মাত্রই স্বশিক্ষিত। আর স্বশিক্ষিত হওয়ার জন্য প্রয়োজন বইপড়ার অভ্যাস বাড়ানো।
বই পড়ার অভ্যাস বাড়ানোর জন্য লাইব্রেরির বিকল্প নেই। কেননা লাইব্রেরিতে পাঠক তার
চাহিদা ও ইচ্ছা অনুযায়ী বিভিন্ন বই পড়তে পারে। এজন্য 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখক প্রমথ চৌধুরী লাইব্রেরি
প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকে বই
পড়ার আগ্রহ এবং তা বাস্তবায়নে লাইব্রেরির গুরুত্বই প্রধান হয়ে উঠেছে। বই পড়ার
অভ্যাস বাড়ানোর জন্য লাইব্রেরিই প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে। লাইব্রেরিতে পছন্দের
বই পড়ে একজন ব্যক্তি যথার্থ শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে। 'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক এটিই বোঝাতে চেয়েছেন। আর
প্রবন্ধের এই দিকটিই উদ্দীপকের মূলভাবে ফুটে উঠেছে।
ঘ. সাহিত্যচর্চার
আবশ্যকতা বর্ণনায় 'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক
বিভিন্ন বিষয়ের অবতারণা করলেও উদ্দীপকে শুধু লাইব্রেরির গুরুত্বের দিকটিই
প্রস্ফুটিত হয়েছে। প্রগতিশীল জগতের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে সাহিত্যচর্চার
প্রয়োজনীয়তা
অপরিসীম। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে ব্যক্তির আত্মিক উন্নতি ঘটে। এই অভ্যাস ব্যক্তিকে
স্বশিক্ষিত করে তোলে। তাই 'বই পড়া প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী আমাদের
পাঠচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলতে বলেছেন। পাঠচর্চার অভ্যাস গড়তে পারলেই একজন যথার্থ
মানুষ হয়ে ওঠা সহজ হয়। আর এক্ষেত্রে লাইব্রেরির ভূমিকা অগ্রগণ্য।
উদ্দীপকে সৌমিককে
সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী মনোভাব পোষণ করতে দেখা গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে লব্ধ
শিক্ষা পূর্ণাঙ্গ নয় বলে ব্যাপকভাবে বই পড়া দরকার। উদ্দীপকে সৌমিক 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের কাঙ্ক্ষিত পাঠচর্চার
অভ্যাসকারী। সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পছন্দের বই পড়তে ভালোবাসে। প্রবন্ধে লেখক
সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিবন্ধকতা এবং এসব প্রতিবন্ধকতা থেকে উত্তরণের
উপায় বর্ণনা করেছেন। উদ্দীপকে সেগুলোর ভেতর কেবল একটি দিকই উঠে এসেছে।
জগতের সাথে তাল
মিলিয়ে উন্নত জীবন যাপন করতে হলে স্বশিক্ষিত হতে হবে। আর এজন্য দরকার বই পড়া। এই
বই পড়ার চর্চার জন্য আবার প্রয়োজন লাইব্রেরি। 'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি এবং বই পড়ার গুরুত্ব ব্যাখ্যা
করলেও উদ্দীপকে এসব আসেনি। সেখানে শুধু বই পড়ার চর্চায় লাইব্রেরির ভূমিকার
দিকটিই উঠে এসেছে। তাই বলা যায়,
উদ্দীপকটির মূলভাবে মূলত 'বই পড়া' প্রবন্ধের মূলভাবের অংশবিশেষকে প্রস্ফুটিত
করে-উক্তিটি যথার্থ।
৩. আকলিমা দরিদ্র
ঘরের মেয়ে। অন্যের বাড়িতে কাজ করে। বাসন মাজা, ঘরমোছা, কাপড় ধোয়াসহ সব কাজ নিপুণ হাতে করে। এছাড়াও
গৃহকর্তার ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা করে। কিন্তু সামান্য ভুল হলেও গৃহকর্ত্রী তাকে
বকাঝকা করে। একদিন তার হাত থেকে একটি চায়ের কাপ পড়ে ভেঙে গেলে গৃহকর্ত্রী তাকে
মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে কাজ ছেড়ে চলে যেতে বলে।
ক. মমতাদির
কপালের ক্ষত চিহ্নটি কেমন?
খ. মমতাদি অন্যের
বাড়িতে কাজ করে কেন?
গ. উদ্দীপকের
আকলিমা ও মমতাদি গল্পের মমতাদির মধ্যে সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. 'উদ্দীপক ও 'মমতাদি' গল্পের গৃহকর্ত্রীছয় দুই ভিন্ন মানসিকতার
অধিকারী' বিশ্লেষণ করো।
৩ নম্বর প্রশ্নের
উত্তর।
ক. মমতাদির
কপালের ক্ষত চিহ্নটি আন্দাজে পরা টিপের মতো।
খ. স্বামীর চাকরি
না থাকায় সংসার চালানোর তাগিদে মমতাদি অন্যের বাড়িতে কাজ নিয়েছিল।
মমতাদির স্বামীর
চাকরি ছিল না প্রায় চার মাস। ঘরে একটি ছেলে সন্তানও ছিল তার। স্বামীর চাকরি না
থাকার দরুন সংসার অচল হয়ে পড়েছিল। তাই সংসারের অভাব মেটাতে মমতাদি অন্যের
বাড়িতে রাঁধুনির কাজ নিয়েছিল।
গ. গৃহস্থালির
কাজে নিপুণতা ও আন্তরিকতা বিচারে উদ্দীপকের আকলিমার সঙ্গে 'মমতাদির' গল্পের মমতাদির মিল খুঁজে পাওয়া যায়। মমতাদি
সংসারের প্রয়োজনেই সমস্ত লজ্জাকে একপাশে সরিয়ে কাজ করতে বেরিয়েছে। গল্পে আমরা
তাকে প্রধানত রাঁধুনীর কাজ করতে দেখলেও সেখানকার প্রায় সব কাজেই তাকে অবদান রাখতে
হয়েছে। উদ্দীপকের আকলিমা দরিদ্র ঘরের মেয়ে। সে পক্ষ গৃহকর্মী হিসেবে দায়িত্ব
পালন করেছে। অন্যের বাড়িতে বাসন মালা, ঘর মোছা, কাপড় ধোয়াসহ সব
কাজ নিপুণ হাতে করে। এছাড়াও গৃহকর্ত্রার ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা করে। অর্থাৎ
সংসারে তাকে প্রায় সব ভূমিকাতেই অবতীর্ণ হতে হয়েছে। এ বিষয়টি পর্যালোচনায় আমরা
বলতে পারি, গৃহস্থালি কাজের
চারিত্র্য বিচারে উদ্দীপকের আকলিমা ও মমতাদি' গল্পের মমতাদির মধ্যে যথেষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ. গৃহকর্মে
নিয়োজিত মানুষের প্রতি সদয় ও মানবিক আচরণের দিক থেকে 'মমতাদি' গল্পের গৃহকর্ত্রীর সাথে উদ্দীপকের গৃহকর্ত্রীর
ভিন্ন মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
"মমতাদি' গল্পের মমতাদি অভাবের তাড়নায় অন্যের বাড়িতে
গৃহকর্মীর কাজ নিলেও এই পরিবারের সকলে তার সাথে সৌহার্দপূর্ণ মানবিক আচরণ করেছে।
আর তার ঠিক বিপরীত অমানবিক চিত্র ফুটে S উঠেছে উদ্দীপকের গৃহকর্ত্রীর আচরণে। গৃহকর্মীরা যে গৃহকর্ত্রীর কাছে ভালো আচরণ
প্রত্যাশা করে একথা অনেক গৃহকর্ত্রী ভুলে যায়।
উদ্দীপকের আকলিমা
দরিদ্র ঘরের মেয়ে। অভাবের তাড়নায় সে অন্যের বাড়িতে কাজ করে। ঘরের প্রতিটি কাজ
সে নিপুণ হাতে করে গৃহ ছেলেমেয়েদেরও সে দেখাশোনা করে। বলা যায় ঘরের সব দায়িত্ব
সে সুহানুভাবে সম্পন্ন করে। তবে এত কিছুর পরেও সামান্য ভুল হলে গৃহক তাকে বকাঝকা
করে। চায়ের কাপ ভেঙে গেলে গৃহকর্ত্রী তাকে মারধর করে চাকরিচ্যুত করে।
ছোট কাজে নিয়জিত
মানুষগুলো চায় গৃহকর্ত্রীর মানবিক আচরণ। মমতাদি যেমন মানবিক আচরণ পেয়ে অকৃত্রিম
সেবাদান করেছে আকলিমা তা পারেনি। গৃহকর্ত্রীর নিষ্ঠুর আচরণে সে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে
চাকরিচ্যুত হয়েছে। মমতাদির গৃহকর্ত্রী তাকে পরিবারেরই একজন হিসেবে ভেবেছেন আর
আকলিমার গৃহকর্ত্রী তাকে চাকর হিসেবে দেখেছেন। দৃষ্টিভঙ্গিগত এই পার্থক্যই গৃহকর্ত্রীহরা
যে ভিন্ন মানসিকতার তা প্রমাণ করেছে।
৪. দেখিনু সে দিন রেলে,
কুলি বলে এক বাবু
সাব তারে ঠেলে দিলে নিচে ফেলে-
চোখ ফেটে এলো জল,
এমনি করে কি জগৎ জুড়িয়া
মার খাবে দুর্বল?
ক. উপেক্ষিত
শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে কাদের
কর্মক্ষেত্রে নেমে কাজ করার শক্তি নেই?
খ. উপেক্ষিত
শক্তি সরল মুক্ত মন নিয়েও কোনো কাজ করতে পারছে না কেন?
গ. উদ্দীপকের
সাথে উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের কোন
বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. দুর্বলদের
মাঝে কীভাবে শক্তির উন্মেষ ঘটানো যায়? উদ্দীপক ও উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের আলোকে মতামত দাও।
৪ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ক. উপেক্ষিত
শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে ভদ্র
সম্প্রদায়ের কর্মক্ষেত্রে নেমে কাজ করার শক্তি নেই।
ভদ্র
সম্প্রদায়ের অত্যাচারের কারণে উপেক্ষিত শক্তি সরল মুক্ত মন নিয়েও কোনো কাজ করতে
পারছে না। উপেক্ষিত শক্তির মানুষদের অন্তর কাচের মতো স্বচ্ছ। তবুও সমাজের ভদ্র
সম্প্রদায় তাদের ছোটলোক বলে অত্যাচার করে। ফলে সংকোচ ও
জড়তার কারণে
তারা কোনো কাজ করতে পারে না।
গ. উদ্দীপকে
উল্লিখিত দুর্বল শ্রেণি এবং উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে বর্ণিত উপেক্ষিত শ্রেণির উপেক্ষিত
হওয়ার মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে। কবি নজরুল তাঁর প্রবন্ধ 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন'-এ কথিত 'ছোটলোক' সম্প্রদায়কে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে
গুরুত্বারোপ করেছেন। কবি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ছোট-বড় উঁচু-নিচু, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ দূর করার জন্য সমাজের
অপেক্ষাকৃত উঁচু শ্রেণির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন সমাজের
একটি শ্রেণিকে উপেক্ষা করে সুস্থ সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে অসহায়, দরিদ্র ও দুর্বল শ্রেণির তথাকথিত বড়লোক
শ্রেণির উপেক্ষা, অবজ্ঞা ও ঘৃণার মনোভাবের
প্রকাশ ঘটেছে। কুলি, মুটে, মজুর সকলেই মানুষ। একটি জাতির আর্থ-সামাজিক
কর্মকাণ্ডে তাদের অবদান কম নয়। উদ্দীপকের বাবুসাব আভিজাত্যের অহংকারে কুলিকে নিচে
ফেলে দিয়েছে। এই দৃশ্য অতি নির্মম। এটি মানবতার অপমান। এই দুর্বলের ওপর নির্মম
আচরণ করার ক্ষেত্রে উদ্দীপক ও 'উপেক্ষিত শক্তির
উদ্বোধন' প্রবন্ধে সাদৃশ্যময় হয়ে উঠেছে।
ঘ. দুর্বলদের
বুকভরা স্নেহ নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে তাদের মাঝে শক্তির উন্মেষ ঘটানো
সম্ভব। উদ্দীপক ও উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন" প্রবন্ধে সেই সত্যটি তুলে ধরা
হয়েছে।
“উপেক্ষিত শক্তির
উদ্বোধন' প্রবন্ধে বলা
হয়েছে সমাজে উঁচু-নীচু জাত- ভেদ ও তথাকথিত 'ছোটলোক' সম্প্রদায়ের নামে একটি সম্ভাবনাময় শক্তিকে
দুর্বল করে রাখা হয়েছে। এই দুর্বলদের বুকভরা অপরিসীম মমতায় কাছে টানতে হবে।
উপেক্ষার আঘাতে তাদের জর্জরিত না করে তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এই পতিত শ্রেণিকে
আপন করে নিতে পারলে সমাজের ব্যাপক কল্যাণ সাধিত হবে।
উদ্দীপকে আমরা
লক্ষ করি তথাকথিত 'বড়লোক' সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এক বাবু কথিত 'ছোটলোক' সম্প্রদায়ের কুলিকে ট্রেনে উঠতে না দিয়ে নিচে
ফেলে দিয়েছে। এই কুলিটির অপরাধ সে দরিদ্র ও হীন বস্ত্রসম্পন্ন। কুলি যদি
বাবুসাবের পাশাপাশি অবস্থান করে তবে বাবুসাবের সম্মান থাকে না। আভিজাত্যের অহংকারে
ঘৃণাভরে কুলিটিকে সে তাড়িয়ে দিয়েছে। এ দৃশ্য দেখে উদ্দীপক কবিতাংশের কবি
অত্যন্ত ব্যধিত হয়েছেন। তিনি সকল বিবেকবান মানুষের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন দুর্বলরা
কতদিন এমন করে মার খাবে?
তাই উদ্দীপক ও
প্রবন্ধ পর্যালোচনা করে পাই, দুর্বল এই
শ্রেণির মাঝে উদ্দীপনা সঞ্চার করে তাদের সুপ্ত শক্তির উন্মেষ ঘটানো সম্ভব। শত শত
বছর ধরে প্রাণপণ চেষ্টা করে সমাজে ও রাষ্ট্রে যে পরিবর্তন ঘটানো যায় না, এই অধঃপতিত, দুর্বলদের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও জাগরণ সৃষ্টি করে
সে পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। কাউকে জোর করে দমিয়ে রেখে গণতান্ত্রিক চেতনা
প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তাই সাম্যবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুর্বলদের
মাঝে শক্তির উন্মেষ ঘটানো সম্ভব।