খ বিভাগ পদ্য
৫ . উচ্চবিত্ত বা
উঠতি মধ্যবিত্তের কাছে মাতৃভাষা বাংলার বদলে ইংরেজি ভাষার প্রতি মোহান্ধতা এক
ধরনের মানসিক দাসত্ব বা মনের রোগ। বাঙালি তার প্রতিদিনের ভাব প্রকাশের বেলায়
অজ্ঞানে কিংবা সজ্ঞানে ভুল উচ্চারণে ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করে। রাস্তা থেকে
রান্নাঘর পর্যন্ত এর বিস্তার। কোনো ইংরেজ কিন্তু ভুলেও কোনো বাংলা শব্দ ব্যবহার
করে না।
ক. কোন কোন ভাষা
সম্পর্কে কবির দুই মত নেই?
খ ."যেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি। ”- ব্যাখ্যা
কর।
গ. 'বঙ্গবাণী' কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকের মিল তুলে ধর।
ঘ. “বাংলা ভাষায়
কথা বলতে যারা হীনম্মন্যতায় ভোগে তাদের প্রতি 'বঙ্গবাণী' কবিতায় ঘৃণা প্রকাশ পেয়েছে।”— উদ্দীপকের
আলোকে মন্তব্যটি বিচার কর।
৫ নং প্রশ্নের
উত্তর
ক. আরবি, ফারসি ও হিন্দি ভাষায় কবির দুই মত নেই।
বাংলাদেশে
জন্মগ্রহণ করে যারা বাংলা ভাষাকে হিংসা করে কবি তাদের জন্ম পরিচয় নিয়ে সন্দিহান।
সতেরো শতকে এক শ্রেণির লোক এ দেশ, নিজের ভাষা,
নিজের সংস্কৃতি এমনকি
নিজের আসল পরিচয় সম্পর্কে বিভ্রান্ত ছিল। তারা বাংলাকে 'হিন্দুর অক্ষর' বিবেচনা করে ঘৃণা করত এবং আরবি-ফারসি ভাষায়
কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত। শেকড়হীন, পরগাছা স্বভাবের এ মানুষগুলো সম্পর্কে কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
গ. বাংলা ভাষাকে
অবজ্ঞা করার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'বঙ্গবাণী'
কবিতার সঙ্গে
সাদৃশ্যপূর্ণ। স্বদেশের ভাষা, সংস্কৃতির প্রতি
মানুষের অনুরাগ থাকবে এটাই ডস্বাভাবিক। অথচ এমন অনেকে আছেন যারা নিজ দেশ ভাষা ও
সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করে এবঙ বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রতি তাদের প্রবল আগ্রহ দেখা যায়।
'বঙ্গবাণী' কবিতায় বাংলা ভাষার প্রতি যাদের কোনো অনুরাগ
নেই, যারা আরবি-ফারসি চর্চায়
আগ্রহী, বাংলাকে যারা
"হিন্দুর অক্ষর' বলে ঘৃণার চোখে
দেখে কবি তাদের প্রতি ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করেছেন এবং তাদেরকে দেশ ছেড়ে অন্য দেশে
চলে যেতে বলেছেন। উদ্দীপকেও বাংলাদেশের উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্তের ইংরেজি ভাষার
প্রতি প্রবল আগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। দৈনন্দিন নানা কাজে তারা বাংলার
পরিবর্তে ইংরেজি ব্যবহার করে যা মূলত এক ধরনের মানসিক দাসত্ব। বাংলা ভাষার
ব্যবহারে তারা যেন অপমান বোধ করে,
এমনই তাদের মানসিক
অবস্থা।
ঘ. "বাংলা ভাষায় কথা
বলতে যারা হীনম্মন্যতায় ভোগে তাদের প্রতি 'বঙ্গবাণী' কবিতায় ঘৃণা প্রকাশ পেয়েছে। ”- মন্তব্যটি যথার্থ। বাঙালির মাতৃভাষা বাংলা, এ ভাষা তার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সাথে "ওতপ্রোতভাবে
জড়িত। কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ নিজ সত্তাকে অস্বীকার করে বিজাতীয় ভাষা ও
সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগী হয়। আর এ কারণেই তারা মাতৃবাষায় ভাব প্রকাশে
হীনম্মন্যতায় ভোগে। 'বঙ্গবাণী' কবিতায় কবি এই
শ্রেণির মানুষের চরিত্র উন্মোচিত করেছেন। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেও কিছু মানুষ
বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করে। বিদেশি ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি তাদের প্রবল
অনুরাগ প্রকাশ করে। কবি এ শেকড়হীন পরগাছা শ্রেণির মানুষের প্রতি ঘৃণার বাণী
উচ্চারণ করেছেন। উদ্দীপকেও এ শ্রেণির মানুষের পরিচয় পাওয়া যায় যারা বাংলাদেশে
জন্মগ্রহণ করে ইংরেজি ভাষার প্রতি অনুরাগী। তারা ইংরেজি ভাষায় কথা বলাকে
আধুনিকতার অংশ বলে মনে করে। মাতৃভাষার প্রতি যাদের অবজ্ঞা তারা প্রকৃত অর্থেই
পরগাছা। কবি তাদের জন্মপরিচয় নিয়েও সন্দিহান, তাদের প্রতি কবি
প্রবল ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। এসব দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
৬. সিএনলিচালক
বাদল মিয়া পরিশ্রমী মানুষ। সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি সে যাত্রী আনা-নেওয়া করে। সে
গাড়ির মিটার অনুযায়ী ভাড়া রাখে। একদিন সন্ধ্যায় এক যাত্রী নেমে যাওয়ার পর সে
যাত্রীর আসনের নিচে একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে। মালিকের নামধাম জানতে সে
মানিব্যাগটি খুললে তাতে এক হাজার টাকার দশটি নোট দেখতে পায়। সে এই টাকা নেয় না,
বরং মানিব্যাগে পাওয়া
কার্ডের নাম্বারে যোগাযোগ করে তা ফিরিয়ে দেয়।
ক.কার দুঃখের
চিঠি কেউ কোনোদিনও পড়বে না?
খ. 'এর জীবনের দুঃখ কেবল জানবে পথের তৃণ- উদ্ভিটির
তাৎপর্য কী?
গ. উদ্দীপকের
বাদল মিয়ার মাঝে 'রানার' কবিতার রানারের কোন বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ.উদ্দিষ্ট
দিকটিই রানার চরিত্রের একমাত্র দিক নয় মন্তব্যটি বিচার করো।
| ৪ নম্বর প্রশ্নের
উত্তর
ক. রানারের
দুঃখের চিঠি কেউ কোনোদিনও পড়বে না।
খ. প্রশ্নোক্ত
উদ্ভিটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, রানারের চলার পথ যেন তার কষ্ট ও সংগ্রামের সাক্ষ্য দেয়।
তার ছুটে চলা
বাধাপ্রাপ্ত হয় না। তার এই বিরতিহীন ছুটে চলায় যে কষ্ট লুকিয়ে থাকে তা অন্য কেউ
না জানলেও তার চলার পথ এর সাক্ষী হয়ে থাকে। আলোচ্য পড়ক্তিটির মধ্য দিয়ে এ
বিষয়টিই প্রকাশিত হয়েছে। গ. উদ্দীপকের বাদল মিয়ার মাঝে 'রানার' কবিতার রানারের সততার দিকটি ফুটে উঠেছে।
'রানার' কবিতার রানারের জীবন সংগ্রামমুখর। নানা
প্রতিকূলতা সয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে। কিন্তু শত প্রতিকূলতার মাঝেও রানার
তার দায়িত্ব সততার সাথে পালন করে যায়। উদ্দীপকের সিএনজিচালক বাদল মিয়ার
কর্মকাণ্ডেও এ বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের
সিএনজিচালক বাদল মিয়া পরিশ্রম করে সততার সাথে অর্থ উপার্জন করে। সে সিএনজির মিটার
অনুসারে ভাড়া রাখে, বাড়তি ভাড়া
আদায় করে না। একবার সে তার এক যাত্রীর ফেলে যাওয়া মানিব্যাগ পায়, যাতে দশ হাজার টাকা ছিল। লোভ না করে সে সেই
টাকা প্রকৃত মালিকের কাছে যথাযথভাবেই ফেরত দেয়। আলোচ্য কবিতার রানারের মাঝেও
সততার দিকটি বিদ্যমান। রানার তার ঝুলিতে চিঠিপত্রের সাথে সাথে টাকা-পয়সা ও
মূল্যবান জিনিসও বহন করে। দারিদ্র্যা জর্জরিত হওয়া সত্ত্বেও সে সেই টাকা আত্মাসাৎ
করার কথা ভাবে না, যা তার সওভারই
পরিচায়ক। তার এই বৈশিষ্ট্যই বাদল মিয়ার মাঝে ফুটে উঠেছে।
'রানার' কবিতার রানারের চরিত্রে সততার পাশাপাশি
দায়িত্বশীলতা,
সময়ানুবর্তিতা ও
ত্যাগের চিত্র ফুটে উঠেছে। 'রানার' কবিতাটি শ্রমজীবী রানারদের নিয়ে লেখা। এ
কবিতায় রানারদের চরিত্রের বিভিন্ন ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। তারা
নিষ্ঠা ও সততার পরিচয় নিয়ে নিষ্ঠার সাথে নিরন্তর কাজ করে যায়। রানারের এমন
বৈশিষ্ট্য উদ্দীপকের সিএনজিচালকের আচরণেও পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকের সিএনজিচালক
বাদল মিয়ার মাঝে সততার চিত্র ফুটে উঠেছে। সে সিএনজির মিটার অনুযায়ী ভাড়া রাখে,
অসত্তাবে বাড়তি ভাড়া
আনার করে না। একদিন একজন যাত্রী টাকাভর্তি মানিব্যাগ ফেলে গেলেও তা সে নেয় না,
বরং মালিককে ফেরত দেয়।
তার এই সততার দিকটি আলোচ্য কবিতার রানারের মাকেও বিদ্যমান। তবে কবিতায় রানারের
অন্যান্য গুণাবলির কথাও বর্ণিত হয়েছে।
'রানার' কবিতার রানার দারিদ্র্যপীড়িত হলেও ঝুলিতে বহন
করা টাকা- পয়সার দিকে কখনো নজর দেয় না, যা তার সততার পরিচয় বহন করে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটে সে ডাক পৌঁছে
দেয় সময়মতো। গভীর রাতে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও সে তার দায়িত্ব
নিষ্ঠার সাথে পালন করে। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সে আরাম-আয়েশ, অবসর, এমনকি প্রিয়জনের সান্নিধ্যকেও উপেক্ষা করে। এভাবে তার চরিত্রে সময়ানুবর্তিতা,
দায়িত্বশীলতা ও ত্যাগের
চিত্র ফুটে ওঠেছে। তাই বলা যায় যে উদ্দীপকে বর্ণিত সততার দিকটি রানারের মাঝে
থাকলেও এটিই একমাত্র দিক নয়, অন্যান্য ইতিবাচক
দিকও তার মাঝে উপস্থিত।
৭. মনে পড়ে সেই
সুপুরি গাছের সারি
তার পাশে মৃদু
জ্যোত্স্না মাখানো গ্রাম
মাটির দেয়ালে
গাঁথা আমাদের বাড়ি
ছোট ছোট সুখে
স্নিগ্ধ মনস্কাম।
পড়শি নদীটি
ধনুকের মতো বাঁকা
ঊরু ডোবা জলে
সারাদিন খুনসুটি।
ক. মাইকেল
মধুসূদন দত্তের অমর কীর্তি কোনটি? 'ভ্রান্তির ছলনে'
বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উদ্দীপকের ভাবের
সাথে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার যে দিক দিয়ে সাদৃশ্য রয়েছে, তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপক এবং 'কপোতাক্ষ নদ' রচনার পেছনে একই চেতনা কাজ করেছে'- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
৭নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. মাইকেল
মধুসূদন দত্তের অমর কীর্তি 'মেঘনাদবধ কাব্য ।
অবচেতন মনে হঠাৎ কপোতাক্ষ নদের কলধ্বনি উপলব্ধি করাকেই কবি
'ভ্রান্তির ছলনে'
বলেছেন। কবিচৈতন্যে
কপোতাক্ষ নদের কলধ্বনি সদাজাগ্রত; তাই রাতে যখন
তিনি নিদ্রাযাপন করেন তখনো এ নদের প্রোডপ্রবাহজাত শব্দ তাঁর স্বপ্নে এসে হাজির
হয়। কবি উপলব্ধি করেন, এ তাঁর মানসিক
ভ্রান্তিরই নামান্তর; তবুও তিনি এই
ভ্রান্তিতেই আবৃত থাকতে চান। কারণ এ ভ্রান্তিই কবির কানকে এক সুখানুভূতি প্রদান
করে।
নিজ ভূমির প্রতি
স্মৃতিচারণাগত ভাব থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার সাদৃশ্য
রয়েছে।
স্বদেশ থেকে
বহুদূরে অবস্থান করেও কবি স্বদেশের সঙ্গে একীভূত হয়ে
আছেন শৈশবের
কপোতাক্ষের মধ্য দিয়ে। এ নদ কবিকে অনন্য S ভালোবাসায় সিক্ত করেছে শৈশবে; কিন্তু পরিণত বয়সেও কবি সে ভালোবাসাপ্রত্যাশী।
তাই তিনি কপোতাক্ষের স্নেহধারায় মিশে ফিরে আসতে চান তাঁরই জন্মভূমিতে। নিজ ভূমির
প্রতি কবির এ ভালোবাসাবোধ তাঁর স্মৃতিমথিত হয়েই উদগত হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশে
স্মৃতিমথিত হয়ে ভেসে এসেছে গ্রামের কথা। সুপুরি গাছের ছায়ায় মৃদু জ্যোৎস্না
সজ্জিত হয়ে সে গ্রাম যেন স্নিগ্ধ সুখের প্রতিচ্ছবি সৃষ্টি করেছে। মাটির দেয়ালের
বাড়ার এবং ধনুকের মতো বাঁকা নদীটির মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে বিগত দিনের নানা স্মৃতি।
তবে নিজভূমির এ সবই একার্থে কাল্পনিক, কারণ তার সবটাই স্মৃতিসঞ্জাত। তাই বলব, নিজ ভূমির প্রতি স্মৃতিচারণাগত ভাব থেকে
উদ্দীপকের সঙ্গে কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. আমি মনে করি
উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ'
কবিতা রচনার পেছনে
যথাযথভাবে একই
চেতনা কাজ করেনি।
মাইকেল মধুসূদন
দত্ত খ্যাতিমোহে আচ্ছন্ন হয়ে প্রবাসী হলেও জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। তাঁর
স্মৃতিসঞ্জাত কপোতাক্ষ নদ সে সত্যকেই বহন করে। শৈশবের খেলার ছলে মনের মধ্যে কবি এ
নদ সম্পর্কে যে ধারণা যত্ন করেছেন, তা প্রকৃতপক্ষে
তাঁর বৃহদায়তনের দেশপ্রেম। তাই বেদনার্ত কণ্ঠে তিনি বঙ্গবাসীর সান্নিধ্যপ্রত্যাশী
হয়েছেন।
উদ্দীপকে
মধুসূদনের স্মৃতিকাতরতার অনুকরণে গ্রামের কথা উঠে এসেছে। সুপুরি গাছের সারির পাশে
মাটির দেয়ালের গ্রাম এক গভীর স্নিগ্ধতা সৃষ্টি করেছে। পাশের ছোটো নদীটি মনে
করিয়ে দিয়েছে বহুবিগত দিনের রঙিন স্মৃতিকে। তবে এ সবই এককেন্দ্রিক হৃদয়ভাষ্য;
অর্থাৎ এখানে বৃহদার্থে
দেশপ্রেমের কোনো নিদর্শন আমাদের চোখে পড়ে না।
৮. শমসের চৌধুরী
দেশের একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি, কিন্তু তাঁর মন
ভালো নেই। তাঁর একমাত্র ছেলে আবির দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। দেশের নামকরা ডাক্তার
দিয়ে তিনি ছেলের চিকিৎসা করিয়েছেন। দেশ-বিদেশের অনেক ঘাটের পথ্য সংগ্রহ করেছেন,
কিন্তু কিছুতেই কিছু
হয়নি। ছেলের জন্য তিনি নামাজের ঘরে মোমবাতি মানত করেছেন, দরগায় করেছেন দান। মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট
তিনি প্রার্থনা করেছেন ছেলের রোগমুক্তির জন্য । ক. 'পল্লিজননী' কবিতাটি কবি জসীম উদ্দীনের কোন কাব্যগ্রন্থ
থেকে
সংকলন করা হয়েছে?
"যে কথা ভাবিতে
পরাণ শিহরে তাই ভাসে হিয়া কোণে'- এ কথা
দ্বারা কী বোঝানো
হয়েছে?
উদ্দীপকটি 'পল্লিজননী' কবিতার সঙ্গে কোন দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ?
ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপক ও 'পল্লিজননী' কবিতায় শুধু মিল নয় অমিলও রয়েছে"-
উদ্ভিটির সঠিকতা নিরূপণ করো। Cou
৮নম্বর প্রশ্নের
উত্তর।
ক. 'পরিজননী' কবিতাটি কবি জসীম উদ্দীনের 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে।
খ. উদ্বৃত্ত
উদ্ভিটি দ্বারা সন্তানের জন্য মায়ের মনের উদ্বিগ্নতার স্বরূপকে তুলে
ধরা হয়েছে। রুগণ
সন্তানের শিয়রে বসে মা নানা ধরনের ভাবনা-চিন্তা করছে। পুত্রের আয়ু নিবু নিবু,
তবুও মা তাকে নিজের
হৃদয়ের সকল শুভবোধ দিয়ে আঁকা রেখেছে, কিন্তু চারিদিকে নানা অমতালের চিহ্ন দেখে ছেলের জন্য প্রার্থনা করেছেন। এ সবই
সন্তানের প্রতি পিতার অপত্যস্নেহের অনুভূতি, যা কবিতায়
মায়ের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়। তাই বলব উদ্দীপকটি কবিতার উল্লিখিত মায়ের অনুভূতির
সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. উদ্দীপক ও 'পল্লিজননী' কবিতার মিল ও অমিল উভয়ই বর্তমান রয়েছে বলে আমি মনে করি।
কবি জসীম
উদ্দীনের এ কবিতায় সন্তানের প্রতি মায়ের অপত্যস্নেহের অনুভূতির কথাই তুলে ধরা
হয়েছে। রুগণ সন্তানের শিয়রে বসে মা তার সুস্থতা কামনা করছেন। চারদিকের
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ মাকে সন্তান হারানোর শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে। তবুও সৃষ্টিকর্তার
কাছে তিনি সন্তানের সুস্থতা লাভে প্রার্থনা করেছেন।
উদ্দীপকের শমসের
চৌধুরীর মধ্যে পাঠ্য কবিতার মায়ের অনুভূতিই জারিত হয়েছে। তিনি একজন বিশিষ্ট
শিল্পপতি, অর্থাৎ অর্থের কোনো অভাব নেই তাঁর; কিন্তু সন্তানকে কিছুতেই সৃস্থ করতে পারছেন না তিনি। দেশ-বিদেশের নানা
ডাক্তারকে দেখিয়েছেন, দরগায় দান করেছেন, সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছে সন্তানের সুস্থতা কামনায়।
উদ্দিষ্ট আলোচনা
থেকে প্রতীয়মান হয় যে কবিতার পল্লিজননী এবং উদ্দীপকের শমসের চৌধুরী উভয়েই
সন্তানের প্রতি অপত্যস্নেহে জারিত। তাই তাঁরা সাধ্যানুসারে সন্তানের সুস্থতার জন্য
চেষ্টা করেছেন। তবে আর্থিক অবস্থার কারণে দুই স্থানে দুই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি
হয়েছে। পল্লিজননী ব-গণ সন্তানকে ভালো চিকিৎসা, ভালো পথ্য
কোনোটাই দিতে পারেননি। তাই উদ্দীপকের সঙ্গে কবিতার পরিস্থিতি এখানে মেলেমায়ের মন
নানা শঙ্কায় ভরে উঠেছে। তাঁর হৃদরা সেই অমভাল আশকার উদ্ভিগ্ন জেলে সামনে সন্তানের
করুণ সে অবস্থা তিনি যেন প্রত্যক্ষ করছেন। গ. উদ্দীপকটি 'পল্লিজননী' কবিতায় উল্লিখিত মায়ের অনুভূতির সঙ্গে
সাদৃশ্যপূর্ণ।
রুগণ সন্তানের
শিয়রে বসে মা তার আরোগ্য কামনা করছেন রাতদিন। পুত্রের স্বাস্থ্যের অবস্থা
একেবারেই নাজুক, কিন্তু মা তাকে
ঠিক সুস্থ করে তুলবেন কবিতায় এমন প্রত্যাশাই লক্ষ করা যায়। সন্তানকে সুস্থ করে
দেওয়ার জন্য মা দরগায় মানত করেছেন। যদিও চারদিকের নানা অমঙ্গল চিহ্ন মাকে শঙ্কিত
করে তুলছে তবুও তিনি বিশ্বাস করেন সন্তান তাঁর একদিন সুস্থ হয়ে উঠবে। সন্তানের
প্রতি মায়ের এমন অনুভূতিই এখানে চিরন্তন হয়ে উঠেছে।