গ বিভাগ (উপন্যাস)
। বিদেশি সেনার কামানে বুলেটে বিদ্ধ
নারী শিশু আর যুবক জোয়ান-বৃদ্ধ
শত্রু সেনারা হত্যার অভিযানে
মুক্তিবাহিনী প্রতিরোধ উত্থানে।
ক. 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের মিঠুর ভাইয়ের নাম কী?
খ . 'এমন খুশি আমার জীবনে আর আসেনি - বুধার এ উক্তির কারণ কী? ব্যাখ্যা কর।
গ . উদ্দীপকে প্রথম দুই 'কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বিষয়বস্তুর খণ্ডিত অংশমাত্র- মন্তব্যটির সপক্ষে তোমার যুক্তি দাও।
৮ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ক. উপন্যাসের মিঠুর ভাইয়ের নাম মধু।
খ. 'এমন খুশি আমার জীবনে আর আসেনি বুধার এ উক্তির কারণ উদ্দেশ্য সফলে তার উচ্ছ্বাস ও উৎফুল্লতা। বুধা বাবা-মা, ভাই-বোন হারানো আত্মভোলা এক কিশোর। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদারদের অত্যাচার এবং রাজাকারদের বিশ্বাসঘাতকতা তাকে করে তোলে। সে আলি, মিঠুদের পরিকল্পনা মতো রাজাকার কমান্ডারের বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করার পর আলি, মিঠুরা বুধাকে বাহবা দিয়ে বুকে জড়িয়ে নেয়। বুধা তখন হাসতে থাকে। তার সেই হাসির কারণ জিজ্ঞাসা করলে জানায় যে, সে খুশিতে হাসে। বুধার মতে এমন খুশি তার জীবনে আর আসেনি।
গ. উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণে 'কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের পাকিস্তানি মিলিটারির বুধার গ্রামের বাজার আক্রমণ ও হত্যাযজ্ঞের দিকটি ফুটে উঠেছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশের নিরীহ মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। তারা নারী- পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ কাউকেই রেহাই দেয়নি। তারা সারা দেশ আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়।
উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণে পাকিস্তানি সেনাদের নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন এবং বাঙালির অসীম সাহসিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে। সেখানে বিদেশি সেনাদের কামানে বুলেটে ছিন্নভিন্ন বাংলার নারী-শিশু, যুবক-বৃদ্ধ যা 'কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের একটি দিক। উপন্যাসেও পাকিস্তানি সেনাদের অত্যাচার, নিপীড়ন, নির্যাতন, হত্যা ইত্যাদি বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে। সেনারা বুধার গ্রামে এসে নিরীহ মানুষদের নির্বিচারে হত্যা করে। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় ঘর-বাড়ি বাজার। তাই আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণে আলোচ্য উপন্যাসের পাকিস্তানিদের আক্রমণ ও হত্যাযজ্ঞের দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকটি 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বিষয়বস্তুর খণ্ডিত অংশমাত্র- মন্তব্যটি যথার্থ। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অন্যায়ভাবে বাঙালিদের ওপর হামলা চালায়। তারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা শুরু করে। তাদের সেই অন্যায়ের প্রতিবাদে বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অবশেষে অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে শত্রুকে পরাজিত করে বাঙালি তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জন করে।
উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের অত্যাচার-নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ এবং তাদের বিরুদ্ধে বাঙালিদের প্রতিরোধের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। শত্রুসেনার হত্যার অভিযানে মুক্তিবাহিনীর অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের দিকও উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। এই বিষয়টি 'কাকতাড়ুয়া উপন্যাসেও বর্ণিত হয়েছে। এই বিষয়টি ছাড়াও উপন্যাসে আরও কিছু বিষয় রয়েছে। উদ্দীপকের বিষয়টি উপন্যাসে বর্ণিত অনেক বিষয়ের মধ্যে অন্যতম একটি।
"কাকতাড়ুয়া উপন্যাসে বুধা নামের এক কিশোরের স্বদেশপ্রেম প্রতিফলিত হয়েছে। এই উপন্যাসে বুধার বাবা-মা, ভাই-বোন কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। তখন থেকেই সে একা একা বেড়ে ওঠে। তার ছন্নছাড়া জীবন, সাহসী হয়ে ওঠা, রাজাকারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া, বাংলার গ্রামে-গঞ্জে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালানো, মুক্তিবাহিনীর গ্রামে প্রবেশ, বুধাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা ইত্যাদি বিষয় উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে। এই বিষয়গুলো উদ্দীপকে সম্পূর্ণরূপে উপস্থাপিত হয়নি। এই দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যৌক্তিক।
৯ . গ্রেনেড উঠেছে
হাতে,
কবিতার হাতে
রাইফেল
এবার বাঘের থাবা,
ভোজ হবে আজ প্রতিশোধে
যার সঙ্গে যেরকম
সেরকম খেলব বাঙালি
খেলেছি মেরেছি সুখে কান কেটে দিয়েছি তোদের।
ক. গাঁয়ের মানুষ
কয় ভাগে ভাগ হয়ে গেছে?
আহাদ মুন্সির চোখ
কপালে উঠেছিল কেন?
গ. উদ্দীপকে
বুধার জীবনের কোন অংশটি ফুটে উঠেছে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটিতে 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের সম্পূর্ণ ভাবের প্রতিফলন ঘটেনি।"- উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।
৯ নং প্রশ্নের উত্তর
ক. গাঁয়ের মানুষ
দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে।
খ. বুধার
অপ্রত্যাশিত আচরণের কারণে আহাদ মুন্সির চোখ কপালে উঠেছিল।
বুধার
স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না আহাদ মুন্সির। বুধার সারল্যমাখা মুখ
দেখে তাঁর মায়া হয়। সস্নেহে তিনি বুধাকে তার নাম জিজ্ঞেস করেন। ভয়-ডরহীন বুধা
আহাদ মুন্সিকে চমকে দেওয়ার জন্য বলে 'যুদ্ধ'। এমন
অনাকাঙ্ক্ষিত জবাব শুনে আহাদ মুন্সি অত্যন্ত বিস্মিত হন।
গ. সেলিনা হোসেন
রচিত 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে বর্ণিত বুধা দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে
প্রতিবাদী ও প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। তার জীবনের সেই বাস্তবতার সাথে উদ্দীপক
কবিতাংশটির ভাব সাদৃশ্যপূর্ণ।
'কাকতাড়ুয়া'
উপন্যাসে আমরা হানাদার
পাকিস্তানি ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে
তোলার কথা জানতে পারি।
উপন্যাসে বুধা তেমনই এক মুক্তিকামী সত্তা। পাকিস্তানিদের নির্মমতা, রাজাকারদের হৃদয়হীনতার ব্যাপারগুলো তার মনে প্রতিশোধের স্ফুলিঙ্গ জ্বালে।
নিজের সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তাকে সম্বল করে সে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
উদ্দীপকের
কবিতাংশে দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিশোধের কথা বলা হয়েছে। অধিকার ফিরে
পাওয়ার প্রত্যয়ে বাঙালি আজ মরিয়া। তাদের প্রবল ঘৃণার আগুনে জ্বলে-পুড়ে যায়
শত্রুরা। কবিতাংশে বর্ণিত প্রতিশোধপরায়ণতার এ দিকটি 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে বর্ণিত বুধার জীবনের ঘটনার সাথে মিলে
যায়।
ঘ. উদ্দীপকটিতে 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধার প্রতিশোধপরায়ণতার দিকটি ছাড়া
অন্য দিকগুলোর প্রতিফলন না ঘটায় উদ্দীপকটির উপন্যাসের খণ্ডিত ভাব প্রকাশ পেয়েছে।
সেলিনা হোসেনের 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে চিত্রিত হয়েছে বুধা নামক এক গ্রাম্য
কিশোরের জীবনের অভিজ্ঞতা। আপাতদৃষ্টিতে ভাবলেশহীন মনে হলেও তার মাঝে জীবনবোধ
প্রবল। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের মানুষের ওপর হানাদারদের বর্বরতা লক্ষ করে সে
ক্ষুব্ধ হয়। একাই শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিজ্ঞা করে। পরবর্তীকালে
মুক্তিবাহিনীর সাথে যুক্ত হয়ে পাকিস্তানি সেনাদের আস্তানা পুড়িয়ে দেয়।
উদ্দীপকে প্রকাশিত হয়েছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের মিত্রদের ওপর বাঙালির
প্রতিশোধ গ্রহণের কথা। বাংলার মানুষের ওপর নির্যাতনের পরিণতি হয়েছিল ভয়াবহ।
মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে শত্রুদের সকল অন্যায়ের অবসান ঘটেছিল। শত্রুদের
বিরুদ্ধে এমন প্রবল প্রতিরোধের কথা বলা হয়েছে 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসেও উদ্দীপক কবিতাংশ ও 'কাকতাড়ুয়া উপন্যাস উভয়ই মহান মুক্তিযুদ্ধের
পটভূমিতে রচিত। উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভ, পাকবাহিনী ও তাদের দোসরদের বর্বরতা এবং তাদের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিরোধের
বর্ণনা। গ্রামীণ জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে উপন্যাসে। সেই সাথে রয়েছে বুধা
নামক এক কিশোর মুক্তিযোদ্ধার নানা অনুভূতির কথা। কিন্তু উদ্দীপক কবিতাংশে রয়েছে
মুক্তিযুদ্ধের কেবল একটি দিক। তা হলো শত্রুদের বিরুদ্ধে দেশবাসীর বীর বিক্রমে
ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের পরাজিত করার বিষয়টি। এই বিবেচনায় উদ্দীপকটিকে 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের আংশিক ভাবের প্রকাশক বলা যায়।
ঊনিশশো একাত্তর সালের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে মুক্তিযোদ্ধা
১০. দীনু
ঔপন্যাসিক ইমদাদুল হক মিলনের “উনিশ শ একাত্তর” গল্পের এক অসহায় কিশোর চরিত্র।
বয়স দশ বছর। গায়ের রং কালো। সংসারে তার আপন বলতে কেউ নেই। একাত্তরে সবাই যখন
ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়, তখন দীনু গ্রামের ভিক্ষুক জমির চাচার সাথে সুবলদের বাংলা' ঘরে অবস্থান করে। সারাদিন ঘুরে বেড়ায় জমির চাচার সাথে। দেশ স্বাধীন হলে সবাই
আবার গ্রামে ফিরে আসবে, এই স্বপ্ন নিয়ে দীনু যখন খালের ওপারে
হানাদারদের ক্যাম্পের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তখন হানাদাররা তাকে গুলি করে হত্যা করে।
ক. শান্তি কমিটির
চেয়ারম্যান কে? খ. বুধা কাকতাড়ুয়া সেজেছিল কেন?
গ. উদ্দীপকের
কাহিনি 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের যে
দিকটির ইঙ্গিত করে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের
দীনুকে কি 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধার
সাথে তুলনা করা যায়? যুক্তিসহ বিচার করো।
১০ নং প্রশ্নের
উত্তর
ক. শান্তি কমিটির
চেয়ারম্যান আহাদ মুন্সি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে
উপস্থাপন করার জন্যই বুধা কাকতাড়ুয়া সেজেছিল।
কাকতাড়ুয়া
মাঠের ফসলকে পাখপাখালির হাত থেকে রক্ষা করে। কাকতাড়ুয়ার ভয়ে পাখিরা ফসলের খেতে
নামতে সাহাস পায় না। পাকিস্তানি হানাদাররাও বাঙালির স্বাধীনতা কেড়ে নিতে
চেয়েছিল। বাঙালির সমস্ত সম্পদ নিজেদের অধিকারে নিতে চেয়েছিল। তাদের অত্যাচারের
দৃশ্য বুধাকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ করে। গ্রাম থেকে হানাদারদের তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য
সেও কাকতাড়ুয়ার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চায়।
গ. উদ্দীপকের
কাহিনি 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে বর্ণিত
পাকিস্তানি হানাদারদের নিষ্ঠুরতার দিকটিকে ইঙ্গিত করে সেলিনা হোসেন 'কাকতাড়ুয়া উপন্যাসে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরেছেন।
পাকিস্তানি হানাদাররা এদেশে নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। গ্রাম-গঞ্জ, বাজার-ঘাট আগুনে পুড়িয়ে দেয়। অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে। প্রাণে
বাঁচতে অনেক মানুষ ভিটেমাটি ছেড়ে পালায়। দেশান্তরি হতে বাধ্য হয় অনেকে। উদ্দীপকে
উল্লেখ করা হয়েছে ইমদাদুল হক মিলন রচিত 'উনিশ শ একাত্তর' গল্পের কথা। হানাদারবাহিনীর অত্যাচারে মানুষের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের
সন্ধানের কথা বলা হয়েছে তাতে। নিষ্পাপ কিশোর দীনুকে বিনা কারণে হত্যা করে
হৃদয়হীন পাকসেনা। এ দেশের মানুষদের ওপর বর্বর অত্যাচারের নমুনা রয়েছে উদ্দীপক ও 'কাকতাড়ু
য়া' উপন্যাসে।
ঘ. উদ্দীপকের
দীনু 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের 'বুধা' চরিত্রকে আংশিক ভাবে ধারণ করেছে।
সেলিনা হোসেন
রচিত 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের
কেন্দ্রীয় চরিত্র বুধা। অনাথ বুধার জীবন ছন্নছাড়া। আচার আচরণ অসংলগ্ন। তবে
আশপাশের সবকিছুতেই তার সজাগ দৃষ্টি। একসময় দুর্দান্ত বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার
কারণে বুধা হয়ে ওঠে মুক্তিসংগ্রামের অসামান্য এক যোদ্ধা।
উদ্দীপকে বর্ণিত
গল্পের দীনু দুঃখী এক কিশোর। আপন বলতে কেউ নেই তার। পাকবাহিনীর ভয়ে গ্রাম
মানুষশূন্য হয়ে গেলেও রয়ে যায় দীনু। তার বুকের ভেতর রয়েছে স্বাধীন দেশের
স্বপ্ন। কিন্তু সে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার আগেই হানাদারের গুলি কেড়ে নেয় দীনুর
জীবন। 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধার সাথে
বিভিন্ন দিক থেকে মিল থাকলেও মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ না থাকা এবং শহিদ
হওয়ার বাস্তবতার দিক থেকে উদ্দীপকের দীনু চরিত্রটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ। উদ্দীপকের দীনু ও 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধা দুজনেই এতিম কিশোর। দুজনের
জীবনই গন্তব্যহীন। তারা দুজনেই পাকবাহিনীর নির্মম অত্যাচার স্বচক্ষে দেখেছে।
গ্রামের মানুষেরা প্রাণভয়ে গ্রাম ছাড়লেও তারা ছাড়েনি। উপন্যাসের বুধা শত্রুদের
বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে। দেশপ্রেমের প্রেরণায় সে
জ্বালিয়ে দেয় রাজাকারের ঘর। পাকিস্তানিদের ক্যাম্প ধ্বংসে মুখ্য ভূমিকা পালন
করে। মুক্তির চেতনা ছিল দীনুর মনেও। কিন্তু বুধার ক্ষেত্রে তার কর্মকাণ্ডে যেভাবে
প্রকাশ পেয়েছে দীনুর ক্ষেত্রে তেমনটির উল্লেখ নেই। আবার দীনু পাকিস্তানি সৈনিকের
নির্মমতার বলি হয়ে শহিদ হলেও বুধাকে এমন করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়নি। উদ্দীপকের
দীনুকে 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধার
সাথে তাই কিছু দিক থেকে তুলনা করা গেলেও দীনু বুধার শতভাগ প্রতিনিধি নয়।
১১. বিদেশি সেনার কামানে বুলেটে
বিদ্ধ নারী শিশু আর যুবক জোয়ান-বৃদ্ধ
শত্রু সেনারা হত্যার অভিযানে
মুক্তিবাহিনী প্রতিরোধ উত্থানে।
'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের মিঠুর ভাইয়ের নাম কী?
'এমন খুশি আমার জীবনে আর আসেনি - বুধার এ উক্তির কারণ কী? ব্যাখ্যা কর।
ST. ঘ. উদ্দীপকে প্রথম দুই 'কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা কর। 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বিষয়বস্তুর খণ্ডিত অংশমাত্র- মন্তব্যটির সপক্ষে তোমার যুক্তি দাও।
১১ . নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
উপন্যাসের মিঠুর ভাইয়ের নাম মধু।
'এমন খুশি আমার জীবনে আর আসেনি বুধার এ উক্তির কারণ উদ্দেশ্য সফলে তার উচ্ছ্বাস ও উৎফুল্লতা। বুধা বাবা-মা, ভাই-বোন হারানো আত্মভোলা এক কিশোর। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদারদের অত্যাচার এবং রাজাকারদের বিশ্বাসঘাতকতা তাকে করে তোলে। সে আলি, মিঠুদের পরিকল্পনা মতো রাজাকার কমান্ডারের বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করার পর আলি, মিঠুরা বুধাকে বাহবা দিয়ে বুকে জড়িয়ে নেয়। বুধা তখন হাসতে থাকে। তার সেই হাসির কারণ জিজ্ঞাসা করলে জানায় যে, সে খুশিতে হাসে। বুধার মতে এমন খুশি তার জীবনে আর আসেনি। উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণে 'কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের পাকিস্তানি মিলিটারির বুধার গ্রামের বাজার আক্রমণ ও হত্যাযজ্ঞের দিকটি ফুটে উঠেছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশের নিরীহ মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। তারা নারী- পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ কাউকেই রেহাই দেয়নি। তারা সারা দেশ আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়।
উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণে পাকিস্তানি সেনাদের নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন এবং বাঙালির অসীম সাহসিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে। সেখানে বিদেশি সেনাদের কামানে বুলেটে ছিন্নভিন্ন বাংলার নারী-শিশু, যুবক-বৃদ্ধ যা 'কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের একটি দিক। উপন্যাসেও পাকিস্তানি সেনাদের অত্যাচার, নিপীড়ন, নির্যাতন, হত্যা ইত্যাদি বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে। সেনারা বুধার গ্রামে এসে নিরীহ মানুষদের নির্বিচারে হত্যা করে। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় ঘর-বাড়ি বাজার। তাই আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণে আলোচ্য উপন্যাসের পাকিস্তানিদের আক্রমণ ও হত্যাযজ্ঞের দিকটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকটি 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বিষয়বস্তুর খণ্ডিত অংশমাত্র- মন্তব্যটি যথার্থ। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অন্যায়ভাবে বাঙালিদের ওপর হামলা চালায়। তারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা শুরু করে। তাদের সেই অন্যায়ের প্রতিবাদে বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অবশেষে অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে শত্রুকে পরাজিত করে বাঙালি তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জন করে।
উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের অত্যাচার-নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ এবং তাদের বিরুদ্ধে বাঙালিদের প্রতিরোধের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। শত্রুসেনার হত্যার অভিযানে মুক্তিবাহিনীর অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের দিকও উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। এই বিষয়টি 'কাকতাড়ুয়া উপন্যাসেও বর্ণিত হয়েছে। এই বিষয়টি ছাড়াও উপন্যাসে আরও কিছু বিষয় রয়েছে। উদ্দীপকের বিষয়টি উপন্যাসে বর্ণিত অনেক বিষয়ের মধ্যে অন্যতম একটি।
"কাকতাড়ুয়া উপন্যাসে বুধা নামের এক কিশোরের স্বদেশপ্রেম প্রতিফলিত হয়েছে। এই উপন্যাসে বুধার বাবা-মা, ভাই-বোন কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। তখন থেকেই সে একা একা বেড়ে ওঠে। তার ছন্নছাড়া জীবন, সাহসী হয়ে ওঠা, রাজাকারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া, বাংলার গ্রামে-গঞ্জে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালানো, মুক্তিবাহিনীর গ্রামে প্রবেশ, বুধাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা ইত্যাদি বিষয় উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে। এই বিষয়গুলো উদ্দীপকে সম্পূর্ণরূপে উপস্থাপিত হয়নি। এই দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যৌক্তিক।