গৃহ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

গৃহ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর


 ১.

দাও হেন বর সাগরের মতো 

গম্ভীর যার বাণী, 

আন-ভুবনের অজানা সুরভি 

পরানে মিলাবে আনি,

.................................

দাও হেন স্বামী যে আমার পানে

 চাহিবে সহজ সুখে,

যে চোখে শ্যামল প্রান্তর চায় 

ঊষার অরুণ মুখে,

ক. অনেকের মতে চক্ষু কীসের দর্পণ?

খ. 'বলিতে আপন দুঃখ পরনিন্দা হয়' একথা বলার কারণ কী?

গ. উদ্দীপকের সাথে 'গৃহ' রচনার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকটি যেন প্রাবন্ধিকের মূল চাওয়া মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।


ক. অনেকের মতে চক্ষু মনের দর্পণ।

খ. পুরুষের বিষোদগার নয় বরং নারীর হৃদয়ের যন্ত্রণা প্রকাশই প্রবন্ধের মূলবার্তা- এ বিষয়টি স্পষ্ট করতেই লেখিকা আলোচ্য কথাটি উল্লেখ করেছেন।

নিজের বঞ্চনার কথা বলতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই বঞ্চনার কারণ ও বঞ্চনাকারীর কথা চলে আসে। 'গৃহ' প্রবন্ধে নারীর গৃহের অধিকার না পাওয়ার স্বরূপ তুলে ধরতে গিয়ে অবধারিতভাবেই এসেছে পুরুষের অন্যায় আধিপত্য এবং পুরুষশাসিত সমাজে নারীর প্রতি মানুষের বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গির প্রসঙ্গ। এতে অনেকেই ভাবতে পারেন, লেখিকা হয়তো পুরুষদের বিরুদ্ধেই লেখনী ধারণ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে পুরুষের নেতিবাচক মানসিকতার চিত্র নয় বরং নারীর গৃহমুখ বঞ্চনার হাহাকার তুলে ধরাই লেখিকার মূল উদ্দেশ্য। এ বিষয়টি বোঝাতেই লেখিকা প্রশ্নোক্ত লোককথাটির উদ্ধৃতি টেনেছেন।

গ.

মূলভাবের দিক থেকে উদ্দীপকটি 'গৃহ' প্রবন্ধের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত 'গৃহ' প্রবন্ধে নারীদের গৃহের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। লেখিকা ব্যক্তিগত ও সামাজিক অভিজ্ঞতাসূত্রে দেখিয়েছেন, পুরুষের আধিপত্য ও প্রতিপত্তির কাছে নারীর ঘরও বিপন্ন। ঘর বলতে প্রকৃত অর্থে যা বোঝায় নারীর তা নেই। ফলে ঘরে বসবাসের অনেক মৌলিক সুবিধা এবং আপন একটি পরিবেশে বাস করার আনন্দ থেকে তারা প্রবলভাবে বঞ্চিত।

উদ্দীপকে একজন আদর্শ স্বামী পাওয়ার প্রার্থনা প্রকাশিত হয়েছে। যার কন্ঠস্বর সুমধুর, যে অকৃত্রিমভাবে ভালোবাসতে জানে তেমন স্বামীই উপহার হিসেবে দেবতার কাছে প্রত্যাশা করেছেন কবিতাংশের কবি। 'গৃহ' প্রবন্ধে বর্ণিত হয়েছে নারীর গৃহসুখ-বঞ্চনার কথা। এর মধ্যদিয়ে মূলত নারী অধিকারের প্রসঙ্গই মুখ্য হয়ে উঠেছে। ফলে প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের মূলভাবের মাঝে সাদৃশ্য পাওয়া যায় না।

ঘ.

আলোচ্য প্রবন্ধে নারীর অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে, যা উদ্দীপকের প্রত্যাশিত গৃহকর্তার মাধ্যমে রক্ষিত হবে। 'গৃহ' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারীর জীবনের এক

মর্মবেদনার স্বরূপ প্রকাশ করেছেন। প্রবন্ধে তিনি দেখিয়েছেন ঘরের কাঠামোতে সারাজীবন থাকার পরও নারীর কোনোদিন নিজের ঘর হয় না। পুরুষের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং বিরূপ সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নারী ঘরকে আপন করে নিতে পারে না।

উদ্দীপকে উল্লিখিত কবিতাংশে এমন একজন স্বামীর প্রত্যাশা করা হয়েছে, যে স্ত্রীর শত্রু বা প্রতিযোগী নয় বরং বন্ধু বা সহযোগী হয়ে ভাবে। স্ত্রীর প্রতি তার কন্ঠস্বর হবে সুমধুর। তার দৃষ্টিতে থাকবে মমতা ও ভালোবাসার পরশ। যে ঘরে এমন পুরুষ থাকবে সে ঘরের নারী তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। 'গৃহ' প্রবন্ধের মর্মবাণীতেও নারী

অধিকারের প্রসঙ্গটিই মুখ্য হয়ে উঠেছে। সমাজের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী নারীর জন্য বরাদ্দ ঘর আর পুরুষের জন্য বাহির। সেদিক থেকে বিচার করলেও ঘরের নিয়ন্ত্রণ নারীর হাতে থাকার কথা। অথচ এক্ষেত্রেও পুরুষের আধিপত্যের কারণে নারী গৃহসুখ থেকে বঞ্চিত হয়। 'গৃহ' প্রবন্ধে নারীর এই বঞ্চনার অবসান কামনা করা হয়েছে আভাসে-ইঙ্গিতে। প্রবন্ধ থেকে এটি স্পষ্ট যে ত্রুটিপূর্ণ এই সমাজব্যবস্থায় পুরুষের কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাবই নারীর অবমাননার জন্য দায়ী। পুরুষ যদি নারীকে তার প্রকৃত মর্যাদা প্রদান করত, তাকে সমাজ বিনির্মাণে সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করত তবে নারীদের জীবন আরও সুন্দর হয়ে উঠত। উদ্দীপকের কবিতাংশে তেমন পুরুষের কামনাই করা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে যেন 'গৃহ' প্রবন্ধের লেখিকার চাওয়াই ফুটে উঠেছে। অর্থাৎ আলোচ্য মন্তব্যটি যথাযথ।


২. মাহবুব খুব ঘরকুনো স্বভাবের। সে ঘরের বাইরে বলতে গেলে বেরই হয় না। বাড়ির রাস্তার দিকের ঘরটিতে একটি দোকান করে নিয়েছে সে। এর আয়েই সংসার চলে তার। সে বাড়ির অর্ধেক মালিকানা স্ত্রীর নামে লিখে দিয়েছে যেন তার মৃত্যু হলে স্ত্রীকে আর্থিক কোনো সমস্যায় না পড়তে হয়।

ক. 'পর্ণকুটির' অর্থ কী?

খ. "শারীরিক আরাম ও মানসিক শান্তিনিকেতন যাহা, তাহাই গৃহ'- ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের মাহবুবের  স্বভাব কীভাবে 'গৃহ' রচনার বর্ণনার সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ' মাহবুবের  স্ত্রীর মতো সব নারী নিজেদের ন্যায্য অধিকার পায় না'- মন্তব্যটি 'গৃহ' প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

২ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. 'পর্ণকুটির' অর্থ পাতার ঘর।

খ. আলোচ্য উক্তিতে আদর্শ ঘর বলতে যা বোঝায় তা তুলে ধরা হয়েছে। ঘর মানুষের জীবনের অন্যতম একটি মৌলিক চাহিদা। সারাদিনের পরিশ্রমের পর ঘরেই মানুষ বিশ্রামের জন্য ফেরে। কর্মক্লান্ত মানুষের বিক্ষিপ্ত মন শান্ত হয় ঘরে এলে। বহির্জগতের নানা টানাপড়েনে দ্বিধান্বিত S মানুষ ঘরে এসে আপনজনের সান্নিধ্যে আশ্রয় খোঁজে। এভাবে ঘর মানুষকে শারীরিক ও মানসিক শান্তির নিশ্চয়তা প্রদান করে। আর এটি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

গ. 'গৃহ' রচনায় বাইরের জগতে পুরুষের অধিক বিচরণের কথা বলা হলেও উদ্দীপকের মাহবুব তার বিপরীত।

'গৃহ' প্রবন্ধে প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হয়েছে। সমাজে এটি ধরে নেওয়া হয় যে, নারীর জন্য বরাদ্দ ঘর আর পুরুষের জন্য বাহির। অর্থাৎ পুরুষ সম্পৃক্ত থাকবে বাইরের জীবন ও জগতের সাথে। রাস্তব চর্চায়ও দেখা যায়, পুরুষেরা দিনের অধিকাংশ সময় বাইরেই কাটায় এবং দিনশেষে বিশ্রামের জন্য ঘরে ফেরে।

উদ্দীপকের মাহবুব তেমন একটা বাইরে বের হয় না। ঘরে থাকতেই সে পছন্দ করে। ঘরে বেশি সময় থাকতে পারার সুবিধার্থে সে বাড়িতেই দোকান স্থাপন করে জীবিকা নির্বাহের বন্দোবস্ত করেছে। তার এই স্বভাব 'গৃহ' প্রবন্ধের বর্ণনার বিপরীত। কেননা, প্রবন্ধে পুরুষের স্বাভাবিক প্রবণতা হিসেবে বহির্জগতের প্রতি আকর্ষণের কথা বলা হয়েছে। এর উলটো চিত্রই আমরা দেখি মাহবুবের মাঝে। ঘরেই সে বেশি স্বচ্ছন্দ। আর এখানেই মাহবুবের স্বভাব 'গৃহ' রচনার সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঘ. 'গৃহ' প্রবন্ধে বর্ণিত নারীদের অধিকার বঞ্চিত জীবনবাস্তবতার বিপরীতে উদ্দীপকের মাহবুবের স্ত্রী ন্যায্য অধিকার পাওয়ায় প্রশ্নোত্ত মন্তব্যটি যথাযথ। আলোচ্য প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারীদের অধিকার-বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেছেন। প্রবন্ধে মুখ্য হয়ে উঠেছে নারীর গৃহের অধিকার না পাওয়ার বিষয়টি। লেখিকার উল্লিখিত দৃষ্টান্তসমূহে দেখা যায়, নারীর অর্থ, সম্পদ, সম্পত্তি, জীবনযাপনড় প্রায় সবকিছুর ওপরই পুরুষ প্রভাব বিস্তার করেছে। ঘটনাগুলো বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয় যে পুরুষের নিয়ন্ত্রণ ওউদ্দীপকে বর্ণিত মাহবুব  তার স্ত্রীর অধিকারের বিষয়ে সচেতন। সে জানে তার অবর্তমানে সমাজে তার স্ত্রীকে অনেক প্রতিকূল পরিবেশের মালিক হওয়ায় মৃদুলের স্ত্রী আর্থিকভাবে অনেকটাই স্বাবলম্বী হবে। 'গৃহ' প্রবন্ধে বর্ণিত নারীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন বাস্তবতা লক্ষ করা যায়। মোকাবিলা করতে হবে। সে কারণে ভবিষ্যতের কথা ভেবে সে স্ত্রীর নামে বাড়ির অর্ধেক মালিকানা লিখে দিয়েছে। আইনত এই সম্পত্তির আলোচ্য প্রবন্ধে ঘরের ওপর নারীরা কোনো প্রকার অধিকার খাটাতে পারে না। এক্ষেত্রে প্রবন্ধে উপস্থাপিত দুটি দৃষ্টান্ত আলোচনার দাবি রাখে। রমাসুন্দরীর প্রয়াত স্বামী প্রভূত সম্পদের মালিক হলেও স্ত্রীর জন্য পাকা কোনো বন্দোবস্ত করে যাননি। ফলে রমাসুন্দরীর সেবর এখন সমস্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাড়ি থেকে তাকে বিতাড়িত করেছে। আবার খদিজা উত্তরাধিকারসূত্রে অনেক সম্পত্তি। কারণে এই নারীরা নিজেদের সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এর বিপরীতে আমরা উদ্দীপকে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে তার সঙ্গীকে উদ্যোগী হতে দেখি। 'গৃহ' প্রবন্ধের নারীরা যেখানে শোষণ ও বখনার শিকার সেখানে উদ্দীপকের মাধ্যে যথাযোগ্য মর্যাদা ও অধিকার। মাহবুবের  স্ত্রীর মতো ভাগ্য সব নারীর হয় না। বরং 'গৃহ' প্রবন্ধে প্রকাশিত বাস্তবতার দেখাই বেশি স আলোচ্য মন্তব্যটিকে তাই যৌক্তিক বলা যায়।

বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য শ্বশুরবাড়িতে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিল সেলিনা। শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুযোগ পেলেই তাকে কটু কথা শোনাত। দুদিন আগে সে প্রতিবাদ করলে স্বামী তার গায়ে হাত তোলে। সেলিনা পরদিন নিজের বাড়ি চলে আসে। তার হতদরিদ্র ভাই বলেন, "তোর আর ও বাড়িতে ফেরার দরকার নেই, এটা তো তোরও বাড়ি। এখানে তুই যতদিন খুশি থাকবি।"

ক. প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় নারীর জন্য বরাদ্দ কী?

খ. "জানি না কী পাপে রানি হয়েছি!"- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের সেলিনা কীভাবে 'গৃহ' প্রবন্ধে বর্ণিত নারীদের থেকে আলাদা? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. সেলিনার ভাইয়ের মতো মানুষই 'গৃহ' প্রবন্ধে প্রত্যাশা করা হয়েছে।"- মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।

৩ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় নারীর জন্য বরাদ্দ ঘর।

খ. আলোচ্য উদ্ভিতে অধিকার বঞ্চিত একজন নারীর অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে।

'গৃহ' প্রবন্ধের লেখিকা এক রাজবাড়ি দেখতে গিয়ে সেখানকার রানিকে দেখে অত্যন্ত অবাক হন। রানির পোশাক বা চেহারার অভি ও জৌলুসের চিহ্ন নেই। বরং তাঁর মাঝে প্রচন্ড অযত্ন, অবহেলার ছাপ স্পষ্ট। রাজবাড়ি

সুসজ্জিত হলেও এখানে রানির কোনো মূল্য নেই, অধিকার নেই। এ

কারণেই রানির চোখে গাঢ় বিষন্নতা, নিজের প্রতি তাঁর চরম বিতৃষ্ণা। রানির এমন অপ্রত্যাশিত রূপ দেখে লেখিকার একজন সঙ্গী রানিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন।

গ.

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার দিক থেকে উদ্দীপকের সেলিনা 'গৃহ' প্রবন্ধে বর্ণিত নারীদের থেকে আলাদা।

'গৃহ' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারীর অধিকার বঞ্চনার স্বরূপ তুলে ধরেছেন বেশ কয়েকটি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে। শহরের উকিলের বাড়ির নারীরা কোনোদিন ঘরের বাইরে পা রাখার সুযোগ পায়নি। খদিজার স্বামী ও রমাসুন্দরীর দেবর তাদের ন্যায্য স অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। কলিম ভায়রা ভাইয়ের সাথে বিবাদ করায় তার পত্নী নিজের একমাত্র বোনের সাথে দেখা করতে পারে না। এ সমস্ত অন্যায় ও বঞ্চনা এই নারীরা নীরবে সহ্য করছে। পুরুষের কর্তৃত্ব ও প্রতাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস তাদের নেই।

উদ্দীপকের সেলিনা বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে যৌতুকের জন্য মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়ে আসছিল। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তারে সুযোগ পেলেই নানা কথা শোনাত। একদিন এই নির্যাতনের প্রতিবাদ করলে স্বামীর হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয় সে। অপমানিতত্ব আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন সেলিনা পরদিন বাবার বাড়ি চলে যায়। নিজের ওপর হওয়া অন্যায় সেলিনা মুখ বুজে সহ্য করেনি। এখানেই 'গৃহ' প্রবন্ধে উল্লিখিত নারীদের থেকে সে আলাদা।

ঘ. 'গৃহ' প্রবন্ধে প্রচ্ছন্নভাবে নারীর অধিকার বঞ্চনার অবসান কামনার ইঙ্গিত S রয়েছে, যার বাস্তবায়নে উদ্দীপকের সেলিনার ভাইয়ের মতো মানুষদের প্রয়োজন।

আলোচ্য প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন গৃহের অধিকার থেকে নারীর বঞ্চিত হওয় বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ঘরের চার দেয়ালের ভেতর অবস্থান করলেও নারী গৃহসুখ অনুভব করতে পারে না। এর পেছনে রয়েছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। সম্পত্তিতে মালিকানা প্রতিষ্ঠা কিংবা অভিভাবকের ঘরকে নিজের ঘর মনে করার স্বাচ্ছন্দ্য কোনোটিই নারী পরিপূর্ণভাবে পায় না পুরুষের আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টার কারণে।

উদ্দীপকে বর্ণিত সেলিনা যৌতুকের জন্য শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। এর প্রতিবাদে সে নিজের বাড়ি ফিরে আসে। সেখানে তার ভাই তাকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করে না বরং ঘরে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। ফলে 'গৃহ' প্রবন্ধে বর্ণিত নারী অপমানকারী পুরুষদের তুলনায় সে ব্যতিক্রম।

নারীর অধিকার প্রতিনিয়ত নিষ্পেষিত হচ্ছে পুরুষের অহং ও আধিপত্যের কাছে। 'গৃহ' প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের সেলিনার স্বামীর আচরণে তা স্পষ্ট। আলোচ্য প্রবন্ধে লেখিকা সরাসরি না বললেও এটি বুঝে নিতে কষ্ট হয় না যে তিনি এ অবস্থার পরিবর্তন চান। আর নারীকে পুরুষ সমাজ বিনির্মাণে নারী পুরুষের সমান অবদান রয়েছে। যে সমাজে পুরুষের সহযোগী হিসেবে নারী পাশাপাশি পথ চলেছে তারাই উন্নতির শিখরে আরোহণ করেছে। কিন্তু আমাদের দেশ এখনও সেই বাস্তবতা প্রতিষ্ঠা থেকে অনেক দূরে রয়ে গেছে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার তার অধিকার প্রদান করলেই কেবল তা সম্ভব। উদ্দীপকে বর্ণিত সেলিনার ভাইকে আমরা সেই মানুষদের কাতারে ফেলতে পারি, যায় নারীর অধিকারকে সম্মান জানায়। শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতিত হয়ে নিজের বাড়ি ফিরে আসা নারীকে সচরাচর আমাদের সমাজে ঝামেলা মিটমাট করে শ্বশুরবাড়ি ফিরে যেতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। কেননা, বাবার ঘরে মেয়ে সন্তানের অধিকারকে অগ্রাহ্য করাই যেন নিয়ম হয়ে দাঁডড়িয়েছে, সেলিনার ভাই দরিদ্র হলেও বোনকে গৃহহীন করেনি, বরং নিজের ন্যায্য অধিকার পেতে সাহায্য করেছে। সুতরাং সেলিনার ভাইয়ের মতো মানুষই 'গৃহ' প্রবন্ধের লেখিকার মূল প্রত্যাশাড় একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। অর্থাৎ আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।


এইচএসসি  বাংলা ১ম পত্র কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

Post a Comment

Previous Post Next Post