অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১.
মা মারা ছোট মেয়ে লাবনী আজ শশুর বাড়ি যাবে। সুখে থাকবে এই আশায় দরিদ্র কৃষক লতিফ মিয়া আবাদের সামান্য জমিটুকু বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করলেন। কিন্তু তাতেও কিছু টাকার ঘাটতি রয়ে গেল। এদিকে বর পারভেজের বাবা হারুন মিয়ার এক কথা সম্পূর্ণ টাকা না পেলে তিনি ছেলেকে নিয়ে চলে যাবেন। বিষয় টি পারভেজের কানে গেলে সে বাপকে সাফ জানিয়ে দেয় " পাত্রী দরদাম বা বেচাকেনার পণ্য নয়। সে একজন মানুষ জীবনসঙ্গী করতে এসেছে অপমান, করতে নয়।" ফিরতে হলে লাবনীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরবেন।
ক. শম্ভুনাথ স্যাকরার হাতে কী পরখ করতে দিয়েছিলেন?
খ. "বাংলাদেশের মধ্যে আমিই একমাত্র পুরুষ যাহাকে কন্যার বাপ বিবাহের আসর হতে নিজে ফিরাইয়া দিয়াছে" উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে ?
গ. অনুপম ও পারভেজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বৈপরীত্য ব্যাখ্যা কর।
ঘ. অনুপমের মামা ও হারুন মিয়ার মত মানুষের কারণে আজও কল্যাণী ও লাবনিরা অপমানের শিকার হয় মন্তব্যটির যাথার্থ্য নিরূপণ কর।
১ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ক. শম্ভুনাথ স্যাকরার হাতে একজোড়া ইয়ারিং পরখ করতে দিয়েছিলেন।
খ. "বাংলাদেশের মধ্যে আমিই একমাত্র পুরুষ যাহাকে কন্যার বাপ বিবাহের আসর হতে নিজে ফিরাইয়া দিয়াছে" বলতে অনুপমের আক্ষেপ ও অসহায় ত্বকে বোঝানো হয়েছে।
বাংলাদেশের বিয়েতে প্রায়শই দেখা যায় যে, প্রতিশ্রুতি ও প্রদত্ত যৌতুকের অসঙ্গতির কারণে বরের বাবা বিয়েতে অসম্মতি জানায়। কিন্তু অনুপমের ক্ষেত্রে এর বিপরীত ঘটনা ঘটেছে। যৌতুক গ্রহণের প্রবণতা, লোভ ও হীন মানসিকতার পরিচয় পেয়ে শম্ভুনাথ সেন বরের মামাকে আশীর্বাদের এয়ারিং ফিরিয়ে দেন। তারপর বরযাত্রীদের খাইয়ে বিয়ের ব্যবস্থা না করে তাদের গাড়ি ডেকে দিতে চাইলেন। এতে অনুপমের মনে হয়েছে শম্ভুনাথ যেন বর অনুপমকেই বিয়ের আসর থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে। আলোচ্য অংশে অনুপমের অসহায় অবস্থাকে তুলে ধরা হয়েছে।
গ. অপরিচিতা গল্পের অনুপম ও উদ্দীপকের পারভেজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বৈপরীত্য দেখা যায়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো।
অনেক যুবক আছে যারা উচ্চ শিক্ষিত হলেও তাদের মানস সুগঠিত নয়। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে না,পরিবারের চাপে সিদ্ধান্তের জন্য পরিবারের কর্তাব্যক্তিদের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও তারা পরিবারের পছন্দ-অপছন্দের উপর নির্ভর করে।
উদ্দীপকের পারভেজ স্পষ্টবাদী ও ব্যক্তিত্ববান। সে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে। এই কারণে সে যৌতুকলোভী বাবার কথার বাইরে গিয়ে বিয়ের কথা বলেছে। পাত্রী দরদাম করে বেচাকেনার কোন পণ্য নয়, তা সে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। তার সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে সে বলেছে যে, সে একজন জীবনসঙ্গী করতে এসেছে অপমান করতে নয়। 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম শিক্ষিত- মার্জিত। কিন্তু স্পষ্ট কথা বলার মত সাহস তার নেই। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে না। বিয়ের আসরে তার মামা স্যাকরা দিয়ে কনের গহনা যাচাই করেন। এতে যে কনেপক্ষের অপমান হয় তা অনুপম বুঝতে পারে না। স্যাকরাকে দিয়ে গহনা পরীক্ষা করাতে বর অনুপমের অনুমতি আছে কিনা, কনের বাবা এটা জানতে চাইলে অনুপম চুপ করে বসে থাকে। এতে তার ব্যক্তিত্বহীনতার চরম প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। এসব দিক বিচার বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, উদ্দীপকের পারভেজ এবং গল্পের অনুপম পরে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. অনুপমের মামা ও হারুন মিয়ার মত মানুষের কারণে আজও কল্যাণী ও লাবনীরা অপমানের শিকার হয়, মন্তব্যটি যথার্থ।
যৌতুক প্রথা একটি সামাজিক ব্যাধি। বর্তমানে এটি আমাদের সমাজে ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। বর পক্ষের দাবি পূরণ করতে কন্যার পিতাকে কখনো কখনো সর্বশান্ত হতে হয়। বিয়েতে যারা যৌতুক দাবি করে তারা আত্মসম্মানহীন ও অমানবিক।
উদ্দীপকে কন্যাদায় গ্রন্ত পিতা, যৌতুকলোভী এক পিতা এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এক যুবক সিদ্ধান্তের বিষয় আলোচিত হয়েছে। এখানে যৌতুকলোভী ব্যক্তিটি হারুন মিয়া। আর কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা লতিফ মিয়া, যিনি মেয়ে লাবনীকে পাত্রস্থ করতে নিজের সামান্য আবাদি জমি বিক্রি করে পণের টাকা জোগাড় করেছেন। তাতে সামান্য টাকা বাকি থাকায় হারুন মিয়া ছেলেকে এ বিয়ে করতে নারাজ হয়। পিতার এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে বর পারভেজ নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। কনেকে কেনাবেচার পণ্য না বানিয়ে সে লাবনীকে বিয়ে করে ঘরে ফিরতে চায়। উদ্দীপকের এই তিনজনের মধ্যে হারুন মিয়া যৌতুকলোভী। তার সাথে অপরিচিতা গল্পের অনুপমের মামার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্যপূর্ণ।অপরিচিতা গল্পের মামা অনুপমের বিয়েতে নগদ টাকা ও গহনা পণ হিসেবে দাবি করে। পিতা শম্ভুনাথ সেন এতে সম্মত হন। বিয়ের অনুষ্ঠানে কিছুক্ষণ আগে অনুপমের মামা কন্যার বাবাকে তার মেয়ের গা থেকে গহনা গুলো খুলে আনতে বলেন স্যাকরা দিয়ে সেগুলো যাচাই করে দেখার জন্য। অনুপমের মামা এ ধরনের আচরণ ও কথাবার্তায় তার হীনতা, লোভ ও অমানবিকতা প্রকাশ পায়। উদ্দীপকের হারুন মিয়াও অনুপমের মামার মত লোভী। যৌতুকের সম্পূর্ণ টাকা ছাড়া ছেলেকে বিয়ে করাবেন না বলে জানিয়ে দেন। এরা দুজনেই সমাজে যৌতুক প্রথা টিকিয়ে রাখতে চান। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটির যাথার্থ।
২. বিয়ের জন্য কাজী সাহেব এলেন। এলেন বর-কনে পক্ষের সাক্ষী-উকিল। এজিন আনার জন্য উকিল সাক্ষী অন্দর মহলে যেতে চাইল। এমন সময় বরের বাবা রায়বাহাদুর গর্জে উঠে বললেন, "আগে ফ্রিজ আর মোটরসাইকেল, পরে বিয়ে।" কনের বাবা অক্ষমতা প্রকাশ করলেন। বিয়ের আসর চোখের পলকে ভেঙে গেল।
ক. কে আসর জমাতে অদ্বিতীয়?
খ. মেয়ের বয়স পনেরো শুনে অনুপমের মামার মন rstika ভার হলো কেন? গ. উদ্দীপক ও 'অপরিচিতা' গল্পের মধ্যকার সাদৃশ্যের
দিকটি তুলে ধর। উদ্দীপকের রায়বাহাদুর এবং 'অপরিচিতা' গল্পের
অনুপমের মামা একসূত্রে গাঁথা। মন্তব্যটি মূল্যায়ন FREE PRE
২ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ক. 'অপরিচিতা' গল্পের হরিশ আসর জমাতে অদ্বিতীয়।
খ. মেয়ের বয়স পনেরো শুনে অনুপমের মামার মন ভার হলো। কারণ, তিনি মনে করলেন যে, ঐ মেয়ের বংশে কোনো দোষ আছে। তখনকার সময়ে আট থেকে দশ বছর বয়সের মধ্যে
কন্যার বিয়ে দেয়ার রীতি ছিল। এ সময়ের মধ্যে মেয়ের বিয়ে না হলে মনে করা হতো মেয়ের বংশে কোনো দোষ আছে। যে কারণে মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না। যে মেয়ের সাথে অনুপমের বিয়ের কথা চলছিল তার বয়স পনেরো। পনেরো বছর বয়সেও মেয়ের বিয়ে হয়নি, এমনটি ভেবে অনুপমের মামার মন ভার হলো।
গ. বরপক্ষের অমানবিক আচরণের দিক থেকে উদ্দীপক ও 'অপরিচিতা' গল্পের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।
যৌতুক প্রথা আমাদের সমাজকে আষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে ধরেছে। এর কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অনেক মেয়ের জীবন। যৌতুকের কারণে বরপক্ষ কখনো কখনো হয়ে ওঠে অত্যন্ত অমানবিক। মূলত যারা যৌতুক দাবি করে তারা ব্যক্তিত্বহীন, অমানুষ।
'অপরিচিতা' গল্পে ব্যক্তিত্বহীনতা, অমানবিকতার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত অনুপমের মামা। বেছে বেছে তিনি এমন একজন পাত্রী নির্বাচন করেন যার বাবা মেয়ের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিতে কুণ্ঠিত হবেন না। কল্যাণীর বাবা মেয়ের বিয়েতে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেন। কিন্তু বরপক্ষ বিশেষত বরের মামা তার অমানবিকতার চূড়ান্ত পরিচয় দিয়েছেন স্যাকরা নিয়ে এসে মেয়ের গহনা যাচাই করতে চেয়ে। উদ্দীপকেও বরপক্ষের এমন অমানবিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। বরপক্ষ বিয়েতে বিশ হাজার টাকা পণ এবং বহু দানসামগ্রী দাবি করে। কন্যার বাবা পুরো টাকা জোগাড় করতে পারেনি। এ ব্যাপারটি জানার পর বিবাহসভায় বরের বাবা পুরো টাকা হাতে না পেলে বিয়ে হবে না বলে জানিয়ে দেয়।
ঘ. "উদ্দীপকের রায়বাহাদুর এবং 'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের মামা একসূত্রে গাঁথা।" মন্তব্যটি যথার্থ। যারা যৌতুক দাবি করে তারা লোভী, নিষ্ঠুর, অমানুষ। বিয়েতে নিজেদের দাবিকৃত পণ না পেলে তাদের এসব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সহজেই ধরা পড়ে। এমনকি চাহিদামাফিক যৌতুক না পেলে তারা বিয়ের আসর ত্যাগ করার মতো সিদ্ধান্ত নিতেও দ্বিধা করে না। তাদের এ ধরনের আচরণ সত্যিই অমানবিক। 'অপরিচিতা' গল্পে মামা অনুপমের বিয়েতে টাকা ও গহনা যৌতুক হিসেবে দাবি করেন এবং কন্যার পিতা এতে সম্মত হন। বিয়ের দিন, বিয়ে অনুষ্ঠানের ঠিক কিছুক্ষণ আগে তিনি কন্যার বাবাকে কন্যার গা থেকে গহনাগুলো খুলে আনতে বলেন; তিনি তা স্যাকরা দিয়ে যাচাই করাবেন। মামা এ ধরনের আচরণ ও কথাবার্তায় তার হীনতা, লোভ ও অমানবিকতারই পরিচয় দেন। উদ্দীপকের রায়বাহাদুরও অনুপমের মামার মতোই লোভী। তিনিও কন্যাপক্ষের কাছে অঢেল যৌতুক দাবি করেন। কিন্তু কন্যার পিতা তা দিতে অসমর্থ হলে তিনি বিয়ের আসর থেকে চলে যাওয়ার হুমকি দেন। 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মামা এবং উদ্দীপকের রায়বাহাদুর উভয়ই সমগোত্রীয়। তারা লোভী, হীন ও অমানবিক। এ কারণেই তারা একসূত্রে গাঁথা। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।