বায়ান্নর দিনগুলো প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

 বায়ান্নর দিনগুলো প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

১.  পরাধীন ভারতবর্ষের অত্যাচারিত, অবহেলিত মানুষের করুণ অবস্থা বিদ্রোহী করে তোলে ভগৎ সিংকে। জালিয়ানওয়ালাবাগে জেনারেল রেজিনাল্ড ডায়ারের নির্বিচারে সাধারণ মানুষ হত্যাকাণ্ড তাঁকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করে তোলে। আন্দোলনের কারণে তাঁকে কারাগারে যেতে হয়। দীর্ঘ ৬৩ দিন অনশন করার পর ভগৎ সিংয়ের জনপ্রিয়তা সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সান্ডার্স হত্যা মামলায় ভগৎ সিংকে অভিযুক্ত করে ফাঁসির আদেশ দেয় ব্রিটিশ সরকার।

ক. 'ঢাকায় ভীষণ গোলমাল হয়েছে।' -এ খবরটি বঙ্গবন্ধু কীভাবে পেয়েছিলেন? 

খ. “ মুসলিম লীগ কী অপরিণামদর্শিতার কাজ করল ” বঙ্গবন্ধু কোন কাজের কথা বললেন  ? ব্যাখ্যা করো। 

গ. উদ্দীপকের বিপ্লবী ভগৎ সিং ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবনের তুলনামূলক আলোচনা কর।   

ঘ. 'অত্যাচারিত মানুষের মুক্তির আন্দোলনে যুগে যুগে মহামানবেরা আত্মত্যাগ করেছেন। ভগৎ সিং ও বঙ্গবন্ধুর জীবন তারই দৃষ্টান্ত'-এ বিষয়ে তোমার মতামত দাও।

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. ডিউটিতে আসা সিপাহিদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু খবর পেয়েছিলেন ঢাকায় ভীষণ গোলমাল হয়েছে।

খ. ভাষা আন্দোলনে গুলি করে মানুষ হত্যা করাটা মুসলিম লীগের অপরিণামদর্শী কাজ বলে বঙ্গবন্ধু মনে করেন।

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে এ দেশের সকল শ্রেণিপেশার মানুষ আন্দোলন গড়ে তোলে। মেডিকেল কলেজের হোস্টেল এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করলে আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার না করে পুলিশ নির্বিচারে গুলি ছুড়ে হত্যা করে। পৃথিবীতে আর কোথাও ভাষা আন্দোলন করার জন্য গুলি করে হত্যা করা হয়নি। তাই বঙ্গবন্ধুর মতে এটি মুসলিম লীগের অপরিণামদর্শী কাজ।

গ .উদ্দীপকের বিপ্লবী ভগৎ সিং-এর সংগ্রামের সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামের মিল রয়েছে।

'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অপশাসনের বিরুদ্ধে শেখ মুজিবের আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বিনাবিচারে রাজবন্দিদের বছরের পর বছর আটকে রাখার প্রতিবাদে ১৯৫২ সালে শেখ মুজিব অনশন ধর্মঘট করেন। জেলে আটক অবস্থায়ও তিনি আন্দোলন চালিয়ে যান।

উদ্দীপকের ভগৎ সিং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন। ভারতবর্ষে স্বাধীনতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি লড়াই করেছেন। ভারতবর্ষের অত্যাচারিত, অবহেলিত মানুষের জন্য আন্দোলন করে তাকে কারাগারেও যেতে হয়েছে। কারাগারে গিয়েও তিনি অনশন করেন। এর অনুরূপ ভূমিকা দেখা যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে। কারাগারে বন্দি করে রেখেও তাদের আন্দোলন থামানো যায়নি। তাদের অনশনও বন্ধ হয় না। দেশের জন্য আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভগৎ সিং দুজনই নির্ভীক এবং আত্মত্যাগী ছিলেন।

ঘ . অত্যাচারিত মানুষের মুক্তির আন্দোলনে যুগে যুগে মহামানবেরা আত্মত্যাগ করেছেন। ভগৎ সিং ও বঙ্গবন্ধুর জীবন তারই দৃষ্টান্ত- মন্তব্যটি যথার্থ।

'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় বঙ্গবন্ধুর আপসহীন নেতৃত্ব ও নির্ভীকতার চিত্র ফুটে উঠেছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর জেল জীবন ও জেল থেকে মুক্তি লাভের ঘটনাবলি বর্ণিত হয়েছে। ভাষা আন্দোলনকে স্তিমিত করতে বঙ্গবন্ধুসহ অন্য রাজবন্দিদের বিনা বিচারে জেলে আটকে রাখা হয়। কিন্তু তাতে তিনি দমে যাননি বরং অনশন করে জেলের ভেতরেই আন্দোলনকে সচল করে রাখেন।

উদ্দীপকে অকুতোভয় ভগৎ সিংয়ের সংগ্রামের কথা বলা হয়েছে। ভারতবর্ষের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের দুঃসাহসী নায়ক তিনি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকে সফল করতে তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁকে জেলে আটকে রেখে এবং ফাঁসির আদেশ দিয়েও সংগ্রামবিমুখ করা যায়নি।উদ্দীপক ও 'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও তাঁরা দুজনই দেশপ্রেমের চেতনায় মুক্তির জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিতেও দ্বিধাবোধ করেননি। ভগৎ সিংয়ের মতো ব্যক্তিদের আত্মোৎসর্গের কারণেই ভারতবর্ষ ব্রিটিশ শাসনের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মত্যাগ বাংলাকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার থেকে আমাদের মুক্তি ত্বরান্বিত করেছে। সুতরাং, উল্লিখিত মন্তব্যটিকে যুক্তিযুক্ত বলা যায়।

Post a Comment

Previous Post Next Post