আঠারো বছর বয়স কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন ৭
৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
খ. যৌবনের ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যের জন্য কবি যৌবনশক্তির জয়গান করেছেন।
আঠারো বছর বয়সের তরুণরা শৈশব-কৈশোরের পরনির্ভরতার দিনগুলো সচেতনভাবে মুছে
ফেলতে উদ্যোগী হয়। এ বয়স অদম্য দুঃসাহসে সকল বাধা-বিপদকে পেরিয়ে যেতে প্রস্তুত
থাকে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে এ বয়সের তরুণরা অগ্রণী ভূমিকা পালন
করে। এ বয়সের তরুণপ্রাণ কারো কাছে মাথা নিচু করে না। আর এ কারণেই কবি যৌবনশক্তির
জয়গান করেছেন।
গ. উদ্দীপকের রফিকের মাঝে সাহসিকতা, উদ্দীপনা, কর্মস্পৃহা ও দুর্বার গতি লক্ষ করা যায় যা 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত তারুণ্যের বৈশিষ্ট্যকেই প্রতিনিধিত্ব করে।
আলোচ্য কবিতায় আঠারো বছর বয়সি তরুণদের অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে
উজ্জীবিত হওয়ার দিকটি উঠে এসেছে। তাই তারা শত আঘাত-সংঘাতের মধ্যেও রক্তশপথ নিয়ে
মানুষের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। এই বয়সি তরুণদের রয়েছে অফুরন্ত উদ্দীপনা, অসীম সাহসিকতা ও দুর্বার গতি। ফলে এই বয়সি তরুণরা স্থবিরতা, নিশ্চলতা, জরাজীর্ণতাকে অতিক্রম করতে পারে খুব
সহজেই। তাই আলোচ্য কবিতায় কবি প্রগতি ও অগ্রগতির পথে এই বয়সি তরুণদের পদক্ষেপ
প্রত্যাশা করেছেন।
উদ্দীপকে দুরন্ত-দুর্বার যৌবনকে অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার রূপে বর্ণনা করা
হয়েছে। এখানে যুবক রফিকের মাধ্যমে অপরিসীম দেশপ্রেমের পরিচয় ফুটে উঠেছে। সে
পাকিস্তানি বর্বরতা সহ্য করতে না পেরে জীবনের মায়া ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে
পড়েছে। তারুণ্যের হার না মানা মানসিকতার কারণেই সে দেশের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ
করতে পেরেছে। কারণ তারুণ্য অফুরন্ত প্রাণশক্তি নিয়ে সমস্ত বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যায়
অভিষ্ট লক্ষ্যে। আর তারুণ্যের এ বৈশিষ্ট্যই 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি তুলে ধরেছেন। এ বয়সি তরুণদের তিনি দুঃসহ বলেছেন, যারা স্পর্ধায় মাথা তোলবার ঝুঁকি নেয়। একারণে কবি প্রত্যাশা করেছেন নানা
সমস্যাপীড়িত দেশে তারুণ্য ও যৌবনশক্তি যেন জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়।
অতএব,
দেশের কল্যাণে তারুণ্যের এসকল বৈশিষ্ট্য ধারণ করায়
উদ্দীপকের রফিক 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আঠারো বছর বয়সি তরুণদের সার্থক প্রতিনিধি হয়ে উঠেছে।
ঘ. 'আত্মত্যাগ ও মানবকল্যাণ আঠারো বছর বয়সের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য'-উদ্দীপক ও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আলোকে উক্তিটি যথার্থ।
আলোচ্য কবিতায় কবি আঠারো বছর বয়সকে বলেছেন দুঃসহ, দুর্বার ও নির্ভীক। এই বয়সের তরুণরা সমাজজীবনের নানা বিকার, অসুস্থতা ও সর্বনাশের অভিঘাতকে রুখে দিতে পারে। এজন্য কবি আলোচ্য কবিতার
মূলভাবে আঠারো বছর বয়সকে অদম্য প্রাণশক্তি খুঁজে পেয়েছেন। প্রাণশক্তি ও দূর্নীর
সাহসিকতায়
উদ্দীপকে উঠে এসেছে দেশপ্রেমে সমুজ্জ্বল, অসীম
প্রাণশক্তির আধার তারুণ্যের কথা। এখানে তরুণ রফিক দেশের মানুষের ওপর পাকিস্তানি
বাহিনীর নির্মমতা দেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তারুণ্যের শক্তির জোরেই সে দেশের
মানুষের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে। অর্থাৎ তরুণদের আছে সমস্যা ও বাধা পেরিয়ে
যাওয়ার প্রবল মানসিকশক্তি। সেই শক্তি ও সাহসের বলেই রফিক আত্মত্যাগ করে হলেও
মানবকল্যাণে নিয়োজিত হয়েছে। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় ঠিক একই চেতনার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূলভাবে বলা হয়েছে, আঠারো বছর বয়সের আছে সমস্ত দুর্যোগ আর দুর্বিপাক মোকাবিলা করার অদম্য শক্তি।
কবি তাই সমস্যাপীড়িত এই দেশে আঠারোর তারুণ্যকে প্রত্যাশা করেছেন। অর্থাৎ, আলোচ্য কবিতা ও উদ্দীপক উভয়স্থানেই সমাজজীবনে তারুণ্যের উপস্থিতি কামনা করা
হয়েছে। আলোচ্য কবিতার কবি আঠারো বছর বয়সি তরুণদের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন
সমস্যাপীড়িত দেশের চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়াতে। আর উদ্দীপকে সেই ভাবের ফলস্বরূপ
রফিককে দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা যায়। অর্থাৎ, আত্মত্যাগ ও মানবকল্যাণ আঠারো বছর বয়সের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য এ দিকটি
উভয়ক্ষেত্রেই সমানভাবে উঠে এসেছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৮
৮. মচমইল বাজারে প্রকাশ্যে তিনজন সন্ত্রাসী আক্রমণ করে তালেব মাস্টারকে।
তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মোটরসাইকেলযোগে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এমন সময়
ঘটনাস্থলে এসে পড়ে সাহসী তরুণ ফিরোজ। সে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে এবং একজনকে ধরে
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেয়। ফিরে এসে দেখে মাস্টার সাহেব তখনো
মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছেন। পুলিশি ঝামেলার ভয়ে কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসছে না। ফিরোজ
কোনো কিছু না ভেবেই মাস্টার সাহেবকে নিয়ে যায় মেডিকেলে।
প্রশ্ন ক. কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য কোন দৈনিক পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন?
খ. 'আঠারো বছর বয়স মাথা নোয়াবার নয়'- কেন?
গ. উদ্দীপকের ফিরোজের মানসিকতার যে দিকটি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মধ্যে বিদ্যমান তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের মূলভাব 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূলভাবের দ্যোতক- আলোচনা করো।
৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য 'দৈনিক স্বাধীনতা' পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
খ. আঠারো বছর বয়সে মানুষ যৌবনে পদার্পণ করে আত্মপ্রত্যয়ী ও সাহসী হয়ে ওঠে বলে
কারো কাছে মাথা নোয়ায় না।
শৈশব-কৈশোরের পরনির্ভরতার দিনগুলো সচেতনভাবে মুছে ফেলতে উদ্যোগী হয় আঠারো বছর
বয়সের তরুণেরা। এ বয়স অদম্য দুঃসাহসে সকল বাধা-বিপদকে পেরিয়ে যেতে প্রস্তুত থাকে।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে উদ্যমী এ বয়সের তরুণেরা। কোনো অন্যায় ও
প্রতিবন্ধকতার কাছে মাথা নত করে না এ বয়সের তরুণপ্রাণ। কবি তাই এ বয়সটিকে দুঃসাহসী
হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
গ. উদ্দীপকের ফিরোজের মানসিকতায় 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় উল্লেখিত তরুণদের ইতিবাচক দিকগুলো বিদ্যমান।
আলোচ্য কবিতায় কবি নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যকে তুলে
ধরেছেন। তিনি লক্ষ করেছেন, কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের এ
বয়সটি প্রচন্ড সাহসে ঝুঁকি নেওয়ার উপযোগী। আঠারো বছর বয়সের তরুণেরা অসাধ্যকে সাধন
করার জন্য দুর্বার গতিতে এগিয়ে যায়।
উদ্দীপকের ফিরোজ একজন সাহসী তরুণ।। সে তালেব মাস্টারকে আক্রমণ করা
সন্ত্রাসীদের একজনকে ধরে চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেয়। আক্রমণস্থলে ফিরে এসে সে
দেখে ভীতু মানুষগুলো রক্তাক্ত তালেব মাস্টারকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। তখন সে
পুলিশি ঝামেলার ভয় অগ্রাহ্য করে নিজেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আলোচ্য কবিতায়
ফিরোজের এ বৈশিষ্ট্যগুলোর কথাই বলা হয়েছে। দেশ, জাতি ও মানবতার
জন্য এ বয়সের তরুণেরাই এগিয়ে যায় সবার আগে। কবি মনে করেন, এ বয়সটি প্রবল উচ্ছ্বাসে ঝুঁকি নেওয়ার উপযোগী। ফিরোজের মাঝেও এই ঝুঁকি নেওয়ার
প্রবণতা লক্ষণীয়। সর্বোপরি, 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত তরুণপ্রাণের ইতিবাচক সকল বৈশিষ্ট্যই ফিরোজের মাঝে বিদ্যমান।
'ঘ. উদ্দীপকের মূলভাব 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূলভাবের দ্যোতক'- উক্তিটি যথার্থ। কেননা
উভয়স্থানেই তারুণ্যের যথার্থ স্ফুরণ লক্ষ করা যায়।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি বয়ঃসন্ধিকালের
বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছেন। এ সকল বৈশিষ্ট্য ইতিবাচকতায় পরিপূর্ণ। কবির বর্ণনায়
নানারকম গুণ ও দক্ষতার লক্ষণ ফুটে উঠেছে এ বয়সের তরুণদের মাঝে। তিনি মনে করেন, এ বয়সের ধর্মই হলো আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়া।
উদ্দীপকের ফিরোজ তালেব মাস্টারকে আক্রমণ করা সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে একজনকে
ধরে ফেলতে সক্ষম হয়। তাকে আটক করে চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেয় সে। পরবর্তীতে সে
পুলিশি ঝামেলার তোয়াক্কা না করে আহত মাস্টারকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পাঠ্য কবিতায়
কবি তরুণদের যে ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন তা ফিরোজের মাঝেও বিদ্যমান।
তারুণ্যের শক্তিতে ফিরোজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।
আঠারো বছর বয়স বহু ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত। জড়, নিশ্চল ও প্রথাবদ্ধ জীবনকে পেছনে ফেলে নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন, কল্যাণ ও সেবাব্রত, উদ্দীপনা ও সাহসিকতা, চলার দুর্বার গতি- এ সবই আঠারো বছর বয়সের বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি তরুণেরই এ সকল
বৈশিষ্ট্য ধারণ করা জরুরি। উদ্দীপকের ফিরোজ যেন কবির প্রত্যাশিত বৈশিষ্ট্যের
অধিকারী এক তরুণ। সন্ত্রাসী ও পুলিশি ঝামেলার ভয়ে যখন মানবতা পদপিষ্ট হচ্ছিল তখন
তারুণ্যদীপ্ত ফিরোজই সেখানে সাহায্যকারীর ভূমিকায় উত্তীর্ণ হয়। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে
থাকা অনেক মানুষের ভিড়ে একজন ফিরোজই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। আর
তাই, উদ্দীপকের ফিরোজের চরিত্রটি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত সকল তরুণের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছে। সুতরাং, আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।