আঠারো বছর বয়স কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন ৫
ক. কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য 'দৈনিক স্বাধীনতা' নামক পত্রিকার আজীবন সম্পাদক ছিলেন।
খ. কবি উত্ত পঙক্তিটির মাধ্যমে প্রত্যাশা করেছেন, আঠারো বছর বয়সের ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো যেন জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে।
আঠারো বছর বয়স বহু ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। এ বয়সের তরুণরা জড়-নিশ্চল
প্রথাবদ্ধ জীবনকে পেছনে ফেলে সবসময় নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন দেখে। কল্যাণচিন্তা, সেবাব্রত, উদ্দীপনা, সাহসিকতা, চলার দুর্বার গতি- এসবই তাদের
বৈশিষ্ট্য। কবির কামনা এসব বৈশিষ্ট্য দিয়েই যেন তরুণরা জাতীয় জীবনের ইতিবাচক
পরিবর্তন ঘটায়।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে তারুণ্যের উন্মাদনার ক্ষেত্রে।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বলা হয়েছে যৌবনে পদার্পণের এ বয়সটি প্রবল আবেগ, উত্তেজনা ও উচ্ছ্বাসে পরিপূর্ণ। এ বয়সের তরুণরা সব বাধা- ভয় ভেঙে, সাহস ও হিম্মত নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারে। তাদের সাহসী পদক্ষেপে সকল অপশক্তি ও বিপদ কেটে নতুন দিনের আলো ফুটতে পারে- সে প্রত্যাশা কবিতাটিতে ব্যস্ত হয়েছে।
উদ্দীপকে তারুণ্যের আত্মপ্রত্যয়ী ও উচ্ছল বৈশিষ্ট্যগুলোর কথা বলা হয়েছে। তরুণরা হয় উদ্দাম, চঞ্চল, নির্ভয় ও উচ্ছল। সকল বাধাকে এরা জয় করে কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা। তাই উদ্দীপকের কবি তরুণদেরকে মরু-সঞ্চারী বেদুইনের সাথে তুলনা করেছেন। তরুণরাই পারে দুঃসাহসী পদক্ষেপ নিয়ে ভয়কে জয় করতে। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায়ও তারুণ্যের নির্ভীক ও উচ্ছল বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের সঙ্গে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সাদৃশ্য আছে। উদ্দীপকটি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আঠারো বছর বয়সিদের তারুণ্য শক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় যৌবনের নেতিবাচক ব্যর্থতার
দীর্ঘশ্বাসের আশঙ্কা থাকলেও উদ্দীপকে সে আশঙ্কার কথা অনুপস্থিত।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় যৌবনের ভালো-মন্দ, ইতিবাচক-নেতিবাচক নানা সম্ভাবনা ও আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। এ বয়সে কানে আসে
নানা ধরনের মন্ত্রণা। ভালো-মন্দ নতুন নতুন তত্ত্ব ও ভাবধারণার সঙ্গো পরিচিত হয়ে
তাদের মন্দের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার প্রবণতা থাকে এ বয়সে। সচেতন হয়ে সুনির্দিষ্ট
লক্ষ্যে জীবন পরিচালনা করতে না পারলে এ বয়সটা কালো নেতিবাচক অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
উদ্দীপকে তারুণ্যের ইতিবাচক দিক প্রকাশ করা হয়েছে। তরুণরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দ্যাম, ঝরনার মতো চঞ্চল, বিধাতার মতো নির্ভয় এবং প্রকৃতির
মতো উচ্ছল। এরা জীবনের সকল বাধাকে অতিক্রম করে প্রচণ্ড সাহসের সাথে। এরা পরিশ্রমী
ও কর্মনিষ্ঠ তাই কবি এদের বেদুইনের সাথে তুলনা করেছে। উদ্দীপকের কবি তারুণ্যের
ইতিবাচক দিকগুলোকে প্রকাশ
করেছেন।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তারুণ্যের ইতিবাচক দিকের
পাশাপাশি নেতিবাচক দিকও প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে কেবল তারুণ্যের ইতিবাচক
দিকই প্রকাশ করা হয়েছে। তাই আলোচ্য কবিতা ও উদ্দীপক পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, কবিতায় তরুণ বয়সের কিছু নেতিবাচক আশঙ্কার কথা বলা থাকলেও উদ্দীপকে তা
অনুপস্থিত।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৬
প্রশ্ন ৬ নবীন জগৎ সন্ধানে যারা ছুটে মেরু-অভিযানে
পক্ষ বাঁধিয়া উড়িয়া চলেছে যাহারা ঊর্ধ্বপানে।
তবুও থামে না যৌবন-বেগ, জীবনের উল্লাসে,
চলেছে চন্দ্র-মঞ্চাল-গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে।
যারা জীবনের পসরা বহিয়া মৃত্যুর দ্বারে দ্বারে
করিতেছে ফিরি, ভীম রণভূমে প্রাণ বাজি রেখে হারে।
আমি মরুকবি গাহি সেই বেদে বেদুইনদের গান,
যুগে যুগে যারা করে অকারণ বিপ্লব অভিযান।
প্রশ্ন
ক. 'ছাড়পত্র' কী ধরনের রচনা?
খ. 'এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য' চরণটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের ভাবের সাথে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সাদৃশ্য । বা বৈসাদৃশ্য আলোচনা করো
ঘ. "উদ্দীপকে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার ভাব আংশিক প্রতিফলিত হয়েছে"- মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক.'ছাড়পত্র' একটি কাব্যগ্রন্থ।
খ. যে কোনো মহৎ কাজে আঠারো বছর বয়সি তরুণদের আত্মত্যাগী মানসিকতা বোঝাতে কবি
আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
দেশ,
জাতি ও মানবতার জন্য যুগে যুগে তরুণেরাই এগিয়ে এসেছে সবচেয়ে
বেশি। সমস্ত বিপদ মোকাবিলায় তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাণ দিয়েছে দেশ ও
জনগণের মুক্তির সংগ্রামে। যেকোনো অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ করতে এ বয়সের তরুণেরা
পিছপা হয় না। তাই কবি বলেছেন, 'এ বয়স জানে রক্তদানের
পুণ্য।'
গ.'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি তারুণ্য শক্তির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে তরুণদের জয়গান গেয়েছেন। কবির মতে, তরুণরা সমস্ত অন্যায়, অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে থাকে। তারা দেশ ও জাতির জন্য জীবনবাজি রাখতে পারে। তারা ভয় পেতে জানে না। অদম্য সাহস নিয়ে সব বাধা-বিপদ পেরিয়ে যাওয়াই তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
উদ্দীপকের কবিতাংশেও তারুণ্য শক্তির জয়গান গাওয়া হয়েছে। সেখানে তরুণরা নতুন
জগতের সন্ধানে এগিযে চলে। তাদের এ অভিযান কখনো থেমে যায় না। জীবনের উল্লাসে তারা
চন্দ্র-গ্রহ-আকাশপানে এগিয়ে যেতে চায়। যুদ্ধ ক্ষেত্রে তারা প্রাণবাজি রাখে।
যৌবনধর্মের এই বৈশিষ্ট্যগুলো আঠারো বছর বয়সিদের মাঝেও প্রত্যক্ষ করা যায়। তাই বলা
যায়, উদ্দীপকটি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আঠারো বছর বয়সিদের তারুণ্য শক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. "উদ্দীপকে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার ভাব আংশিক প্রতিফলিত হয়েছে"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছেন। আঠারো বছর বয়সিরা জীবনের ঝুঁকি নিতে কখনো পিছপা হয় না। এদের সামনে কোনো বাধাই বাধা হিসেবে দাঁড়াতে পারে না। এরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অবতীর্ণ হয়। সমস্ত দুর্যোগ আর দুর্বিপাক মোকাবিলা করার প্রাণশক্তি কেবল এ বয়সেরই আছে। ফলে তারা দুর্বার গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যায় কল্যাণের পথে, প্রগতির পথে। সর্বোপরি এ বয়সের ধর্মই হলো আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে শত আঘাত-সংঘাতের মাঝেও রক্তশপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া।
উদ্দীপকের কবিতাংশেও তারুণ্য শক্তির জয়গান গাওয়া হয়েছে। এ বয়সিরাই পারে নতুন
কিছু আবিষ্কার করতে, মরুপানে ছুটে যেতে। নতুন জগতের
সন্ধান এ বয়সিরাই দিয়ে থাকে। মৃত্যুও তাদের এই চলার পথকে আটকাতে পারে না।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে আঠারো
বছর বয়সিদের নানা বৈশিষ্ট্য উঠে এলেও তা কবিতার সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে পারেনি।
কবিতাটিতে আঠারো বছর বয়সিদের সম্পর্কে আরও অনেক বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। যা
উদ্দীপকের স্বল্প পরিসরে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকের 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার ভাব আংশিক প্রতিফলিত হয়েছে" মন্তব্যটি যথার্থ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৭
৭. ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাক-হানাদার বাহিনী নির্বিচারে অগণিত বাঙালিকে হত্যা করে। দেশে এমন অরাজকতা দেখে তরুণ যুবক রফিক আর চুপ থাকতে পারে না। অপরিসীম সাহস নিয়ে সে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশ ও দশের কল্যাণে সে নিজেকে উৎসর্গ করে। রিং বো, ডুবো হবো; রবো. ১৮৪ প্রশ্ন নম্বর-৭; বি এ এফ শাহীন কলেজ, ঢাকা।
ক. 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
খ. কবি কেন যৌবনশক্তির জয়গান করেছেন?
গ. উদ্দীপকের রফিক 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার কোন বৈশিষ্ট্যের প্রতিনিধিত্ব করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. 'আত্মত্যাগ ও মানবকল্যাণ আঠারো বছর বয়সের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য'-উদ্দীপক ও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আলোকে উক্তিটির তাৎপর্য মূল্যায়ন করো।