আঠারো বছর বয়স কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (৩,৪)/Atharo bochhar boyos CQ(3,4)

 

আঠারো বছর বয়স কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩

'আঠারো বছর বয়স' কবিতার শেষ চরণ- 'এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।

খ. কবি আঠারো বছর বয়সকে দুঃসহ বলেছেনকেননা এ বয়সে নানা দুঃসাহসী স্বপ্নকল্পনা ও উদ্যোগ মনকে ঘিরে রাখে।

আঠারো বছর বয়স মানবজীবনের এক উত্তরণকালীন পর্যায়। মানুষ এ বয়সে কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণ করে। আত্মনির্ভরশীলতার তাড়না এ সময় মনকে অস্থির করে তোলে। এ বয়সেই স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার ঝুঁকি নেয় মানুষ। ফলে তাকে এক দুঃসহ অবস্থায় পড়তে হয়। তাই আঠারো বছর বয়সটিকে দুঃসহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় উল্লিখিত বাধা অতিক্রম করার মানসিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে উদ্দীপকে। 

'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছেন। এ বয়সে তরুণরা অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত। তাই তারা শত আঘাত-সংঘাতের মধ্যেও রক্তশপথ নিয়ে মানুষের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। এরা স্থবিরতা, নিশ্চলতা, জরাজীর্ণতাকে অতিক্রম করে দুর্বার গতিতে।

উদ্দীপকে প্রবল প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত হয়ে সমস্ত বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বাণী উচ্চারিত হয়েছে। দুর্বার উদ্দীপনা, অপরিসীম ঔদার্য নিয়ে সম্মুখের সকল বাধাকে তুচ্ছ করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে। তারুণ্যের এসব বৈশিষ্ট্যই আলোচ্য কবিতায় সদ্য যৌবনে উত্তীর্ণ তরুণদের মধ্যে কবি প্রত্যক্ষ করেছেন। যৌবনের উদ্দীপনা, সাহসিকতা, দুর্বার গতি, নতুন জীবন রচনার স্বপ্নের জন্য কবি প্রত্যাশা করেছেন সমস্যাপীড়িত এ দেশের তরুণরাই যেন এ দেশের চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়। এভাবে উদ্দীপক ও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার ভাবার্থের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।

ঘ. 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আত্মত্যাগ, সাহসিকতা ও জাতির প্রত্যাশার ব্যাপকতা উদ্দীপকটি ধারণ করতে পারেনি।

'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কৈশোর থেকে যৌবনে পদাপর্ণের সময়কালের দুর্দমনীয় মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। এ বয়স যে কতটা অনুভূতিপ্রবণ ও সহানুভূতিশীল তার স্বরূপ উন্মোচন করা হয়েছে কবিতাটিতে। সেই সাথে আত্মত্যাগে উজ্জীবিত এ বয়সটির কাছে জাতির প্রত্যাশা কতখানি, তাও কবিতায় ফুটে উঠেছে।

উদ্দীপকের কবিতাংশে দুর্বার প্রণয়াবেগে সকল বাধা পেরিয়ে যাওয়ার দৃঢ়। প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে। মৃত্যুভেদ করে সিন্ধুপারের রহস্য উদ্‌ঘাটনে ছুটে যাবে দুরন্ত প্রাণ। নতুন উদ্যমে, নতুন ছন্দে, নতুন জীবনের প্রত্যাশায় সমস্ত বিকার, সর্বনাশের অভিঘাতকে রুখে দেবে। অমিয় শক্তি ও সাহসের বলেই নতুন স্বপ্নময় মুক্তজীবন সূচিত হবে।

'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে তরুণ বয়সের এক দুর্নিবার চিত্র। যে বয়স অনেক বৈচিত্র্য ও উদ্যমতায় পরিপূর্ণ। কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের এ বয়সটি অনেক উত্তেজনা, প্রবল আবেগ ও উচ্ছ্বাসে জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার জন্য উপযুক্ত সময়। এ বয়স সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। সকল দুর্যোগ ও দুর্বিপাকে এ বয়স জোগাতে পারে অদম্য প্রাণশক্তি। তাই সমস্যাগ্রস্ত এ দেশে তরুণরা হতে পারে জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি। এত সব দিক উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি বলে উদ্দীপকটি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার একটি খণ্ডচিত্র মাত্র- একথা যৌক্তিকভাবে বলা যায়।


সৃজনশীল প্রশ্ন ৪

৪. সেবার কলেরায় গ্রামের অধিকাংশ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। সাহসী যুবক নয়ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটে এসে মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে সমবয়সিদের নিয়ে গড়ে তুলল 'সেবা' নামে এক সংগঠন। একে একে মানুষ সুস্থ হতে শুরু করল। মহামারি আকার নেয়ার আগেই এলাকা কলেরামুক্ত হলো। সবাই নয়নকে বাহবা দিতে লাগল।

 প্রশ্ন

 ক. সুকান্ত ভট্টাচার্য কত বছর জীবিত ছিলেন

খ. 'তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা'- বুঝিয়ে লেখো।

গ. উদ্দীপকের নয়ন চরিত্রের সাথে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সাদৃশ্য তুলে ধরো। 

ঘ. "উদ্দীপকের নয়নের বয়স 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূলভাবকে বহন করে"- বিশ্লেষণ করো।

৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. সুকান্ত ভট্টাচার্য একুশ বছর জীবিত ছিলেন।

খ. সমাজজীবনে অন্যায়, শোষণ, নিপীড়ন ও ভেদ-বৈষম্য অবলোকন করে আঠারো বছর বয়সি যুবকেরা অসহ্য যন্ত্রণায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

আঠারো বছর বয়সি তরুণের প্রাণ থাকে তীব্র আর প্রখর। মন থেকে ভয়, শঙ্কা দূর করে এ বয়সের তরুণরা দুর্বার গতিতে সামনে এগিয়ে চলে। যৌবনজোয়ারে উদ্ভাসিত হয়ে তারা অন্তরে অসীম শক্তি সঞ্চার করতে পারে। তাই তো চারপাশের অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ-নিপীড়ন আর শ্রেণি-বৈষম্য দেখে তারুণ্যে ভরা 'তাজা প্রাণের তরুণরা মনে ভীষণ যন্ত্রণা অনুভব করে। এসব অনাচার দেখে তাদের মন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বিভেদহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে।

গ. উদ্দীপকের এ নয়ন চরিত্রে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত তরুণদের। দুর্যোগ, দুর্বিপাক মোকাবেলা করে পরের কল্যাণে আত্মনিয়োগের দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।

'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তরুণদের আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে পরের স্বার্থে নিবেদিত হওয়ার দিকটি উঠে এসেছে। কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের এ বয়সটি প্রবল আবেগ, উচ্ছ্বাস ও উত্তেজনায় জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার জন্য উপযোগী। এ বয়স অদম্য দুঃসাহসে সকল বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে যাওয়ার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার জন্য প্রস্তুত থাকে। তারুণ্যের এই ইতিবাচক দিকটি উদ্দীপকের নয়ন চরিত্রে প্রতিভাত হয়েছে।

উদ্দীপকে সাহসী যুবক নয়ন সমবয়সিদের নিয়ে কলেরায় আক্রান্ত গ্রামের মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করে। একে একে সব মানুষ সুস্থ হতে থাকলে এমন মহৎ কাজের জন্য সবাই তাদের বাহবা দেয়। পরের কল্যাণ কামনার জন্যই তারা মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করতে পেরেছে। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার তরুণরাও অদম্য দুঃসাহসে সকল বাধাকে অতিক্রম করে মানবতার সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করে। আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে তারা দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য আত্মনিয়োগ করে। সমাজের নানা বিকার ও অন্ধকার দূরীকরণে তারা হয়ে ওঠে দুঃসাহসী সৈনিক। মানবতাবোধে উজ্জীবিত হয়ে সকলের কল্যাণের জন্য তরুণদের এমন আত্মত্যাগের উপমা উদ্দীপকের নয়ন চরিত্রের সাথে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সাদৃশ্য ফুটে ওঠে।

ঘ. উদ্দীপকের নয়নের বয়স জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লিখিত 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূলভাবকে বহন করে।

'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরা হয়েছে। কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের এ বয়সটি প্রবল আবেগ ও উচ্ছ্বাসে জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার জন্য উপযোগী। এ বয়স অদম্য দুঃসাহসে সমাজের অন্যায় ও বিকারগ্রস্ততার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মানবতার কল্যাণে নিবেদিত হয়।

উদ্দীপকে জাতীয় জীবনের উন্নয়নের লক্ষ্যেই নয়নের মতো তরুণরা দারিদ্রদ্র্যপীড়িত মানুষের সেবায় নিয়োজিত হয়। মানুষকে মহামারি দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করে তারা জাতীয় জীবনকে গতিশীল করে তোলে। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূলভাবে এ তারুণ্যকে জাতীয় জীবনের ৪ চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বয়স সব বাধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করে কল্যাণকর সমাজ প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত হয়।

আঠারো বছর বয়সের ধর্মই হলো আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়া। সমাজজীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, বিকারগ্রস্ততা ও সর্বনাশের অভিঘাতে এ বয়স দুঃসাহসে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। উদ্দীপকের নয়নের বয়সও দুঃসাহস ও আত্মত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। ফলে সে বন্ধুদের সহযোগিতায় কলেরার মহামারিকে রুখে দিতে পেরেছে। কেননা, এ বয়সের ধর্মই হলো যেকোনো বাধাকে অতিক্রম করা। তাই এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, উদ্দীপকের নয়নের বয়স 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূলভাবকে সার্থকভাবে ধারণ করে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৫

মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম

মোরা ঝরনার মতো চঞ্চল

 মোরা বিধাতার মতো নির্ভয়

 মোরা প্রকৃতির মতো উচ্ছল 

মোরা আকাশের মতো বাঁধহীন

মোরা মরু সঞ্চারী বেদুঈন। 

প্রশ্ন 

ক. কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য কোন পত্রিকার আজীবন সম্পাদক ছিলেন?

খ.  এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে চরণটি ব্যাখ্যা করো। 

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সাদৃশ্য আলোচনা করো। 

ঘ. 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় এ বয়সের কিছু আশঙ্কার কথা থাকলেও উদ্দীপকে তা অনুপস্থিত- পর্যালোচনা করো। 

 ৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর এখানে


Post a Comment

Previous Post Next Post