আঠারো বছর বয়স কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন ১
প্রশ্ন ১
আমরা চঞ্চল, আমরা অদ্ভুত।
আমরা নূতন যৌবনেরই দূত
আমরা বেড়া ভাঙি।
আমরা অশোকবনের রাঙা নেশায় রাঙি।
ঝঞ্ঝার বন্ধন ছিন্ন করে দিই- আমরা বিদ্যুৎ।
আমরা করি ভুল অগাধ জলে ঝাঁপ দিয়ে যুঝিয়ে পাই কূল।
যেখানে ডাক পড়ে জীবন-মরণ ঝড়ে আমরা প্রস্তুত।
ক. সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈতৃক নিবাস কোন জেলায়?
খ. 'আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের 'আমরা করি ভুল' পঙক্তির সাথে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার কোন বিষয়ের সংগতি রয়েছে? বর্ণনা করো।
ঘ. উদ্দীপকের প্রাণধর্ম ও যৌবনধর্ম 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় পরিলক্ষিত হয়- মন্তব্যটি যাচাই করো।
১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈতৃক নিবাস গোপালগঞ্জ জেলায়।
খ. কবি আঠারো বছর বয়সকে দুঃসহ বলেছেন, কেননা এ বয়সে
নানা দুঃসাহসী স্বপ্ন, কল্পনা ও উদ্যোগ মনকে ঘিরে রাখে।
আঠারো বছর বয়স মানবজীবনের এক উত্তরণকালীন পর্যায়। মানুষ এ বয়সে কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণ করে। আত্মনির্ভরশীলতার তাড়না এ সময় মনকে অস্থির করে তোলে। এ বয়সেই স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার ঝুঁকি নেয় মানুষ। ফলে তাকে এক দুঃসহ অবস্থায় পড়তে হয়। তাই আঠারো বছর বয়সটিকে দুঃসহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গ. 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় যৌবনে উত্তরণকালীন বয়সের
ঝুঁকি,
প্রতিকূলতা ও জটিলতার বিষয়ে যে ইঙ্গিত করা হয়েছে তার সঙ্গে
উদ্দীপকে 'আমরা করি ভুল' চরণের মিল রয়েছে।
আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি আঠারো বছর বয়সকে বলেছেন ' দুঃসহ, দুর্বার ও নির্ভীক। এ বয়সের তরুণেরা সমাজজীবনের নানা বিকার ও সর্বনাশের অভিঘাতকে রুখে দিতে পারে। এজন্য কবি আলোচ্য কবিতায় আঠারো বছর বয়সকে দেখেছেন অদম্য প্রাণশক্তি ও দুর্বার সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে। এ বয়সটি কৈশোর থেকে যৌবনে উত্তরণকালীন পর্ব। জীবনের এ সন্ধিক্ষণে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা জটিলতাকে অতিক্রম করতে হয়। আর তাই এ সময় সচেতনভাবে নিজেকে পরিচালনা করতে না পারলে জীবনে কঠিন বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
উদ্দীপকে তরুণদের যৌবনের দূত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কেননা, তরুণদের মাঝে আছে অমিত সম্ভাবনা। পাশাপাশি নানা ভুল তাদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলতে পারে বলেও কবি মত প্রকাশ করেছেন। এ কারণে উদ্দীপকে তরুণদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে, 'আমরা করি ভুল' চরণটি। এর সঙ্গে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার কিছু অংশে মিল লক্ষণীয়। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে ধাবিত না হলে এ বয়সটি নেতিবাচকতার কালো অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি সমাজজীবনের নানা কলুষতার আঘাতে এ বয়সটি হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর।
ঘ. উদ্দীপকে প্রাণধর্ম ও যৌবনধর্ম সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে,যা 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায়ও পরিলক্ষিত হয়।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটিতে আঠারো বছর বয়সকে নানা
ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বয়সেই মানুষ অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা
পরিহার করে মাথা উঁচু করে স্বাধীনভাবে চলার ঝুঁকি নিয়ে থাকে। নানা দুঃসাহসী স্বপ্ন, কল্পনা, উদ্যোগ এ বয়সের তরুণদের মনকে ঘিরে ধরে।
দেশ, জাতি ও মানবতার জন্য যুগে যুগে এ বয়সের মানুষই এগিয়ে গেছে সবচেয়ে বেশি।
উদ্দীপকে 'নূতন যৌবনেরই দূত' হিসেবে তরুণদের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে। বাধা-বন্ধন ছিন্ন করে তাদের এগিয়ে
চলার প্রবণতাকে প্রশংসা করা হয়েছে। এ তরুণেরা জীবন বাজি রেখে যেকোনো অন্যায়
প্রতিরোধ করতে প্রস্তুত। এসব বৈশিষ্ট্য তরুণদের প্রাণময়তা ও যৌবনধর্মের পরিচয় বহন
করে। আলোচ্য কবিতায়ও এমনি দুর্বার তারুণ্যের পরিচয় মেলে।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় আঠারো বছর বয়সের বৈশিষ্ট্য
হিসেবে কল্যাণচিন্তা, সেবাব্রত, উদ্দীপনা, সাহসিকতা ও চলার দুর্বার গতিকে চিহ্নিত
করা হয়েছে। জড় ও নিশ্চল জীবনকে পেছনে ফেলে নতুন সমাজ গড়ার স্বপ্ন এ বয়সের তরুণেরাই
দেখতে পারে, যা উদ্দীপকে বর্ণিত প্রাণময়তা ও
যৌবনধর্মকে স্মরণ করিয়ে দেয়। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায়ও তারুণ্যের দুর্বার ও দুর্দমনীয় বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়। বরং আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকে প্রাণধর্ম ও যৌবনধর্মের যে ইঙ্গিত রয়েছে তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র
অঙ্কিত হয়েছে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায়। সেজন্যেই উদ্দীপকে উল্লিখিত মন্তব্যটি যথার্থ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ২
২. একটা জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তার যুবশক্তি। তাই যুব সমাজকে উপযুক্ত শিক্ষা, নৈতিকতা ও দক্ষতা দিয়ে গড়ে তোলার প্রতি সবচেয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়ে থাকে। মানুষের বয়স-পরিক্রমায় আঠারো বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৈশোরের অনুকরণসর্বস্বতা ত্যাগ করে নিজস্ব ভাবনায় আঠারো বছরের তরুণেরা নতুনত্বকে বরণ করে। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের সম্মুখীন হয়ে জীবনের সঠিক পথকে বেছে নেয়। তাই তরুণদের উচিৎ প্রগতিশীল চেতনার আলোকে নিজেদের জীবন গড়া।
ক. এ বয়স কী জানে?
খ. 'তবু আঠারোর শুনেছি জয় ধ্বনি' কবি কেন শুনেছেন?
গ. উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সাথে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার তারুণ্যের বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য আলোচনা করো।
ঘ. 'তাই তরুণদের উচিৎ প্রগতিশীল চেতনার আলোকে নিজেদের জীবন গড়া।' উক্তিটি উদ্দীপক ও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আলোকে মূল্যায়ন করো।
২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক.এ বয়স জানে রক্ত দানের পুণ্য।
খ. প্রতিকূলতার ঘাত-প্রতিঘাতে বিজয়মাল্য ছিনিয়ে আনায় চারিদিকে ঘোষিত হয় আঠারোর জয়ধ্বনি। প্রগতি ও অগ্রগতির পথে নিরন্তর ধাবমানতাই এ বয়সের অন্যতম চেতনা। কিছু নেতিবাচক দিক থাকলেও এ বয়সের আছে সমস্ত দুর্যোগ আর দুর্বিপাক মোকাবিলা করে
কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ছিনিয়ে আনার ক্ষমতা। এজন্য সর্বত্র ঘোষিত হয় আঠারোর বিজয়ধ্বনি। তাই
কবি আঠারোর জয়ধ্বনি শুনেছে।
গ. উদ্দীপকের যুবশক্তি ইতিবাচক অগ্রণী ভূমিকার সাথে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার তারুণ্যের বৈশিষ্ট্যের
সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় আঠারো বছর বয়স দুঃসাহসী। এ
বয়স জানে রক্ত দানের পুণ্য। এ বয়স দেশ ও জাতির জন্য প্রাণও দিতে পারে। অসংখ্য
দুর্যোগের মধ্যেও এই বয়সের তরুণেরা দূরন্ত বেগে ছুটে চলে। এ সময়েই ভালো-মন্দ দুটো
মন্ত্রণাই কানে আসে। তাই এ সময় সঠিক পথে চলা খুবই কষ্টকর হয়ে ওঠে। কেউ লক্ষ্য
ভ্রষ্ট হয়ে ছিটকে পড়লে নানা প্রতিকূলতাই তার প্রাণ ক্ষত-বিক্ষত হওয়ার সম্ভাবনা
থাকে। এ বয়সই নানা দ্বিধা সংশয়ে পরিপূর্ণ থাকে।
উদ্দীপকের যুবশক্তি জাতির শক্তির উৎস হওযায় তাকে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে
তুলতে হবে। এই বয়সেই যুবকরা কৈশোরের অনুকরণপ্রিয়তা ত্যাগ করে স্বাতন্ত্র
বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত হয়ে ওঠে। নানা ঘাত-প্রতিঘাতে তারা এই জীবনে সঠিক পথ বেছে নেয়।
অনুকরণপ্রিয়তা ত্যাগ করে স্বাতন্ত্র হওয়ার সাথে আলোচ্য কবিতার নিজ উদ্যোগে সকল
বাধা-বিপত্তি মোকাবেলা করে স্বাতন্ত্র্য হওয়ার সাথে সাদৃশ্য আছে। উদ্দীপকে নানা
ঘাত- প্রতিঘাতে যুবকদের সঠিক পথ বেছে নিয়েও আলোচ্য কবিতায় আঠারো বছরের তরুণেরা
ইতিবাচক ও নীতিবাচক উভয়দিকেই ধাবিত হয়। কেউ কেউ আবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ক্ষত-বিক্ষত
হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের যুবকদের যে ভূমিকা ফুটে
উঠেছে তার সাথে আলোচ্য কবিতার তারুণ্যের বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ. উদ্দীপক ও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তরুণদের প্রগতিশীল চেতনার জীবন গড়ে তোলার দিক ফুটে উঠেছে। দিক দিয়ে
প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তারুণ্যের এই সময়কাল খুবই
সংবেদনশীল। এই বয়স নানা দ্বিধা-সংশয়ের মধ্য দিয়ে চলায় লক্ষ্য ভ্রষ্ট হওয়ার ভয়
থাকে। যার ফলে কেউ ক্ষত-বিক্ষতও হতে পারে। তাই এ সময়ে খুব কষ্টকর হলেও সঠিক পথে
চলার আহ্বান করা হয়েছে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সুন্দর জীবন গড়ে তোলার
প্রত্যাশাই এখানে ব্যস্ত হয়েছে।
আলোচ্য কবিতায় বয়ঃসন্ধিকালের এই কঠিন সময়ে ভুল পথকে পরিত্যাগ করে সঠিক
সিদ্ধান্ত নিয়ে সুন্দর জীবন গড়ে তোলার যে আশাবাদ মূর্ত হয়েছে। উদ্দীপকেও তেমনভাবে
তরুণদের প্রগতিশীল চেতনায় সঠিকপথ বেছে নিয়ে সুন্দরভাবে নিজের জীবন গড়ে তোলার বিষয়ই
ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তরুণদের প্রগতিশীল চেতনায়
জীবন গড়ে তোলার দিক উঠে এসেছে।
প্রশ্ন ৩
"সন্ধ্যা যদি নামে পথে, চন্দ্র যদি পূর্বাচল কোণে না হয়
উদয়। তারকাপুঞ্জ যদি নিভে যায় প্রলয় জলদে? না করিব ভয়।
হিংস্র উর্মি ফণা, তুলি, বিভীষিকা মূর্তি ধরি যদি গ্রাসিবারে আসে, সে মৃত্যু
লঙ্ঘিয়া যাব সিন্ধু পারে নব জীবনের নবীন আশ্বাসে।"
ক. 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার শেষ চরণটি লেখো।
খ. 'আঠারো বছর বয়স'কে কবি 'দুঃসহ' বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. 'উদ্দীপকটি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার একটি খণ্ডচিত্র মাত্র'- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর