তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন ১২
১২. বন্ধ হইতে বাহির হইয়া
আপন বাসনা মম
ফিরে মরীচিকা সম
বাহু মেলি তারে বক্ষে লইতে
বক্ষে ফিরিয়া পাই না যাহা
চাই তাহা ভুল করে চাই,
যাহা পাই তাহা চাই না।
ক. 'কুঁড়ি' শব্দের অর্থ কী?
খ. 'তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে' উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের কবির বাসনার সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক কোনটি? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশে বিধৃত অনুভূতির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
১২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. 'কুঁড়ি' শব্দের অর্থ মুকুল বা অফোটা ফুল।
খ.'তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে' চরণটি দ্বারা কবির প্রিয়জনকেন্দ্রিক শূন্যতার দিকটিকে নির্দেশ করা হয়েছে।
মানুষের জীবনে বসন্ত পূর্ণতার প্রতীক। অন্যদিকে শীত শূন্যতা ও রিক্ততার
প্রতীক। প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন ঘটলেও কবির মন জুড়ে বিরাজ করছে শীতের রিক্ত ও
বিষণ্ণ ছবি। বসন্তের আগমন তাঁর মনে কোন চাঞ্চল্য জাগাতে পারছে না। তাঁর কণ্ঠে নেই
বসন্তবরণের গান। মন প্রিয়জনের বিয়োগব্যথায় ভারাক্রান্ত বলে কবি কিছুতেই শীতের করুণ
বিদায়কে ভুলতে পারছেন না। বসন্ত তাঁর কাছে আবেদনহীন। উল্লেখ্য, কবি শীতের করুণ বিদায়ের প্রতীকে নিজ স্বামী ও কাব্য সাধনার প্রেরণা-পুরুষের
মৃত্যুকে কাব্যমায় ভাষায় তুলে ধরেছেন। তিনি কিছুই এই বিয়োগব্যাথা ভুলতে পাছেন না।
ঋতু-পরিক্রমায় বসন্তের আগমন হলেও শীতের স্মৃতিতে তিনি আচ্ছন্ন। অর্থাৎ প্রিয়জনকে
তিনি কোন মতেই ভুলতে পাছেন না।
গ. উদ্দীপকের কবির কাঙ্ক্ষিত প্রিয়জনকে না-পাওয়া কবিতার কবির প্রিয়জনের বিয়োগ-ব্যথার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সাধারণত, ঋতু পরিক্রমায় প্রকৃতিতে বিভিন্ন
রূপ-রস-রঙের বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনের অনুভূতি ও
চেতনাগত বৈচিত্র্যও পরিলক্ষিত হয়। যেমন, বসন্তের আগমনে
প্রকৃতি এক অপরূপ সৌন্দর্য-সাজ পরিধান করে। মানব মনেও শিহরণ তোলে এই সৌন্দর্য।
মানুষ নানা আয়োজন-আচারের মধ্য দিয়ে বসন্তকে বরণ করে নেয়। এটাই স্বাভাবিক রীতি। তবে, ব্যক্তিজীবনে প্রিয়জন হারানোর মতো বিয়োগাত্মক ঘটনা ঘটলে মানব মনে বসন্তের এই
আগমনও কোন আবেদন রাখতে পারে না। কবিতার কবি প্রিয়জনের বিয়োগবেদনায় এতই বেদনাতুর ও
শোকাচ্ছন্ন যে বসন্ত সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে তাঁর দরজায় কড়া নাড়লেও তিনি তাকে বরণ করে
নিতে পারছেন না। তাঁর অন্তর জুড়ে শীতের রিস্ততা ও শূন্যতা বিরাজ করে আছে। তিনি
কিছুতেই অতীতে বেদনা-স্মৃতি ভুলতে পারছেন না।
কবিতার মতো উদ্দীপকেও এক ধরনের শূন্যতাবোধ ও না-পাওয়াকে তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্দীপকের কবি তাঁর প্রিয়জনকে বক্ষে টেনে নিতে চাচ্ছেন। কিন্তু তার এই বাসনা
চরিতার্থ হবার নয়। কবিতার কবি যেমন আর কখনোই তার হারিয়ে যাওয়া স্বামীকে ফিরে পাবেন
না, তেমনি উদ্দীপকের কবিও কোন এক নিগূঢ় কারণে প্রিয়জনকে আপন করে পাবেন না। এই
অচরিতার্থতার কারণে উভয়ই শোকাচ্ছন্ন ও বেদনাতুর। উদ্দীপকের কবি যা চাচ্ছেন তা তিনি
পাচ্ছেন- এই সত্যকে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন। যে চলে যায় সে আর কোন দিন ফিরে আসে
না- কবিতার কবিও এই সত্যকে উপলব্ধি করেছেন বলে বসন্তকে বরণ করে নিতে পারছেন না।
তাই উদ্দীপকের প্রিয়জনের অনুপস্থিতিজনিত বিয়োগ-ব্যথা প্রকাশের দিকটি কবিতা সাথে
সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রিয়জনের সাহচর্য পাওয়ার ক্ষেত্রে অচরিতার্থতার কথা
ব্যক্ত হয়েছে। আলোচ্য কবিতায়ও প্রিয়জনকে না পাওয়ার বেদনা ব্যস্ত হয়েছে।
প্রকৃতির সৌন্দর্য মানব মনের অফুরন্ত আনন্দের উৎস। বসন্ত-প্রকৃতির অপরূপ
সৌন্দর্য যে কবি মনে আনন্দ-শিহরণ জাগাবে এবং কবি তাকে নানাভাবে সুর ও ছন্দের
মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলবেন, এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু শীতের
রিক্ত হস্তে প্রস্থান প্রতীকে স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুকে তুলে ধরেছেন কবি।
প্রিয়জনকে তিনি আর কখনই পাবেন না। এক গভীর বিষাদ ও শোক কবির মনকে আচ্ছন্ন করে
রেখেছে। এ কারণে বসন্ত তার অপার সৌন্দর্য নিয়ে প্রকৃতি রাজ্যে আবির্ভূত হলেও কবির
অন্তরকে তা স্পর্শ করতে পারছে না। বসন্তকে তিনি বরণ করে নিতে পারছেন না।
উদ্দীপকে মূলত অচরিতার্থ প্রেমের কথা ব্যক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চারিত হয়েছে
মানব জীবনের এই গূঢ় সত্য যে, আমরা যা চাই তা পাই না
আর যা পাই তা চাই না। উদ্দীপকের কবির মন গভীর বিষাদে আচ্ছন্ন। প্রিয়জনকে তিনি আপন
করে পাচ্ছেন না। তিনি দুই বাহু প্রসারিত করে প্রেমাস্পদকে বুকে টেনে নিতে চাচ্ছেন।
কবির এই বাসনা মরীচিকার মতোই অধরা থেকে যাচ্ছে। কোনক্রমেই তিনি প্রিয়জনের সংস্রব
পাচ্ছেন না।
উদ্দীপকের কবির এই অপ্রাপ্তি ও অচরিতার্থতার কথাই যেন কবিতাংশে মূর্ত হয়ে উঠেছে। যদিও ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও ভিন্ন ভাষায় তা কবিতায় বর্ণিত হয়েছে। উদ্দীপকের কবির প্রিয়জনের সান্নিধ্য-লাভের অচরিতার্থতা আর কবিতার কবির প্রিয়জনের জন্য বিষাদ ও শোক প্রকারে ভিন্ন হলেও চেতনাগত দিক হতে এক ও অভিন্ন। কবিতার কবি প্রিয়জনের বিয়োগ ব্যথাকে শীতের রিক্ততা ও শূন্যতায় প্রতীকায়িত করে তুলে ধরেছেন। ঋতুরাজ বসন্তের আগমন তাঁর মনে কোন আবেদন রাখতে পারছে না। কবি-ভক্তের অনুযোগ কবি বসন্তকে কেন বরণ করে নিচ্ছেন না এবং উপেক্ষা করছেন। প্রিয়জনের মৃত্যুজনিত বিয়োগব্যথা কবি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। প্রকৃতি রাজ্যে বসন্ত এলেও তাঁর অন্তরে শীতের রিক্ততা বিরাজ করছে। কবিতার এই অপ্রাপ্তিজনিত শূন্যতাবোধই উদ্দীপকের কবিতাংশে ভিন্ন আজিজকে ব্যস্ত হয়েছে। তাই কবিতার আলোকে উদ্দীপকের কবিতাংশে বিধৃত প্রিয়জনের সান্নিধ্য লাভের অচরিতার্থতার দিকটি যথার্থ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১৩
১৩. "বী সহজে হয়ে গেল বলা,
কাঁপালো না গলা এতটুকু,
বুক চিরে বিরুলো না দীর্ঘশ্বাস,
চোখ ছলছল করলো না এবং
নিজের কণ্ঠস্বর শুনে নিজেই চমকে উঠি,
কী নিস্পৃহ, কেমন শীতল।"-
ক. সুফিয়া কামাল কতদূর পড়ালেখা করেছেন?
খ. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় বসন্ত কিসের প্রতীক? কীভাবে?
গ. উদ্দীপকের সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি কীভাবে সম্পর্কযুক্ত?
ঘ. উদ্দীপকের সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার ভাবগত ঐক্য আলোচনা করো।
১৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. সুফিয়া কামাল স্বশিক্ষায় শিক্ষিত।
'খ.তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় বসন্ত কবির উদাসীনতার
প্রতীক।
বাংলা ষড়ঋতুর মধ্যে বসন্তই শ্রেষ্ঠ। এ ঋতুতে প্রকৃতি সেজে ওঠে বর্ণিল সাজে। এ সময় চারিদিকের ফুলের সমারোহ সকলকে মুগ্ধ করে। কবিসাহিত্যিকেরা তাই এই ঋতু নিয়ে রচনা করেছেন অসংখ্য সাহিত্য। কিন্তু 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির কাছে বসন্ত এসেছে ভিন্নভাবে। কারণ প্রকৃতিতে বসন্ত আসলেও তার মন ছেয়ে আছে শীতের রিক্ততায়। তাই কবি বসন্তের আগমনেও রয়েছেন উদাসীন। তাই বলা যায়, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় বসন্ত কবির উদাসীনতার প্রতীক।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির কাব্য সাধনায়
প্রেরণাপুরুষ স্বামী নেহাল হোসেনের অকাল প্রয়াণে কবির বেদনা ভারাক্রান্ত হৃদয়ের
অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে। প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন ঘটলেও কবির মনে তার কোনো সাড়া
পড়েনি। বসন্তের আগমন কবির কাছে ব্যর্থ। শীতের করুণ বিদায়ের মতো তার স্বামী পুষ্পশূন্য
দিগন্তের পথে চলে গিয়েছে। যার রিবহে কবি আজ রিক্ত শূন্য, কোনোভাবেই তাকে ভুলতে পারছে না।
উদ্দীপকের কবিতাংশেও প্রিয়জন হারানোর বেদনা প্রকাশ পেয়েছে। যেখানে কবির সন্তান
কবিকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। সেই সন্তানের প্রতি কবির স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ পেয়েছে
কবিতাংশে। তবে কবি হৃদয়ে পুত্রশোকের নদীটিতে যেন চর পড়েছে। যার কথা বলতে গিয়ে কবির
বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বের হলো না, চোখ ছলছল করল না, এমনকি কণ্ঠস্বরও কাঁপল না। তাই কবি নিজের কণ্ঠস্বর শুনে নিলেই চমকে ওঠেন। তাই
বলা যায়,
উদ্দীপকের সাথে 'তাহারেই পড়ে
মনে' কবিতাটির প্রিয়জন হারানোর বেদনা ও শোকময় স্মৃতির দিকটি সম্পর্কযুক্ত।
ঘ. উদ্দীপকের কবি যেমন সন্তানকে হারিয়ে মর্মাহত, তেমনি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামালও তার স্বামীকে হারিয়ে বেদনায় মর্মাহত।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি প্রিয়জন হারিয়ে শোকে
মুহ্যমান। ঋতু পরিক্রমায় প্রকৃতিতে বসন্ত এসেছে কিন্তু কবি বসন্ত বন্দনায় মেতে
ওঠেননি। ব্যক্তিজীবনের বেদনায় কবি এতই ভারাক্রান্ত যে প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও তিনি
তা খেয়াল করেননি। তার মন জুড়ে রয়েছে শীতের করুণ বিদায়ের দৃশ্য। ফলে বসন্তের
সৌন্দর্য তার দৃষ্টিগোচর হয়নি। উদ্দীপকের কবিতাংশেও কবির প্রিয় পুত্রের মৃত্যুর
স্মৃতিচারণ করা হয়েছে।
একসময় যে পুত্র তার প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় ছিল সেই পুত্রের মৃত্যুর কথা যখন
অতিথির কাছে অবলীলায় বলে যায় তখনই তার মনে হয়েছে কেউ যেন তার শোকের নদীটিকে রুক্ষ
চর করে দিয়েছে। সময়ের স্রোতে কঠিন শোকও হালকা হয়ে যায়। কিন্তু তা মন থেকে কখনই
হারিয়ে যায় না।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে বলা যায়, প্রিয়জনের বিচ্ছেদ মানুষের সবচেয়ে বড় শোক। মানুষ শোক ভুলে যেতে চাইলেও সংবেদনশীল মন থেকে তা কখনোই মুছে যায় না। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি স্মৃতির মণিকোঠায় প্রিয়জনের শোকস্মৃতি ধারণ করে বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন। আর উদ্দীপকের কবির মানসপটেও একই চেতনার বহমানতা লক্ষ করা যয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবি যেমন সন্তান হারিয়ে মর্মাহত, তেমনি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামালও তার স্বামীকে হারিয়ে বেদনায় মর্মাহত।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১৪
১৪. "তুমি ছিলে আমার স্বপ্নে
তবে আজ কেন বহুদূরে
অনুভবে ভেসে এসেছিল
তোমার ভালোবাসার প্রিয় সুর
তবে আজ কেন বহুদূরে" [সংগৃহীত]
ক. সৈয়দ নেহাল হোসেন কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
খ. "নাই হলো, না হোক এবারে" উক্তিটি
ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপক এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির মনের সুর একই- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. "প্রেম এক চিরন্তন চেতনা" উদ্দীপকের আলোকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতা বিশ্লেষণ করো।
১৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. সৈয়দ নেহাল হোসেন ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
খ. 'নাই হলো, না হোক এবারে'- এ উক্তিতে কবি সুফিয়া কামালের অন্তর্বেদনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। জীবনসঙ্গী, সাহিত্য সাধনার উৎসাহদাতা স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে কবি ভারাক্রান্ত, বারুদ্ধ। নব বসন্তের অমীয় সৌন্দর্য তাই কবিকে আকর্ষণ করে না। যে মানুষটি কবির জীবনে বসন্তের উচ্ছ্বাস এনেছিল, সে মানুষটি হঠাৎ করেই মাঘের সন্ন্যাসীর মতো মিলিয়ে গিয়েছে। প্রিয়জন হারাবার দুঃখ ও বিরহবেদনায় বসন্তের আনন্দ-আবেদন কবির কাছে ম্লান হয়ে গিয়েছে। তাই ভক্তদের বসন্ত-বন্দনার অনুরোধে কবি দীর্ঘস্বরে উচ্চারণ করলেন যে এবার নাই বা হলো তাঁর বসন্ত-বন্দনা গীতি, না হোক তাঁর আনন্দ-উল্লাস। দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে কবি ভক্তদের অনুরোধ-আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন আলোচ্য উক্তিটিতে।
গ. উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রিয়জন হারানোর বিরহবেদনার সুর ধ্বনিত হয়েছে।
প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা, সুখস্মৃতি মানুষের সুকুমার বৃত্তির
অনুষঙ্গ। মানুষ তার প্রিয়জনকে হৃদয়ে লালন করে। তাকে নিয়ে সুখস্বপ্ন আঁকে। কিন্তু
কোনো প্রতিকূলতায় প্রিয়জনকে হারিয়ে ফেললে বিরহবেদনায় ভোগে। এমন বিরহী মনের পরিচয়
পাওয়া যায় 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায়।
উদ্দীপকের কবি তাঁর প্রিয়জনের স্মৃতিচারণা করেছেন। যে প্রিয় মানুষটি ছিল তার
স্বপ্নের ভুবনে-অনুভবে, যে ভেসে এসেছিল তার একান্ত কাছ, যার ভালোবাসার সুর কবির কাছে খুবই প্রিয় ছিল সে আজ কবির কাছ থেকে
দূরে-বহুদূরে। এমন বিরহবেদনার সুর অনুরণিত হয়েছে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায়ও। এখানে কবি আকস্মিকভাবে
তাঁর প্রিয় স্বামীকে, সাহিত্যসাধনার উৎসাহদাতাকে হারিয়ে
বেদনা ভারাক্রান্ত। তাঁর স্মৃতি কেবলই তাঁর হৃদয়ে ভেসে ওঠে। জাগতিক কোনো সৌন্দর্যই
তাকে আর আকর্ষণ করে না। প্রিয়জন কেন এত দূরে গেল এমন মনোবেদনায় দুই কবিই কাতর
হয়েছেন। তাদের মনে একই বেদনার সুর বেজে উঠেছে। এদিক থেকে দুই কবির সমান্তরাল মনের
পরিচয় পাওয়া যায়।
ঘ. উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় চিরন্তন প্রেমচেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
সংবেদনশীল মানুষ মাত্রই প্রেমচেতনায় ঋন্ধ। এ প্রেম মানবকেন্দ্রিক ও
প্রকৃতিকেন্দ্রিক। প্রকৃতির প্রতিটি সৃষ্টিকেই তারা প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে।
হৃদয়ের চেয়ে আপন করে নেয় প্রিয় মানুষটিকে। সে প্রিয় অনুষঙ্গটি তার জীবন থেকে
হারিয়ে গেলে বিরহকাতর হয়। এমন এক চিরন্তন প্রেমচেতনাই প্রতিফলিত হয়েছে উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায়। উদ্দীপকে চিরন্তন
প্রেমচেতনায় কবি প্রিয়জনের স্মৃতি রোমন্থন করেছেন। যে ছিল কবির স্বপ্নের আধার, তাকে একান্ত কাছে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন কবি। সে দৈবাৎ কোনো কারণে আজ
দূরে-বহুদূরে। সে প্রিয়জনের ভালোবাসার সুর কবির হৃদয়ের কানে ভেসে এসেছিল। কিন্তু
আজ কেন সে এত দূরে, কবির এমন বাধভাঙা প্রশ্নে এক
চিরন্তন প্রেমচেতনাই প্রকাশ পেয়েছে। 'তাযারেই পড়ে
মনে' কবিতায়ও চিরন্তন প্রেমের ছবি ভেসে ওঠে। কবি তার প্রিয় স্বামী, সাহিত্যসাধনার প্রেরণাদায়ী একান্ত আপনজনকে হারিয়েছেন। কিছুতেই তার স্মৃতিকে
ভুলতে পারেন না। তার স্মৃতির কাছে পৃথিবীর প্রাকৃতিক সব সৌন্দর্য ম্লান হয়ে আছে।
তার কাছে একমাত্র সত্য হয়ে উঠেছে প্রিয়জনের প্রেমের ছোঁয়া।
উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায় চিরন্তন প্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে। উদ্দীপকের কবির কাছে প্রিয়জনের সুখ-স্বপ্ন, পরম স্পর্শ আর ভালোবাসার সুরই প্রধান হয়ে উঠেছে। আর 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির প্রেমাস্পদের সুখস্মৃতি, উন্মাদনা, অনুপ্রেরণাই জীবনের আরাধ্য বন্ধু হয়ে উঠেছে, যা মনে-প্রাণে কবিকে প্রেম ও বিরহযাতনায় বিদ্ধ করে। কবির জীবনকে নিরানন্দ করে তোলে। প্রিয়জনের প্রতি এমন অকৃত্রিম আকর্ষণবোধের কারণেই 'প্রেম এক চিরন্তন চেতনা' প্রশ্নোক্ত মন্তব্য সার্থক ও যথার্থ হয়ে উঠেছে।