তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন ৯
৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় ত্রিশটি চরণ রয়েছে।
খ. আলোচ্য অংশে বসন্তের প্রতি কবির উদাসীনতা প্রকাশ পেয়েছে।
প্রকৃতিতে বসন্ত এসেছে। কিন্তু কবির বসন্তের আগমনের ব্যাপারে কোনো আগ্রহ নেই।
কবিভক্ত যখন কবিকে বসন্তের আগমনের ব্যাপারে জানান। তখন কবি উন্মনা হয়ে পড়েন। তিনি
বলেন,
বসন্তের আগমন সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। বসন্ত আগমনের
খবর না রাখার মধ্য দিয়ে কবির উদাসীনতা প্রকাশ করেছে।
গ. উদ্দীপকের ফটোগ্রাফটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার প্রিয়জন হারানোর বেদনাবহ ভাবটি প্রকাশ করেছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময়
ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। প্রিয়জন দূরে চলে গেলেও তার স্মৃতি হৃদয়ে আনাগোনা করতে থাকে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির স্বামী মারা যাওয়ার
স্মৃতিতে কবি শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন। ব্যক্তিজীবনের শোকের কারণে প্রকৃতির সৌন্দর্য
তার চোখে ধরা পড়ছে না।
উদ্দীপকে কবির প্রিয় সন্তান হারানোর দিকটি ফুটে উঠেছে। একটি ফটোগ্রাফের
মাধ্যমে বিষয়টি কবি মূর্ত করে তুলেছেন। 'তাহারেই পড়ে
মনে' কবিতায়ও কবির স্বামী হারানোর শোক কাব্যসাধনার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে। তাই বলা
যায়, উদ্দীপকের ফটোগ্রাফটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি হৃদয়ের শোকাবহ ভাবটিকে প্রকাশ করেছে।
ঘ. "উদ্দীপকে প্রতিফলিত ভাবটি 'তাহারেই পড়ে
মনে' কবিতার মূলসুর।" মন্তব্যটি আংশিকভাবে সত্য।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ
পেয়েছে। বসন্ত কবি মনে অফুরন্ত আনন্দ সৃষ্টি করে। কিন্তু কবির হৃদয় দুঃখ ভারাক্রান্ত ও
শোকাচ্ছন্ন হওয়ায় বসন্তের সৌন্দর্য তাকে স্পর্শ করতে পারছে না। কবিতায় নাটকীয়
গঠনরীতিতে কবি মনের প্রিয়জন হারানোর বিষাদময় রিক্ততার সুর প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে কবির প্রিয় সন্তানকে হারানোর দিকটি ফুটে উঠেছে। বাড়িতে আগত অতিথিকে মৃত পুত্রের ছবি দেখিয়ে অতীত শোকাবহ স্মৃতি রোমন্থন করছেন। এখানে কবি হৃদয়ের প্রিয়জন হারানোর হাহাকার প্রকাশ পেয়েছে। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রিয়জনকে হারানোর শোকাবহ স্মৃতি রোমানের পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি কবির উদাসীনতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। প্রকৃতির প্রতি উদাসীনরা দিকটি উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। উদ্দীপকে কেবল পুত্র হারানোর শোকের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কবিতায় আলোচ্য বিষয় আরও বিস্তৃত। তাই উদ্দীপকে প্রতিফলিত ভাবটিই 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলসুর। মন্তব্যটি আংশিকভাবে সত্য।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১০
১০. ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে কেদার নাথ রায়ের সঙ্গে কামিনী রায়ের বিয়ে হয়। কেদার নাথ
অনেক আগে থেকেই কামিনীর গুণগ্রাহী ছিলেন। কিছুদিন পরে কামিনী রায়ের জীবনে বেদনার
কালো মেঘ জমে ওঠে। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে ঘোড়ার গাড়ি উল্টে গিয়ে আঘাতজনিত কারণে তাঁর
স্বামী মারা যান। এরপর মেয়ে লীলা ও ছেলে অশোকের মৃত্যু হয়। সবকিছু ভুলে থাকার জন্য
কামিনী রায় বিভিন্ন সমাজকর্মে জড়িয়ে পড়েন।
ক. 'ইতল বিতল' কোন ধরনের রচনা?
খ. 'কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী' কথাটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের কামিনী রায়ের সঙ্গে "তাহারেই পড়ে মনে"
কবিতার কবির সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
ঘ. "তাহারেই পড়ে মনে" কবিতায় স্বামীর মৃত্যুশাকে কবি প্রকৃতি ও সমাজবিমুখ হলেও উদ্দীপকের কামিনী রায় অতিমাত্রায় সমাজমুখী- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
১০ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক.'ইতল বিতল' হলো শিশুসাহিত্য।
(খ) কবি শীতকে কুয়াশার চাদর পরিহিত মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন।
শীত প্রকৃতিকে দেয় রিক্ততার রূপ। শীতের এ রূপকে বসন্তের বিপরীতে স্থাপন করা
হয়েছে। প্রকৃতি বসন্তের আগমনে ফুলের সাজে সাজলেও কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিস্ততার
ছবি। শীত যেন সর্বরিক্ত সন্ন্যাসীর মতো কুয়াশার চাদর গায়ে পত্রপুষ্পহীন দিগন্তের
পথে চলে গেছে।
গ. প্রিয়জনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় 'তাহারেই পড়ে
মনে' কবির সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা স্বামী সৈয়দ নেহাল কবিতায় যে
হাহাকার প্রকাশ পেয়েছে তা উদ্দীপকেও বিদ্যমান।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময়
ঘটনার
ছায়াপাত ঘটেছে। কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে
প্রচণ্ড শূন্যতা নেমে আসে। দুঃসহ বিষণ্ণতায় ভরে ওঠে তাঁর জীবন।
উদ্দীপকে প্রিয়জন হারানোর দিকটি ফুটে উঠেছে। একের পর এক প্রিয়জন হারানোর শোকে
কাতর কামিনী রায়ের মন। সবকিছু ভুলে থাকার চেষ্টায় রত তাঁর মন। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির স্বামী মারা যাওয়ায়
কবিমন শোকাচ্ছন্ন হয়েছে। ফলে বসন্ত্রের সৌন্দর্য তাঁর হৃদয়কে স্পর্শ করে না। তাঁর
ব্যক্তিজীবন ও কাব্যসাধনার ক্ষেত্রে বেজে ওঠে বিষাদের সুর। প্রিয়জন হারালে হৃদয়ের
যে করুণ অবস্থা হয়, তা উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা
উভয়ক্ষেত্রেই ফুটে উঠেেেছ।
ঘ. "তাগারেই পড়ে মনে' কবিতায় স্বামীর মৃত্যুশোকে কবি
প্রকৃতি ও সমাজবিমুখ হলেও উদ্দীপকের কামিনী রায় অতিমাত্রায় সমাজমুখী- মন্তব্যটি
যথার্থ।
আলোচ্য কবিতায় কবির জীবনে প্রচণ্ড শূন্যতা নেমে আসে স্বামী নেহাল হোসেনের
মৃত্যুতে। কবিকে আচ্ছন্ন করে আছে এই বিষাদময় রিস্ততার সুর। তাই বসন্ত এলে উদাসীন
কবির অন্তর জুড়ে রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনা।
উদ্দীপকে কামিনী রায়ের ব্যক্তিজীবনের হাহাকারের চিত্র চিত্রিত হয়েছে। স্বামীর
মৃত্যু তাকে হতবাক করে দেয়। উপরন্তু পুত্র ও কন্যার মৃত্যু তাঁর হৃদয়কে শূন্যতায়
ভরে তোলে। বেঁচে থাকার তাগিদে প্রিয়জনের বিচ্ছিন্নতায় তিনি সমাজকর্মে জড়িয়ে পড়েন।
সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে প্রিয়জনের শোকস্মৃতি ভুলতে চান।
উদ্দীপকের কামিনী রায় এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি উভয়ই প্রিয়জন হারানোর বেদনায় কাতর। আলোচ্য কবিতার কবির মনকে
আচ্ছন্ন করে আছে বিষাদময় রিক্ততার সুর যা কবিতায় মূর্ত হয়ে উঠেছে। সাধারণভাবে
প্রকৃতির সৌন্দর্য মানবমনের অফুরন্ত আনন্দের উৎস। বসন্ত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য
কবিমনে আনন্দের শিহরণ জাগায় এবং তিনি তাকে ভাবে, ছন্দে, সুরে ফুটিয়ে তুলবেন সেটাই প্রত্যাশিত।
কিন্তু কবির হৃদয় এতটাই বিষাদময় যে, বসন্ত এলেও
উদাসীন কবির অন্তরজুড়ে রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বর্ণনা। কিন্তু উদ্দীপকের কামিনী
রায় প্রিয়জন হারানোর শোকে শোকাচ্ছন্ন হলেও তিনি সমাজমুখী। সামাজিক কালের মাধ্যমে
তিনি শোককে ভুলতে চান। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত
উক্তিটি যথার্থ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১১
১১. অতীত দিনের স্মৃতি
কেউ ভোলে না কেউ ভোলে
কেউ দুঃখ লয়ে কাঁদে
কেউ ভুলিতে গায় গীতি
প্রশ্ন নম্বর-ক. কবি সুফিয়া কামাল কী সম্ভাষণে ভূষিত হয়েছেন?
খ. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির কার কথা মনে পড়ে? কেন?
গ. উদ্দীপকের গানটির সঙ্গে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটির চেতনাগত সাদৃশ্য নিরূপণ করো।
ঘ. "প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও চিরন্তন সত্যের প্রতিচিত্র উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি।" উক্তিটির যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।
১১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক.কবি সুফিয়া কামাল 'জননী' সম্ভাষণে ভূষিত হয়েছেন।
খ.'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির একান্ত প্রিয় স্বামীর
কথা মনে পড়ে।
হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে প্রচণ্ড শূন্যতা নেমে আসে। তার
ব্যক্তিজীবন ও কাব্য সাধনায় নেমে আসে এক দুঃসহ বিষণ্ণতা। কবিমন আচ্ছন্ন হয়ে যায়
বিরহ কাতরে। কবিমনের আরাধ্যজনের অনুপস্থিতিতে শোকাতুর কবি হৃদয় তাই বার বার
স্বামীর কথা মনে করছে।
গ. উদ্দীপকের গানটির সঙ্গে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার চেতনাগত সাদৃশ্য রয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় উঠে এসেছে কবির
ব্যক্তিজীবনের দুঃখের ছায়াপাত। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে কবি হতবিহ্বল হয়ে পড়েন।
যে কারণে প্রকৃতিতে প্রাণ এলেও তিনি নীরব থাকেন।
উদ্দীপকের গানটিতে একটি জীবনদর্শন ফুটে উঠেছে। মানুষের জীবনে দুঃখ-কষ্ট থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এক-একজনের দুঃখের প্রকাশভালি একেক রকম। কেউ
প্রকাশভঙ্গি একেক রকম। কেউ বা ভুলে যায় আবার কেউ বা মনের কবিতায়। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায়ও কবি তার ব্যক্তিজীবনের
দুঃখময় ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন। এদিক দিয়ে উদ্দীপক এবং আলোচ্য কবিতায় সাদৃশ্য
রয়েছে।
ঘ."প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও চিরন্তন ছবির প্রতিচিত্র উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি"- উক্তিটি যথার্থ।
প্রিয়জন হারানোর বেদনা কত যে প্রকট তা ভুক্তভোগী ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ বোঝে
না। সময়ের আবর্তে মানুষের বেদনা ক্ষীণ হয়ে আসে। কিন্তু
কেউ কেউ আবার সর্বদা অতীত স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে থাকেন। উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, অতীত দিনের স্মৃতি কেউ কেউ মনে রাখে আবার কেউ বা ভুলে যান। আবার কেউ তার
দুঃখের প্রকাশ ঘটায় কবিতা বা গানে। অতীতের বিষাদময় স্মৃতি মানুষকে পীড়া দেয়। তাই
জীবনকে নতুন করে সাজাতে হলে অতীতের দুঃখময় স্মৃতি ভুলে থাকাই শ্রেয়। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি প্রিয়জন হারানোর বেদনা
প্রকাশ
করেছেন। আমাদের এই আবহমান জীবনে নানা ধরনের ঘটনা ঘটে। জীবনের নানা
ঘাত-প্রতিঘাতে কখনো কখনো জীবন থেকে হারিয়ে যায় স্বাভাবিক ছন্দ। কবির জীবনেও এমনটাই
ঘটেছে। প্রিয় স্বামীর মৃত্যুতে তিনি শোকে বিহ্বল হয়েছেন। কবি তার এই শোক কবিতার
মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। উদ্দীপকেও বলা হয়েছে যে, দুঃখ ভুলতে কেউ বা গান গায়, কেউ বা কবিতা লেখে।
সুতরাং আমরা বলতে পারি, প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও চিরন্তন
ছবির প্রতিচিত্র উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি- মন্তব্যটি যথার্থ।