তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (৭,৮)/Tahareay pare mone CQ( 7,8)

 


তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর 

সৃজনশীল প্রশ্ন ৭

নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. ঋতুর রাজন পুষ্পারতি লাভ করেছে কিনা এটাই কবির জিজ্ঞাসা।

খ.বসন্তের আগমনে কবির উদাসীনতা দেখে কবিভক্ত কবিকে কাব্য রচনায় মিনতি করেছে। প্রকৃতিতে বসন্ত এসেছে। কিন্তু বসন্তের আগমন সত্ত্বেও কবির সেদিকে কোনো লক্ষ নেই। উদাসীন কবির এ অবস্থায় কবিভক্ত তাকে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করছেন। বসন্তের কন্দনায় তাই কবিকে কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করার মিনতি করা হয়েছে।

গ. উদ্দীপকের মোমেনা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি চরিত্রকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। তাঁর সাহিত্যসাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে নেমে আসে প্রচন্ড শূন্যতা,। কবিমন আচ্ছন্ন হয়ে যায় রিক্ততার হাহাকারে।

উদ্দীপকের মোমেনার হৃদয় একমাত্র পুত্রশোকে আচ্ছন্ন। বাংলা নববর্ষের আগমনে প্রকৃতি ও মানুষের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের ছোঁয়া লাগে। সবাই উৎসবে মেতে ওঠে। কিন্তু পুত্রকে হারানোর শোকে মোমেনা বাকরুদ্ধ ও শোকাহত আগমনেও তার মাঝে প্রাণের উচ্ছাস নেই। তার এই শোকাচ্ছন্ন হৃদয়ের সুরই যেন আলোচ্য কবিতার কবিহৃদয়ে বিষাদময় হয়ে বাজছে। আর আমাদেরকে কবির অন্তরের রিক্ততার সুরকেই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

ঘ. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি হারিয়েছেন স্বামীকে আর উদ্দীপকের মোমেনা হারিয়েছেন পুত্রকে। স্বজনহারা শোকব্যথা তাদের মনকে আচ্ছন্ন করে রাখে সর্বদা।

'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবিকে আচ্ছন্ন করে আছে বিষাদময় রিক্ততার সুর। তাই বসন্ত এলেও উদাসীন কবির অন্তরজুড়ে রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনা। রিক্ততা আর বেদনায় উদ্দীপকের মোমেনাও নববর্ষকে স্বাগত জানাতে পারছে না।

উদ্দীপকের মোমেনা আগের বছরের নববর্ষও ছেলেকে নিয়ে উদযাপন করেছেন। কিন্তু এই বছর ছেলে নেই বলে নববর্ষ তাকে স্পর্শ করছে না। শোকব্যথায় তার হৃদয় হাহাকারে মথিত। শোকব্যথার এই হাহাকার আলোচ্য কবিতার কবির পড়ক্তিতেও লক্ষণীয়। কমিমন শোকাচ্ছন্ন বলেই বসন্ত তার সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে এলেও কবির অন্তরকে স্পর্শ করতে পারে না।

'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি ও উদ্দীপকের মোমেনা দুজনেই স্বজনকে হারিয়েছেন। কবি হারিয়েছে স্বামীকে আর মোমেনা হারিয়েছেন একমাত্র ছেলেকে। স্বজন-হারা শোকব্যথা তাদের মনকে আচ্ছন্ন করে আছে। এই শোক এমনই যে, বসন্তের আগমন কবির অন্তরকে স্পর্শ করে না। অন্যদিকে উদ্দীপকের মোমেনা নববর্ষের আগমনে উচ্ছসিত হতে পারে না। কারণ, স্বজন-হারা শোকব্যথা মানুষের সংবেদনশীল মনকে আচ্ছন্ন করে রাখে সর্বদা।

 

সৃজনশীল প্রশ্ন ৮

৮ .এমন আগ্রাসী ঋতু থেকে যতই ফেরাই চোখ

যতই এড়াতে চাই তাকে, দেখি সে অনতিক্রম্য।

বসন্ত কবির মতো রচে তার রম্য কাব্যখানি

নবীন পল্লবে, ফুলে ফুলে। বুঝি আমাকেও শেষে

 গিলেছে এ খল-নারী আপাদমস্তক ভালোবেসে।


ক. 'মাধবী' শব্দের অর্থ কী?

খ. 'দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?' কবি এ কথা কেন বলেছেন? বুঝিয়ে দাও।

গ. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কোন চিত্র উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো। ৩

ঘ. "উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার অন্তর্নিহিত ভাব ফুটে উঠেনি।"- মন্তব্যটির সত্যতা যাচাই করো। 

৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক.'মাধবী' শব্দের অর্থ বাসন্তী লতা।

খ.আপনজনের বিচ্ছেদ-বেদনায় শোকাতুর কবির ঔদাসীন্যই প্রশ্নোত্ত জিজ্ঞাসার কারণ।

বসন্ত-প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য যে কবিমনে আনন্দ-শিহরণ জাগাবে এবং তিনি তাকে নানাভাবে, ছন্দে, সুরে ফুটিয়ে তুলবেন সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু প্রিয়জনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির মন শোকাচ্ছন্ন ও বেদনা-ভারাতুর হওয়ায় বসন্তের আগমন সম্পর্কে তিনি ছিলেন উদাসীন। আর তাই ভন্তের মুখে বন্দনাগীতি রচনার প্রার্থনা শুনে বসন্তের আগমন বিষয়ে নিশ্চিত হতে চেয়েছেন তিনি। আলোচ্য চরণটির মধ্য দিয়ে কবির সে জিজ্ঞাসাই ব্যক্ত হয়েছে।

গ. উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় বর্ণিত প্রকৃতির নিত্য প্রবহমানতা ফুটে উঠেছে।

প্রকৃতি সর্বদাই তার আপন গতিতে চলে। সময়ের আবর্তে প্রকৃতি ভিন্ন ভিন্ন রূপে নিজেকে সজ্জিত করে। কেউ প্রত্যক্ষ করুক বা না করুক প্রকৃতি তার আপন গতিতে চলতে থাকে। উদ্দীপকের কবিতাংশেও এ বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি বসন্তকে যতই এড়াতে চান, পারেন না। কারণ সে অনতিক্রম্য। কবি যতই তার থেকে চোখ ফেরান না কেন, বসন্ত তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে হাজির হয়েছে। তার আগমনে প্রকৃতিতে যেন উৎসব শুরু হয়েছে। গাছে গাছে নতুন পাতা গজিয়েছে। নতুন ফুলের সৌরভে মুখরিত হয়েছে চারদিক। কবি তার থেকে চোখ ফেরালেও বসন্ত থেমে থাকেনি। সে আপন গতিতে চলমান। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায়ও দেখা যায়, প্রিয়জনের মৃত্যুতে কবিমনে প্রচণ্ড শূন্যতা সৃষ্টি হয়। এদিকে প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন ঘটেছে। তবুও কবি নীরব। কেননা তার মন আচ্ছন্ন হয়ে আছে রিক্ততার হাহাকারে। তবে কবি বসন্তবিমুখ হলেও বসন্ত তার আপন মহিমা নিয়ে নিজস্ব গতিতে চলতে থাকে। উদ্দীপকেও প্রকৃতির এই নিত্য বহমানতা প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার অন্তর্নিহিত ভাব ফুটে উঠেনি- মন্তব্যটি যথার্থ।

ঘ. “তাহারেই পড়ে মনে' কবিতা ও উদীপকের কবিতাপে প্রকৃতি নির্ভরতায় একই বিন্দুতে অবস্থিত। বসন্ত চির যৌবে সময়ের আবর্তে প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও আনমনা কবিহৃদয় আজ তা থেকে নিজেদেরকে বিমুখ করে রেখেছে।

উদ্দীপকের কবিতাংশে বর্ণিত হয়েছে যে, প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও কবির তাতে কোনো আগ্রহ নেই। কিন্তু তিনি বসন্ত থেকেই যতই চোখ ফেরাতে চান, পারেন না। যতই তাকে এড়াতে চান ব্যর্থ হন। বসন্ত তার সৌন্দর্য নিয়ে প্রকৃতিতে নবরূপে হাজির হয়েছে। গাছে গাছে নতুন পাতা গজিয়েছে, ফুলে ফুলে ভরে গেছে বাগিচাগুলো। এই সৌন্দর্য থেকে কবি যতই চোখ ফেরাতে চান বসন্ত ততই তার হৃদয়ে জেঁকে বসে। বসন্ত তার সৌন্দর্য দিয়ে কবিচিত্তকে হরণ করে নেয় তার অজান্তেই।

'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাৎপর্যময় অভিব্যক্তি পেয়েছে। সাধারণত বসন্ত প্রকৃতি মানবমনকে আনন্দে আপ্লুত করলেও এ কবিতায় দেখা যায় কবি তাঁর প্রিয়জন হারানোর বেদনায় এতটাই বিহ্বল যে, বসন্ত তার সমস্ত সৌন্দর্য থাকা সত্ত্বেও কবির অন্তরকে স্পর্শ করতে পারছে না। উদ্দীপকে দেখা যায়, কবি বসন্তের সৌন্দর্য উপভোগ করা থেকে শত চেষ্টা করেও নিজের মনকে বিরত রাখতে পারছেন না। আলোচ্য কবিতার অন্তর্নিহিত ভাব হলো- প্রিয়জন হারানোর বেদনায় ভারাক্রান্ত এবং বসন্ত বন্দনায় কবির বিমুখতা। উদ্দীপকে এ বিষয়গুলো উপস্থাপিত হয়নি। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৯

৯.'এই যে আসুন, তারপর কী খবর?

 আছেন তো ভালো? ছেলেমেয়ে? কিছু আলাপের পর 

দেখিয়ে সফেদ দেয়ালের শান্ত ফটোগ্রাফটিকে 

বললাম জিজ্ঞাসু অতিথিকে 

এ আমার ছোট ছেলে, যে নেই এখন

পাথরের টুকরোর মতন

ডুবে গেছে আমাদের গ্রামের পুকুরে

বছর তিনেক আগে কাক-ডাকা গ্রীষ্মের দুপুরে।'

ক. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কতটি চরণ রয়েছে?

খ. 'ডেকেছে কি সে আমারেশুনি নাই, রাখিনি সন্ধান।'- ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের ফটোগ্রাফটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কোন ভাবকে প্রকাশ করেছে

ব্যাখ্যা করো।

 ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত ভাবটিই 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলসুর। মন্তব্যটি বিচার করো।

Post a Comment

Previous Post Next Post