তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন ৫
ক. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
খ. কবি শীতকে কুয়াশার চাদর পরিহিত মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন।
শীত প্রকৃতিকে দেয় রিক্ততার রূপ। শীতের এ রূপকে বসন্তের বিপরীতে স্থাপন করা
হয়েছে। প্রকৃতি বসন্তের আগমনে ফুলের সাজে সাজলেও কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিস্ততার
ছবি। শীত যেন সর্বরিক্ত সন্ন্যাসীর মতো কুয়াশার চাদর গায়ে পত্রপুষ্পহীন দিগন্তের
পথে চলে গেছে।
গ.উদ্দীপকের 'নয়ন সম্মুখে তুমি নাই' উক্তিটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির স্বামী হারানোর দুঃখময় অনুভূতির বিষয়টি মনে করিয়ে দেয়।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার হায়াপাত ঘটেছে। কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে শূন্যতা নেমে আসে। তাই কবি বসন্তকে বরণ করে নিতে কুণ্ঠাবোধ করেন। কবি তাঁর প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। তাকে ভুলতে
পারেননি। শীতের রিস্ত আবহাওয়া কবিকে তাঁর প্রিয়জনকে মনে করিয়ে দেয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত কবিতার দুটি চরণে প্রিয়জনকে হারানোর দুঃখময় চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রিয়জন কবির সামনে নেই কিন্তু নয়নের মাঝে সে অবস্থান করছে। উদ্দীপকের কবি তাঁর অনুভবে প্রিয়জনকে খুঁজে পান। একইভাবে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবিরও প্রিয়জন পাশে নেই কিন্তু তিনি তাকে হৃদয়ে অনুভব করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'নয়ন সম্মুখে তুমি নাই'- উক্তিটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার প্রিয়জনকে হারানোর দুঃখময় অনুভূতির বিষয়টিকে মনে করিয়ে দেয়।
ঘ. 'উদ্দীপকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলভাবকে ধারণ করে- কথাটি যথার্থ।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল ব্যক্তিগত জীবনের একটি দুঃখময় ঘটনাকে উপজীব্য করে কবিতাটি রচনা করেছেন। তাঁর সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে শূন্যতা নেমে আসে। রিক্ততার হাহাকারে বিষণ্ণ কবি শীতের রিক্ততার মাঝে প্রিয়জনকে অনুভব করেন। প্রিয়জন তার সম্মুখে নেই কিন্তু তাঁকে কবি হৃদমাঝারে ঠাঁই দিয়েছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবির প্রিয়জন হারানোর হাহাকার প্রকাশ পেয়েছে। কবির প্রিয়জন তার সম্মুখে নাই কিন্তু তাকে তিনি দেখতে পান। কারণ তিনি তাকে নয়নে স্থান দিয়েছেন। এখানে মূলত বোঝানো হয়েছে যে, যে প্রিয়জনকে হৃদয়ে স্থান দেয়া হয়েছে, সে চোখের সামনে না থাকলেও অনুভবে তাকে কাছে পাওয়া যায়।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি প্রিয়জনকে হারিয়েছেন ঠিকই। তারপরও কবি তাঁর প্রিয়জনকে হৃদয়ে ঠাঁই দিয়েছেন। তাঁই কবি শীতের রিক্ততায় প্রিয়জনকে অনুভব করেন। উদ্দীপকেও প্রিয়জনকে হারানোর পর তাকে হৃদয়ে অনুভব করার বিষয়টি দেখা যায়। তাই আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলভাবকে ধারণ করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৬
ভেতরে আমার বাঁশিটি বাজে না আর,
ওড়েনা পাখি আঁকাবাঁকা সাদা ঝাঁক
নদী জলের ঢেউগুলো নির্বাক
ভেতরে আমার ভেঙে পড়ে শুধু পাড়।
ক. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
খ. "যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই" বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ.উদ্দীপকটি কোন দিক থেকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা চিহ্নিত করো।
ঘ. উদ্দীপকের 'ভেতরে আমার বাঁশিটি বাজেনা আর' এর দহন 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির অন্তর্দহন- তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি প্রথম 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
খ. বসন্ত সম্পর্কে উদাসীন থাকায় কবির প্রতি কবি-ভক্তের এই অনুযোগ।
কবি ভক্ত কবির কাছে বসন্ত বন্দনা গীতি শুনতে চান কিন্তু বিচ্ছেদ বেদনায় কবির মন দুঃখ
ভারাক্রান্ত। তিনি বসন্তকে যথার্থ সমাদর করতে পারছেন না। কিন্তু কবি ভক্তের কাছে মনে
হয়েছে কবি যদি বসন্তকে বন্দনা না করে তবে বসন্তের আগমনই বৃথা হয়ে যাবে। তাই কবি
ভক্ত অনুযোগ করে বলেছে- 'যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।'
গ.'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির আপনজন হারানোর অপার
বেদনার সঙ্কো উদ্দীপকের কবির বেদনার সঙ্গতি রয়েছে।
আপনজন বিশেষ করে জীবনসঙ্গীকে হারানোর বেদনা কবি সাহিত্যিককেও উদাসীন করে তোলে।
প্রকৃতির বসন্তকালীন সৌন্দর্যেও তাদের মন আলোড়িত হয় না বরং বিরহবেদনায় বিষয় হয়।
চেতনা অস্ফুট হয়। আলোচ্য কবিতায় এ বিষয়টি চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের কবির হৃদয় কোনো এক অন্তর্বেদনায় ভারাক্রান্ত। জীবন নদীর কূলে তিনি নিঃসঙ্গ, তাঁর ভেতরে বেদনার দহন। আলোচ্য কবিতার কবিও অন্তর্বেদনায় ভারাক্রান্ত। তাঁর জীবনসঙ্গী তাকে ছেড়ে পরপারে চলে গেছেন। তাই কবির জীবনে প্রচণ্ড শূন্যতা নেমে আসে। বসন্তের আগমনী গান তাকে আকৃষ্ট করছে না। তাই উদ্দীপকের কবির বেদনার সঙ্গে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির বেদনা সঙ্গতিপূর্ণ।
ঘ .'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রিয়জন হারানোর বেদনা কবির শিল্পীসভার ওপর যে প্রভাব বিস্তার করেছে উদ্দীপকেও তার প্রতিফলন ঘটেছে।
আলোচ্য কবিতায় কবির ব্যক্তিগত দুঃখবোধ তাঁর কবিমনকে আচ্ছন্ন করেছে। বেদনায়
আবিষ্ট কবির কাছে তাই বসন্তের সৌন্দর্য ম্লান। প্রিয়জনের বিয়োগ ব্যথায় কবি হৃদয়ের
দুঃখ তাঁর কাছে বসন্তের আগমনকে নিষ্প্রভ করে তুলেছে।
উদ্দীপকের কবি প্রিয়জন হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন। তাঁর বিষণ্ণ মন তাঁর শিল্পীসত্তায়
প্রভাব ফেলেছে। বেদনায় আবিষ্ট তাঁর মন। জীবনের ছন্দ হারিয়েছেন তিনি। তাঁর ভেতরে
কেবলই দুঃখের ঢেউ গুঞ্জর তোলে। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায়ও দেখা যায়, প্রিয়জন বিয়োগ শোকার্ত কবির
বেদনাক্লিস্ট রূপ।
ব্যক্তিগত দুঃখবোধে আচ্ছন্ন কবি যেমন বসন্তকে বরণ করতে পারেনি তেমনি উদ্দীপকের
কবিতাংশের কবিও ব্যক্তিগত দুঃখবোধে আচ্ছন্ন। বসন্তে যেখানে কবির ভাব ও ছন্দের
মিলনে অনুপম কাব্য সৃষ্টি হওয়ার কথা সেখানে কবি উদাসীন থেকেছেন রিক্ত শীতের
প্রতীকে প্রিয়জন হারানোর বেদনায়। জীবনের ঘাত প্রতিঘাতের ফলে কখনো কখনো জীবন থেকে
হারিয়ে যায় স্বাভাবিক ছন্দ। তাই উভয় কবির জীবনে নিরানন্দ ঘনীভূত হয়েছে। সুতরাং বলা
যায়, উদ্দীপকের 'ভেতরে আমার বাঁশিটি বাজেনা আর' এর দহন 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবিরই অন্তর্দহন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৭
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে তথা পহেলা বৈশাখে উৎসবে মেতে উঠেছে সবাই। কিন্তু মোমেনার মনে বিষাদের কালো ছায়া। তার একমাত্র পুত্রের মৃত্যুতে সে বাকরুদ্ধ ও শোকাহত। শোক
ব্যথায় মোমেনার হৃদয় হাহাকার মথিত। গত বছর মোমেনা তার ছেলেকে নিয়ে পহেলা
বৈশাখের উৎসবে মেতে উঠেছিল। মোমেনার জীবনে এখন সেটা শুধুই স্মৃতি। পুত্রের মায়াময়
মুখটির কথা স্মরণ করে মোমেনা কেমন অস্থির হয়ে ওঠে।
ক. ঋতুর রাজন কী লাভ করেনি বলে কবির জিজ্ঞাসা?
খ. 'বসন্ত বন্দনা তবে কণ্ঠে শুনি এ মোর মিনতি।'- কবি কেন এ মিনতি করেছেন?
গ . উদ্দীপকের মোমেনা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কোন চরিত্রকে স্মরণ করিয়ে দেয়? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।
ঘ. স্বজনহারা শোক-ব্যথা মানুষের সংবেদনশীল মনকে আচ্ছন্ন করে রাখে সর্বদা। মন্তব্যটি উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।