তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন ৩
৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক.কবি সুফিয়া কামাল বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
খ.বসন্ত সম্পর্কে উদাসীন থাকায় কবির প্রতি কবি-ভক্তের এই অনুযোগ।
কবি ভক্ত কবির কাছে বসন্ত বন্দনা গীতি শুনতে চান কিন্তু বিচ্ছেদ বেদনায় কবির মন দুঃখ ভারাক্রান্ত। তিনি বসন্তকে যথার্থ সমাদর করতে পারছেন না। কিন্তু কবি ভক্তের কাছে মনে হয়েছে কবি যদি বসন্তকে বন্দনা না করে তবে বসন্তের আগমনই বৃথা হয়ে যাবে। তাই কবি ভক্ত অনুযোগ করে বলেছে- 'যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।'
গ. বেদনা প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
আলোচ্য কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। সেই দুঃখময়
ঘটনার রেশ কবির জীবনের সকল ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। কবিকে করে তুলেছে বেদনার্ত।
উদ্দীপকের কবিতাংশে অতীত স্মৃতির রোমন্ত্রনে কবি বেদনার্ত হয়েছেন। স্মৃতিরা
কবির হৃদয়ে যেন বেদনার রঙেরঙে ছবি আঁকে। কবির এই বেদনার কথা আকাশ মনে রাখে কী না
কবির মনে এই প্রশ্ন জাগে। এদিকে, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায়ও কবির বেদনার্ত হৃদয়ের অবস্থা ফুটে উঠেছে। কবির জীবনসঙ্গী ও সাহিত্য
সাধনার উৎসাহদাতা সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে নেমে আসে
সীমাহীন শূন্যতা। এই শূন্যতা কবির জীবনকে বেদনাময় করে তোলে। বসন্তের রূপ-সৌন্দর্যও
এই বেদনাকে হালকা করতে পারে না। এভাবে বেদনা প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপক ও আলোচ্য
কবিতাটি সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঘ . উদ্দীপকটি ছোট্ট পরিসরে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল ভাবকে ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে -মন্তব্যটি যথার্থ।
আলোচ্য কবিতায় কবির প্রিয়জন হারানোর বেদনা প্রকাশিত হয়েছে। প্রিয়জনকে হারানোর
বেদনায় কবি মন আচ্ছন্ন হয়ে আছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি মন পুরোনো দিনের সুখস্মৃতি মনে করে বেদনার্ত হয়েছে।
সুখের সেই স্মৃতিগুলো কবির হৃদয়ে বেদনার রঙে যেন ছবি আঁকে। এদিকে, আলোচ্য কবিতার কবিও বেদনা ভারাক্রান্ত। তার এই বেদনার মূলে রয়েছে জীবনসঙ্গীর
মৃত্যু।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাজুড়ে কবির বেদনা-ভারাক্রান্ত
হৃদয়ের পরিচয় মেলে। জীবনসঙ্গীকে হারানোয় কবির জীবনে নেমে এসেছে রিক্ততার সুর। এই
রিক্ততা কবির হৃদয়ে হাহাকার তোলে। বসন্তের সৌন্দর্যও কবিকে স্পর্শ করতে পারে না।
বসন্তেও তাই কবির অন্তর জুড়ে রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনা। বেদনার সুরই আলোচ্য
কবিতার মূলভাব, যা উদ্দীপকের কবিতাংশেও ফুটে উঠেছে। তাই
বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৪
প্রশ্ন ৪ জানালার শার্সিতে বৃষ্টির অবিশ্রান্ত ফোটাগুলো মনে করিয়ে দেয়, ফেলে আসা শরতের পরিষ্কার আকাশ, পূজোর ঢাকঢোলের শব্দ, অগ্রানে মাঠের নতুন ধানের গন্ধ, মনে পড়ে যায় মার সঙ্গে বৃষ্টিতে ভেজার সেই সুন্দর সময়গুলোকে। আজ ১০ বছর হলো আমি দেশের বাইরে। মার মুখটা মনে হলেই ইচ্ছে হয় সব ছেড়ে মায়ের ভালোবাসা ঘেরা সেই ছোট্ট বাড়িতে ফিরে যেতে।
ক. কুহেলি শব্দের অর্থ কী?
খ. 'উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?'- উক্তিটি দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রকৃতির সঙ্গে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার প্রকৃতির বৈসাদৃশ্য নির্ণয় করো।
ঘ. প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার প্রিয় মানুষের প্রতি ভালোবাসার রূপ একসূত্রে গাঁথা- বিশ্লেষণ করো।
৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. কুহেলি শব্দের অর্থ কুয়াশা।
খ .'উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?'- উক্তিটি দ্বারা কবিভক্ত কবির কাছে ঋতুরাজ বসন্তকে উপেক্ষা করে ব্যথা দেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।
প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও কবিভক্ত লক্ষ করেছেন তার প্রিয় কবি বসন্ত- বন্দনা করে কবিতা লিখছেন না। ফলে ব্যথিত ও হতাশ কবিভক্ত কবিকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে এর কারণ উদ্ঘাটন করার চেষ্টা করেছেন। উদ্ভূত উক্তিটি দ্বারা ঋতুরাজ বসন্তকে উপেক্ষা করার কারণ কী- তা জানতে কৌতূহলী কবিভক্ত কবির কাছে প্রশ্ন রেখেছেন।
গ.ভাবগত দিক দিয়ে উদ্দীপকের প্রকৃতির সাথে 'তাহারেই পড়ে
মনে' কবিতার প্রকৃতির বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনের
সম্পর্কের দিক তাৎপর্যময় অভিব্যক্তি পেয়েছে। রূপায়িত মাঘের সন্ন্যাসীরূপী
প্রিয়জনের বিদায়বেলার হাহাকার কবির মনে ধ্বনিত হয়েছে। প্রকৃতি এখানে শূন্য হয়ে
ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে মাতৃভূমির অপরূপ প্রকৃতির দিক প্রকাশ পেয়েছে। দূরে আছে তাই জন্মভূমির
কাটানো দিনগুলোর কথা স্মরণ রেখে বিষন্ন হয় মন। শরতের পরিষ্কার আকাশ, নতুন ধানের গন্ধ, বৃষ্টিভেজা দিন সবকিছুই মনে পড়ে
যায়। প্রকৃতির সৌন্দর্যের দিকটি এখানে ব্যস্ত হয়েছে। কিন্তু আলোচ্য কবিতায়
প্রকৃতিকে কবি দেখেছেন রিস্ত হিসেবে। শীতের প্রকৃতিকে বসন্তের বিপরীতে উপস্থাপন
করা হয়েছে এখানে। শীত যেন সর্বরিক্ত সন্ন্যাসীর মতো কুয়াশার চাদর গায়ে পত্রপুষ্পহীন
দিগন্তের পথে চলে গেছে। অর্থাৎ দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকেই উদ্দীপকের প্রকৃতি ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার প্রকৃতির মধ্যে বৈসাদৃশ্য
নির্ণিত হয়।
ঘ.'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার স্মৃতিকাতরতার দিকটির
প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটিতে কবির ব্যক্তিজীবনের
দুঃখময় ঘটনার হায়াপাত ঘটেছে। কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে
কবির জীবনে প্রচণ্ড শূন্যতা নেমে আসে। দুঃসহ বিষন্নতায় ভরে ওঠে তার জীবন।
উদ্দীপকে মাতৃভূমি ছেড়ে দূরে থাকার কারণে স্মৃতিকাতরময় অভিব্যক্তি প্রকাশ
পেয়েছে। মাতৃভূমিতে কাটানো দিনগুলো তাড়িয়ে বেড়ায়। বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ, শরতের পরিষ্কার আকাশ, মায়ের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো
স্মরণ করে বিষণ্ণ হয় মন। মাকে ছেড়ে দূরে থাকতে হয় বলে মায়ের ভালোবাসা পেতে উন্মুখ
হয়ে থাকে চিত্ত।
উদ্দীপকে ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রিয়জনকে ছেড়ে থাকার কষ্ট প্রকাশ পেয়েছে। আলোচ্য কবিতার কবি স্বামী
হারানোর বেদনায় বেদনার্ত, তাঁর কাব্যসাধনায় নেমে আসে
স্থবিরতা। বসন্ত প্রকৃতি কবিকে আগের মতো আকৃষ্ট করে না। উদ্দীপকের কথকও বিষণ্ণ
থাকে ফেলে আসা স্মৃতিময় দিনগুলো স্মরণ করে। প্রিয়জনের সাথে কাটানো দিন তাকে
বেদনার্ত,
করে তোলে। উদ্দীপকের কথক ও কবিতার কবি উভয়ই বিষন্ন, বেদনার্ত, স্মৃতিকাতর মন তাদের বারবার নিয়ে গেছে
হারানো দিনের কাছে। এ অভিব্যক্তি প্রকাশে উদ্দীপক ও কবিতার মধ্যে প্রেক্ষাপটগত
বৈসাদৃশ্য আছে। কেননা, একজন প্রিয়জনকে হারিয়েছে, অন্যজন প্রিয়জনকে ছেড়ে দূরে আছে। সুতরাং-প্রশ্নোন্ত উক্তিটি যথার্থ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৫
৫. নয়ন সম্মুখে তুমি নাই
নয়নেরও মাঝখানে নিয়েছো যে ঠাঁই।
ক. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি কত সালে প্রকাশিত হয়েছে? ১
খ. 'কুহেলী উত্তরী তলে মায়ের সন্ন্যাসী'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। ২
গ. উদ্দীপকের 'নয়ন সম্মুখে তুমি নাই'- উক্তিটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কোন বিষয়টিকে মনে করিয়ে দেয় তা বর্ণনা করো। ৩
ঘ. উদ্দীপকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল ভাবকে ধারণ করেছে- বিশ্লেষণ করো। 8