তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন ১
সে চলে গেছে বলে কিগো স্মৃতি কি তার যায় ভোলা আজো মনে হলে তার কথা, মর্মে যে মোর দেয় দোলা। ঐ প্রতিটি ধূলিকণায়, আছে তার ছোঁওয়া লেগে হেথায় আজো তাহারি আসার আশায়, রাখি মোর ঘরের সব দ্বার খোলা। হেথা সে এসেছিল যবে ঘর ভরে ছিল ফুল উৎসবে মোর
কাজ ছিল শুধু ভবে, তার হারগাঁথা আর ফুল তোলা।
প্রশ্ন নম্বর- ক. 'তাহারেই পড়ে
মনে' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? ১
খ.'পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে'- বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ২
গ. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির হাহাকারের দৃশ্য যেন উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে- ব্যাখ্যা করো। ৩
ঘ. "উদ্দীপকটির বিরহবেদনার বর্ণনার সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির মনোবেদনার
প্রকৃতিঘনিষ্ঠ যে বর্ণনা, তার সাথে মিলের চেয়ে অমিলই
বেশি"- মন্তব্যটি তোমার মতামতসহ যাচাই করো। ৪
১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকায়।
খ.'পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে' বলতে কবি শীতের রিক্ততার কথা বুঝিয়েছেন।
শীতকালে গাছের পাতা ঝরে যায়, গাছ হয় ফুলহীন। শীতের এ রূপকে বসন্তের বিপরীতে স্থাপন করা হয়েছে। প্রকৃতি বসন্তের আগমনে ফুলের সাজে সাজলেও কবির মন জুড়ে রয়েছে শীতের রিক্ততার ছবি। শীত যেন সর্বরিক্ত সন্ন্যাসীর মতো কুয়াশার চাদর গায়ে গায়ে পুত্রপুষ্পহীন পুরপুষ্পহীন। দিগন্তের পথে চলে গেছে।
গ.প্রিয়জনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় 'তাহারেই পড়ে
মনে' কবিতায় যে হাহাকার প্রকাশ পেয়েছে তা উদ্দীপকেও বিদ্যমান।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটিতে কবির ব্যক্তিজীবনের
দুঃখময় ঘটনার ছায়াপত ঘটেছে। কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির
জীবনে প্রচণ্ড শূন্যতা নেমে আসে। দুঃসহ বিষণ্ণতায় ভরে ওঠে তাঁর জীবন।
উদ্দীপকে প্রিয়জন হারানোর দিকটি ফুটে উঠেছে। প্রিয়জন দূরে চলে গেলেও হৃদয়ে তার স্মৃতিরাই আনাগোনা করতে থাকে। তার ফিরে আসার অপেক্ষা করতে থাকে অবুঝ মন। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির স্বামী মারা যাওয়ায় কবিমন শোকাচ্ছন্ন হয়েছে। ফলে বসন্তের সৌন্দর্য তাঁর হৃদয়কে স্পর্শ করে না। তাঁর ব্যক্তিজীবন ও কাব্যসাধনার ক্ষেত্রে বেজে ওঠে বিষাদের সুর। প্রিয়জনকে হারালে হৃদয়ের যে করুণ অবস্থা হয় তা উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই ফুটে উঠেছে।
'ঘ. তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির মনোবেদনার প্রকৃতিঘনিষ্ঠ এক বর্ণনা রয়েছে যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
আলোচ্য কবিতাটিতে প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক
তাৎপর্যময় অভিব্যক্তি পেয়েছে। বসন্তের আগমন কবি মনকে শিহরিত করার কথা থাকলেও তাঁর
শোক যেন তাকে প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, প্রিয়জনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও তার স্মৃতি কখনো ভোলা যায় না। তার ফিরে আসার জন্য মন সর্বদাই অপেক্ষা করতে থাকে। আবার, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায়ও প্রিয়জন বিয়োগের দিকটি ফুটে উঠেছে। তবে এখানে কবির মনোবেদনা ও প্রকৃতির বিষন্নতা একইসূত্রে গাঁথা। বসন্ত-প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য যে কবিমনে আনন্দের শিহরণ জাগাবে এবং তিনি তাকে ভাবে-ছন্দে-সুরে ফুটিয়ে তুলবেন সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু আলোচ্য কবিতায় কবি স্বামীর মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন বলে বসন্ত তার সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে হাজির হওয়া সত্ত্বেও কবির অন্তরকে স্পর্শ করতে পারেনি। তাই বসন্তের মাঝেও উদাসীন কবির অন্তর জুড়ে থাকে রিস্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনা। কবির জীবনের দুঃসহ বিষণ্ণতা প্রকৃতির সাথে তাঁর মনের সংযোগকে ছিন্ন করেছে। এই যে কবির মনোবেদনার প্রকৃতি ঘনিষ্ঠরূপ তা উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে রয়েছে বিরহবেদনার এক আবেগী বহিঃপ্রকাশ যেখানে প্রকৃতিঘনিষ্ঠতার দিকটি অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকটির বিরহবেদনার বর্ণনার সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির মনোবেদনার প্রকৃতিঘনিষ্ঠ যে বর্ণনা, তার সাথে মিলের চেয়ে অমিলই বেশি"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ২
প্রশ্ন২ . বর্ষায় বাংলার প্রকৃতি যেন ভিন্ন এক রূপের পসরা সাজায়। বিলের বুকে কলমিলতা, শাপলার অনাবিল সৌন্দর্য, পানকৌড়ির লুকোচুরি- কার না ভালো লাগে। কিন্তু শিল্পী নাজমা বিলের ধারে বেড়াতে এসেও যেন কেন আনমনা হয়ে আছেন। এমনি এক বর্ষায় নৌকাডুবিতে চিরতরে হারিয়ে যায় তার স্নেহের দুটি ভাই-বোন। শাপলা-শালুকভরা শাশ্বত বাংলার বর্ষা প্রকৃতি দেখেও আজ তাই কণ্ঠশিল্পী নাজমার কণ্ঠে ধ্বনিত হয় না কোনো গান। তার হৃদয় জুড়ে শুধুই বিষন্নতা।
ক. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায়
প্রকাশিত হয়? ১
খ. 'কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী' পঙক্তিটির
তাৎপর্য আলোচনা করো। ২
গ. "তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার সাথে
উদ্দীপকটির বিষয়গত প্রচুর বৈসাদৃশ্য রয়েছে"- বিশ্লেষণ করো।
ঘ. "উদ্দীপকের কণ্ঠশিল্পী নাজমার সাথে কবি বেগম সুফিয়া কামালের শিল্পী সত্তার তাৎপর্যপূর্ণ মিল রয়েছে"- উক্তিটির মূল্যায়ন করো।
২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক.'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি প্রথম 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
খ.কবি শীতকে কুয়াশার চাদর পরিহিত মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন।
শীত প্রকৃতিকে দেয় রিস্ততার রূপ। শীতের এ রূপকে বসন্তের বিপরীতে স্থাপন করা হয়েছে।
প্রকৃতি বসন্তের আগমনে ফুলের সাজে সাজলেও কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিক্ততার ছবি।
শীত যেন সর্বরিক্ত সন্ন্যাসীর মতো কুয়াশার চাদর গায়ে পত্রপুষ্পহীন দিগন্তের পথে চলে গেছে।
গ. প্রিয়জন হারানোর বেদনা ও শিল্পীসত্তার মিল থাকা সত্ত্বেও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতা এবং উদ্দীপকের বিষয়গত প্রচুর
বৈসাদৃশ্য বর্তমান।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনের
সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাৎপর্যময় অভিব্যক্তি পেয়েছে। সাধারণত বসন্ত
প্রকৃতি মানবমনকে আনন্দে আপ্লুত করলেও কবিতায় দেখি কবি তাঁর প্রিয় হারানোর বেদনায়
এতটাই বিহ্বল যে বসন্ত তাঁর সমস্ত সৌন্দর্য সত্ত্বেও কবির অন্তরকে স্পর্শ করতে
পারছে না। সেইসঙ্গে কবি ও কবিভক্তের নাটকীয় কথোপকথন কবিতাটিকে ভিন্ন মাত্রা দান
করেছে।
উদ্দীপকে প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের বিষয়টি রয়েছে, এ ছাড়া রয়েছে প্রিয়জন হারানোর বেদনা। 'তাহারেই পড়ে
মনে' কবিতায় বিচ্ছেদ বেদনার এ দিকটির উল্লেখ থাকলেও বিষয় বৈচিত্রগত কিছু পার্থক্য
লক্ষ করা যায়। কবিতায় আছে বসন্ত প্রকৃতির কথা, কিন্তু
উদ্দীপকে আছে বর্ষা
ঘ. বিষয়গত কিছু ভিন্নতা সত্ত্বেও উদ্দীপকের কণ্ঠশিল্পী নাজমার সঙ্গে কবি সুফিয়া
কামালের তাৎপর্যপূর্ণ মিল রয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও কবির
মন জুড়ে আছে শীতের রিক্ততা ও বিষন্নতার ছবি। কবির মন প্রিয়জন হারানোর দুঃখে
ভারাক্রান্ত। তাই বসন্ত তাঁর মনে কোনো সাড়া জাগাতে পারছে না। বসন্তের সৌন্দর্য
তাঁর কাছে অর্থহীন, মনে কোনো আবেদন জাগাতে পারছে না।
তাই কবি বসন্তকে বন্দনা করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
উদ্দীপকে দেখা যায় বিলের বুকে কলমিলতা, শাপলার অনাবিল
সৌন্দর্য,
পানকৌড়ির লুকোচুরি কোনো কিছুই মনে ধরছে না কণ্ঠশিল্পী
নাজমার। এমনই বর্ষার দিনে নৌকাডুবিতে তিনি হারিয়েছিলেন তাঁর স্নেহের ভাই ও বোনকে।
তাই শাশ্বত বাংলার বর্ষা প্রকৃতিতে সাড়া দিয়ে নাজমার কণ্ঠে ধ্বনিত হয় না কোনো গান।
একইভাবে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি প্রিয়জন হারানোর বেদনায়
প্রকৃতির সৌন্দর্যকে বরণ করতে পারেন না।
উদ্দীপকের নাজমা কোনো এক বর্ষায় নৌকাডুবির কারণে ছোট ভাই- বোনদের হারিয়ে
ফেলেন। এজন্যে তাঁর মনে আর কোনো বর্ষার সৌন্দর্য প্রভাব ফেলতে পারে না। উদ্দীপক ও
কবিতায় নাজমা ও কবি সুফিয়া কামাল উভয়েই প্রিয়জন হারানোর বেদনায় আচ্ছন্ন। তাঁদের
শিল্পীসত্তা যেন বেদনায় আচ্ছন্ন। আর এদিক থেকেই উল্লেখিত দুজনের তাৎপর্যপূর্ণ মিল
রয়েছে। অতএব, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৩
৩. মুছে যাওয়া দিনগুলি আমায় যে পিছু ডাকে
স্মৃতি যেন আমার হৃদয়ে বেদনার
রঙে রঙে ছবি আঁকে।
কোথায় কখন কবে কোন তারা ঝরে গেল
আকাশ কি মনে রাখে?
ক. কবি সুফিয়া কামাল কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
খ. ব্যাখ্যা কর: 'ওগো কবি, অভিমান করিলে কি তাই?
যদিও এসেছে তবু তুমি
তারে করিলে বৃথাই।'
গ. উদ্দীপকের সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক তুলে ধরো।
ঘ. "উদ্দীপক ছোট্ট পরিসরে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলভাব ধরতে সক্ষম হয়েছে।" প্রমাণ করো।