বিদ্রোহী' কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর(৯,১০)/bidrohi CQ ( 9,10)

 



বিদ্রোহী' কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন ৯

নং প্রশ্নের উত্তর

ক. কবি নিজেকে অবমানিতের মরম বেদনা বলেছেন। 

খ. কবি নিজের মাঝে বিধ্বংসী যোদ্ধা চেঙ্গিস খানকে কল্পনা করে নিজের বিদ্রোহ ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রা দিতে প্রয়াসী হয়েছেন। 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নানা বিধ্বংসী চরিত্রকে অবলম্বন করে তাঁর দ্রোহের স্বরূপ। উন্মোচন করেছেন। এক্ষেত্রে কখনো পুরাণ আবার কখনো ঐতিহাসিক

অনুষঙ্গে ভর করে কবি তাঁর ধ্বংসকামী সত্তার পরিচয় জ্ঞাপন করেছেন। এরই অংশ হিসেবে কবি নিজেকে দূর্ধর মোঙ্গল যোদ্ধা ও সেনাপতি চেঙ্গিস খানরূপে কল্পনা করেছেন। চেঙ্গিস খান অত্যন্ত নৃশংস ছিলেন। আলোচ্য কবিতায় কবি নিজেকে চেঙ্গিস খান রূপে কল্পনা করে মূলত অপশক্তিকে ধ্বংসের বার্তা দিতে চেয়েছেন।

. উদ্দীপকে 'বিদ্রোহী' কবিতায় প্রকাশিত দ্রোহের অন্তরালে কবির মানবপ্রেমের দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।

'বিদ্রোহী' কবিতায় কবির বিদ্রোহী সত্তার স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। তিনি বিদ্রোহ করেছেন শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়-অত্যাচার ও সামাজিক অচলায়তনের বিরুদ্ধে। এর মূলে রয়েছে নিপীড়িত মানুষের প্রতি কবির অকৃত্রিম ভালোবাসা। বস্তুত, একটি সুখী ও শান্তিপূর্ণ সময় বিনির্মাণের লক্ষ্যেই কবির এই দ্রোহ।

উদ্দীপকে মানবপ্রেমকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বক্তা মনে করেন, যে ব্যক্তির মনে মানুষের প্রতি ভালোবাসা নেই, মানুষের দুঃখ- কষ্ট দেখে যার হৃদয় বিগলিত হয় না, পরম স্রষ্টার আশীর্বাদ থেকে সে বঞ্চিত থেকে যায়। অর্থাৎ, মানুষকে ভালোবাসার মধ্য দিয়েই সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহের পথ প্রশস্ত হয়। অন্যদিকে, 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি অন্যায়- অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে লেখনী ধারণ করেছেন। নিপীড়িত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার লক্ষ্যেই কবির এই বিদ্রোহ। এর মূলে রয়েছে তাদের প্রতি কবির অকৃত্তি ভালোবাসা। আলোচ্য উদ্দীপকেও মানুষকে ভালোবাসার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটিতে আলোচ্য করিতর কবির মানবপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। উদ্দীপকটিতে উঠে আসা মানবপ্রেমের চেতনা 'বিদ্রোহী' কবিতায় নিপীড়িত মানুষের প্রতি কবির ভালোবাসার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলসুর বিদ্রোহী চেতনা হলেও সেই বিদ্রোহের বীজ লুক্কায়িত আছে প্রেমে। কেননা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ন থাকলে কেউ অন্যের দুঃখ-বেদনা নিজের মাঝে অনুভব করতে পারে না। কবিও তার ব্যতিক্রম নন। তিনি সর্বগ্রাসী বিদ্রোহী রূপ ধারণ করেছেন মূলত প্রেমের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে। মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসাই তাঁকে দ্রোহের পথে চালিত করেছে।

উদ্দীপকে মানুষকে ভালোবাসতে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। উদ্দীপকটির বক্তা মনে করেন, স্রষ্টার অনুগ্রহ লাভের জন্য সর্বাগ্রে মানুষকে ভালোবাসতে হবে। অন্যথা সেই ব্যক্তি মসজিদ-মন্দিরে গিয়ে যতই কান্নাকাটি করুক তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তাছাড়া যে ব্যক্তির মনে আর্ত- পীড়িত মানুষের প্রতি করুণা তৈরি হয় না, মানুষের অসহায়ত্ব দেখে যার মন কাঁদে না মানবিকতাবিবর্জিত সেই ব্যক্তি মানুষের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হবে। এভাবে আলোচ্য উদ্দীপকটিতে মূলত মানবপ্রেমের চেতনাই ফুটে উঠেছে।

'বিদ্রোহী' কবিতায় দ্রোহের অন্তরালে নিপীড়িত মানুষের প্রতি কবির গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বস্তুত, সামাজিক অচলায়তন ও ভেদ-বৈষম্য দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই পরাধীনতার শৃঙ্খলকে ভাঙতে চেয়েছেন তিনি। নিপীড়িত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাঁর এই নিরন্তর সংগ্রাম। কবিহৃদয়ের প্রগাঢ় মানবিকবোধই এর কারণ। একইভাবে, আলোচ্য উদ্দীপকটিতেও মানুষকে ভালোবাসার মাধ্যমে পরম স্রষ্টার অনুগ্রহ লাভের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সেখানে মানবপ্রেমের জয়গানই ধ্বনিত হয়েছে, যা আলোচ্য কবিতারও অন্যতম বিষয়। সে বিবেচনায় উদ্দীপকের প্রতিফলিত মানবপ্রেমের চেতনা

১০.

(i) "দুই হাত কাটা তবু শের-নর আব্বাস, পানি আনে মুখে, হাঁকে দুশমনও সাব্বাস!"

(ii) "দ্রিম দ্রিম্ বাজে ঘন দুন্দুভি দামামা, হাঁকে বীর "শির দেগা, নেহি দেগা আমামা।"

ক. কবিকে রুষে উঠতে দেখে কী ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নিভে যায়?

খ. কবি নিজেকে পৃথিবীর অভিশাপ বলেছেন কেন?

গ. উদ্দীপক (i)-'বিদ্রোহী' কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. "উদ্দীপক (ii)-এর কবিতাংশটি 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির আপসহীন মনোভাবের সমার্থক' বিশ্লেষণ করো।

১০ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. কবিকে রুষে উঠতে দেখে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নিভে যায়।

খ. সমাজে বিরাজমান অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে তাঁর বিধ্বংসী রূপ বোঝাতেই কবি নিজেকে পৃথিবীর অভিশাপ বলে উল্লেখ করেছেন। পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ রাজশক্তি তখন জগদ্দল পাথরের মতো এদেশবাসীর ওপর চেপে বসেছে। অত্যাচারী এই শাসকগোষ্ঠীর অপশাসনে সমগ্র দেশই যেন নরকে রূপান্তরিত হয়েছে। এদের ধ্বংস করতে হলে এক ভয়ানক রুদ্রের প্রয়োজন, যে এদের সাজানো বাগানকে তছনছ করে দিতে পারে। কবি নিজেই সেই রুদ্ররূপ ধারণ করে অত্যাচারীর জন্য মহাপ্রলয় আনতে চেয়েছেন। তিনি যেন সাক্ষাৎ অভিশাপ, যিনি অত্যাচারী ও শোষকের সাম্রাজ্যকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করবেন। এমন মনোভাব থেকেই নিজেকে তিনি পৃথিবীর অভিশাপ বলেছেন।

গ. উদ্দীপক (i)-'বিদ্রোহী' কবিতার ফুটে ওঠা দিকটি হলো লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত প্রাণপণ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।

'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নানা উপমায় ও প্রকরণে তাঁর বিদ্রোহী চেতনাকে মূর্ত করে তুলেছেন। সামাজিক নানা অসংগতি ও অত্যাচার নির্যাতনের চিত্র কবিকে দুর্বার বিদ্রোহী করেছে। কিন্তু বিপ্লব-প্রতিবাদ বরাবরই প্রবল বাধার সম্মুখীন হয়, তবে তাতে বিপ্লবী থেমে যায় না। তাকে অবধারিতভাবেই লক্ষ্য পানে এগিয়ে যেতে হয়। আর তাই কবি বিদ্রোহ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও অন্যায়-অত্যাচারের অবসান না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

উদ্দীপক (i)-এ আব্বাস নামের এক বীরপুরুষের অদম্য মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। নিজের দুই বাহু হারানো সত্ত্বেও দমে যায়নি সে। সকল বাধা অতিক্রম করে হাত বিহীন শরীর নিয়েই পানি আনতে এগিয়ে যায় সে। তার এমন দৃঢ়তা দেখে দুশমনরাও বাহবা না দিয়ে থাকতে পারে না। একইভাবে, 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও কবির অদম্য মনোভাবের পরিচয় মেলে। কবির বর্ণনামতে, বিদ্রোহ করতে করতে তিনি ক্লান্ত হয়ে গেলেও শান্ত হতে রাজি নন। অত্যাচার ও অসাড় ঘোচাদের মানবমুক্তির পথ প্রশস্ত করাই তাঁর দ্রোহের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবিরাম লড়াই চালিয়ে যেতে চান তিনি। তাঁর এমন অদম্য মনোভাবের দিকটি উদ্দীপক (i)-এর আব্বাস চরিত্রেও পরিলক্ষিত হয়। সে বিবেচনায় লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে আলোচ্য কবিতার কবির দৃঢ়চেতা মনোভাব এবং প্রাণপণ প্রচেষ্টার দিকটিই উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।

ঘ. সর্বাবস্থায় স্বীয় আদর্শ ও চেতনাবোধে স্থির থাকা এবং অন্যায় শক্তির কাছে মাথা নত না করার দিক থেকে প্রশ্নোত্ত উক্তিটিকে যথার্থ বলে মনে করা যায়।

'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি বিদ্রোহকে একটি আদর্শ ও চেতনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কবি মনে করেন, বিদ্রোহী হতে হলে ব্যক্তিকে ইতিবাচক আদর্শবোধে উদ্বুদ্ধ হতে হবে এবং অপশক্তির কাছে মাথা নত না করার মতো চারিত্রিক দৃঢ়তা থাকতে হবে। তাঁর বিশ্বাস, বিদ্রোহীর আদর্শ ও দৃঢ়তার কাছে হিমালয় চূড়ার মতো পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গকেও তুচ্ছ বলে মনে হবে।

উদ্দীপক (ii)-এর কবিতাংশে দেখা যায়, শত্রুসৈন্যের সঙ্গে বীরযোদ্ধার লড়াই চলছে। চারদিকে যুদ্ধের দামামা বাজছে। শত্রুসৈন্যের প্রবল আঘাতে বীরের মস্তক ধড় থেকে আলাদা হলেও আদর্শের প্রশ্নে সে কোনোমতেই মাথা নত করবে না, অর্থাৎ মৃত্যুও তাকে আদর্শচ্যুত করতে পারবে না। 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও প্রায় একইরূপ দৃঢ় মনোভাবের পরিচয় মেলে। তাই কবি নিরন্তর বিদ্রোহ করে যান নিপীড়ক অপশক্তির বিরুদ্ধে। অর্থাৎ বীরধর্ম বা আদর্শবোধের ক্ষেত্রে তিনি আপসহীন। 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবির বিদ্রোহী সত্তার স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে। বৈষম্য ও শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী এই কবিসত্তা দুর্দমনীয় ও বিধ্বংসী। এ এ মূল প্রেরণা কবির মানবতাবোধ। মানবপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েই তিনি বিদ্রোহ করেছেন অনাচার ও অসাম্যের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে তিনি আপসহীন মনোভাব পোষণ করেন। একইভাবে, উদ্দীপক (ii)-এর কবিতাংশে উল্লিখিত বীর প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত, কিন্তু আত্মত্মসম্মানবোধকে বিসর্জন দিতে মোটেও রাজি নয় সে। অর্থাৎ 'বিদ্রোহী' কবিতা এবং উদ্দীপক (রর)-এর কবিতাংশের কবিদ্বয় আদর্শবোধ ও মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন। তারা কোনোমতেই অপশক্তির কাছে মাথা নত করবে না। এদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।'বিদ্রোহী' কবিতায় নিপীড়িত মানুষের প্রতি কবির ভালোবাসার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।


Post a Comment

Previous Post Next Post