বিদ্রোহী' কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন ৭
ক. অর্ফিয়াসের পিতা এ্যাপোলো ছাড়া থ্রেসের রাজা ইগ্রাস হতে পারে বলে মত পাওয়া যায়।
খ. অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী চেতনার ধারক হিসেবে কবি নিজেকে বিশ্ববিধাতার বিদ্রোহী পুত্র বা সুত বলে অভিহিত করেছেন।
গ. উদ্দীপকে ফুটে ওঠা বিদ্রোহের বীজ অর্থাৎ প্রেমানুভূতির দিকটি কবির বিদ্রোহের প্রেরণা হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ার দিক থেকে 'বিদ্রোহী' কবিতার সাথে সম্পর্কিত।
'বিদ্রোহী' কবিতাটি পরাধীনতা ও অচলায়তনের বিরুদ্ধে
কবির দুর্মর দ্রোহের বহিঃপ্রকাশ। আত্মানুসন্ধানী কবি পরাধীন ভারতবর্ষের শৃঙ্খলিত
জীবন ও বৈষম্যকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন নিবিড়ভাবে। সংগত কারণেই আর্থসামাজিক ও
রাজনৈতিক এই অচলায়তনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু একটু খেয়াল করলেই
দেখা যায়,
কবির দ্রোহের বীজ লুকিয়ে আছে তাঁর প্রেমানুভূতিতে। মানুষের
প্রতি ভালোবাসাই তাঁকে ঘোরে পথে চালিত করেছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রেয়সীর প্রতি কবির গভীর ভালোবাসা ব্যক্ত হয়েছে। কবির
বিদ্রোহী সত্তা প্রেয়সীর অনুরাগের স্পর্শেই প্রেমিক সভায় পরিণত হয়েছে। পক্ষান্তরে, প্রিয়ার প্রেমই তাঁর বিদ্রোহের অনুঘটক। অর্থাৎ বিদ্রোহী কবি প্রেমিক কবিরই
রূপান্তর মাত্র। একইভাবে, আম সত্তার পরিচয় দিতে গিয়ে 'বিদ্রোহী' কবিতার কবি বলেছেন- "মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য।' অর্থাৎ প্রেম এবং দ্রোহ্ এ দুয়ের সমন্বয়েই কবির অস্তিত্ব পূর্ণতা লাভ করে।
মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণেই তিনি দ্রোহ করেছেন। সংগত কারণেই কবির এই দ্রোহ তার
প্রেমিক সত্তারই ভিন্ন রূপ। উদ্দীপকের কবিতাংশেও দ্রোহের মাঝে প্রেমের সন্নিবেশ
ঘটতে দেখা যায়। সে বিবেচনায় উদ্দীপকে ফুটে ওঠা বিদ্রোহের বীজ তথা প্রেমানুভূতি
কবির বিদ্রোহের প্রেরণা হিসেবে আলোচ্য কবিতার সাথে সম্পর্কিত।
ঘ. প্রেম ও দ্রোহের সাবলীল প্রকাশ দেখে বলা যায় যে, উক্তিটি যথার্থ। 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলসুর বিদ্রোহী চেতনা হলেও সেই বিদ্রোহের বীজ লুক্কায়িত আছে প্রেমে।
কেননা,
মানুষের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে কেউ অন্যের দুঃখ-বেদনা
নিজের মাঝে অনুভব করতে পারে না। কবিও তার ব্যতিক্রম নন। তিনি সর্বগ্রাসী বিদ্রোহী
রূপ ধারণ করেছেন মূলত প্রেমের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই। মানুষের প্রতি তাঁর
অকৃত্রিম ভালোবাসাই তাঁকে দ্রোহের পথে চালিত করেছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবির প্রেমানুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। কবির প্রেয়সীর করস্পর্শে
তাঁর বিদ্রোহের বা যুদ্ধের অসি বাঁশিতে রূপ নেয়। অর্থাৎ কবির কাছে অসি আর বাঁশি
সমার্থক;
যখন যেটা প্রয়োজন, তখন সেটার
ব্যবহার করেছেন তিনি। তবে কবির অস্তিত্বজুড়ে রয়েছে তাঁর প্রেমিক সত্তা। এই প্রেমিক
সত্তাই তাকে দুর্মর দ্রোহের পথ দেখিয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ
ঘটেছে 'বিদ্রোহী' কবিতায়। বিদ্রোহী রূপে তাঁর যে বিধ্বংসী
রূপ, তা মূলত প্রেমময় একটি সুন্দর পৃথিবী বিনির্মাণের লক্ষ্যে। তাই কবির কাছে প্রেম
আর দ্রোহ সমার্থক। 'বিদ্রে 'বিদ্রোহী' কবিতায় ও উদ্দীপকে যুগপৎ প্রেম ও দ্রোহ
প্রকাশিত হয়েছে। আসলে যার হৃদয়ে আর পক্ষে বিদ্রোহী হয়ে ওঠা সম্ভব নয়। আলোচ্য
কবিতার
৮. "আমার এ কূল ভাঙিয়াছে যেবা আমি তার কূল বাঁধি,
যে গেছে বুকেতে আঘাত হানিয়া তার লাগি আমি কাঁদি।
যে মোরে দিয়েছে বিষে-ভরা বাণ,
আমি দেই তারে বুকভরা গান;
কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর,-
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
ক. কাকে ঘনটি বলা হয়?
খ. কবি নিজেকে 'অর্ফিয়াসের বাঁশরী' বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশের সঙ্গে 'বিদ্রোহী' কবিতার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. 'উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনা যেন 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির চেতনার প্রতিরূপ।'- মন্তব্যটি
বিশ্লেষণ করো।
৮. নং প্রশ্নের উত্তর
ক. শিব বা মহাদেবকে ধূর্জটি বলা হয়।
করেছেন।
অর্ফিয়াস গ্রিক পুরাণের একজন মহান কবি ও শিল্পী। তিনি যন্ত্রসংগীতে সকলকে
মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতেন। শুধু তাই নয়, সুরের
ইন্দ্রজাল সৃষ্টি করে তিনি ভালোবাসার পাত্রী ইউরিডিসের মন জয় করেছিলেন। কবির
প্রত্যাশা, অর্ফিয়াসের বাঁশির সুরের মতো তাঁর
বিদ্রোহের সুরও মানুষের মাঝে ছড়িয়ে যাবে। সে সুরে বিদ্রোহের অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত
হবে দেশবাসী। মিলবে কাঙ্ক্ষিত মুক্তি। এমন ভাবনা থেকেই কবি নিজেকে অর্ফিয়াসের
বাঁশি বলে অভিহিত করেছেন
গ. মূল উদ্দেশ্য অভিন্ন হলেও উদ্দীপকের কবিতাংশ ও আলোচ্য কবিতার
বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো দুজন কবি সমস্যা সমাধানে সম্পূর্ণ। ভিন্ন পথ অবলম্বন
করেছেন।
'বিদ্রোহী' কবিতায় সমাজে জেঁকে বসা অপশাসনের
বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে। এখানে কবি অত্যাচারীর অত্যাচারের অবসান
চান। এজন্য তিনি বিদ্রোহীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এক্ষেত্রে উৎপীড়িত জনতার
ক্রন্দনরোল যতদিন পর্যন্ত থাকবে ততদিন তাঁর বিদ্রোহী সভাও শান্ত হবে না।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি পরার্থপরতার মধ্যেই যে ব্যক্তির প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত সে বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। সমাজ- সংসারে বিদ্যমান বিভেদ-হিংসা-হানাহানি দ্বারা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কবির কণ্ঠে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে ব্যক্ত হয়েছে প্রীতিময় পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা। সেজন্য তিনি তাঁর পরম শত্রুকে শুধু ক্ষমা করেই ক্ষান্ত হননি বরং তার উপকারে আত্মনিয়োগ করেছেন। অর্থাৎ, করে, আর অন্যজন অত্যাচারীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এখানেই উদ্দীপকের কবিতাংশের সঙ্গে 'বিদ্রোহী' কবিতার বৈসাদৃশ্য। উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনার মূলে রয়েছে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, যা 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির চেতনার প্রতিরূপ।
ঘ. 'বিদ্রোহী' কবিতায় সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে আত্মজাগরণে উন্মুখ কবির সদম্ভ আত্মপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। তাঁর বিদ্রোহ মূলত সামাজিক বৈষম্য ও উৎপীড়নকারীর বিরুদ্ধে। তিনি সমাজের উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল না থামা পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতেই তিনি সকল অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশে সমাজের হিংসা-বিদ্বেষের বিপরীতে ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। এখানে কবি তাঁর পরম শত্রুকে কেবল ক্ষমা করেই নয়, বরং প্রতিদান হিসেবে অনিষ্টকারীর উপকার করার মাধ্যমে পৃথিবীকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করতে চেয়েছেন। যে কবিকে বিষেভরা বাণ দিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করেছে কবি তাকে বুকভরা গান দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন। আবার যে তাঁকে কাঁটা দিয়ে গেছে তাকে তিনি ফুল দিয়েছেন। কিন্তু 'বিদ্রোহী' কবিতায় এর বিপরীত চিত্র লক্ষ করা যায়। 'বিদ্রোহী' কবিতায় শত্রুর প্রতি কবির ক্রোধের বিপরীতে, আলোচ্য কবিতাংশের কবি ভালোবাসা দিয়ে শত্রুকে জয় করতে চেয়েছেন। অর্থাৎ একজন অত্যাচারীর প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেছেন এবং অন্যজন অত্যাচারীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। আপাত দৃষ্টিতে তাঁদের মধ্যে পার্থক্য দেখা গেলেও তাঁরা মূলত একই উদ্দেশ্যকে ধারণ করেন, আর তা হলো সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা। সমাজকে বৈষম্যমুক্ত করতে একজন বিদ্রোহী ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও অন্যজন প্রতিশোধ- প্রতিহিংসার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন। সুতরাং উদ্দেশ্যগত দিক বিচারে উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনা 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির চেতনার প্রতিরূপ হয়ে উঠেছে।
৯. যে ব্যক্তির হৃদয় অভাবী, অসহায়, নিঃস্ব, এতিম ও দুর্বলকে দেখে আপ্লুত হয় না, কষ্টে চিত্ত ব্যথিত হয় না; তার মনে প্রেম নেই, মায়া নেই, কোনো মমতা নেই। যার মনে মানবপ্রেম নেই, মসজিদ কিংবা মন্দিরে গিয়ে যতই ফ্রন্দনরত অবস্থায় থাকুক; সৃষ্টিকর্তার প্রেম সে পাবে না, পেতে পারে না, সৃষ্টিকর্তা সবার প্রতিই করুণা করেন কিন্তু প্রেম সবার ললাটে জোটে না।
ক. কবি নিজেকে কার মরম বেদনা বলেছেন?
খ. 'আমি চেঙ্গিস' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকে 'বিদ্রোহী' কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত চেতনা 'বিদ্রোহী' কবিতার ক্ষেত্রে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে? বিশ্লেষণ করো।