বিদ্রোহী' কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন ৫
৫ নং প্রশ্নের উত্তর
ক.কবি নিজেকে অবমানিতের মরম বেদনা বলেছেন।
খ. আলোচ্য উত্তিতে কবির বিধ্বংসী রূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি শোষণ-বঞ্চনা ও
অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ। পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বেনিয়া
শাসকগোষ্ঠী ও তাদের দোসরদের অপশাসন ও ভেদ-বৈষম্যের জাঁতাকলে পিষ্ট দেশবাসীকে তিনি
মুক্ত করতে চান। এ লক্ষ্যেই দুর্বার গতিতে তিনি শোষক ও অত্যাচারীর সবকিছু ভেঙে চুরমার
করে দিতে চান। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে বিদ্রোহী কবিসত্তার এমন বিধ্বংসী রূপই প্রতিফলিত
হয়েছে।
গ. উদ্দীপকের মহত্ত্ব ঘোষণার সঙ্গে 'বিদ্রোহী' কবিতার দ্রোহের দিকটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
'বিদ্রোহী' কবিতাটি দ্রোহ ও বিক্ষোভে উচ্চকিত। কবিতায় সকল অন্যায়, অনিয়ম ও শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা হয়েছে। অত্যাচারী, শোষক ও অপশাসনের অবসানে রুদ্ধ মূর্তিতে কবিতার কবির অবস্থান।
উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে ক্ষমা ও মহত্ত্বের অতুলনীয় দৃষ্টান্ত। যারা হ্যরতকে
অপমানিত,
লাঞ্ছিত করেছেন তিনি সুযোগ পেয়েও তাদের প্রতি কোনো প্রতিশোধ
নিলেন না। বরং বৈরিতার বিপরীতে তিনি বন্ধুত্বের ঘোষণা দিয়েছেন। জয়ীর আসনে বসেও
তিনি ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করলেন। ঘোষণা করলেন, কারো বিরুদ্ধে তাঁর কোন অভিযোগ নেই। সবাইকে তিনি স্বাধীন ও মুক্ত বলে ঘোষণা
করলেন। চিরশত্রুকে এভাবে ক্ষমার মহত্ত্ব প্রদর্শন সত্যিই বিরল। 'বিদ্রোহী' কবিতাটি এখানেই উদ্দীপক থেকে পৃথক।
কবিতাটিতে
অত্যাচারী ও শোষকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাদেরকে নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত কবি ক্ষান্ত হবেন না বলেও ঘোষণা করেছেন। কিন্তু উদ্দীপকে শত্রুর প্রতি প্রদর্শিত হয়েছে সীমাহীন উদারতা ও ক্ষমার বাণী। কোন প্রতিশোধ স্পৃহা সেখানে স্থান পায়নি।
ঘ. উদ্দীপকের হযরত মুহাম্মদ (স.) 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির মধ্যে স্বভাবগত পার্থক্য থাকলেও তাঁদের মূলচেতনা মানবকল্যাণে আবদ্ধ। 'বিদ্রোহী' কবিতার কবি মানবসমাজে শান্তি ও স্থিতি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যাশী। এজন্য তিনি শোষক, অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে কেঠার হস্ত। উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল বন্ধ করতে তিনি অনমনীয় ও বিদ্রোহী। শোষককে শাস্তি দিয়ে তিনি মানবসমাজে দুর্বলের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। উদ্দীপকের হযরত মুহম্মদ (স.) বিশ্ব মানবতার এক অতুলনীয় আদর্শ। তাঁর স্বভাব ছিল উদারতা ও মহানুভবতায় পরিপূর্ণ। শত্রুর প্রতিও তিনি ছিলেন দয়ার্দ্র। পদে পদে যারা তাকে অপমান, লাঞ্ছনা, অত্যাচার, নির্যাতন করেছিল বিজয়ী হয়ে তাদের প্রতি তিনি ক্ষমার অমিয় বাণী উচ্চারণ করেন। কতটা মহত্তম হলে এমন ঘোষণা দিতে পারেন তা অভাবনীয়। মানবসমাজে জিঘাংসা দূর করে পরমতসহিষ্ণুতা প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর মূল চেতনা।
'বিদ্রোহী' কবিতার কবি স্বভাবে তীব্র ও বিক্ষুব্ধ
ছিলেন। মানুষের দুঃখ- কষ্ট তাঁকে পীড়া দিত। উৎপীড়িত যন্ত্রণা তিনি সহ্য করতে
পারতেন না। মানুষের দুর্দশা লাঘবে তিনি কেঠার থেকে কেঠারতর ছিলেন। ভারতীয়
ঔপনিবেশিক শাসকের শোষণে তৎকালীন সমাজে মানবতা ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল। দুর্বলের ওপর শাসক
শ্রেণির অবর্ণনীয় নিষ্পেষণে মানুষের জীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছিল। অধিকার বঞ্চিত
মানুষের অধিকার শোষক ও নির্যাতনকারীদের নির্মূল করেই সমাজে স্থিতি ফেরাতে
সৃজনশীল প্রশ্ন ৬
৬. "মুক্তি আলোকে ঝলমল করে আঁধারের যবনিকা
দু'শ বছরের নিঠুর শাসনে গড়া যে পাষাণবেদি
নতুন প্রাণের অঙ্কুর জাগে তারই অন্তর ভেদী।
নব ইতিহাস রচিব আমরা মুছি কলঙ্ক লেখা।"
ক. 'বিদ্রোহী' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত
হয়েছে?
খ. কবি নিজেকে 'অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল' বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকে 'বিদ্রোহী' কবিতার যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে, তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশটি 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলভাবকে কতটুকু প্রতিফলিত করতে পেরেছে? যৌক্তিক বিশ্লেষণ করো।
৬ নং প্রশ্নের উত্তর
ক.'বিদ্রোহী' কবিতাটি 'অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
খ.নিয়ম-শৃঙ্খলার বেড়াজালে আবদ্ধ থেকে অন্যায়, অত্যাচার ও
অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয় বলে কবি নিজেকে 'অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল' অভিহিত করে শৃঙ্খল ভাঙার বার্তা
দিয়েছেন।
পরাধীন ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের জাঁতাকলে মানুষকে নিষ্পেষিত হতে দেখে কবির হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। তিনি দেখেছেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলেই আইন ও বাধ্যবাধকতার বেড়াজালে মানুষকে নাকাল হতে হয়। সংগত কারণেই তিনি আইনের এই বেড়াজাল ভেঙে বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন। শুধু তাই নয়, এ লক্ষ্য সামনে রেখেই তিনি অনিয়ম দিয়ে প্রচলিত নিয়মকে এবং উচ্ছৃঙ্খলতা দিয়ে শৃঙ্খলিত ও প্রথাবদ্ধ জীবনব্যবস্থাকে ভাঙতে চেয়েছেন। এজন্যই কবি নিজেকে 'অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল' বলে অভিহিত করেছেন।
গ. উদ্দীপকে 'বিদ্রোহী' কবিতায় উঠে আসা ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুনের সূচনার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
'বিদ্রোহী' কবিতায় নিরন্তর বিদ্রোহের বাণী উচ্চারিত
হলেও তা লক্ষ্যহীন নয়। কবি জন্মজন্মান্তরে শুধু বিদ্রোহই করে যাবেন, বিষয়টি এমন নয়; বরং তাঁর ঈজ্জিত শোষণ ও বঞ্চনাহীন
সমাজ বিনির্মাণের মধ্য দিয়ে এ বিদ্রোহেরও অবসান ঘটবে। এছাড়াও তিনি বিদ্রোহ করতে
গিয়ে বারবার ধ্বংসকামী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন, নিজেকে নানা
বিধ্বংসী রূপে কল্পনা করেছেন। তবে তাঁর এই বিধ্বংসী রূপ সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার
লক্ষ্যেই চালিত।
উদ্দীপকের কবিতাংশে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসন-শোষণের অবসান কামনা করা হয়েছে। কবি মনে করেন, সেদিন হয়তো খুব দূরে নয়, যখন এ অন্ধকার যুগের পরিসমাপ্তির মধ্য দিয়ে আলো ঝলমলে নতুন দিনের সূচনা হবে। জাতীয় জীবনের কলঙ্করেখা মুছে গিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে সেদিন, সূচনা হবে সোনালি ভবিষ্যতের। আলোচ্য 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও কবি এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। কবি সেখানে অত্যাচারী ব্রিটিশ রাজশক্তিসহ সকল অপশক্তির ধ্বংস কামনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি স্বপ্ন দেখেছেন শোষণ-বঞ্চনাহীন এক নতুন পথিবীর। সকল অশুভকে মুছে দিয়ে সেই নতুন দিনের প্রত্যাশাতেই নিরন্তর দ্রঃংগ্রাম-বিদ্রোহ। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কবিতায় উঠে আসা ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন দিনের সূচনার
দিকটিই ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশটি 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলভাবকে আংশিক প্রতিফলিত করতে পেরেছে। 'বিদ্রোহী' কবিতায় অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে কবির দ্রোহের স্বরূপ ফুটে উঠেছে। এ কবিতায় পরাধীন ভারতবর্ষের সমস্যাসংকুল আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশে বিপর্যন্ত জাতির মুখপাত্র হিসেবে কবি নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাই কবিকে এমন অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। সর্বোপরি, কবিতাটিতে তিনি অপশক্তির কুপ্রভাব দূর করে একটি বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছেন।
উদ্দীপকে দুইশ বছরের ব্রিটিশ শাসন-শোষণের অন্ধকার অধ্যায়কে পেছনে ফেলে সামনে
এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেওয়া হয়েছে। মুক্তির আলোকে জাতীয় জীবন ঝলমলে হয়ে ওঠার
প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে সেখানে। কবির বিশ্বাস, ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের পাষাণবেদি একদিন ধ্বংস হবেই, সূচনা হবে নতুন দিনের। একইভাবে, 'বিদ্রোহী' কবিতার কবিও অপশাসন ও সামাজিক অচলায়তনের বিরুদ্ধে দ্রোহ করেছেন। তবে কবির
ধ্বংসকামী বিদ্রোহী রূপটি শোষণ-নির্যাতনবিহীন এক নতুন পৃথিবী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই
চালিত।
'বিদ্রোহী' কবিতা ও আলোচ্য উদ্দীপক উভয়ক্ষেত্রেই
অপশক্তির ধ্বংস কামনা করা হয়েছে। তবে এই ধ্বংসের মূল উদ্দেশ্য বৈষম্যহীন সমাজ
প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হওয়া। তবে এটিই আলোচ্য
কবিতার একমাত্র বিষয় নয়। কেননা, এ বিষয়টি ছাড়াও সেখানে
কবির দ্রোহের স্বরূপ এবং এর অন্তর্গত প্রেরণা হিসেবে মানবতাবোধকে চিহ্নিত করা
হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশে এ সকল বিষয়ের উল্লেখ নেই। তাছাড়া কবিতাটির বিস্তৃত
পরিসরে উঠে আসা নানা চিত্রকল্প এবং পৌরাণিক অনুষঙ্গের যে ব্যবহার আমরা দেখতে পাই, উদ্দীপকের কবিতাংশে তা অনুপস্থিত। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার আংশিক
ভাবকে প্রতিফলিত করে।
৭. তুমিই আমার মাঝে আসি
অসিতে মোর বাজাও বাঁশি,
আমার পূজার যা আয়োজন
তোমার প্রাণের হবি।'
ক. অর্ফিয়াসের পিতা এ্যাপোলো ছাড়া অন্য কে হতে পারে বলে মত পাওয়া যায়?
খ. 'আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সূত বিশ্ব-বিধাতৃর'- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ফুটে ওঠা বিদ্রোহের বীজ 'বিদ্রোহী' কবিতার সাথে কীভাবে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. 'প্রেম ও দ্রোহের সমন্বয় উদ্দীপক ও 'বিদ্রোহী' কবিতায় সমান্তরালরূপে প্রকাশিত হয়েছে' বিশ্লেষণ করো।
-