উন্নতির পথে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। নিজের উন্নয়নে মনোযোগী হলে ভবিষ্যতে ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবনে ইতিবাচক ফলাফল লাভ করা যায়। অনেকেই আছেন দীর্ঘদিন একই অবস্থানে ঘোর পাক খাচ্ছেন । অনেকে দ্রুত সময়ে ক্যারিয়ারের উন্নতি করতে পারেন। কারণ তারা জানেন, প্রতিযোগিতা সব সময়ই থাকে। নিজেকে এগিয়ে নিতে হলে একটু বেশি কিছু অর্জন করতে হয় । তাই বুদ্ধিমানরা সফল হওয়ার জন্য আগে থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং একটি সুন্দর ক্যারিয়ার নিয়ে জীবনে সফলতা লাভ করেন।
Career Planning
ক্যারিয়ারের সঠিক পথ ০১: ক্যারিয়ার প্ল্যানিং সবথেকে জরুরী
ক্যারিয়ারের সঠিক পথ ০২: ক্যারিয়ার প্ল্যানিং করবো কীভাবে?
কত জরুরী ক্যারিয়ার প্ল্যানিং তার ধারণা আমরা পেলাম। এখন প্রশ্নটি হলো- “ক্যারিয়ার প্ল্যানিং কিভাবে করবো ?” তাইতো । নিচের বিষয়গুলো ধরে এগিয়ে গেলে ভালো একটি ক্যারিয়ার প্ল্যান করা সম্ভব হবে বলে মনে করি।
SWOT Analysis এর মাধ্যমে নিজের সম্পর্কে জানুন:
S- Strength
W- Weakness
O- Opportunities
T- Threats
- Strength- এর সাথে আসে Opportunity। নিজের অবস্থা বিশ্লেষণ করে বুঝে নিন, আপনার Strength কোথায়। সেই জায়গায় Opportunities কী কী, সেগুলো বিবেচনা করে দেখুন।
- Weakness- এর সাথে আসে Threat। নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে ক্যারিয়ার গড়লেও কিছু ক্ষেত্রে তো বিড়ম্বনার সৃষ্টি হবেই। সেগুলোও বিবেচনা করে দেখুন এবং সমাধানের পথ খুঁজে রাখুন ।
- Strength- এর সাথে আসে Opportunity। নিজের অবস্থা বিশ্লেষণ করে বুঝে নিন, আপনার Strength কোথায়। সেই জায়গায় Opportunities কী কী, সেগুলো বিবেচনা করে দেখুন।
- Weakness- এর সাথে আসে Threat। নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে ক্যারিয়ার গড়লেও কিছু ক্ষেত্রে তো বিড়ম্বনার সৃষ্টি হবেই। সেগুলোও বিবেচনা করে দেখুন এবং সমাধানের পথ খুঁজে রাখুন ।
ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট শিখে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ কেমন?
সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং সঠিক ক্যারিয়ার প্ল্যানিং আপনাকে কখনোই হতাশার দিকে ঠেলে দিবে না বরং আপনি জানবেন আপনি কোথায় যাচ্ছেন, কিভাবে আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছে হবেন একজন সত্যিকারের সফল মানুষ । তাই ক্যারিয়ার প্ল্যানিং আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করবে।
প্ল্যানিং শুরু করো মাধ্যমিক থেকেই
ক্যারিয়ার প্ল্যানিং শুরু করা উচিত মাধ্যমিক বা তারও আগে থেকে। নিদ্রিষ্ট্য একটি কাজের প্রতি লক্ষ্য স্থির করা । যে কাজ করতে হবে, সেসব কাজে আগ্রহ আছে কিনা, কাজগুলো পছন্দ কিনা। তখন থেকেই রিসার্চ করা উচিত কোন ফিল্ডের ডিমান্ড ৪-৫ বছর পর অনেক ভাল থাকবে । এর মধ্যে নিজের পছন্দের কোন ফিল্ড আছে কিনা । এখানে যে সব কাজ করতে হবে, সেসবের প্রতি আগ্রহ আছে কিনা, কাজগুলো পছন্দ কিনা। তারপর ভাবতে হবে সে কাজ করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় কিছু শেখানো হচ্ছে কিনা। কাজ করতে হলে কী কী শেখা দরকার তা শিখতে হবে।
আয়ের দিকটাও মাথায় রাখা জরুরি
ক্যারিয়ার শব্দটি সামনে আসলেই আমরা অর্থ উপার্জনের মাধ্যমকে বুঝি। অনেকের এক মাত্র ভিশন লেখাপড়া শেষ করে একটা ভাল বেতনের চাকরি পেতে হবে । যদিও ক্যারিয়ার নির্বাচনে সবচেয়ে জরুরি বিষয় এটি নয়, তবে দায়বদ্ধতার কারণে এটা আগে ভাবতে হয়। যে ফিল্ডগুলোর ডিমান্ড ৪-৫ বছর পরেও বাড়বে, সেগুলোর দিকে নজর দেয়া উচিত হবে। এটা জানার জন্য ইন্টারনেট ঘেঁটে বিভিন্ন খবর, প্রতিবেদন পড়তে হবে। বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণগুলো খুঁজে পড়তে হবে।
সিদ্ধান্ত নেবার আগে সময় নাও
তোমার ভালো লাগাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দাও। কোন কাজ করে বা বিষয় পড়ে তুমি আনন্দ পাও সেটা আবিষ্কার করে সেই দিকে মনোযোগী হও। তোমার মন যেদিকে চায় , সেদিকেই তোমার গন্তব্য হলে কাজে আগ্রহ থাকবে । লক্ষ্য নির্বাচনের আগে প্রয়োজনে সময় নিয়ে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নাও। লক্ষ্যে অবিচল থাকার জন্য, ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়াটা ভালো। সিদ্ধান্ত নেবার পর সিদ্ধান্তে দ্বিধা দ্বন্দ্ব ঢুকে গেলে, এই দ্বিধাই আরও ভুল সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যাবে।
ক্যারিয়ারের সঠিক পথ০৩: নিজের ইচ্ছা বনাম মা-বাবার স্বপ্ন
বাংলাদেশে শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের ইচ্ছা মূখ্য হয়ে থাকে। শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের ইচ্ছা বাংলাদেশে নতুন কোন চিত্র নয়। তবে এখন চিত্র কিছুটা পাল্টেছে। অনেক অভিভাবক এখন সন্তানের ক্যারিয়ারের পছন্দে সমর্থন দিচ্ছেন।
বাবা-মায়ের মতামতকে বিবেচনা করে নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে দেখো। যেহেতু জীবন ও জগত নিয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা বেশি, তাই তাঁদের মতামতকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করো। সবসময় মনে রাখবে, তাঁরা কখনোই তোমার খারাপ চান না। তাঁদের স্বপ্নগুলোকে পূরণ করার চেষ্টা করতেই পারো। তবে, অবশ্যই নিজের মনের বিরুদ্ধে গিয়ে না। নিজের মনের বিরুদ্ধে কাজ করে তুমি কোনদিনই সফলতা অর্জন করতে পারবে না। তোমার ভালো লাগা-খারাপ লাগার কথা জানাও। তোমার পছন্দের বিষয় এবং পছন্দের ক্যারিয়ার কি- এটা নিয়েও আলাপ করো। ইতিবাচক দিক গুলো গল্পচ্ছলে তুলে ধরো।দুজনের সাথে সম্ভব না হলে, অন্তত একজনের সাথে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারো যিনি তোমাকে বুঝতে পারবেন। লক্ষ্যের দিকে মসৃণ ভাবে এগিয়ে যেতে এটি তোমাকে করতেই হবে। বাবা মায়ের দুজনকে নিরাশ করে ক্যারিয়ার নিয়ে শান্তিতে এগোতে পারবেনা। তাই চেষ্টা করো তাদের মধ্যে অন্তত একজনকে বন্ধু বানাতে। সবকিছু শেয়ার করো। মাঝেমধ্যে একসাথে খেতে যাও, ঘুরতে যাও। আনন্দের মূহুর্ত গুলোতেই নিজেকে তাদের সামনে প্রকাশ করো।
ক্যারিয়ারের সঠিক পথ০৪: চাকুরি আর ক্যারিয়ার কিন্তু এক না!
চাকুরি আর ক্যারিয়ার এক জিনিস না। অল্প কিছু মানুষ ছাড়া আমাদের অধিকাংশের ক্যারিয়ার প্ল্যানেই চাকুরি থাকে। সব বাবা মায়ের প্রথম চাওয়া থাকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার । কিন্তু এসব ছাড়াও অনেক ক্যারিয়ার পথ আছে, যাতে অনেকেই সফল হচ্ছে। যেমন ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং, মেক-আপ আর্টিস্ট, স্টাইলিস্ট, কর্পোরেট ট্রেইনার, ফ্যাশন ডিজাইনিং, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ফিল্ম মেকিং, ব্লগিং ইত্যাদি। এসব বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার খুব একটা সুযোগ বাংলাদেশে নেই, তবে এসব বিষয়ে তাত্ত্বিক শিক্ষার চেয়েও ব্যবহারিক বা প্র্যাকটিকালি শেখার প্রয়োজন খুব বেশি হয়। এগুলো বাংলাদেশে খুব জনপ্রিয় পেশা হয়ে উঠছে দিন দিন।ক্যারিয়ার কি জিজ্ঞেস করলেই দশ জনের আট জন হয়তো বলবে চাকুরী। কিন্তু চাকুরী আর ক্যারিয়ার মোটেই এক জিনিস না। শিক্ষাজীবনে আমাদেরকে খুব কমই জানানো হয় যে ক্যারিয়ার শিক্ষা মাত্রই চাকরি খোঁজা নয়। উদ্যোক্তা হওয়া, স্বাধীন-কন্সাল্টেন্ট হওয়া এরকম আরও অনেক ক্যারিয়ার পথ আছে।
ক্যারিয়ারের সঠিক পথ ০৫: চাকুরির আগেই ক্যারিয়ার এর অভিজ্ঞতা থাক জরুরী।
চাকরির আগেই সংশ্লিষ্ট ক্যারিয়ার শিক্ষা খুব জরুরি। এই অভিজ্ঞা অর্জনের সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। এতে এক সাথে দু’টো কাজ হয়, তোমার নির্বাচিত ক্যারিয়ার পথটি আসলেই তোমার জন্য কিনা তা বুঝতে পারবে আবার চাকুরী জন্য প্রোফাইলও ভারী হবে।
ধরো তুমি ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিজেকে গড়তে চাও। তাহলে পড়াশোনা চলাকালীন কোন ইলেক্ট্রনিক কোম্পানিতে ইর্ন্টারশিপ করার চেষ্টা করো। অথবা ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন কম্পিটিশন যেখানে ইলেক্ট্রনিক্স নিয়ে কাজ করতে হয়, সেখানে অংশগ্রহণ করো। আবার ধরো তুমি ম্যানেজমেন্টে ক্যারিয়ার গড়বে। তাহলে ইউনিভার্সিটি ক্লাব বা কোন সংগঠনে ম্যানেজমেন্টের কাজ করতে হয় এমন পদে যুক্ত হও। এখানে কাজ করেই বুঝে ফেলতে পারবে তুমি এ কাজে আনন্দ পাচ্ছো কিনা, নাকি পরিবর্তনের সময় এখনই!
ক্যারিয়ার অথবা চাকুরীর জন্য নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই প্রস্তুত করার কয়েকটি উপায় তুলে ধরছি।
পার্ট টাইম কাজ করা:
যে কোন পণ্য এক জায়গা থেকে কিনে আরেকজনের কাছে বিক্রি করার কৌশল, কথা বলার কৌশল, টাকা উপার্জনের কৌশল ছাত্রজীবন থেকে জানা থাকলে কর্ম জীবনটা এমনিতেই সোজা হয়ে যাবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকে পার্ট টাইম কাজ করো। যে দিন থেকে কাজে লেগে পড়বে, মনে রাখবে ওই দিন থেকেই ক্যারিয়ার শুরু। এটা আজীবন তোমার মোট অভিজ্ঞতাকে বাড়িয়ে রাখবে।
গ্রাজুয়েশনের আগে এক্সপেরিয়েন্স খুব জরুরী। প্রতি সেমিস্টার শেষ হলে একটা প্রতিষ্ঠানে কাজে লেগে পড়ো। কপি পেস্ট রিপোর্ট দিয়ে ইন্টার্ন না, কমপক্ষে ৫-৭ টা কোম্পানিতে কাজ করো বন্ধগুলোতে।
প্রথমে কাজ শিখতে কাজ করো, টাকা উপার্জনের জন্য নয় :
মানুষকে মূল্যায়ন করা হয় কেবলই তার কাজ দিয়ে। ক্যারিয়ার কি শুধু টাকার জন্য? উত্তর হ্যাঁ অথবা না দুটোই হতে পারে। তবে ক্যারিয়ারের শুরুতেই টাকার কথা মাথায় না এনে কাজ করতে হবে। প্রথমেই টাকার কথা মাথায় না এনে কাজ করে দেখাও। কোন একদিন কেউ হয়তো তোমার কাজে খুশি হয়ে প্রথমে ৫০০০ টাকা দিবে। তখন থেকে শুরু হবে তোমার অর্জন। পরের যে কোন কাজে বলতে পারবে, আগে যার ওখানে কাজ করেছো, তিনি ৫০০০ টাকা দিয়েছেন। সে দেবে ৬০০০ টাকা। এভাবেই দাম বাড়ে। যে কাজই করবে – পরিশ্রম করবে, সততার ভালোবেসে করবে, আর টাকার কথা মাথায় না এনে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে করবে, তাহলেই ভালো ফল পাবে।- The 7 Habits of Highly Effective People- Stephen R. Covey
- Rich Dad Poor Dad- Robert Kiyosaki and Sharon Lechter
- The Leader Who Had No Title- Robin Sharma
- The Monk Who Sold His Ferrari- Robin Sharma
- Eat That Frog- Brian Tracy
- Man’s Search for Meaning- Victor Frankl
ক্যারিয়ারের সঠিক পথ ৬. পছন্দের ক্যারিয়ার নিয়ে পড়াশোনা করো:
যারা স্টুডেন্ট লাইফে জব করে বিজনেসের লাইন ঘাট বের করে ফেলতে পারে, তাদের গ্রাজুয়েশন শেষ করে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় না। ট্রেনিং করা ও বই পড়াকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলো। এই খাতে বিনিয়োগ যতো বাড়াবে, ততো জীবন সহজ হয়ে যাবে।
প্রশ্ন আসতে পারে, কী কী নিয়ে পড়াশোনা করবো ? কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট বিষয় যেমন এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট, ইংরেজি বলতে ও লিখতে পারার দক্ষতা এগুলো অবশ্যই থাকতে হবে। সাথে সাথে যে ফিল্ডে কাজ করতে চাও তার সাথে সম্পৃক্ত প্রশিক্ষণ করে নিজেকে এগিয়ে রাখতে পারো। আর, প্রচুর বই পড়ার অভ্যাস করো। যে কোন বই পড়ো, পড়তে তোমাকে হবেই- এই কথা মাথায় রেখে এগুতে হবে।
অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট জব মার্কেটে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে
ক্যারিয়ার গঠনে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে ক্যারিয়ার শিক্ষা নিয়ে লেখা বিশ্বের সেরা কিছু বই। নিচে কয়েকটি বইয়ের তালিকা দিচ্ছি। এই বইগুলো আপনাকে ‘ক্যারিয়ার কি’ থেকে শুরু করে, ক্যারিয়ার প্ল্যানিং এর আদ্যোপান্ত বুঝিয়ে দিবে। এমনকি আপনার পছন্দের ক্যারিয়ার নির্ধারণ করতেও সাহায্য করবে।


