১০. রবিন ও আবিদ
মালয়েশিয়ায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। দুজনে একই রুমে থাকে। একদিন আবিদ বলে, পড়া শেষে দেশে
ফিরে গিয়ে সে হালাল পণ্যের ব্যবসায় করবে। রবিন তখন জানায়, তার যোগ্যতা
অনুযায়ী রাষ্ট্রই তাকে কাজ দেবে।
ক, ভূস্বামী কাকে
বলে?
খ.
'শ্রমিক শোষণ
ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের আবিদের
দেশে কোন অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? মূল্যায়ন কর।
ঘ. রবিনের দেশের
অর্থব্যবস্থার স্বরূপ বিশ্লেষণ কর।
ক. অনেক জমির
মালিককে ভূস্বামী বলে ।
খ. ধনতান্ত্রিক
অর্থব্যবস্থার সাথে শ্রমিক শোষণের বিষয়টি সম্পর্কিত।
এই
অর্থব্যবস্থায় সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য থাকে বিধায় উদ্যোক্তা বা
পুঁজিপতিরা দ্রব্যের উৎপাদন ব্যয় কম রাখার জন্য শ্রমিককে তার ন্যায্য মজুরির
চেয়ে কম মজুরি প্রদান করে। এই উদ্বৃত্ত মজুরি পুঁজিপতি ও উদ্যোক্তার কাছে মুনাফা
হিসেবে সঞ্চিত থাকে। এভাবে উৎপাদিত সম্পদ বণ্টনে অসমতা ও বৈষম সৃষ্টির ফলে শ্রমিক
শোষণ হয়
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আবিদের দেশে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান কুরআন ও হাদিস ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূলভিত্তি। যে অর্থব্যবস্থা ইসলামের নিয়মনীতির আলোকে পরিচালিত হয় তাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলে। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় মানুষের জীবনের সামগ্রিক বিষয় আলোচনা করা হয়। আল্লাহপাক মানুষ সৃষ্টি করে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র, দ্রব্যসামগ্রী নিয়ামত হিসেবে প্রদান করেছেন। মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত এসব বস্তুসামগ্রী ও পরিবেশ-প্রকৃতি ব্যবহার করে ইসলামি শরিয়তের আলোকে অধিকতর সম্পদ সৃষ্টি ও ভোগ করবে- এটাই ইসলামের বিধান এবং ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূলকথা। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সম্পদের ব্যক্তিমালিকানা স্বীকৃত হলেও যাকাতভিত্তিক হওয়ায় শেষ ণিবৈষম্য ও শ্রমিক শোষণের সুযোগ থাকে না। এছাড়া ইসলামি অর্থব্যবস্থায় উৎপাদন, বণ্টন, বিনিময় ও ভোগের ক্ষেত্রে হালালকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। যেকোনো হারাম দ্রব্যসামগ্রী পরিহার করার নির্দেশ ইসলামে দেওয়া হয়েছে। এই অর্থব্যবস্থা সুদ ও ঘুষের লেনদেনকে হারাম ঘোষণা করেছে। তবে সুদমুক্ত আমানত রাখা ও ঋণ গ্রহণ করার ব্যবস্থাও আছে। উৎপাদক ও ব্যবসায়ী এই ঋণ গ্রহণ করতে পারেন এবং ব্যবসায় থেকে প্রাপ্ত লাভ ঋণদানকারী ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে লভ্যাংশ হিসেবে পরিশোধ করতে পারেন । আর এই সার্বিক অংশটাই ইসলামিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে প্রতিনিধিত্ব করে।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রবিনের
দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
যে
অর্থব্যবস্থায় সম্পদ ও উৎপাদনের উপাদানসমূহের উপর সরকারি মালিকানা বজায় থাকে বা
কোনো ব্যক্তিমালিকানার অস্তিত্ব থাকে না, তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। এ
অর্থব্যবস্থায় উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন ও ভোগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রাধান্য
লক্ষ করা যায়। ফলে বৈষম্য বা শোষণের অবকাশ থাকে না। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায়
ব্যক্তিমালিকানা অনুপস্থিত থাকায় কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রভাবে বৈষম্যের সুযোগ
নেই। ফলে উৎপাদনের উপকরণসমূহের মধ্যে লভ্যাংশের সুষম বন্টন করা হয়। রাষ্ট্রের
অভ্যন্তরে প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও জীবিকার দায়িত্ব রাষ্ট্র নিয়ে থাকে। যোগ্যতা
ও সামর্থ্য অনুযায়ী রাষ্ট্র কাজের ব্যবস্থা করে দেয়। সেই কাজের বিনিময়ে সে তার
প্রাপ্য মজুরি পেয়ে থাকে। তবে মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রে কোনোরূপ বৈষম্য বিরাজ করে
না। উৎপাদনের ক্ষেত্রে যার অবদান যতটুকু তাকে ততটুকু মজুরিই প্রদান করা হয়ে থাকে।
এর ফলে আয় বৈষম্যের অনুপস্থিতি লক্ষ করা যায় এবং অর্জিত সম্পদের সুষম বণ্টন হয়।
এই অর্থব্যবস্থায় জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সকল
অর্থনৈতিক কার্যক্রম একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার আওতায় রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত
হয়। ফলে সম্পদের অপচয়ও কম হয় এবং মোট জাতীয় উৎপাদনও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে
সম্পদের সুষম বণ্টন হয়। এভাবেই সমাজতান্ত্রিক অর্থব বস্থায় উৎপাদনকারী, ভোক্তা বা কোনো
ব্যক্তিবিশেষ স্বেচ্ছাচারিতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে না।
১১ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
