দৃশ্যপট-১ : কলেজ
ছুটির পর বাসে উঠছিল কিছু শিক্ষার্থী। হঠাৎ অন্যদিক থেকে বেপরোয়া গতির আরেকটি বাস
তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়। অকালে ঝরে পড়ল কিছু তাজা প্রাণ।
গ. দৃশ্যপট-২ : ঘরের
কাজে ব্যস্ত নিলুফা কখনই খেয়াল করে না তার পনেরো বছর বয়সী ছেলে 'আদিল' কোথায় যায় কার
সাথে মিশে। একদিন সে
জড়িয়ে পড়ে ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের সাথে।
ক. বাংলাদেশে
শিশুশ্রমের প্রধান কারণ কী?
খ.'জঙ্গিবাদ' বলতে কী বোঝায়?
গ. দৃশ্যপট-১ যে
সামাজিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয় তার প্রভাব বর্ণনা কর।
ঘ. দৃশ্যপট-২ এ 'আদিল' সংশ্লিষ্ট সমস্যা
সমাধানে বাবা-মায়ের সচেতনতাই একমাত্র উপায় তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? তোমার মতামত তুলে
ধর।
১১ নম্বর সৃজনশীল
প্রশ্নের উত্তর
ক. বাংলাদেশে
শিশুশ্রমের প্রধান কারণ হলো- অর্থনৈতিক দুরাবস্থা।
খ. যারা নিজেদের
উদ্দেশ্য পূরণ বা কোনো রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠায় চরম ও হিংসাত্মক পন্থার আশ্রয়
নেয় বা আক্রমণাত্মক উপায়ে রাষ্ট্র বা সমাজ অননুমোদিত কোনো সংস্কারের সমর্থনে
সমবেতভাবে কাজ করে তাদেরকে জঙ্গি বলে। আর এসব জঙ্গিদের দ্বারা রচিত এবং প্রচারকৃত
ধ্যানধারণাকেই বলে জঙ্গিবাদ। বিশ্বের যেকোনো গোষ্ঠীর চেতনা থেকে জঙ্গিবাদ জন্ম
নিতে পারে। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আলোচিত সামাজিক এক দুর্যোগের নাম জঙ্গিবাদ ।
গ. উদ্দীপকের
দৃশ্যপট-১ যে সামাজিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয় তা হলো সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনার
প্রভাব পারিবারিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক জীবনে খুবই মারাত্মক, যা বহু সমস্যার
জন্ম দেয়। সড়ক দুর্ঘটনা একটি পরিবারের সারা জীবনের কান্না। বিশ্বের অন্যান্য
দেশের মতো বাংলাদেশেও সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান শিকার পথচারী। তবে পরিতাপের বিষয় হলো
নিহতের সংখ্যার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পথচারী শিশু ও পরিবারের উপার্জনক্ষম
ব্যক্তি। হাইওয়ে পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়
দুর্ঘটনায় পতিত বান্ধিদের ২৪% লোকের বয়স ১৫ বছরের নিচে এবং ৩৯% লোকের বয়স ১৬-৫০
বছরের মধ্যে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণা
ফলাফলে দেখা যায় যে, বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান শিকার হচ্ছে
উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দুর্ঘটনার শিকার হলে
পরিবারটি প্রথমে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনায় পণ্ডিত
ব্যক্তি শারীরিকভাবে পঙ্গু হলে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে যা তার ব্যক্তি জীবনকে
ভারসাম্যহীন করে তোলে। মানসিক ভারসাম্যহীনতা ব্যক্তি জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত
করে। এ সমস্যা কেনো কোনো ক্ষেত্রে আত্মহত্যায় রূপ নেয়। আবার দেখা যায় পঙ্গু
ব্যক্তিটি ভিক্ষাবৃত্তির মত পেশা গ্রহণ করে।
উপরিউক্ত আলোচনা
থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সড়ক দুর্ঘটনা কেবলমাত্র ব্যক্তি কিংবা
পারিবারিক জীবনেই প্রভাব ফেলে না বরং আর্থসামাজিক ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
ঘ. , উদ্দীপকে
দৃশ্যপট-২ এ আদিল সংশ্লিষ্ট সমস্যাটি হলো কিশোর অপরাধ। এ সমস্যা সমাধানে
বাবা-মায়ের সচেতনতাই একমাত্র উপায় নয় বলে আমি মনে করি।
কিশোর অপরাধ
প্রতিটি সমাজের জন্য একটি উদ্বেগজনক সামাজিক সমস্যা। উদ্দীপকে উল্লিখিত দৃশ্যপট-২
এ আদিল ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে যা তার মা নিলুফা কখনোই খেয়াল
করে না। তিনি ঘরের কাজেই ব্যস্ত থাকেন। তার এ উদাসিনতা আদিলের কিশোর অপরাধী হওয়ার
জন্য দায়ী। সামাজিক সুষ্ঠ পরিবেশ ও মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হয়ে শিশু কিশোররা
অপরাধী হয়ে ওঠে। শিশুরা জাতির মূল্যবান সম্পদ। তাদের উন্নয়নের জন্য এবং সমসুযোগ
সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে তারা শারীরিক ও
মানসিকভাবে সুস্থ্য থাকে। বঞ্চিত ও অবহেলিত শিশুরা খুব সহজেই অপরাধ জগতে জড়িয়ে
পড়ে। উদ্দীপক অনুযায়ী আদিলের সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য মা-বাবার সচেতনতার
পাশাপাশি গঠনমূলক পারিবারিক পরিবেশ সৃষ্টি, বিদ্যালয়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, চিত্তবিনোদনমূলক
কার্যক্রম, অপসংস্কৃতিরোধ প্রভৃতি পদক্ষেপের মাধ্যমে কিশোর অপরাধ মোকাবিলা করা যেতে পারে।
কেননা একটা ছেল শুধু পরিবারের পিতা মাতার কাছেই থাকে না বরং সে স্কুল ও খেলার
সাথীদের সাথে সময় অতিবাহিত করে। এমনকি বাড়িতে থাকা অবস্থায়ও টেলিভিশন ও
ইন্টারনেট ব্যবহার করার মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে শেখে। এজন্য
উদ্দীপকের আদিল সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে শুধু বাবা মায়ের সচেতনতাই একমাত্র উপায়
নয়। এছাড়াও উপরে বর্ণিত উপায়গুলো দ্বারা আদিল সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান করা
যেতে পারে। তবে পিতা-মাতার সচেতনতাও সমস্যা সমাধানে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের আদিল সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে পিতা
মাতার সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও একমাত্র উপায় নয় ।
