এসএসসি বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়


 


বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বারোপের পাশাপাশি, জাতিসংঘ নারী সমাজের উন্নয়নে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছে। তাদেরকে বৈষম্য থেকে রক্ষা করা ও সচেতন করার জন্য জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণা করে। তখন থেকেই এটি নারীদের জন্য বিভিন্ন আইন ও সম্মেলন করে চলেছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের নীতিসমূহ বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা সুবিধা পেয়ে আসছে।

ক. কখন থেকে CEDAW সনদ কার্যকর করা হয়?

খ. জাতিসংঘের উদ্দেশ্য সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা দাও।

গ. অনুচ্ছেদে উল্লিখিত সম্প্রদায়ের অগ্রগতিতে জাতিসংঘের ভূমিকা আলোচনা কর।

. উপরের অনুচ্ছেদের শেষ বক্তব্যটি মূল্যায়ন কর ।

৭ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. ১৯৮১ সাল থেকে CEDAW সনদ কার্যকর করা হয়।

খ. জাতিসংঘ সনদে সুস্পষ্টভাবে বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতা বিধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘের উদ্দেশ্য লিপিবদ্ধ আছে। উদ্দেশ্যসমূহ হলো-

১. বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২. বিভিন্ন জাতির মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব জোরদার করা। ৩. অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সকল জাতির মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তোলা। ৪. সকলের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা। ৫. আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করা। ৬. প্রত্যেক জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের স্বীকৃতি। ৭. উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নের জন্য জাতিসংঘের কার্যধারা অনুসরণ করা। অনুচ্ছেদে উল্লিখিত নারী সম্প্রদায়ের অগ্রগতিতে জাতিসংঘের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

গ. জাতিসংঘ একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠাসহ নারী ও শিশুর অবস্থার উন্নয়নে জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। উদ্দীপকে আমরা নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণে জাতিসংঘের ভূমিকা লক্ষ করি। নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে এবং নারীর অধিকার সংরক্ষণের জন্য জাতিসংঘ তার সৃষ্টিলগ্ন থেকেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সনদ ও আইন প্রণয়ন করে। ১৯৪৮ সালে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র ছাড়াও জাতিসংঘ নারী উন্নয়নে নানা ধরনের কাজ করে। যেমন- মানবপাচার দমন ও পতিতাবৃত্তি অবসানের জন্য জাতিসংঘ সনদ অনুমোদন, নারীর রাজনৈতিক অধিকার, কর্মসংস্থান ও পেশাক্ষেত্রে বৈষম্য বিলোপ, নারী বছর ও দশক ঘোষণা, নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ সিডও কার্যকরসহ নানাভাবে নারীদের সার্বিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখছে। এভাবে নারীদের কল্যাণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রটোকল, সেমিনার, কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নেও জাতিসংঘ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। পরিশেষে বলতে পারি, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের ভূমিকা অপরিসীম।

ঘ. হ্যাঁ, আমিও মনে করি, জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা সুবিধা পেয়ে আসছে। বাংলাদেশে জাতিসংঘের সবকটি অঙ্গ সংস্থার মিশন আছে। জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য বাংলাদেশ সবসময়ই এর বিশেষ নজর পেয়ে থাকে। জাতিসংঘের সবকটি অঙ্গ সংস্থা শুরু থেকেই বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে। উদ্দীপকে জাতিসংঘের ভূমিকার দিকটি উপস্থাপিত হয়েছে। বিবাদের শান্তিপূর্ণ মীমাংসায় জাতিসংঘ ঘোষিত নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন বিষয়ক দীর্ঘকালের সমস্যা নিরসনে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সংঘাতময় পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধানে সফল হয়েছে। আবার বাংলাদেশের আর্থিক ও সামাজিক তথা আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ইউএনডিপি দেশব্যাপী অসংখ্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বিশেষত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য ইউনিসেফ কাজ করছে। পাশাপাশি শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি উন্নয়নের লক্ষ্যে ইউনেস্কো কাজ করছে। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে জাতিসংঘের কার্যাবলি খুবই প্রশংসনীয় । তাই সংগত কারণেই অনুচ্ছেদের শেষ বক্তব্যটি আমি সমর্থন করি।


                      ৮ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর


Post a Comment

Previous Post Next Post