এসএসসি বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

 



স্বপন শিপইয়ার্ডে চাকরি নিয়ে ২০১৭ সালে সিঙ্গাপুরে গমন করে। সিঙ্গাপুরের পুরো সীমানা সে ট্যাক্সিক্যাবে চড়ে ভ্রমণ করে। সিঙ্গাপুরের মোট লোকসংখ্যা একটি পরিসংখ্যানও তার কাছে রয়েছে। সেখানকার রাষ্ট্রপ্রধান এবং রাষ্ট্রের নির্বাহী কর্তৃপক্ষ বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেদের সম্পদ ও জনগণকে রক্ষা করতে সক্ষম। স্বপন সিঙ্গাপুরের নিয়মকানুনের প্রতি প্রস্থাবোধ রেখেই সেখানে বসবাস করতে আগ্রহী।

, Citizen শব্দটির উৎস কী?

খ.আইনের উৎস হিসেবে আইনসভার ব্যাখ্যা দাও।

গ.স্বপন রাষ্ট্র হিসেবে সিঙ্গাপুরের যে উপাদানগুলোর কথা বলেছেন পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তার ব্যাখ্যা দাও।

. রাষ্ট্র হিসেবে সিঙ্গাপুরের রয়েছে কিছু অপরিহার্য কার্যাবলি- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

৬ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. Citizen শব্দটির উৎস ল্যাটিন শব্দ Civics থেকে।

খ. প্রতিটি সমাজব্যবস্থায় সংঘবদ্ধ জীবনযাপন পরিচালনায় কিছু নিয়মকানুন, রীতিনীতি, বিধিনিষেধ অনুসরণ করা হয়। মানুষের মধ্যকার কুপ্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার জন্য কিছু নিয়মকানুন, বিধিবিধান প্রণীত হয়। আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যা আইন নামে পরিচিত। আধুনিক রাষ্ট্রের আইনসভাই আইনের প্রধান। সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেরই আইনসভা বা আইন পরিষদ আছে। এ আইনসভায় দেশের মানুষের স্বার্থকে লক্ষ রেখে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও সংশোধন হতে থাকে।

গ. স্বপন সিঙ্গাপুরের সকল রাষ্ট্রীয় উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। সে সিঙ্গাপুরের সকল সীমানা ঘুরে দেখেছে। এতে একটি রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের চিত্র ফুটে উঠেছে। আবার জনসংখ্যার পরিসংখ্যানের উল্লেখ আছে যা জনসমষ্টির পরিচয় বহন করে। জনসমষ্টি বলতে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত জনগণকে বোঝায়। রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসমষ্টি একান্ত অপরিহার্য। প্রত্যেক রাষ্ট্রই একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা দ্বারা পরিবেষ্টিত। সরকার গঠনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রের ক্ষমতা সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়। প্রত্যেক সমাজব্যবস্থায় চূড়ান্ত ক্ষমতা কার্যকরী করার জন্য একটি মাত্র কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ থাকবে। আর এ ক্ষমতাই হলো সার্বভৌম ক্ষমতা। জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার এবং সার্বভৌমত্ব এ চারটি উপাদান নিয়েই রাষ্ট্র গঠিত হয়। এর যেকোনো একটি উপাদান না হলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না। স্বপনের বর্ণনায় এ চারটি উপাদানেরই উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, স্বপন রাষ্ট্র হিসেবে সিঙ্গাপুরের নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, জনসমষ্টি, সরকার এবং সার্বভৌমত্ব এ চারটি উপাদানের কথাই বলেছে।

ঘ . রাষ্ট্রের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য এবং রাষ্ট্রে বসবাসরত জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্র যে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেগুলোকে অপরিহার্য বা মুখ্য কাজ বলা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রাথমিক কাজ বা দায়িত্ব। নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষার নিশ্চয়তা থেকে রাষ্ট্র নামক সংগঠনের সৃষ্টি। হয়। দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য এবং বৈদেশিক আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন ও পরিচালনা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রকে পরিচিত করা, রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত সম্পদের ওপর দাবি প্রতিষ্ঠিত করা, অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, বিভিন্ন চুক্তি সম্পাদন, আঞ্চলিক কোর্ট গঠন, বহিঃর্বিশ্বে অর্থনৈতিক বাজার সৃষ্টি ও সম্প্রসারণ করা, বিদেশে অবস্থানরত দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সেবা প্রদান করা ইত্যাদি হচ্ছে রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিষয়ক অপরিহার্য কাজ। আইন প্রণয়ন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের মৌলিক কাজ। রাষ্ট্রের দৈনন্দিন কার্যাবলি সম্পাদন, নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রত্যেক রাষ্ট্রে প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠে। এ কাঠামোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ, তাদের কর্ম বন্টন ও নির্দেশ, কাজ তদারক এবং পরিচালনা করা রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। অর্থ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থ সংগ্রহ ও বণ্টন ব্যবস্থা গড়ে তোলা রাষ্ট্রের মুখ্য কাজ। তাই বলা যায়, রাষ্ট্র হিসেবে সিঙ্গাপুরের উল্লিখিত অপরিহার্য কার্যাবলি রয়েছে।

                                 ৭নং সৃজনশীল এর উত্তর

Post a Comment

Previous Post Next Post