রহিম মাঝি
বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত নদীতে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। উক্ত নদীর
উৎপত্তিস্থল হিমালয়ের গাঙ্গোত্রী হিমবাহে। পরবর্তীতে নদীটি বঙ্গোপসাগরে পতিত
হয়েছে।
ক. যমুনার শাখা
নদীর নাম কী?
খ. পানিসম্পদ
ব্যবস্থাপনা বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকে যে
নদীটির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে তার বর্ণনা কর। বাংলাদেশের কৃষি ও ব্যবসায় বাণিজ্যের
ক্ষেত্রে পানিসম্পদের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
ঘ. বাংলাদেশের
কৃষি ও ব্যবসায় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পানিসম্পদের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
৫ নম্বর সৃজনশীল
প্রশ্নের উত্তর
ক. যমুনার শাখা নদী
ধলেশ্বরী
খ. জীবজগতের প্রতিটি
প্রাণীর জন্য পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য। বৃষ্টি থেকে পর্যাপ্ত পানি
পাওয়া গেলেও শীত ও গ্রীষ্মকালে পানির অভাব হলে জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। তাই
সারা বছর পানির প্রাপ্তি, প্রবাহ ও বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য সুষ্ঠু
ব্যবস্থাপনা জরুরি। পানির এ চাহিদায় পরিকল্পিত প্রাপ্যতা ও তার পরিকল্পিত
ব্যবহারকে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা বলে। জীবজগতের বিপর্যয় ও অস্তিত্ব বিপন্ন
ঠেকাতে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা অত্যাবশ্যক। খালবিলে বাঁধ দিয়ে, পরিকল্পিতভাবে
পানি ধরে রেখে এর সুষ্ঠু ব্যবহার করা যায়। ব্যবস্থাপনা ও বিলে বাঁধ দিয়ে,
গ. উদ্দীপকে যে
নদীটির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে সেটি হলো পদ্মা নদী।
উদ্দীপকের রহিম
মাঝি এমন একটি নদীতে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন যে নদীটির উৎপত্তিস্থল
হিমালয়ের গাঙ্গোত্রী হিমবাহে। অর্থাৎ পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী নদীটি হলো পদ্মা নদী।
পদ্মা নদী ভারত ও ভারতের উত্তরবঙ্গে গঙ্গা এবং বাংলাদেশে পদ্মা নামে পরিচিত। এর
উৎপত্তিস্থল মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ। উত্তর ভারতের কয়েকটি রাজ্য অতিক্রম
করে গঙ্গা বাংলাদেশের রাজশাহী জেলা দিয়ে প্রবেশ করেছে। গোয়ালন্দের নিকট
ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারা যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। চাঁদপুরের মেঘনার সঙ্গে
পদ্মা নামধারণ করে মিলিত হয়েছে। বরিশাল ও নোয়াখালি হয়ে এই নদী বঙ্গোপসাগরে পতিত
হয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন ৩৪,১৮৮ বর্গ কি.মি.।
পশ্চিম থেকে পূর্বে নিম্নগঙ্গায় অসংখ্য শাখা নদীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ভাগীরথী, হুগলি, মাথাভাঙ্গা, ইছামতী, ভৈরব, কুমার, কপোতাক্ষ, নবগঙ্গা, চিত্রা, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ
ইত্যাদি।
ঘ. বাংলাদেশে কৃষি ও
ব্যবসায় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পানিসম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, সুরমা, কুশিয়ারা
প্রভৃতি নদীগুলো পানি সম্পদের প্রধান উৎস। জমির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধিতে এসব নদী
পলিবহন করে আনে। তাছাড়া কৃষিতে সেচের পানি সরবরাহের প্রধান উৎস নদনদী। অপরদিকে
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে দেশের মোট বাণিজ্যিক মালামালের ৭৫ শতাংশ আনা-নেওয়া
করা হয়। ১৯৭২ সালে শিপিং কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নদীপথের বাণিজ্যকে
প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়। একসময় আমাদের তেমন কোনো জাহাজ ছিল না। এখন বহুমখী
পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের প্রায় সবকটি নদীপথেই
সরকারি বেসরকারি উদ্রোগে লক্ষ লক্ষ টন মালামাল পরিবহন করা হয়ে থাকে। বর্ষাকালে সব
ধরনের বাণিজ্যিক মালমাল নদীপথে পরিবাহিত হয়। কৃষি ও বাণিজ্যের ওপর একটি দেশের
অর্থনৈতিক অবস্থা নির্ভর করে।
পরিশেষে বলা যায়, পানি সম্পদের
গুরুত্ব অপরিসীম।
