এসএসসি বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়


 

নাইজেলের দেশ দক্ষিণ গোলার্ধে। নভেম্বরে গ্রীষ্মের ছুটিতে দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশে বেড়াতে যায়। যেখানে নভেম্বর মাসে

শীতকাল শুরু হয়। ডিসেম্বর মাসে পার্শ্ববর্তী আরেকটি দেশে গেলে সে লক্ষ করে সেখানে সবেমাত্র শীত শুরু হচ্ছে। এতে সে

বেশ বিস্মিত হয়।

ক. উপকেন্দ্র কী?

খ.বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল কেন?

গ. নাইজেলের দ্বিতীয় পর্যায়ে ভ্রমণকৃত দেশের জলবায়ুর ধরন ব্যাখ্যা কর।

. নাইজেলের দেশ এবং ভ্রমণকৃত এলাকাসমূহের জলবায়ুর ভিন্নতার কারণ বিশ্লেষণ কর।

৪ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. ভূমিকম্পের কেন্দ্রের ঠিক সোজাসুজি উপরে ভূপৃষ্ঠের নাম উপকেন্দ্র।

খ. ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান ও ইউরোপিয়ান প্লেটের সীমানার কাছে অবস্থিত। এ কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। ভূমিরূপ ও ভূঅভ্যন্তরীণ কাঠামোগত কারণে বাংলাদেশে ভূআলোড়নজনিত শক্তি কার্যকর এবং এর ফলে এখানে ভূমিকম্প হয়। আবার পাহাড় কাটাসহ মানবীয় বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গ. নাইজেলের দ্বিতীয় পর্যায়ে ভ্রমণকৃত দেশটি হলো ভারত। নাইজেলের দ্বিতীয় পর্যায়ে ভ্রমণকৃত দেশটিতে ডিসেম্বর মাসে শীতকাল শুরু হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতেও ডিসেম্বর মাসে শীতকাল শুরু হয়। বিশাল আয়তনের দেশ ভারতের জলবায়ু বিচিত্র।

ভারত মৌসুমি অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে এ দেশের উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত ইত্যাদি মৌসুমি বায়ুপ্রবাহের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতের পার্থক্যের ওপর নির্ভর করে ভারতের ঋতুগুলো হলো- শীতকাল, গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল এবং শরৎ ও হেমন্তকাল। ভারতে শীতকাল ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। গ্রীষ্মকাল মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ভারতে বর্ষাকাল থাকে এবং অক্টোবর-নভেম্বর দুই মাস শরৎ ও হেমন্তকাল বিরাজ করে । পরিশেষে বলতে পারি, উদ্দীপকে নাইজেল দ্বিতীয় পর্যায়ে ভারতে গিয়েছিল।

নাইজেলের দেশ এবং ভ্রমণকৃত এলাকাসমূহের জলবায়ুর ভিন্নতার নানা কারণ পরিলক্ষিত হয়।সাধারণত ভৌগোলিক অবস্থান তথা অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশের পার্থক্যের কারণে সমুদ্র থেকে অবস্থানের দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে, বায়ুপ্রবাহের তারতম্যের কারণে বা বিভিন্ন প্রকারের বায়ুপ্রবাহের কারণে এক স্থান থেকে অন্য স্থানের জলবায়ু মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও নদ-নদী, বনভূমি, ভূপ্রাকৃতিক পার্থক্যের কারণে দুটি স্থানের মাঝে জলবায়ুর পার্থক্য হয়ে থাকে। উদ্দীপকের নাইজেলের দেশ দক্ষিণ গোলার্ধে এবং সে উত্তর গোলার্ধের দেশসমূহ তথা নভেম্বর শীতকাল শুরু হওয়া বাংলাদেশে এবং এর পার্শ্ববর্তী দেশ ডিসেম্বরে শীত শুরু হওয়া ভারতে ভ্রমণ করে। এক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে তার নিজ দেশ ও তার ভ্রমণকৃত এলাকাসমূহের মাঝে জলবায়ুগত ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত ও বাংলাদেশ মৌসুমি জলবায়ুর জন্য নাইজেলের দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত দেশ থেকে ভিন্ন। সুতরাং উপরিউল্লিখিত কারণসমূহের জন্যই নাইজেলের দেশ এবং ভ্রমণকৃত এলাকাসমূহের জলবায়ু ভিন্ন ।

                                              ৫ নং সৃজনশীল এর উত্তর


Post a Comment

Previous Post Next Post