সিলেট ও
ময়মনসিংহের হাওর এলাকার অধিবাসীরা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের অবস্থার
পরিবর্তনে এবং হাওর এলাকার উন্নয়নে সরকার গঠন করেছে 'বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ড এবং
প্রবর্তন করেছে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ড আইন ২০১৪'। এছাড়া উক্ত
এলাকার উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে।
ক. পরিকল্পনা
বাস্তবায়নে কোন ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে?
খ.
জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে
আমাদের কী কী সমস্যা হতে পারে? বুঝিয়ে লেখ।
গ. উদ্দীপকে
সরকার গৃহীত কার্যক্রম এসডিজির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কীভাবে সহায়তা করবে? ব্যাখ্যা কর ।
ঘ. উদ্দীপকের
কার্যক্রমই কি এসডিজির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একমাত্র উপায়?
উত্তরের সপক্ষে যুক্তি
দাও।
৮ নম্বর সৃজনশীল
প্রশ্নের উত্তর
ক. পরিকল্পনা
বাস্তবায়নে প্রতিটি পর্যায়ে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
খ. জলাবদ্ধতা সৃষ্টি
হলে আমাদের নানামুখী সমস্যা হতে পারে। বর্তমানকালে জলাবদ্ধতা সমস্যা মারাত্মক রূপ
পরিগ্রহ করেছে। এর ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়, রাস্তাঘাটের ক্ষতি হয়,
স্বল্প আয়ের লোকদের কাজ
বন্ধ থাকে, ঠিকমতো স্কুল, কলেজ বা কর্মস্থলে পৌঁছানো যায় না, দোকানপাট বন্ধ
থাকে এবং সর্বোপরি নানা ধরনের রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। জলাবদ্ধতা
সৃষ্টির ফলে আমাদের এসব সমস্যাই হতে পারে।
গ. উদ্দীপকে সরকার
গৃহীত কার্যক্রম দুর্গম অঞ্চলের মানুষদের উন্নয়ন সাধন করার মাধ্যমে এসডিজির
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করবে ।
টেকসই উন্নয়ন
লক্ষ্য অর্জনে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু এ লক্ষ্য
অর্জনের পথে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। এগুলো মোকাবিলা করেই বাংলাদেশকে এসডিজি
অর্জনের পথে অগ্রসর হতে হবে। উদ্দীপকে ভৌগোলিকভাবে পিছিয়ে পড়া সিলেট ও
ময়মনসিংহের হাওর এলাকার মানুষের জীবনচিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তাদের উন্নয়নকল্পে
সরকারের 'বাংলাদেশ হাওর ও
জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ড' গঠন, আইন পাস এবং ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কথাও
উদ্দীপকে বলা হয়েছে। এ পদক্ষেপ এসডিজি অর্জনে অত্যন্ত সহায়ক। কেননা এসডিজি অর্জন
করতে হলে ভৌগোলিকভাবে পিছিয়ে পড়া দুর্গম অঞ্চলের অধিবাসীদের বিশেষ বিবেচনায়
রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। অতিদারিদ্য ও দারিদয়ের হার কমাতে
প্রয়োজনে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। অর্থনৈতিক নীতিকাঠামো বিন্যাস এমন হতে
হবে যাতে আর্থসামাজিক অগ্রগতি ন্যায়ভাবে সুবষ্টিত হতে পারে। উদ্দীপকে এর
বাস্তবায়ন দেখা যায় বলে সরকার গৃহীত উক্ত কার্যক্রম প্রত্যক্ষভাবে, এসডিজির
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করবে।
ঘ . না, উদ্দীপকের
কার্যক্রমই এসডিজির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একমাত্র উপায় নয় । জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি
বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুরাপুরিভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে নানা ধরনের
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। উদ্দীপকে সিলেট ও ময়মনসিংহের পিছিয়ে পড়া হাওর
অঞ্চলের জনগণের জন্য সরকার গৃহীত কার্যক্রমকে তুলে ধরা হয়েছে। এটি এসডিজি
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি অংশ হলেও একমাত্র উপায় নয়। এক্ষেত্রে আরও যেসব
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা প্রয়োজন সেগুলো হলো- আয়, ভোগ, জেন্ডার, অঞ্চল ও সম্পদ বৈষম্য কমিয়ে আনা, দারিদয়ের অবসান
ঘটানো, অবাধ তথ্য প্রবাহ
নিশ্চিত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলাফল মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের
ব্যবস্থা ও সম্পদের ন্যায্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি সাধন, বিদেশে সম্পদ
পাচার বন্ধ করা, রাজনৈতিক অস্থিরতা রোধ করা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার
দেওয়া, জ্বালানি খাতের
উন্নয়ন ঘটানো, দুর্নীতি দমন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি।
এসডিজি অর্জনে উপরিউক্ত Courstik চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে অগ্রণী ভূমিকা
রাখতে হবে। উদ্দীপকের আলোচ্য বিষয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কার্যক্রম
গ্রহণ করা টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি উপায় হলেও এর বাইরেও আরও
অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, যা উপরের আলোচনা থেকে জানা যায়। তাই
নিঃসন্দেহে বলা যায়, এসডিজির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্দীপকের
কার্যক্রমটি ছাড়াও আরও অনেক কার্যক্রম রয়েছে।
৯ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
