ক) ভাষা কাকে বলে?
মানুষের যোগাযোগের সহজাত মাধ্যম বা বাহনই হল ভাষা। বাগযন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।
খ) বাংলা ভাষার রীতি কয়টি ? বর্ণনা কর ।
১. কথ্য ভাষা রীতি ও ২. লেখ্য ভাষা রীতি। বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে। যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে আদর্শ কথ্য রীতি ও আঞ্চলিক কথ্য রীতি। আবার লেখ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে প্রমিত রীতি, সাধু রীতি ও কাব্য রীতি। যে ভাষা সুনির্ধারিত ব্যাকরণ অনুসরণ করে চলে সেটি সাধু ভাষা রীতি। আর চলিত ভাষা রীতি পরিবর্তনশীল।
গ) বাংলা ভাষার উৎসমূলক শ্রেণি বিভাগ কয়টি ?
ক. উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়;
১.তৎসম,
২.তদ্ভব,
৩.দেশি ও
৪.বিদেশি।
১. তৎসম শব্দ :
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।
২. তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।
৩. দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগােষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলােকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, চেঁকি ইত্যাদি।
৪. বিদেশি শব্দ:
ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলােকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি। উদাহরণ –
ঘ) ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য লিখ ।
বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত অর্থপূর্ণ আওয়াজকেই ধ্বনি বলে। ধ্বনি লেখার জন্য যেসব প্রতীক বা সংকেত ব্যবহার করা হয় সেগুলিই বর্ণ ।
ধ্বনি ও বর্ণের মধ্যে পার্থক্যঃ
ধ্বনি ও বর্ণ বলতে অনেকে একই জিনিস বোঝেন। আসলে কিন্তু তা নয়। ধ্বনি ও বর্ণ পরস্পরের পরিপূরক, কিন্তু অভিন্ন নয়।
১। ধ্বনি হলো ভাষার মূল উপাদান আর বর্ণ হলো ধ্বনি নির্দেশক প্রতিক বা চিহ্ন।
২। ধ্বনি সৃষ্টি হয় বাগ্যন্ত্রে। অন্যদিকে বর্ণকে অঙ্কন করা হয়।
৩। ধ্বনি এক ধরনের আওয়াজ-সংকেত। অন্যদিকে বর্ণ এক ধরনের চিত্র-সংকেত।
৪। ধ্বনি ক্ষণস্থায়ী। অন্যদিকে বর্ণ দীর্ঘস্থায়ী।
৫। ধ্বনি হল ভাষার প্রাথমিক উপাদান। অন্যদিকে বর্ণ হল ভাষার একটি বিকল্প উপাদান।
৬। ধ্বনির ভাব প্রকাশ ক্ষমতা অনেক বেশি। অন্যদিকে বর্ণের ভাব প্রকাশ ক্ষমতা ধ্বনির চেয়ে কম।
৭। ধ্বনি কানে শোনা যায়। অন্যদিকে বর্ণকে চোখে দেখা যায়।
ঙ) নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুতৃপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বুঝিয়ে লেখ ।
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুতৃপূর্ণ ভূমিকা রাখে । এজন্য বলা হয় – উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।
