আমার বন্ধু রাশেদ’
নামক চলচ্চিত্রের এক সাহসী, নির্ভীক ও দেশপ্রেমিক
কিশোর চরিত্র রাশেদ। পাকিস্তানিদের অত্যাচার আর রাজাকারদের এ দেশের মানুষের প্রতি
বৈরী মনোভাবে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তার মধ্যে প্রতিশোধস্পৃহা জাগ্রত হয়। সে নানা
কৌশলে রাজাকারদের হেনস্তা করে। এমনকি যুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যে সে এগিয়ে আসে। স্কুলঘরে
হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প ধ্বংসে সে ভ‚মিকা রাখে। একসময় রাজাকারদের হাতে ধরা পড়ে
এবং শহিদ হয়।
ক. নোলক বুয়া বুধাকে কী নামে ডাকে?
খ. ‘সেই শীতল মৃত্যু
রাতের কথা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের হানাদার
ও রাজাকারদের সাথে ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসের সাদৃশ্যগত দিক নির্ণয় করো।
ঘ. ‘রাশেদ ও বুধা
উভয়েই দেশপ্রেমিক’Ñউক্তিটির যথার্থতা
নিরূপণ করো।
ক. নোলক বুয়া বুধাকে
ছন্নছাড়া নামে ডাকে?
খ. ‘সেই শীতল মৃত্যু
রাতের কথা’Ñ বলতে বোঝানো হয়েছে
বুধার পরিবারের সকল সদস্যকে একসাথে চিরতরে হারানোর বেদনার মুহূর্তটি সম্পর্কে।
বুধাদের গ্রামে এক বছর কলেরা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণঘাতী সেই রোগে
আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে বুধার পরিবারের সবাই। একটি রাতের মাঝেই সামান্য সময়ের
ব্যবধানে সবাই চলে যায়। বুধার চোখের সামনে একে একে বিদায় নেয় বাবা-মা ও চার
ভাইবোন। সেই রাতটি বুধার জীবনে এক অন্ধকার অধ্যায়। খুব কাছ থেকে দেখা মৃত্যুর
শীতলতার সেই অনুভ‚তি বুধাকে প্রায়ই অস্থির করে তোলে।
গ. অন্যায়ভাবে মানুষের
ওপর অত্যাচার চালানোর দিক থেকে উদ্দীপকে বর্ণিত হানাদার ও রাজাকাররা ‘কাকতাড়–য়া’
উপন্যাসে বর্ণিত হানাদার পাকিস্তানি ও দেশদ্রোহী রাজাকারদেরই প্রতিনিধি। সেলিনা
হোসেন রচিত ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসে ১৯৭১ সালে এ দেশের মানুষের ওপর পাকবাহিনীর নৃশংসতার
চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে। উপন্যাসে আরও দেখা যায়, পাকিস্তানিদের সেই কর্মকাÐে সমর্থন ও সহযোগিতা করে এদেশেরই এক শ্রেণির মানুষ। দেশ ও
দেশের মানুষের সাথে তারা চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে। তাদের প্রতি দেশপ্রেমিক মানুষের
প্রবল ঘৃণার পরিচয় পাওয়া যায় উপন্যাসে। উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে ‘আমার বন্ধু রাশেদ’
নামক একটি চলচ্চিত্রের কথা। পাকিস্তানিদের বর্বরতার চিত্র রয়েছে চলচ্চিত্রটিতে। এ
ছাড়াও রয়েছে ঘৃণ্য রাজাকারদের প্রতি মুক্তিকামী কিশোর রাশেদের বিক্ষুব্ধ মনের
অনুভ‚তির কথা। উদ্দীপকের এ অনুভবগুলো ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসেও ধরা পড়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের রাশেদ ও
‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসের বুধা উভয়েই দেশমাতৃকাকে শত্রæমুক্ত করার জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তারা
দুজনেই মহান দেশপ্রেমিক। সেলিনা হোসেনের ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসে বর্ণিত বুধার হৃদয়ে
দেশ ও দেশের মানুষের জন্য গভীর টান। আপাতদৃষ্টিতে তাকে দেখে মনে হয় মানসিক
ভারসাম্যহীন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে গভীরভাবে জীবন ও মানবিকবোধসম্পন্ন। স্বদেশের
প্রতি অকৃত্রিম অনুভ‚তি তাকে চিনিয়ে দেয় দেশের শত্রæ কারা আর বন্ধু কারা। তাই সে ঘৃণ্য রাজাকারদের বাড়ি পুড়িয়ে
দেয় গোপনে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তানিদের বাঙ্কার উড়িয়ে দিয়ে মুখ্য ভ‚মিকা পালন
করে। উদ্দীপকের রাশেদ এক সাহসী কিশোর। পাকিস্তানি হানাদারদের ধ্বংসযজ্ঞ আর তাতে
বিশ্বাসঘাতক রাজাকারদের সহযোগিতা দেখে সে বিক্ষুব্ধ হয়। তার প্রতিশোধপরায়ণ
মনোভাবের আগুনে পুড়তে হয় রাজাকারদের। পাকিস্তানিদের ক্যাম্প ধ্বংসে মুক্তিযোদ্ধাদের
সাহায্য করে।
