এসএসসি (ভোকেশনাল) বাংলা -১ (নমুনা উত্তর)

 


বাপ-মা মরা সবুজের খোঁজখবর কেউ রাখে না। তাই সারাদিন সে এখানে-সেখানে কাটিয়ে রাতের বেলা কারও বৈঠকখানায়, স্কুলের বারান্দায় ঘুমায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষকে প্রাণভয়ে পালাতে দেখে সে জেনে যায় পাকসেনারা আমাদের শত্রæএদের খতম করতেই হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় পাকসেনা ক্যাম্পে কৌশলে ঢুকে সে গ্রেনেড ছুড়ে মারলে বহু সৈন্য হতাহত হয়। সবুজ বিজয়ীর হাসি হাসে।

ক. নোলক বুয়া বুধাকে কী খেতে দেয়?

খ. আলো-আঁধার বুধার কাছে সমান কেন?

গ. উদ্দীপকে ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকের সবুজ কি বুধার প্রতিরূপ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

ক. নোলক বুয়া বুধাকে মুড়ি ভাজা খেতে দেয়।

 খ. বুধার জীবন ছন্নছাড়া, উদ্দেশ্যহীন বলে দিনের আলো বা রাতের আঁধার বুধার কাছে বিশেষ কোনো পার্থক্য সৃষ্টি করে না। ছেলেবেলায় বাবা-মাসহ পরিবারের সবাইকে হারিয়ে চরম মানসিক আঘাত পায় বুধা। সেই থেকে তার ভবঘুরে জীবনের শুরু। মাঠে-ঘাটে গন্তব্যহীন ঘুরে বেড়ায়। রাত কাটে স্কুলের বারান্দা, ঢেঁকিঘর, খড়ের গাদা, নতুবা নৌকায় শুয়ে। সময়ের কোনো হিসাবে সে নিজেকে বন্দি করে না। দিন কি রাত সবই তার কাছে তাই একই রকম।

 গ. উদ্দীপকে ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসে উল্লিখিত হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে বিজয় ছিনিয়ে আনার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। ‘কাকতাড়–য়া’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস। সেলিনা হোসেন গভীর দেশপ্রেম ও বাঙালির প্রতি মমত্ববোধ থেকে উপন্যাসটি লিখেছেন। উপন্যাসে আমরা দেখতে পাই পাক হানাদারদের বর্বরতার বিরুদ্ধে কিশোর বুধার লড়াইয়ের চিত্র। মুক্তিবাহিনীর পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকবাহিনীর ক্যাম্প ধ্বংস করতে দুঃসাহসী ভ‚মিকা পালন করে সে। উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে নির্ভীক এক বালকের কথা। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বদেশের মানুষের অসহায়ত্ব দেখে সে বুঝে নেয় যে এদেশের শত্রæ কারা। শত্রæদের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিজ্ঞা নেয় সে। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য নিয়ে পাকসেনাদের ক্ষতিসাধন করে। শত্রæবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে সফল হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপক ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

 

ঘ. জীবনযাপনের প্রণালি এবং মুক্তির চেতনা ধারণের দিক থেকে উদ্দীপকের সবুজকে ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসের বুধার প্রতিরূপ বলা যায়। সেলিনা হোসেন রচিত ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসের মূল চরিত্র বুধা। সংসারে তার আপন বলতে কেউ নেই। সবাইকে সে হারিয়েছে এক রাতের ব্যবধানে। সেই দুর্ঘটনার মানসিক কষ্ট তার জীবনকে ওলটপালট করে দেয়। জীবনটা তার ছন্নছাড়া। তবে অসামান্য মানবিক বোধসম্পন্ন বুধা। পাক হানাদাররা যে এদেশের শত্রæ এবং যেকোনো মূল্যে তাদেরকে যে প্রতিরোধ করতে হবে সেই চেতনা দৃঢ়ভাবে রয়েছে তার মাঝে। উদ্দীপকের সবুজ অনাথ এক বালক। গৃহহীন সবুজের খবর রাখে না কেউ। নিজের মতোই সারা দিন এখানে ওখানে কাটায় সে। মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর অত্যাচারের নমুনা তাকে মুক্তিচেতনা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসের বুধার মতোই সেও ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রæর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। উদ্দীপকের সবুজ ও ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসের বুধা দুজনেই দুর্ভাগা। অল্প বয়সেই এতিম হয়েছে তারা। তাদের খোঁজ-খবর রাখার কেউ নেই। দুজনেই ভবঘুরে হয়ে ঘুরে বেড়ায় মাঠে-ঘাটে। দুজনের মনেই রয়েছে স্বাধীনতার অগ্নিমশাল। পাকিস্তানি শত্রæসেনাদের বিরুদ্ধে তারা সমান প্রতিবাদমুখর। দৃপ্তপদে শত্রæদের ধ্বংস করার অভিযানে অংশ নেয় বুধা ও সবুজ। শত্রæদের পরাজয় নিশ্চিত করে অসীম সাহস বুকে নিয়ে। এই দিকগুলোই উদ্দীপকের সবুজকে উপন্যাসের বুধার সাথে এক বিন্দুতে স্থাপন করেছে।

 ১১নংপ্রশ্নের উত্তর পেতে ক্লিক করো

Post a Comment

Previous Post Next Post