এসএসসি (ভোকেশনাল) বাংলা -১ (নমুনা উত্তর)

 




এক দারুণ সাহসী ছিল ১৯৭১। সাহসে ও সংগ্রামে, লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় সংকল্প আর বিশাল আত্মত্যাগে পুরো বাঙালি জাতিই ছিল বিশ্বব্যাপী সংবাদ শিরোনাম। এ পথ পেরিয়েই আমাদের আজকের গৌরবদীপ্ত বাংলাদেশ। এ আমাদের বড় অহংকার।

ক. নোলক বুয়া বুধাকে কী নামে ডাকত?

 খ. ‘গণকবর’ বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকের আলোকে ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসের বুধা চরিত্রটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “এ পথ পেরিয়েই আমাদের আজকের গৌরবদীপ্ত বাংলাদেশ”Ñ ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসের আলোকে ঐ পথের স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।

 

ক. নোলক বুয়া বুধাকে ছন্নছাড়া নামে ডাকত।

খ. গণকবর বলতে বোঝায় এমন একটি স্থানকে যেখানে অনেক মানুষকে একত্রে সমাধিস্থ করা হয়। সাধারণত একজন মানুষকে একটি কবরে সমাধিস্থ করা হয়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে একটি বড় কবর খুঁড়ে অনেক মানুষকে একসাথে চিরবিদায় জানানো হয়। এটিকেই গণকবর বলা হয়। বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকহানাদাররা গণহত্যা চালায়। তখন সারা দেশের অনেক স্থানে অসংখ্য গণকবর তৈরি হয়।

গ. ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসে স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠা কিশোর বুধা কীভাবে মুক্তিযুদ্ধে ভ‚মিকা পালন করে তাই আলোচিত হয়েছে। ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র বুধা। পিতৃ-মাতৃহীন অনাথ বালক বুধা তার গ্রামে পাকহানাদার বাহিনীর বর্বরতা দেখেছে, বাজারের দোকানপাট আগুনে ভস্মীভ‚ত হতে দেখেছে। এসব তাÐব দেখে তার মনে প্রতিশোধের আগুন জ্বলে ওঠে। সে দিনের পর দিন নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলেছে। উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বীরত্বপূর্ণভ‚মিকার কথা বলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়েই আমরা পেয়েছি স্বাধীন দেশ, স্বাধীন পতাকা, স্বাধীন পরিচয়। মুক্তিযোদ্ধা ও শান্তিকামী মানুষেরা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসের কিশোর বুধার সাহস পাহাড়সম। তার কারণেই এলাকা শত্রæমুক্ত হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত মুক্তির চেতনারই ধারক ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসের বুধা।

ঘ. “এ পথ পেরিয়েই আমাদের আজকের গৌরবদীপ্ত বাংলাদেশ” বলতে মুক্তিসংগ্রামে বাঙালির রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কথা বলা হয়েছে, যা ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসেরও মূলকথা। ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসে আমরা দেখতে পাই মুক্তিযুদ্ধকালে পাকহানাদার বাহিনী নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। পৈশাচিকভাবে এদেশের মানুষের ওপর নির্যাতননিপীড়ন চালিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানুষ একসময় ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করেছে। উদ্দীপকে ১৯৭১ সালে বাঙালির বীরত্বপূর্ণ ভ‚মিকার কথা বলা হয়েছে। পুরো জাতি মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল পৃথিবীর ইতিহাসে তা এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেছে বাঙালি কীভাবে লড়াই করে দেশকে স্বাধীন করেছে। ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসে আমরা লক্ষ করি একজন কিশোর কীভাবে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে উঠেছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে লক্ষ্য অর্জনে বাঙালি ছিল দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। গুলির সামনে বাঙালি বুক পেতে দিয়েছে কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি। রক্তের সিঁড়ি বেয়েই বিজয় অর্জিত হয়েছে। আর হানাদাররা আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছে। ‘কাকতাড়–য়া’ উপন্যাসেও আমরা দেখি নির্যাতিত মানুষেরা শত্রæকে রুখে দাঁড়িয়েছে। নিজেদের জীবনের বিনিময়ে হলেও স্বদেশকে রক্ষা করতে চেয়েছে, মানুষের আত্মত্যাগের কল্যাণেই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে।

                       ১০নংপ্রশ্নের উত্তর পেতে ক্লিক করো

Post a Comment

Previous Post Next Post