সভ্যতা গড়েছি আমি
শ্রমে আর ঘামে
সভ্যতার পাঁজর আমি
বুনেছি আমার নামে।
পৃথিবী শোন, পানির দামে বেচেছি আমি শরীরের সব নুন।
আমি সেই নিঃস্ব কাতর
হতভাগ্য শ্রমিক
আমি চাই, পৃথিবী আমার ঘামের মূল্য দিক।
ক. রানারের গন্তব্য
কোথায়?
খ. রাত শেষ হয়ে সূর্য
উঠবে কবে? বলতে কবি কী বোঝাতে
চেয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে
‘রানার’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকের কবির
মনোবাসনা ‘রানার’ কবিতায় সম্পূর্ণভাবে প্রফিলিত হয়নি’- মন্তব্যটি বিচার করো।
ক. রানারের গন্তব্য
শহরে।
খ. ‘রাত শেষ হয়ে সূর্য
উঠবে কবে’ বলতে কবি শোষণ ও বঞ্চনার অবসান কখন হবে জানতে চেয়েছেন। কবি
সুকান্তভট্টাচার্য শ্রমজীবী মানুষের দুঃখ-কষ্টকে গভীরভাবে অনুধাবন করেন। তাদের ওপর
চলে আসা শোষণ ও বঞ্চনার তিনি অবসান চান। তাই কবি তাঁর কবিতায় সে বিষয়টি তুলে
এনেছেন।
গ. উদ্দীপকের হতভাগ্য
শ্রমিকের সঙ্গে ‘রানার’ কবিতার রানারের দায়িত্বশীলতা, ত্যাগ ও সংগ্রামী জীবনের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘রানায়’ কবিতাটিতে শ্রমজীবী রানারদের জীবন বাস্তবতা উঠে এসেছে। তাদের কাজ হচ্ছে
গ্রাহকদের কাছে ব্যক্তিগত ও প্রয়োজনীয় চিঠি পৌঁছে দেওয়া রানাররা এতটাই দায়িত্বশীল
যে, কোনো কিছুই তাদের
কাজের বাধা হয়ে ওঠে না। রাত হোক, দুর্গম পথ হোক, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হোক- নিরন্তর তাদের এই
কাজ করে যেতে হয়। প্রিয়জনদের কাছে যথাসময়ে খবর পৌঁছানো অত্যন্তজরুরি বলেই রানারদের
ক্লান্তি নেই, অবসর নেওয়ার অবকাশ
নেই। আর তারা এই দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে থাকেন। উদ্দীপকের হতভাগ্য শ্রমিকের
শ্রমে আর ঘামেই গড়ে উঠেছে আমাদের এই বিশ্বসভ্যতা। তারাই এই আধুনিক সভ্য পৃথিবীর
রূপকার। তাদের কর্মনিপুণতা, নিষ্ঠা ও
দায়িত্বশীলতাই পৃথিবীকে আমাদের বাসযোগ্য করে তুলেছে। তারা আছে বলেই উন্নয়নের ধারা
ধাবিত হচ্ছে সামনের দিকে। সুতরাং ‘রানার কবিতার শ্রমজীবী রানারের শ্রমনিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা এবং ত্যাগের বিষয়টি উদ্দীপকের
হতভাগ্য শ্রমিকের মধ্যে লক্ষণীয়।
ঘ. উদ্দীপকের হতভাগ্য শ্রমিকের মধ্যে তার
কর্মমূল্যের প্রত্যাশা পরিলক্ষিত হলেও ‘রানার’ কবিতার রানারের মধ্যে কর্মের
বিনিময়ে কোনো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা পরিলক্ষিত হয়নি। ‘ ‘রানার’ কবিতায় কবি
শ্রমজীবী রানারের বন্দনা করেছেন। রানার ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখের উর্ধ্বে উঠে তাঁর
দায়িত্ব পালন করে যান। দুর্গম পথ,
দুর্যোগপূর্ণ
রাত্রি, প্রিয়ার অভিমান, দরিদ্রতার মতো হাজারো প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা
করে তিনি সবার সুখ-দুঃখের খবর সময়মতো পৌঁছে দেন। তাঁর কর্মেকোনো অবহেলা নেই, নেই ক্লান্তিও অবসাদ। তাঁরা ছুটছেন তো
ছুটছেনই। উদ্দীপকের শ্রমিক নিঃস্ব,
কাতর ও
হতভাগ্য। অথচ তার শ্রম আর ঘামেই আজ পৃথিবী উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। সে-ই
পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী করে তুলেছে। সকলের কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য সে নিজের শ্রম ও
ঘামকে পানির দামে বেচেছে। কিন্তু আজ সে তার পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য চায় পৃথিবীর কাছ
থেকে। উদ্দীপকের শ্রমিকের পরিশ্রমেই বিশ্বসভ্যতা গড়ে উঠেছে। অথচ এই শ্রমিকই আজ
নিঃস্ব, কাতর ও হতদরিদ্র।
সভ্যতার রূপকার হলেও তাদেরই অবজ্ঞা ও অবলো করা হয়। তারা কখনোই তাদের শ্রম ও ঘামের
যথাযথ মূল্য পায় না। পানির দামে তাদের শ্রমকে, কষ্টকে মূল্যায়ন করা হয়। তাই সে পৃথিবীর কাছে তার পরিশ্রমের
যোগ্য মূল্য চায়। উদ্দীপকের এ বিষয়টি ‘রানার’ কবিতায় অনুপস্থিত। ‘রানার’ কবিতায়
শুধু রানারের কর্মনৈপুণ্য ও দায়িত্বশীলতা ও ত্যাগের বিষয়টি উঠে এসেছে। সেখানে
কর্মের যথাযথ মূল্য চাওয়ার বিষয়টি নেই। তাই উদ্দীপকে ব্যক্ত দিক 'আমি চাই, পৃথিবী আমার ঘামের মূল্য দিবা ‘রানার’ কবিতায় প্রতিফলিত
হয়নি।
