সমুদ্র বরাবরই খুব
টানে দিহানকে। সৈকতের দিকে বিরামহীন ছুটে আসা স্রোতগুলো তার মনে বিস্ময় জাগায়।
সমুদ্রকে ভালোবেসেই বেছে নিয়েছে নাবিক জীবন। জাহাজে চড়ে সমুদ্রের বুকে ভেসেছে
বহুদিন। দেখেছে সাদা বালির সৈকতে ঢেউয়ের আছড়ে পড়া পাথুরে পাহাড়ের সাথে স্রোতের
সংঘর্ষের সৌন্দর্য। অবসর সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সমুদ্রের দিকে চেয়ে থেকে কাটিয়ে দেয়
দিহান।
ক. ঝর্ণা কেবল কার গান
গায়?
খ. ‘চপল পায় কেবল
ধাই।’Ñ চরণটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. ‘ঝর্ণা’ কবিতায়
বর্ণিত ঝর্ণার সাথে উদ্দীপকে উল্লিখিত সমুদ্রের সাদৃশ্য তুলে ধরো।
ঘ. ‘উদ্দীপকের দিহানের
মতো মানুষেরাই ঝর্ণার পরম আকাক্সিক্ষত’Ñ
ঝর্ণা
কবিতার আলোকে কথাটি বিশ্লেষণ করো।
ক. ঝর্ণা কেবল পরীর
গান গায়।
খ. চরণটির মাধ্যমে
ঝর্ণার উচ্ছল ও বিরামহীন ছুটে চলাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। পাহাড় থেকে সৃষ্ট ঝর্ণা
পাহাড়ের গা বেয়ে উদ্দাম গতিতে ছুটে চলে। তার চঞ্চল, আনন্দমুখর চলার মাঝে বাধা হতে পারে না কিছুই। দিনরাত সে
নৃত্যরত রমণীর মতো কেবলই ছুটে চলে।
গ. উদ্দীপকে বিরামহীন
ছুটে আসা সমুদ্রের স্রোত আর সাদা বালির সৈকতে ঢেউয়ের আছড়ে পড়ায় সাথে ঝর্ণার গান
কবিতার ঝর্ণার সাদৃশ্য রয়েছে। ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় ঝর্ণা এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের
আধার। ঝর্ণা যখন পাহাড়ের গা ঘেঁষে নিচে পতিত হয় তখন দ্রæত ধাবমান জলরাশি দেখতে খুবই চমৎকার মনে হয়।
এই ধেয়ে চলা জলরাশি নিচে পতিত হয় এবং পাথরের ওপর আছড়ে পড়ে। নীরব-নিস্তব্ধ পরিবেশে
ঝর্ণার এই গতিময় ছুটে চলা এক নৈসর্গিক পরিবেশের সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে সমুদ্রের
সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। সমুদ্রের বিরামহীন ঢেউ সকলের মনেই বিস্ময়ের
অনুভ‚তি সৃষ্টি করে। নাবিক হিসেবে দিহান দেখেছে সাদা পলির সৈকতে ঢেউয়ের আছড়ে পড়া।
পাহাড়ের সাথে স্রোতে সংঘর্ষ এক অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা করে। সমুদ্রের স্রোতের
বিরামহীন ছুটে চলা আর তীরে ঢেউয়ের আছড়ে পড়ার সাথে ঝর্ণার যথেষ্ট সাদৃশ্য বহন করে।
কারণ উভয় ক্ষেত্রেই গতিময়তা, প্রবহমানতা ও সৌন্দর্য
সৃষ্টি লক্ষণীয়।
ঘ. সুন্দরের তৃষ্ণা
আছে বলেই উদ্দীপকের দিহানের মতো মানুষেরাই ঝর্ণার পরম আকাক্সিক্ষত। ‘ঝর্ণার গান’
কবিতায় সৌন্দর্যপিয়াসী মানুষের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কবিতায় বলা হয়েছে, যার কণ্ঠে প্রবল তৃষ্ণা সে শুধু ঝর্ণার
স্বচ্ছ জল নিতে চায়। কেবল তৃষ্ণা মেটাতেই সে ব্যস্ত। ঝর্ণার সৌন্দর্য তাদের চোখে
পড়ে না। কারণ সৌন্দর্য উপলব্ধি করার সেই মানসিকতা তার মাঝে থাকে না। তাই কবি
ক্ষোভের সাথে বলেছেন, যারা শুধু জল চায় তারা
যেন পাতকুয়ায় চলে যায়। আর তার জলে যেন নিজের তৃষ্ণা মেটায়। যাদের সুন্দরের তৃষ্ণা
আছে ঝর্ণা কেবল তাদের তৃষ্ণা মেটাতে এগিয়ে যাবে।
উদ্দীপকের দিহানকে সমুদ্র খুব কাছে টানে। সৈকতের দিকে বিরামহীন ছুটে আসা
স্রোত তার মনে বিস্ময় জাগিয়ে তোলে। সৈকতে ঢেউয়ের আছড়ে পড়া, পাথুরে পহাড়ের সাথে স্রোতের সংযত সৌন্দর্যের
এক অপার লীলা তৈরি করে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমুদ্রের বিশালতার মাহাত্ম্য বোঝার
মতো প্রশস্ত মন দিহানের আছে বলেই সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে
দেয়। ঝর্ণার সৌন্দর্য তুলনাহীন। এই সৌন্দর্য বোঝার ক্ষমতা যাদের নেই তাদের তৃষ্ণা
মেটানোর জন্য কবি পরামর্শ দিয়েছেন পাতকুয়ার জল সংগ্রহ করতে। ঝর্ণা কেবল তাদের জন্য
ছুটে চলে যাদের সুন্দরের তৃষ্ণা রয়েছে। আলোচ্য উদ্দীপকের দিহানের সেই সৌন্দর্য
চেতনা রয়েছে। তার পক্ষে কেবল প্রকৃতির হৃদয় দিয়ে উপভোগ করা সম্ভব। তাই উদ্দীপকের
দিহানের মতো মানুষেরাই ঝর্ণার পরম আকাক্সিক্ষত।
