উদ্দীপক-১ : মুছে
যাওয়া দিনগুলো আমায় যে পিছু ডাকে স্মৃতি যেন আমার হৃদয়ে বেদনার রঙে রঙে ছবি আঁকে
উদ্দীপক-২ : ধনধান্য
পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা, তাহার মাঝে আছে দেশ এক
সকল দেশের সেরা। ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা
ক. সব সময় কবির কার
কথা মনে পড়ে?
খ. আর কিহে হবে দেখা? কবির এরূপ মনে হওয়ার কারণ কী?
গ. উদ্দীপক-১ কপোতাক্ষ
নদ' কবিতার কোন দিকটিকে
ধারণ করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপক-২ ও
‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলসুর এক।’- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
ক. সব সময় কবির কপোতাক্ষ নদের কথা মনে পড়ে।
খ. প্রবাসে কাতর কবি
দেশ এবং কপোতাক্ষকে আর দেখতে না পারার শঙ্কা থেকেই আক্ষেপ করেছেন। কবি মাইকেল
মধুসূদন দত্তের আশা ছিল, প্যারিসে জগদ্বিখ্যাত
কবিদের গৌরবময় পঙক্তিতে ঠাঁই করে
নেবেন। কিন্তু পরিণতিতে উপলব্ধি করলেন,
যে
আলেয়াকে আলো ভেবে পিছু নিয়েছিলেন তিনি তা তাঁর জীবনে ধরা দেবে না। জীবন তাঁকে
বঞ্চনা ও ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই দেয়নি। এ অবস্থায় প্রিয় দেশমাতৃকাও তাঁর পাশে
নেই। এ কারণেই প্রশ্নোত্ত সংশয়ব্যঞ্জক জিজ্ঞাসাটি কবিচেতনায় মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।
গ. উদ্দীপক-১-এ
প্রকাশিত ভাবটি ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার শৈশব স্মৃতি জেগে ওঠার ভাবটিকে নির্দেশ করে।
‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি শৈশব স্মৃতি স্মরণ করে কাতর হন। প্রবাসে থাকাকালেও তাঁর
মনে পড়ে শৈশবের ফেলে আসা দিনগুলো। কপোতাক্ষ নদের তীরে কাটানো সময়গুলো তাঁর জীবনের
শ্রেষ্ঠ সময় বলে মনে হয়। উদ্দীপক-১-এর কবিতাংশেও অতীতের স্মৃতিকাতর মনের পরিচয়
ফুটে উঠেছে। এ কবিতাংশে কবি অতীতের স্মৃতি মনে করে বেদনায় বিমূঢ় হয়েছেন। যেখানে
আদর-আহ্লাদে পরম সুখে সময়গুলো কেটেছে। সে সময়কার স্মৃতি কবির জীবনে ওতপ্রোতভাবে
জড়িয়ে আছে। আলোচ্য কবিতায়ও কবি শৈশবের স্মৃতিতে হাবুডুবু খাচ্ছেন। দেশ থেকে
বহুদূরে থাকলেও তিনি তার ছোটবেলার সময়গুলো ভুলে থাকতে পারেন না। কপোতাক্ষ নদের
কলকল ধ্বনি তাঁকে বারবার আনমনা করে। শৈশব স্মৃতি স্মরণ করার দিক থেকে উদ্দীপক-১ ও
‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাকে একই সূত্রে গ্রথিত করে।
ঘ. উদ্দীপক-২ এবং
‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় স্বদেশপ্রেমের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায়
কবির স্বদেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে কপোতাক্ষ নদকে ঘিরে কবির স্মৃতিকাতরতার
মাধ্যমে। এ নদ কবির শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত। তাই সুদূর প্রবাসজীবনে কবি ভুলতে
পারেননি তাঁর প্রিয় নদকে। এ নদের স্মৃতি তাঁকে প্রতিনিয়ত কাতর করে তুলেছে।
উদ্দীপকেও স্বদেশপ্রেমের অত্যুজ্জ্বল প্রকাশ ঘটেছে। উদ্দীপকের কবির কাছে নিজের
দেশের চেয়ে সুন্দর আর কোনো দেশকেই মনে হয় না। অপরূপ।সৌন্দর্যের লীলাভূমি কবির
স্বদেশ। স্মৃতি দিয়েই কবির এ চিরসৌন্দর্যের দেশ গড়া। উদ্দীপকে এবং ‘কপোতাক্ষ নদ’
কবিতায় স্বদেশকে নিয়ে ব্যক্তিমানুষের যে আবেগ-ভালোবাসা, তা প্রকাশ পেয়েছে। জন্মভূমির স্থান সকল কিছুর
উর্ধ্বে। স্বদেশের চেয়ে মূল্যবান আর কিছুনেই। উভয় কবি স্বদেশপ্রেমে নিমগ্ন।
স্বদেশকে হৃদয়ের সিংহাসনে বসিয়ে তার জন্য যে ব্যাকুলতা, যে আর্তি, তা ফুটে উঠেছে উদ্দীপক-২ ও আলোচ্য কবিতার মূলভাবে। এ যেন
স্বদেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ। তাই এ কথা সন্দেহাতীত যে, উদ্দীপক২ ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলসুর এক।
