“হে বক্সগ, ভান্ডারে তব বিবিধ রতন;
তা সবে, অবোধ আমি.,
অবহেলা করি, পর ধন লোভে মত্ত,
করিনু ভ্রমণ পরদেশে,
ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে
আচরি।”
ক. কবি কাদের
জন্মপরিচয় নিয়ে দ্বিধান্বিত?
খ. “নিজ দেশ তেয়াগী
কেন বিদেশ ন যায়।” ব্যাখ্যা কর।
গ. ‘বঙ্গবাণী’ কবিতার
সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য বিচার কর।
ঘ. “সাদৃশ্য থাকলেও
উদ্দীপকের আত্মোপলব্ধি ‘বঙ্গবাণী’ কবিতায় উন্মোচিত হয়নি।” মূল্যায়ন কর।
ক. বাংলাদেশে
জন্মগ্রহণ করে বাংলা ভাষাকে যারা হিংসা করে কবি তাদের জন্মপরিচয় নিয়ে দ্বিধান্বিত।
খ. স্বদেশ ও মাতৃভাষার
প্রতি যাদের বিন্দুমাত্র অনুরাগ নেই কবি তাদেরকে আলোচ্য কথাটি বলেছেন। বাংলাদেশ
মাতৃভ‚মি হলেও কিছু ক‚পমন্ডূক মানুষ বাংলা ভাষাকে অবজ্ঞা করে। বিদেশি বাষা, বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রতি তারা আগ্রহী।
অন্যদিকে বাংলা ভাষার প্রতি তাদের কোনো আগ্রহ ও মমতা নেই। কবি এ শ্রেণির মানুষদের
নিজ দেশ ত্যাগ করে বিদেশে চলে যেতে বলেছেন।
গ. মাতৃভাষার প্রতি
অবজ্ঞা প্রদর্শনের দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বঙ্গবাণী’ কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
মাতৃভাষা মনের ভাব প্রকাশের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। তাই সাহিত্য রচনার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম
মাতৃভাষা। মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা বা অনুরাগ না থাকায় তারা হীনম্মন্যতায় ভোগে
এবং বিদেশি ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। ‘বঙ্গবাণী’ কবিতায় বাংলা ভাষায়
মনের ভাব প্রকাশ করতে অনাগ্রহী এক শ্রেণির মানুষের পরিচয় পাওয়া যায়। আরবি-ফারসি
ভাষায় আল্লাহ ও নবির গুণগান গাওয়া হয়েছে বলে তারা ঐসব ভাষার প্রতি তাদের গভীর
অনুরাগ প্রকাশ করে। উদ্দীপকের কবির মধ্যেও প্রথম জীবনে মাতৃভাষার প্রতি অবজ্ঞা
প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ নয় এ জ্ঞানে তিনি ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায়
মনোনিবেশ করেছিলেন। কিন্তু কবির ভুল ভাঙতে দেরি হয়নি, তিনি বুঝতে পেরেছেন মাতৃভাষা বাংলার বিকল্প
নেই। এ ভাষাই সেরা। মাতৃভাষাকে অবহেলা করার বিষয়টির সঙ্গে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. “সাদৃশ্য থাকলেও
উদ্দীপকের আত্মোপলব্ধি ‘বঙ্গবাণী কবিতায় উন্মোচিত হয়নি।” মন্তব্যটি যথার্থ।
বাঙালির মাতৃভাষা বাংলা। এ ভাষার সঙ্গে তার জীবনযাপনের প্রতিটি উপাদান জড়িত। বাংলা
ভাষার ভান্ডার অত্যন্ত সমৃদ্ধ, বাংলা সাহিত্য যার
উৎকৃষ্ট প্রমাণ। তা সত্তে¡ও কিছু উন্নাসিক
ব্যক্তি বাংলা ভাষায় মনের ভাব প্রকাশকে অগৌরবের, অমর্যাদার মনে করে। ‘বঙ্গবাণী’ কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে, জনসাধারণের বোধগম্য নয় এমন ভাষা ভাব প্রকাশের
অনুপযোগী। তাই তিনি সাধারণ মানুষের তুষ্টির জন্য মাতৃভাষায় গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ
করেছেন। আবার অনেকে আছেন যারা বাংলা ভাষাকে ঘৃণা করেন। তারা আরবি-ফারসি ভাষার
প্রতি অনুরাগী এবং এ ভাষাতেই সাহিত্য রচনা করেন। উদ্দীপকের কবিও প্রথম জীবনে বাংলা
ভাষাকে অবজ্ঞা করে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য সাধনা আরম্ভ করেন। কিন্তু এক সময় কবির ভুল
ভাঙে, তিনি বুঝতে পারেন
বাংলা ভাষার ভান্ডার মণিমানিক্যে পরিপূর্ণ। উদ্দীপকে কবি এক সময় মাতৃভাষা বাংলাকে
অবহেলা করলেও পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পেলেছেন তাঁর মাতৃভাষা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ফলে
মাতৃভাষার প্রতি তাঁর প্রবল অনুরাগ জন্ম নেয়। কিন্তু ‘বঙ্গবাণী’ কবিতায় কবি যাদের
কথা বলেছেন তাদের মধ্যে এ আত্মোপলব্ধি জাগ্রত হয়নি। এ কারণেই কবি তাদের স্বদেশ
ত্যাগ করতে বলেছেন। তাই ডবলা যায়,
প্রশ্নোক্ত
মন্তব্যটি যথার্থ।
৬নংপ্রশ্নের উত্তর পেতে ক্লিক করো
