বিদ্রোহী' কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর(৩,৪)/bidrohi CQ ( 3,4)

 


বিদ্রোহী' কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩

৩. আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুনঃ মহাবিপ্লব হেতু এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু! সাত-সাতশ নরক-জ্বালা জ্বলে মম ললাটে। মম ধূম-কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে। আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি পাপের অনুতাপ-তাপ হাহাকার আর মর্ত্যে শাহারা-গোবী-ছাপ আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ।

ক. কবি কী মানেন না?

 খ. 'যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না' রেল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে নামা একথা বলার কারণ কী?

গ. উদ্দীপকের সাথে বিদ্রোহী' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক্টি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. "উদ্দীপকটি 'বিদ্রোহী' কবিতার সমগ্রভাব ধারণ করেনা"- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

৩. নং প্রশ্নের উত্তর

ক. কবি কোনো আইন মানেন না।

খ. নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের দুঃখকষ্ট ও আর্তচিৎকার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কবি বিপ্লব-প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন বোঝাতে তিনি প্রশ্নোক্ত কথা বলেছেন।

অসাম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কবির বিদ্রোহ নিরন্তর। যেখানেই তিনি অত্যাচার ও অনাচার দেখেছেন, সেখানেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। নিপীড়কের বিরুদ্ধে এবং আর্তমানবতার পক্ষে প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন তিনি। তাঁর হুংকারে কেঁপে উঠেছে অত্যাচারীর ক্ষমতার মসনদ। অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলেও উৎপীড়িত মানুষের পক্ষে বিপ্লব-প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। এ বিষয়টিকে স্পষ্ট করতেই তিনি প্রশ্নোক্ত চরণটির অবতারণা করেছেন।

গ. উদ্দীপকের সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হচ্ছে বিদ্রোহী চেতনা।

'বিদ্রোহী' কবিতায় নানা ব্যঞ্জনায় কবির বিদ্রোহের স্বরূপ ফুটে উঠেছে। যেখানেই অন্যায়-অত্যাচার দেখেছেন, সেখানেই তিনি বিদ্রোহের

অগ্নিমন্ত্রে ফুঁসে উঠেছেন। বিশেষ করে পরাধীন মাতৃভূমিতে বিজাতীয় শাসকদের আগ্রাসন ও শোষণ-নির্যাতন তাঁকে পীড়িত করেছে। সংগত কারণেই এই অপশক্তির বিরুদ্ধে দ্রোহ ঘোষণা করেছেন তিনি। বস্তুত, মানুষ হয়ে মানুষের ওপর প্রভুত্ব ফলানো সামন্ত প্রভুদের ধ্বংসের মধ্যেই তিনি মুক্তির নতুন আলো দেখতে পেয়েছেন।

উদ্দীপকের কবিতাংশে বিপ্লবী মানসের বারংবার ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে। কালের খেয়ালে ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু হলেও বিপ্লবী চেতনার মৃত্যু নেই। সময় পরিক্রমায় তা একজন থেকে অন্যজনে সঞ্চারিত হয়। ফলে বিপ্লবীর বজ্রকেঠার আহ্বানে পরিবেশ ঘোলাটে হয়ে আসে। শিব বা মহাদেবের ত্রিনয়নও তখন অন্ধকারে ঢেকে যায়। প্রভুত্ব ফলানো নরপিশাচদের জীবন অভিশপ্ত হয়ে ওঠে বিপ্লবীদের প্রত্যাঘাতে। তথাকথিত সামন্ত প্রভুদের কাছে তারা যেন মূর্তিমান অভিশাপে পরিণত হয়। বিপ্লব-বিদ্রোহের এই বিধ্বংসী রূপটি আলোচ্য কবিতায়ও একইভাবে ফুটে উঠেছে। সেখানে বীর ধর্মের অনুসারী কবি সামন্ত প্রভুদের তৈরি সকল নিয়ম ও শৃঙ্খল ভেঙে ফেলতে প্রয়াসী হয়েছেন। অর্থাৎ উদ্দীপক ও 'বিদ্রোহী' কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্রোহী চেতনার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। এটিই উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক।

 ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশে কেবল বিদ্রোহী চেতনার দিকটি ফুটে ওঠায় তা 'বিদ্রোহী' কবিতার সমগ্রভাবকে ধারণ করতে পারেনি। আলোচ্য কবিতাটি কবির বিদ্রোহী চেতনার এক অনন্য প্রকাশ। বিদ্রোহের স্বরূপ উদ্ঘাটনে কবিতাটি অনন্য মাইলফলকও বটে। তবে এ কবিতায় শুধু দ্রোহ চেতনাই নয়, সেখানে বিদ্রোহী হিসেবে কবির আত্মত্মপরিচয়, প্রেম ও দ্রোহের স্বরূপসহ বিচিত্র বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে। এছাড়াও কবিতাটিতে আর্তমানবতার মুক্তির লক্ষ্যে কবি প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশে বিদ্রোহী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। অন্যায় ও অসাম্য ঘুচাতে সেখানে বিপ্লবী সত্তার পুনরুত্থানের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এই বিদ্রোহী সভা অকুতোভয় ও মানবকল্যাণে নিবেদিত। শত প্রতিবন্ধকতাও তার পথ রুদ্ধ করতে পারে না। অন্যায়ের প্রতিভূদের জন্য সাক্ষাৎ অভিশাপ হিসেবে আবির্ভূত হয় সে। আলোচ্য "বিদ্রোহী' কবিতায়ও কবি তাঁর বিদ্রোহী সত্তার এমন বৈশিষ্ট্যের কথাই তুলে ধরেছেন। যেখানে পরাধীন জন্মভূমিতে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে।দেখা মিলবে মুক্তির পথ। একইভাবে, উদ্দীপকের কবিতাংশেও কবি মহাবিপ্লবের কথা বলেছেন। অর্থাৎ উভয়স্থানে ববজ্রনির্ঘোষ বিপ্লবের কথা প্রকাশিত হলেও কবিতাটির ব্যাপ্তি উদ্দীপকের কবিতাংশের তুলনায় ব্যাপক। তাছাড়া এ কবিতায় মানবতাবোধে উদ্ভাসিত কবির সদম্ভ উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। মুহূর্তের জন্যও তিনি অপশক্তির কাছে মাথা নিচ করতে রাজি নন। সর্বোপরি কবির বিপ্লব প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে মানুষের প্রতি তাঁর অপরিসীম ভালোবাসা। আলোচ্য কবিতার এ সকল বিষয় উদ্দীপকের কবিতাংশে উঠে এসেছে আসেনি। সে বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪


৪. দুর্বাসা হে! রুদ্র তড়িৎ হানছিলে বৈশাখে,

হঠাৎ সে কার শুনলে বেণু কদম্বের ঐ শাখে। বজ্রে তোমার বাজলে বাঁশি, বহ্নি হলো কান্না, হাসি সুরের ব্যথায় প্রাণ উদাসী- মন সরে না কাজে।

তোমার নয়ন-ঝুরা অগ্নি-সুরেও রক্ত-শিখা বাজে!'

ক. কবি নিজেকে কার শিষ্য বলে ঘোষণা করেছেন?

খ. 'মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য- ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে 'বিদ্রোহী' কবিতার কোন দিকটি প্রকাশিত হয়েছেআলোচনা করো।

ঘ. উদ্দীপকের দুর্বাসা 'বিদ্রোহী' কবিতার ক্ষ্যাপা উন্মোচনে সহায়ক কি? যৌক্তিক বিশ্লেষণ করো।

ফ্যাপা দুর্বাসার স্বরূপ

নং প্রশ্নের উত্তর

ক. কবি নিজেকে বিশ্বামিত্রের শিষ্য বলে ঘোষণা করেছেন।

খ. প্রেম ও দ্রোহের সমন্বয়ে নিজ অস্তিত্বের স্বরূপ তুলে ধরতেই কবি প্রশ্নোত্ত

চরণটির অবতারণা করেছেন।

কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রেমের কবি, দ্রোহের কবি। মানবপ্রেম ও সাম্যচেতনা তাঁর কবিতার মূল প্রেরণা। আর তাই যেখানেই অসাম্য ও অনাচার লক্ষ করেছেন, ব্যথিত কবি সেখানেই উচ্চারণ করেছেন দ্রোহের পক্তিমালা। আলোচ্য কবিতাটিতেও কবির দ্রোহ পরাধীনতার শৃঙ্খল এবং অসাম্যের বিরুদ্ধে, যার মুখ্য উদ্দেশ্য মানবমুক্তি। নিপীড়িত মানুষের ক্রন্দন বন্ধ করার প্রয়াসেই তাঁর এই দ্রোহ। কবি সত্তার এই বিদ্রোহী রূপ এবং তার অন্তরালে মানবপ্রেমের বিষয়টি বোঝাতেই কবি প্রশ্নোত্ত চরণটির অবতারণা করেছেন।

গ. উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতায় প্রকাশিত বিদ্রোহী কবির রুদ্ররূপের দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।

'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সূর্মর দ্রোহের বাণী উচ্চারণ করেছেন। পরাধীনতার শৃঙ্খল এবং সামাজিক ভেদ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে করতে গিয়ে কবি বিধ্বংসী নানারূপে নিজেকে কল্পনা করেছেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, সাম্যের বাণী ঔপনিবেশিক ও শাসকশ্রেণির কর্ণগোচর হবে না। তাই আলোচ্য কবিতাটিতে তিনি এই অত্যাচারী অপশক্তির বিরুদ্ধে অভিশাপ হয়ে ফিরে আসতে চান। উদ্দীপকের কবিতাংশে দুর্বাসার বুদ্ধরূপের পরিচয় পাওয়া যায়। দুর্বাসার সে রূপে সুরের বাঁশি যেন বজ্র হয়ে যায়, কান্না-হাসির সরল আবেগ নেয় চরম ক্ষ্যাপাটে দুর্বাসা তথা দ্রোহের বিধ্বংসী রূপ আলোচ্য 'বিদ্রোহীকবিতায়ও একইভাবে ফুটে উঠেছে। সেখানে কবি কেবল প্রবল বিক্রমে বিদ্রোহ ঘোষণা করেই থেমে থাকেননিবরং ধ্বংসকামী বিচিত্র রূপে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। কবিতায় উঠে আসা বিদ্রোহী কবির রুদ্র রূপটিই প্রকাশিত হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকের দুর্বাসার ধ্বংসাত্মক রূপ 'বিদ্রোহীকবিতার ক্ষ্যাপা দুর্বাসার স্বরূপ উন্মোচনে সহায়ক বলেই আমি মনে করি। 'বিদ্রোহীকবিতায় বিদ্রোহের স্বরূপ উন্মোচন করতে গিয়ে কবি নিজেকে নানা ধ্বংসাত্মক রূপে কল্পনা করেছেন। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে নিজেকে ক্ষ্যাপা দুর্বাসা বলে পরিচয় দেওয়ার মধ্য দিয়ে। কেননা পুরাণ মতেমুনি দুর্বাসা ছিলেন অত্যন্ত কোপন-স্বভাববিশিষ্ট। তাঁর কোপানলে পড়ে অনেকেই দগ্ধ হনএমনকি তা থেকে দেবতারাও রেহাই পাননি। উদ্দীপকের কবিতাংশে দুর্বাসা মুনিকে অবলম্বন করে বিদ্রোহী চেতনার স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। কবির দৃষ্টিতেদুর্বাসার রুদ্ররূপ দর্শনে সুরের আধার বাঁশি যেন বজ্র হয়ে যায়কান্না-হাসির সরল আবেগ আগুনের রূপ পায়এমনকি নয়ন-ঝুরা সুরেও তার রক্ত-শিখা বেজে ওঠে। অর্থাৎ তার প্রভাবে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়। উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রকাশিত দ্রোহের এই বিধ্বংসী রূপটি আলোচ্য কবিতায় ক্ষ্যাপা দুর্বাসার প্রতীকে উঠে এসেছে। 'বিদ্রোহীকবিতায় বিদ্রোহী হিসেবে কবি তাঁর আত্মপরিচয় দান করেছেন। আর তা করতে গিয়ে তিনি কোপন-স্বভাবের মুনি দুর্বাসার প্রসঙ্গ উপস্থাপন করেছেন। এখানে কবি তাকে অবলম্বন করেছেন ধ্বংসের প্রতীক হিসেবেই। নিজেই বলেছেন যেতিনি শুধু দুর্বাসা ননবরং ক্ষ্যাপা দুর্বাসা। উদ্দীপকে আমরা যে দুর্বাসাকে পাইপ্রকৃত অর্থে তিনি এসেছেন 'বিদ্রোহীকবিতার দুর্বাসা চরিত্রের ব্যাখ্যা হিসেবে। আলোচ্য কবিতায় কবি দুর্বাসাকে শুধু ক্ষ্যাপা বলেছেনকিন্তু তার সেই ক্ষ্যাপা রূপ কেমন হতে পারে তা বলেননি। উদ্দীপকের দুর্বাসার দিকে নজর দিলে আমরা দুর্বাসার প্রকৃত রূপটি খুঁজে পাই। সেদিক থেকে দেখলে উদ্দীপকের দুর্বাসা 'বিদ্রোহীকবিতার ক্ষ্যাপা দুর্বাসার স্বরূপ উন্মোচনে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৫

৫. যাহারা পদে পদে আনিয়া দিল লাঞ্ছনা, অপমান, অত্যাচার, নির্যাতন, প্রত্যেক সুযোগে যাহারা হানিল বৈরিতার বিষাক্ত বাণ, হযরত তাঁহাদের সহিত কী ব্যবহার করিলেন? জয়ীর আসনে বসিয়া ন্যায়ের তুলাদণ্ড হাতে লইয়া বলিলেন: ভাইসব, তোমাদের সম্বন্ধে আমার আর কোনো অভিযোগ নাই, আজ তোমরা সবাই স্বাধীন, সবাই মুক্ত। মানুষের প্রতি প্রেমপুণ্যে উদ্ভাসিত এই সুমহান প্রতিশোধ সম্ভব করিয়াছিল হযরতের বিরাট মনুষ্যত্ব।

ক. কবি নিজেকে কাদের মরম বেদনা বলেছেন?

খ. 'আমি দুর্বার/ আমি ভেঙে করি সব চুরমার' ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে 'বিদ্রোহী' কবিতার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. "উদ্দীপকের হযরত মুহম্মদ (স.) ও "বিদ্রোহী' কবিতার কবির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও তাঁদের মূলচেতনা একই" মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।


সৃজনশীল প্রশ্ন ৫ এর উত্তর

Post a Comment

Previous Post Next Post