প্রতিদান কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ( ১০,১১)/ protidan CQ 10& 11

 



প্রতিদান কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০

স্বর্গের মতো সুন্দর মনে হবে। পৃথিবীতে অফুরান ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে পারলেই স্বর্গ এসে দাঁড়াবে প্রতিটি মানুষের কাছে। 'প্রতিদানকবিতায়ও এমন একটি পৃথিবী নির্মাণের স্বপ্ন দেখা হয়েছে। 'প্রতিদানকবিতায় কবি সদগুণ দ্বারা অসৎ চিন্তা ভাবনাকে দূর করতে বলেছেন। পারস্পরিক ভালোবাসাই পারে বিদ্বেষের বিষবাষ্প অপসারণ করে পৃথিবীকে সুন্দর করতে। এজন্য অনিষ্টকারীকেও ক্ষমা করে আপন করে নিতে হবে। উদ্দীপকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে নিরাপদ ও স্বর্গতুল্য পৃথিবী বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়েছে। কিন্তু নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে পরার্থপরতার দিকটি এখানে অনুপস্থিত। অর্থাৎ উদ্দীপকে কেবল সুন্দর পৃথিবী নির্মাণে সামষ্টিক প্রয়াসের দিকটি এসেছে। 'প্রতিদানকবিতায় ব্যক্তিপর্যায়েও কীভাবে মানবতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়া যায়তার উপায় কাব্যিক ব্যঞ্জনায় ধরা পড়েছে। তাই বলা যায়উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার সামগ্রিক ভাব নয় বরং খণ্ডাংশকে প্রকাশ করে।

সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১

১১. কারো উপকার করে খোঁটা দেওয়া একটি বিশ্রী অভ্যাস। এটা মানুষের ব্যক্তিত্বকে ছোটো করে দেয়। দেখা যায়এক শ্রেণির মানুষ দান-খয়রাত করে এবং ঋণ দিয়ে পরক্ষণেই খোঁটা দেয়। বিশেষত যদি গ্রহীতার সঙ্গে কোনো কারণে সম্পর্ক নষ্ট হয় বা মতপার্থক্য দেখা দেয়তখন অতীতের উপকারের ফিরিস্তি খুলে দিয়ে খোঁটা দিতে শুরু করে। সমাজে এটি

একটি গর্হিত কাজ।

ক. 'নিঠুরিয়াশব্দের অর্থ কী?

খ. 'কত ঠাঁই হতে কত কী যে আনিসাজাই নিরন্তর'- ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রতিদানকবিতার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

ঘ.'উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ও  কবির মনোভাব 'প্রতিদানকবিতার কবির পরস্পর সমান্তরাল'- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।


১১ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. 'নিঠুরিয়া' শব্দের অর্থ- নির্দয়

খ. যে কবিকে নিষ্ঠুর বাণী দিয়েছে কবি তার মুখখানি সাজিয়ে দিতে চেয়েছেন

কবি বিশ্বাস করেন কারো ক্ষতি করা নয়, উপকার করাই মানুষের প্রকৃত ধর্ম। তাই কেউ নিষ্ঠুর বাণী শোনালে কবি তার মুখ সাজিয়ে দিতে চেয়েছেন। দেখিয়ে দিয়েছেন প্রতিহিংসা-প্রতিশোধ নয়, ভালবাসাই জীবনের আদর্শ

গ. উদার মনোভাবের গুরুত্ব তুলে ধরার দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রতিদান' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে। 'প্রতিদান' কবিতায় কবি মনে করেন, ভালোবাসাই পৃথিবীতে চূড়ান্ত শান্তি

প্রতিষ্ঠা করতে পারে। প্রতিহিংসা-প্রতিশোধ কখনো মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। কারণ প্রকৃত মানুষ তারাই যারা মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে পারে। তাই ক্ষমা ও দায়িত্বশীল আচরণই মানুষকে একত্রিত করতে পারে এবং পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলতে পারে। উদ্দীপকে দেখা যায়, কারো উপকার করে খোঁটা দেওয়াটা মানুষের ব্যক্তিত্বকে ছোটো করে দেয়। কোনো কারণে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেলে বা মতপার্থক্য দেখা গেলে তখন অতীতের উপকারের কথা বলে খোটা দেয় যা গর্হিত কাজ। 'প্রতিদান' কবিতায় কবিও বলেছেন, অনিষ্টকারীদের ক্ষমা করে দিয়ে উপকার করতে। কবিকে কেউ কাঁটা দিলে তার বিনিময়ে ফুলও দেওয়ার কথা বলেছেন। অর্থাৎ উভয়ক্ষেত্রে উদার  মনোভাবাপন্ন হওয়ার প্রেরণা দেওয়া হয়েছে। এ দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রতিদানকবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. "উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ও 'প্রতিদান' কবিতার কবির মনোভাব পরস্পর সমান্তরাল"- মন্তব্যটি যথার্থ।

'প্রতিদান' কবিতায় কবির মতে, কেউ আঘাত করতে চাইলে তাকে পাল্টা আঘাত না করে ভালোবাসার মাধ্যমে পৃথিবীতে শান্তি স্থাপন করা সম্ভব। সমাজ সংসারে বিদ্যমান হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি-মারামারি, বিভেদ, প্রতিশোধ অশান্তি বাড়ায়। কবি মনে করেন পরার্থপরতার মধ্যেই ব্যক্তির প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত। উদ্দীপকে দেখা যায় যে, উপকার করে খোঁটা দেওয়া মানুষগুলো নিম্ন রুচির অধিকারী। কোনো কারণে উপকারভোগীর সাথে সম্পর্ক নষ্ট হলে বা মতপার্থক্য দেখা দিলে তখন অতীতের কথা বলে খোঁটা দেয়া একটি গর্হিত কাজ। 'প্রতিদান' কবিতার কবির ভাষায়, যারা ক্ষতি করতে চাইবেন তাদের ওপর আমরা যেন প্রতিশোধপরায়ণ না হই। কারণ ক্ষমা আর উদারতার মাধ্যমেই পৃথিবীটা সবার জন্য নিরাপদ থাকবে। 'প্রতিদান' কবিতায় কবির মতে, সমাজ-সংসারে বিভেদ-হিংসা- হানাহানি থাকলেও অনিষ্টকারীদের ভালোবাসা দিয়ে, ক্ষমা করার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। সংকীর্ণ মানসিকতা পরিহার করে সকল ভেদাভেদ, হিংসা-প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণতা ভুলে পরিহীতব্রতী হয়ে সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব। উদ্দীপকেও অনিষ্টকারীর উপর প্রতিশোধ না নিয়ে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার বিষয়টি লক্ষ করা যায়। অর্থাৎ উভয়ক্ষেত্রে উদার হওয়ার উপর গুরুত্বরোপ করা হয়েছে। সে দিক থেকে উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ও

'প্রতিদান' কবিতার কবির মনোভাব পরস্পর সমান্তরাল।


Post a Comment

Previous Post Next Post