প্রতিদান কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ( ৯,১০)/ protidan CQ 9& 10

 



প্রতিদান কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯

৯ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. কবি জসীমউদ্দীনকে ডিলিট উপাধি প্রদান করে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।

খ. কবি প্রতিহিংসাপরায়ণ নন বলে তাঁকে কেউ আঘাত করলেও তিনি আঘাতকারীর অকল্যাণে ব্যথা অনুভব করেন।

কবি পৃথিবীর সামগ্রিক কল্যাণে বিশ্বাস করেন। ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে কবির কাছে পরার্থপরতাই মুখ্য। তাই কবিকে কেউ আঘাত করলে, কবি তাকে পাল্টা আঘাত করেন না। বরং আঘাতের পরিবর্তে আঘাতকারীর জন্য কাঁদেন এবং তার মঙ্গল কামনা করেন।

গ. 'প্রতিদান' কবিতায় ভালোবাসাপূর্ণ পৃথিবী বিনির্মাণের যে বাসনা ব্যক্ত হয়েছে সেই দিকটি উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

'প্রতিদান' কবিতায় কবির কণ্ঠে সমাজ-সংসারে বিদ্যমান হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি-মারামারি, বিভেদ, প্রতিশোধ ইত্যাদির বিপরীতে প্রীতিময় সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবীর আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়েছে। কবি বিশ্বাস করেন মানবিক মানুষই নির্মাণ করতে পারে সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী। তাই প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ ভুলে ভালোবাসায় পৃথিবীকে ভরিয়ে তুলতে হবে। উদ্দীপকের কবিতাংশে মানবজাতির জন্য এক নব জীবন-আকাঙ্ক্ষা ধ্বনিত হয়েছে, হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। সারা বিশ্বের সকল মানুষ প্রীতির বন্ধনে বাঁধা পড়বে। বিশ্বজুড়ে মিলনের সুর ধ্বনিত হবে। কেউ কাউকে ঘৃণা করবে না বরং ভালোবাসার শক্তিতে এক নতুন সমাজ গড়ে তুলবে। কলুষমুক্ত, ভালোবাসাপূর্ণ পৃথিবী নির্মাণের বিষয়টি 'প্রতিদান' কবিতা ও উদ্দীপককে সাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।

ঘ. উদ্দীপকে প্রকাশিত হয়েছে মানবিক পৃথিবী গড়ার আহ্বান, যা 'প্রতিদান' কবিতার সামগ্রিক চেতনাকে ধারণ করে। 'প্রতিদান' কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই

যে মানবের প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত সেই বিষয়টি তুলে ধরেছেন। লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ কখনো মানুষের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। ভালোবাসা, পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতাই পারে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলতে।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, হিংসা, দ্বেষ, ঘৃণা ভুলে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হলেই পৃথিবীতে নতুন জীবনের স্পন্দন ধ্বনিত হবে। সারা বিশ্বের মানুষ যখন সকল দ্বন্দ্ব-ভেদাভেদকে দূরে ঠেলে ভালোবাসার সুরে মিলিত হবে তখনই মানবজাতির প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে। অর্থাৎ উদ্দীপকে একটি মানবিক সমাজ নির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবির প্রত্যাশাও তাই।

'প্রতিদান' কবিতায় কবি সংকীর্ণ মানসিকতা পরিহার করে মানবতার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। সকল ভেদাভেদ, হিংসা, দ্বেষ ভুলে উদার মনোভাব ধারণের বিষয়টি কবি তাঁর কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। মানবকল্যাণে আত্মত্যাগই 'প্রতিদান' কবিতার মূলকথা। সেই লক্ষ্যে

কবিতায় মানুষে মানুষে প্রীতিময় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। আর উদ্দীপকের মূল ভাবনাও সেই বাণীকেই সমর্থন করে। পারস্পরিক দূরত্ব ভুলে প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারলেই মানুষ প্রকৃত জীবনের স্পন্দন শুনতে পারবে। যে জীবন হবে সৌহার্দ্যপ্রীতি ও শান্তিতে পরিপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের তাৎপর্য আলোচ্য কবিতার সামগ্রিক চেতনাকে ধারণ করে।

সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০

১০. প্রীতি ও প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে, স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদের কুঁড়েঘরে।"

ক. 'বিবাগী' শব্দের অর্থ কী?

খ. 'ভালোবাসাপূর্ণ মানুষই নির্মাণ করতে পারে সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী' - ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে 'প্রতিদান' কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?

ঘ. 'উদ্দীপকটিতে 'প্রতিদান' কবিতার সামগ্রিক ভাব প্রকাশিত হয়নি।'- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

১০. নং প্রশ্নের উত্তর

'বিবাগী' শব্দের অর্থ উদাসীন।

হিংসা-বিদ্বেষ নয় পারস্পারিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার সম্পর্ক পৃথিবীকে সুন্দর ও নিরাপদ করতে পারে।

বিভেদ, বিবাদ, হিংসা, বিদ্বেষ কখনো মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। সমাজ-সংসারে নানা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বিরাজ করলেও কেবল ভালোবাসাপূর্ণ মনোভাবই পারে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলতে। ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা এবং নিরাপদ পৃথিবীর নিশ্চয়তা নির্ভর করে। তাই ভালোবাসাপূর্ণ মানুষই পারে সুন্দর পৃথিবী উপহার দিতে।

গ. প্রতিটি মানুষ হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে প্রীতি ও প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারলেই সুন্দর পৃথিবী নির্মাণ সম্ভবড় 'প্রতিদান' কবিতার এই দিকটি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।

'প্রতিদান' কবিতায় কবি নিজের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে অন্যের সুখের কথা ভেবেছেন। পরার্থপরতার মধ্যেই যে ব্যক্তির প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত সেই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। প্রতিশোধ- প্রতিহিংসার পরিবর্তে করি ভালোবাসাময় এক নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন।

উদীপকে বলা হয়েছে, প্রীতি ও প্রেমের বন্ধনে নিজেদের বাঁধতে পারলে পৃথিবীতেই স্বর্গ রচিত হতে পারে। ঝগড়া-বিবাদ ভুলে মানুষে মানুষে যদি সম্প্রীতির ডাব চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তবে পৃথিবী হয়ে উঠবে আরও সুন্দর ও নিরাপদ। প্রতিহিংসা-প্রতিশোধের বিপরীতে প্রীতি ও প্রেমের প্রসার এবং সুন্দর পৃথিবী গড়ার আহ্বানই 'প্রতিদান' কবিতার সাথে উদ্দীপকটিকে সাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।

ঘ. পারস্পরিক ভালোবাসার মধ্য দিয়ে পৃথিবীকে স্বর্গতুল্য করে তোলার বিষয়টি উদ্দীপকে ফুটে উঠলেও 'প্রতিদান' কবিতায় উল্লিখিত (আপন স্বার্থ বিলিয়ে দিয়ে বৃহৎ কল্যাণের দিকটি এখানে অনুপস্থিত। 'প্রতিদান' কবিতায় কবি মানবজীবনের প্রকৃত সার্থকতার দিকটি তুলে ধরেছেন। নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে পরার্থে জীবনকে উৎসর্গ করার কথা বলেছেন। সেই সাথে প্রতিহিংসা-প্রতিশোধের মনোভাব পরিহার করে প্রীতিময় পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। কবি মনে করেন, যে অন্যের অনিষ্ট করতে চায়, তাকে ক্ষমা করে দিতে হয় এবং তার  প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হয়। উদ্দীপকে প্রেম ও প্রীতির মধ্য দিয়ে পুণ্যের বন্ধনে একত্রিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। মানুষের মধ্যে যদি হানাহানি, মারামারি, হিংসা, বিদ্বেষের পরিবর্তে প্রেম ও প্রীতিময় সম্পর্ক বিরাজ করে তবে এই পৃথিবীকেই

                  পরের অংশ


Post a Comment

Previous Post Next Post