প্রতিদান কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭
ঘ. 'প্রতিদান' কবিতার মূলকথা হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে প্রীতিময় পরিবেশ সৃষ্টি, যা উদ্দীপক-২-এ বাস্তব রূপ লাভ করায় তা কবিতার মূলভাবকে
ধারণ করতে পেরেছে।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি প্রীতিময় পরিবেশের প্রত্যাশা
করেছেন। আর এজন্য তিনি পরকে আপন করতে কেঁদে বেড়িয়েছেন। কেউ কবিকে কাঁটা দিলে কবি
বিনিময়ে তাকে ফুল দিতে চেয়েছেন। সর্বোপরি অনিষ্টকারীকে ক্ষমা করে কবি বিভেদ-হিংসা
ভুলে ভালোবাসা ও উদারতার বার্তা পৌঁছাতে চেয়েছেন। আর এটিই আলোচ্য কবিতার মূলকথা।
উদ্দীপক-২-এ প্রীতিময় পরিবেশ সৃষ্টির
দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়। সেখানে বিভেদ-হিংসার বিপরীতে উদারতার জয়গান গাওয়া হয়েছে।
উদ্দীপক- ২-এ গোত্রে গোত্রে মারামারি ও হিংসা-বিদ্বেষের দৌরাত্ম্য থাকলেও মহানবি
হজরত মুহম্মদ (স.) তা দূর করেন। তিনি সবার কাছে শান্তির বার্তা পৌঁছে দেন। তাঁর
প্রচেষ্টাতেই আরব অঞ্চলে ফিরে আসে সুন্দর ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ।
'প্রতিদান' কবিতায় হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সৌহার্দের
সম্পর্ক সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। আর উদ্দীপক-২-এ তার বাস্তব রূপ ফুটে উঠেছে। আলোচ্য
কবিতায় কবি অনিষ্টকারীকে ক্ষমা করে প্রেমময় পরিবেশ সৃষ্টির তাগিদ দিয়েছেন। আর এটিই
কবিতার মূল কথা। উদ্দীপক-২ কবিতার এই দিকটিকেই বাস্তব রূপে ফুটিয়ে তুলেছে। ফলে
উদ্দীপক-২ 'প্রতিদান' কবিতার মূলভাবকে ধারণ করতে পেরেছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮
৮. কেতুপুর
গ্রামের দুলাল মিয়া অত্যন্ত প্রতিশোধপরায়ণ মানুষ। কেউ তার ক্ষতি করলে সে ছেড়ে কথা
বলে না। যেভাবেই হোক প্রতিশোধ নেওয়াই তার স্বভাব। যদিও স্ত্রী আয়েশা বানু তার
বিপরীত মেরুর মানুষ। সে স্বামীকে সর্বদা বোঝানোর চেষ্টা করে যে, অপরাধীকে ক্ষমা করে তার উপকার করার মধ্যেই মানবজন্মের
সার্থকতা।
ক. 'প্রতিদান' কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
খ. কবি কাঁটার বিনিময়ে ফুল দান করতে চান
কেন?
গ. উদ্দীপকের দুলাল মিয়া চরিত্রের মনোভাবের সাথে প্রতিদান' কবিতার বৈসাদৃশ্য নির্দেশ করো।
ঘ. "উদ্দীপকের আয়েশা বানু 'প্রতিদান' কবিতার কবিভাবনার সমর্থক"- উক্তিটি
বিশ্লেষণ করো।
• ৮ নং প্রশ্নের উত্তর
ক. 'প্রতিদান' কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের 'বালুচর' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
খ. কবি অনিষ্টকারীর উপকার করতে চান বলে কাঁটার বিনিময়ে ফুল দান করেন।
কবি বিশ্বাস করেন, অনিষ্টকারীকে কেবল ক্ষমা করেই নয়, বরং প্রতিদান হিসেবে তার উপকার করার মাধ্যমে পৃথিবীকে সুন্দর করা সম্ভব। কেউ ক্ষতি করেছে বলে প্রতিশোধের বশবর্তী হয়ে তারও ক্ষতি করতে হবে কবি তা মানতে নারাজ। তাই কবিকে কেউ কাঁটা দিলে কবি তাকে প্রতিদানে ফুল উপহার দেন। অর্থাৎকে বিনিময়ে তার মঙ্গল সাধন করেন।
গ. উদ্দীপকের দুলাল মিয়া চরিত্রটি স্বার্থান্ধ ও প্রতিশোধপরায়ণ যার বিপরীতে 'প্রতিদান' কবিতায় পরার্থপরতা ও ক্ষমাশীলতার কথা বলা হয়েছে। 'প্রতিদান' কবিতায় কবি জসীমউদ্দীন ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, অনিষ্টকারীকে ক্ষমা করে দিয়ে তাকে ভালোবাসতে পারাই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক। প্রতিহিংসা-প্রতিশোধ নয় বরং ক্ষমা, সহযোগিতা, দয়া, ভালোবাসা এ সবই মানুষকে মহৎ জীবনের স্বাদ দিতে পারে।
উদ্দীপকের দুলাল মিয়া অত্যন্ত প্রতিহিংসা
ও প্রতিশোধপরায়ণ একজন মানুষ। স্বার্থে আঘাত লাগলে সে কাউকে ছেড়ে দেয় না। যে করেই
হোক সে তার শত্রুর ক্ষতি করে। তার কাছে সব কিছুর ওপর নিজের স্বার্থ। স্বার্থ ছাড়া
সে কোনো কাজ করে না। প্রতিদান' কবিতায় কবি ব্যক্তিস্বার্থকে তুচ্ছ করে
দেখেছেন এবং উদার মানবিকতার বাণী শুনিয়েছেন। কিন্তু উদ্দীপকের দুলাল মিয়া চরিত্রের
মধ্য দিয়ে স্বার্থসন্ধানী, প্রতিশোধপরায়ণ মানুষের প্রতিচ্ছবি ভেসে
উঠেছে। তাই বলা যায়, চারিত্রিক কলুষতার জন্য দুলাল মিয়া 'প্রতিদান' কবিতার সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. প্রতিহিংসায় নয় বরং ক্ষমা ও উদারতায়
বিশ্বাস করে বলেই আয়েশা বানু 'প্রতিদান' কবিতার কবিভাবনার সমর্থক।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি ক্ষমাশীলতার আদর্শে উজ্জ্বল
মহান জীবনের প্রেরণা ফুটিয়ে তুলেছেন। সমাজ-সংসারে বিদ্যমান বিভেদ-হিংসা হানাহানির
দ্বারা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কবির কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে পরার্থপরতার উদাত্ত
আহ্বান। কবি তাঁর অনিষ্টকারীকে দ্বিধাহীন মনে ক্ষমা করে দিয়ে তারই কল্যাণে নিজেকে
নিয়োজিত করেছেন।
উদ্দীপকের আয়েশা বানু স্বার্থসন্ধানী ও
প্রতিহিংসাপরায়ণ দুলাল মিয়ার স্ত্রী। কিন্তু স্বামীর মতো তার মন কলুষিত নয়। সে
ক্ষমাশীলতা ও উদারতায় বিশ্বাস করে। সে চায় তার স্বামী যেন নিজের ভুল বুঝতে পারে।
তাই স্বামীকে সে মহৎ জীবনের সন্ধান দেয়। 'প্রতিদান' কবিতায়ও কবির মাঝে এমন মানসিকতার স্বরূপ লক্ষ করা যায়। 'প্রতিদান' কবিতায় কবি সার্থক জীবনের আদর্শ তুলে
ধরেছেন। প্রতিহিংসা-প্রতিশোধ নয়, ক্ষমাশীল মহৎ জীবনের উপলব্ধিই মানুষকে
সার্থক করে তোলে। যে বিষয়টি উদ্দীপকের আয়েশার মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। সেও নিজের সৎ
উপলব্ধির মধ্য দিয়ে স্বামীর নেতিবাচক স্বভাবে পরিবর্তন আনতে চায়। আয়েশা বিশ্বাস
করে পরার্থপরতার মধ্য দিয়েই কেবল জীবন সার্থক হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের আয়েশা বানু 'প্রতিদান' কবিতার কবি ভাবনার সমার্থক। কেননা, কবির মতো সেও বিশ্বাস করে ক্ষমাশীলতার মাহাস্থ্যে ভাস্কর
ভালোবাসাপূর্ণ মানবসত্তা।
সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯
৯. হিংসা-ক্ষ্যে রহিবে না কেহ কারে করিবে না ঘৃণা
পরস্পর বাঁধি দিন প্রীতির কথনে
বিশ্বজুড়ে এক সুরে বাজিবে গো মিলনের বীণা
মানব জাগিবে নয় জীবন স্পন্দনে।
ক. কবি জসীমউদ্দীনকে ডিলিট উপাধি প্রদান করে কোন বিশ্ববিদ্যালয়?
খ. যে গেছে বুকেতে আঘাত হানিয়া তার লাগি আমি কাঁদি'- কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. 'প্রতিদান' কবিতার কোন দিকটি উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের তাৎপর্য 'প্রতিদান' কবিতার সামগ্রিক চেতনাকে ধারণ করে কি? বিশ্লেষণ করো।