প্রতিদান কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬
৬. নং প্রশ্নের উত্তর
ক. কবি জসীমউদ্দীনের পৈতৃক নিবাস
ফরিদপুরের গোবিন্দপুর গ্রামে।
খ. আলোচ্য চরণের মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন কাছের-দূরের সব মানুষের প্রতিই তিনি সমান ভালোবাসা অনুভব করেন।
যে কবিকে পর করে দিয়েছে তাকেই আপন করতে কবির প্রাণ কাঁদে। কবি সকলকে আপনজন মনে
করেন। তিনি কাউকে শত্রু ভাবতে পারেন না। তাই যারা কবিকে ভুল বুঝে পর করে দেয়, কবি তাদের জন্যই কেঁদে বেড়ান। কারণ তারা তাঁকে পর ভাবলেও কবি তা ভাবেন না। পরম
মমতায় তাদের আপন করতে চান।
গ . 'প্রতিদান' কবিতার অনিষ্টকারীকে ক্ষমা করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার দিকটি উদ্দীপকের গফুর চরিত্রটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'প্রতিদান' কবিতার কবিভাবনায় সহনশীলতা, ক্ষমাশীলতা ও উদারতার দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে। কবির যে অপকার করেছে, তাঁকে নানা বঘ্ননা দিয়েছে কবি তাকেই আপন করে নিতে চেয়েছেন ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে। কারণ কবি বিশ্বাস করেন প্রতিশোধ আর প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসাই পারে পৃথিবীকে সুন্দর করতে।
উদ্দীপকের গফুরের সাথে কালামের সম্পর্ক ভালো না হলেও কালামের বিপদে সে-ই সবার আগে এগিয়ে আসে। গফুর নিজের ত্রাণ থেকে কিছুটা কালামকে দিয়ে সাহায্য করে। এতে তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। 'প্রতিদান' কবিতায় কবি অনিষ্টকারীকে কেবল ক্ষমা করেই নয় বরং প্রতিদান হিসেবে অনিষ্টকারীর উপকার করার মাধ্যমে পৃথিবীকে সুন্দর এবং বাসযোগ্য করতে চেয়েছেন। এ বিষয়টি উদ্দীপকের গফুর চরিত্রের মাঝেও ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, গফুর চরিত্রটি 'প্রতিদান' কবিতার ক্ষমাশীলতা ও পরোপকারিতার আহ্বানকে ধারণ করে।
ঘ. গফুরের কাছ থেকে কালামের সাহায্য প্রাপ্তি মানবতার উদার বাণীকেই সমর্থন করে, যা 'প্রতিদান' কবিতারও মর্মকথা।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন
দেখেছেন যেখানে প্রতিশোধ প্রতিহিংসা থাকবে না। মানুষ মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে আপন
করে নেবে। এমনকি অনিষ্টকারীকেও ক্ষমা করে, তার উপকার করবে
বলেই কবি মনে করেন। কারণ ভালোবাসাপূর্ণ মনোভাবই পৃথিবীকে সুন্দর করে তুলতে পারে।
উদ্দীপকের গফুর ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রাণের
সাহায্য ছাড়া তার সংসার চালানো দায়। তবুও যখন সে জেনেছে তার শত্রু কালাম ত্রাণের
জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও ত্রাণ সংগ্রহ করতে পারেনি, তখন সে সব দ্বন্দ্ব-সংঘাত ভুলে তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। ফলে তাদের
মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। 'প্রতিদান' কবিতায় মানুষের এমন ইতিবাচক মনোভাবকেই উৎসাহিত করা হয়েছে।
'প্রতিদান' কবিতায় মূলত কবি বলতে চেয়েছেন, মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে আপন করা, মানুষ হয়ে
মানুষের উপকার করাই জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। একজন মানুষ যদি অপরাধীও হয় তবুও
তার বিপদে পাশে দাঁড়াতে হবে। এই বিষয়টি উদ্দীপকে লক্ষণীয়। উদ্দীপকে বর্ণিত গফুর
কালামের বিপদের দিনে দুজনের মাঝে থাকা দূরত্বকে ভুলে গিয়েছে। মানবতার উদার আহ্বানে
সাড়া দিয়ে তার কল্যাণে আত্মনিবেদন করেছে। আলোচ্য কবিতায়ও মানবতার জয়গান করা হয়েছে
এবং মানবকল্যাণে আত্মত্যাগকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার মূল চেতনার সাথে সংগতিপূর্ণ।
সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭
৭. উদ্দীপক-১: সন্তানদের পড়ালেখা করানোর জন্য ২৬ বছর চাকরি করে গেছেন। নিজে
টাকা জমাননি। পড়ালেখা শেষে সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় পাঠিয়েছেন লন্ডনে। সেখানে
উচ্চশিক্ষা শেষে বড়ো ছেলে ডাক্তারি করছে। মেয়েও লন্ডনে ৭ বছর চাকরি করছে। কিন্তু
তবুও শেষ বয়সে ঠাই হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে। নিজের বেদনা ঢেকে বৃদ্ধা মা বলেন, 'আমি কেমন আছি সেটা দেখার বিষয় না, আমি কেমন আছি
এটাও বড়ো ব্যাপার না। আমি সবসময় দোয়া করব আমার সন্তানেরা যেন দুধে-ভাতে থাকে।'
উদ্দীপক-২: প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের অবস্থা ছিল শোচনীয়। তখন গোত্রে গোত্রে
মারামারি ছিল নিত্য ঘটনা। এক গোত্রের কেউ অন্য গোত্রের কারো দ্বারা আক্রান্ত হলে
সেই মারামারি বংশ পরম্পরায় চলে আসত। এখনই সময়ে আবির্ভাব ঘটে মহানবি হজরত মুহম্মদ
(সা.) এর। তিনি ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে শান্তির বার্তা পৌঁছে দেন সকলের কাছে।
ফলে আরব অঞ্চলে সৃষ্টি হয় প্রীতিময় পরিবেশ।
ক. কবি কোথায় আঘাত পেয়েছেন?
খ. 'প্রতিদান' কবিতায় ভালোবাসাপূর্ণ মানুষ কামনা করা
হয়েছে কেন?
গ. উদ্দীপক-১ 'প্রতিদান' কবিতার সঙ্গে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপক-২ 'প্রতিদান' কবিতার মূলভাবকে ধারণ করতে পেরেছে কি? তোমার মতামত
দাও।
নং প্রশ্নের উত্তর
ক. কবি বুকে আঘাত পেয়েছেন।
খ. ভালোবাসাপূর্ণ মানুষ সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী নির্মাণ করতে পারে বলে কবিতায়
এমন মানুষের কামনা করা হয়েছে।
প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণ মানুষেরা কখনো অন্যের ভালো করতে পারে না। বরং
তাদের দ্বারা সমাজের অমঙ্গল আর অনিষ্ট হয়। অন্যদিকে ভালোবাসাপূর্ণ মানুষ সহজেই
পরকে আপন করতে পারে। তারা অন্যের দুঃখে সহায় হতে পারে। নিজেদের মনের সৌন্দর্য দিয়ে
পৃথিবীকে নতুন করে সাজাতে পারে। তাই পৃথিবীতে ভালোবাসাপূর্ণ মানুষকেই কবি
আকাঙ্ক্ষা করেছেন।
গ. ক্ষমাশীলতার প্রেক্ষিতে উদ্দীপক-১ 'প্রতিদান' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'প্রতিদান' কবিতায় কবি ক্ষমাশীলতার কথা বলেছেন। তিনি অনিষ্টকারীকে ক্ষমা করার পাশাপাশি তার উপকার করতে চেয়েছেন। কবির প্রত্যাশা সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী বিনির্মাণ। আর ক্ষমাশীলতাই পারে এই পথে মানুষকে এগিয়ে নিতে। শত্রুকে ক্ষমা করে দিয়ে তার উপকার করলে প্রীতিময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ফলে সমাজে বৈষম্য দূরীভূত হয়। আলোচ্য কবিতায় এই বিষয়টিই প্রাধান্য পেয়েছে। উদ্দীপক-১-এ বৃদ্ধা মায়ের মধ্যে ক্ষমাশীলতার উৎকৃষ্ট নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছে। তিনি সারাজীবন সন্তানদের জন্য নিজের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিলেও শেষ বয়সে তাঁর ঠাঁই হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে। তারপরও মা তাঁর সন্তানদের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছেন। সন্তানের সুখই তাঁর সুখ। তাইতো বৃদ্ধাশ্রমে বসেও তিনি নিজের সন্তানদের দুধে-ভাতে থাকার কামনা করেছেন। আর এ দিকটিই উদ্দীপক-১-কে 'প্রতিদান' কবিতার যঙ্গে সাদৃশ্যময় করে তুলেছে।