প্রতিদান কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ( ৫,৬)/ protidan CQ 5&6

 



প্রতিদান কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন-৫

কবিতায় কবির ভাবনায় এই বিষয়টিই ফুটে উঠেছে। কবি অকল্যাপের প্রতিদানস্বরূপ কল্যাণ দিয়ে পৃথিবীতে শান্তির আকাঙ্ক্ষা করেছেন। তিনি বলতে চেয়েছেন হিংসার জবাবে হিংসা প্রদর্শন করলে পৃথিবীতে অস্থিরতা আরও বাড়বে। এর বিপরীতে প্রীতি পরিচয় দিলে সুদিন একদিন আসবেই। উদ্দীপকের বজলু ও মতিন মণ্ডলের দৃষ্টান্তে বিষয়টি স্পষ্টতা লাভ করেছে। তাই বলা যায়, মতিন মণ্ডলের মতো প্রত্যেকের মানসিক পরিবর্তনই পারে পৃথিবীকে অধিক সুন্দর ও নিরাপদ রাখতে। সাহার বানু একজন স্কুলশিক্ষিকা। তাছাড়া গ্রামের নানা উন্নয়নমূলক কাজের সাথে তিনি যুক্ত। গ্রামের মানুষের বিপদের দিনে তিনি সবসময় পাশে দাঁড়ান। কিন্তু তার প্রতিবেশী আফজাল হোসেন তাঁকে সহ্য করতে পারেন না এবং নানাভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। তবে স্কুলশিক্ষিকা সাহার বানু কখনোই আফজাল হোসেনকে নিজের শত্রু ভাবেন না। বরং তার বিপদের দিনেও সাহার বানু সবার আগে এগিয়ে আসেন।

ক. জসীমউদদীন কী হিসেবে সমধিক পরিচিত?

খ. যে মোরে করিল পথের বিবাগী- পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি - ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের আফজাল চরিত্রের সাথে প্রতিদান কবিতার বৈপরীত্য কোথায়? আলোচনা করো।

ঘ. 'সাহার বানু যেন কবি ভাবনার প্রতিচ্ছবি'- উক্তিটি যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

 ৫ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. জসীমউদ্দীন 'পল্লিকবিহিসেবে সমধিক পরিচিত।

খ. যে মোরে করিল পথের বিবাগী পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি'- পঙক্তির মধ্য দিয়ে কবি পরার্থপরতার দিকটি তুলে ধরেছেন।

কবি বিশ্বাস করেন প্রতিহিংসা আর প্রতিশোধের মনোভাব বর্জন করে পরার্থপরতার মধ্যেই প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা লাভ করা সম্ভব। তাই যে কবিকে পথের বিবাগী করেছে কবি তার জন্যই পথে পথে ঘোরেন। অর্থাৎ অনিষ্টকারীর মঙ্গল কামনায় কবি নিজেকে নিবেদন করেন। অপকারীর উপকার করার মাধ্যমে তার মাঝে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই কবির লক্ষ্য।

গ. 'প্রতিদান' কবিতায় স্বার্থত্যাগী পরার্থপরতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে কিন্তু উদ্দীপকের আফজাল হোসেনের মধ্য দিয়ে সংকীর্ণ মনের পরিচয় পাওয়া যায়।

'প্রতিদান' কবিতায় সমাজ-সংসারে বিদ্যমান বিভেদ-হিংসা-হানাহানি

দ্বারা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কবির কণ্ঠে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে ব্যস্ত হয়েছে প্রীতিময় এক পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা। কবি অনিষ্টকারীকে কেবল ক্ষমা করেই ক্ষান্ত হননি, বরং প্রতিদন দিয়েছেন তার উপকার করে।

উদ্দীপকের আফজাল হোসেন একজন সংকীর্ণ মনের মানুষ। তিনি আদর্শ স্কুলশিক্ষিকা সাহার বানুর মানবহিতৈষী কর্মকাণ্ড সহ্য করতে পারেন না এবং তাঁর ক্ষতিসাধন করতে চান। অথচ সাহার বানু একজন মহৎ হৃদয়ের মানুষ। তিনি গ্রামের মানুষদের সহায়তায় সবসময়ই এগিয়ে আসেন। কিন্তু আফজাল হোসেন সাহার বানুর ভালো কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ান। গ্রামের লোকজন সাহার বানুর ওপর নির্ভর করে, এই বিষয়টি আফজাল হোসেনের সহ্য হয় না। বিভিন্নভাবে তিনি সাজার বানুর ক্ষতি করতে চান। তাই 'প্রতিদান' কবিতায় মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শনের যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তা উদ্দীপকের আফজাল হোসেনের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।

ঘ. দায়িত্বশীলতা ও উদার মানসিকতার জন্য সাহার বানু কবি ভাবনার প্রতিচ্ছবি।

'প্রতিদান' কবিতায় কবি পরার্থপরতার মধ্য দিয়ে মানুষের জন্য নিজেকে নিবেদন করেছেন। তিনি সমাজে বিদ্যমান বিভেদ-হিংস-হানাহানিতে বিশ্বাস করেন না। তাঁর কাছে ভালোবাসাই পরম সত্য। তাই তিনি অনিষ্টকারীকেও দ্বিধাহীনভাবে ক্ষমা করেছেন। অনিষ্টকারীর উপকার করে মহৎ মনের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, ভালোবাসাই পারে পৃথিবীকে সুন্দর ও নিরাপদ বাসস্থানে পরিণত করতে। উদ্দীপকের সাহার বানু একজন পরোপকারী স্কুলশিক্ষিকা। তিনি পেশাগত জীবনের বাইরে নানা উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। গ্রামের মানুষদের সুখে-দুঃখে তিনি সবসময় এগিয়ে আসেন। তাদের জন্য কাজ করাকেই তিনি জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছেন। এমনকি তাঁর অনিষ্টকারী আফজাল হোসেনকে সাহায্য করতেও এতটুকু কার্পণ্য করেন না তিনি। আফজাল হোসেন তাঁর ক্ষতি চাইলেও তিনি আফজাল হোসেনের জন্য মঙ্গল কামনা করেন। এমন মনোভাবই 'প্রতিদান' কবিতার মূলকথা।

'প্রতিদান' কবিতায় কবির ভাবনায় স্বার্থহীন মহান হৃদয়ের সন্ধান পাওয়া যায়, যে সহজেই অনিষ্টকারীকে ক্ষমা করে তাকে আমি করতে পারে। তেমনি উদ্দীপকের সাহার বানু ক্ষমাশীল মহৎ মনের মানুষ। আফজাল হোসেন তাঁর ক্ষতি করতে ব্যস্ত থাকলেও তিনি তাঁকে ক্ষমা করে তাঁর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তাছাড়া গ্রামের উন্নয়নে এবং মানুষের উপকারে তিনি সব সময় ব্যস্ত থাকেন। অর্থাৎ উদ্দীপকের সাহার বানু ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করে মানবতার জয়গানকে উর্ধ্বে তুলে ধরতেই সচেষ্ট। 'প্রতিদান' কবিতায়ও কবির এমন মহৎ আকাঙ্ক্ষার পরিচয় মেলে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সাহার বানু যেন 'প্রতিদান' কবিতার কবি ভাবনার প্রতিচ্ছবি।

৬. সম্প্রতি আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় আম্পান লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেছে রূপপুর গ্রাম। কালাম ও গম্বুর দুজনই এই গ্রামের বাসিন্দা। কিন্তু সীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে দ্বন্‌দ্ব-সংঘাত লেগেই আছে। গত কয়েক দিন থেকেই তারা ত্রাণের আশায় ইউনিয়ন পরিষদে খোজখবর করছিল। অবশেষে গফুর ত্রাণের বস্তা পেলেও ঝালাম কোনো ত্রাণ পেল না। বিষয়টি জানতে পেরে গফুর তার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে সো। সে নিজের ত্রাণের কিছু অংশ কালামকে দেয়। এতে তাদের মধ্যে শত্রুতার পরিবর্তে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়।

ক. কবি জসীমউদ্দীনের পৈতৃক নিবাস কোথায়?

খ. "আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর' বলতে কবি খ কী বোঝাতে চেয়েছেন।

গ. উদ্দীপকের গফুর চরিত্রটি 'প্রতিদান' কবিতার কোন দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. 'গফুরের কালামকে সাহায্য করা 'প্রতিদান' কবিতার চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।'- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।           

প্রশ্ন ৬ এর উত্তর

Post a Comment

Previous Post Next Post