‘আমার পথ’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম
এমন এক আমি’র আগমন প্রত্যাশা করেছেন যার পথ সত্যের পথ, সত্য
প্রকাশে তিনি নির্ভীক, অসংকোচ । তার এ ভাবনা সত্যপথের
পথিকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন ।তিনি প্রতিটি মানুষকে পূর্ণ “আমি” করতে
চেয়েছেন। আর এভাবে প্রত্যেককে সংযোগ করে “আমরা” হয়ে উঠতে চেয়েছেন ।
কবি ভগ্ন আত্মবিশ্বাসের পরিবর্তে
দাম্ভিক হতে চান । কারণ, তাঁর বিশ্বাস সত্যের
দম্ভ যাদের আছে, তাদের জন্য অসাধ্য সাধন করা কঠিন কাজ নয়।
তিনি ভুল করতে রাজি আছেন, কিন্ত ভণ্ডামি করতে রাজি নন । তার
কাছে নিজেকে জানাই হল সত্যকে জানা।
নজরুলের এই “আমি সত্তা” মিথ্যার ভয়কে
জয় করে সত্যের আদলে নিজেকে চিনে নিতে সাহায্য করে। নজরুল বলেছেন সুস্পষ্টভাবে
নিজের বিশ্বাস আর সত্যকে প্রকাশ করতে না জানলে তৈরি হয় পরনির্ভরতা।
আর এই সত্যকে জানার মাধ্যমে মানুষ
দাঁড়াতে পারে তার অস্তিত্বের ভিত্তিমূলে।
শিক্ষার লক্ষ্য হচ্ছে জ্ঞানচর্চা ও
মনুষ্যত্বের বিকাশ সাধন। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার লক্ষ্যে পৌছানোর জন্যে
শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার আগ্রহ কম। আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্যে তারা নিজেদের যোগ্য
করে গড়ে তোলে না। তাই আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্যে তাদের খুঁটির জোরের আশ্রয় নিতে হয়।
ফলে জ্ঞানার্জনের আনন্দ থেকে তারা দূরে সরে পড়ে। এভাবে তারা নিজেদের ওপর আস্থা
হারিয়ে ফেলে। পরিণতিতে তাদের মধ্যে জন্ম নেয় হতাশা ও পরনির্ভরশীলতা।