HSC ICT Chapter 1 Note (PDF Download) CQ-1Ans.

 

১. নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক.বায়োইনফরম্যাটিক্স এমন একটি প্রযুক্তি বা ফলিত গণিত, তথ্যবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রসায়ন এবং জৈব রসায়ন ব্যবহার করলে জীববিজ্ঞানের সমাধান করা যায়।

খ. হ্যাকিং এর সাথে নৈতিকতার সম্পর্ক নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-

ইন্টারনেট ব্যবহার করে অন্যের কম্পিউটার সিস্টেমে বা ওয়েবসাইটে অবৈধভাবে প্রবেশ করে পুরো নিয়ন্ত্রণে নেয়াকে হ্যাকিং বলে। নৈতিক মূল্যবোধ হলো সুনির্দিষ্ট কিছু নৈতিক ধারণা। যা মানুষ নিজের ভিতর ধারণ করে এবং এগুলো সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের দ্বারা অতিমাত্রায় প্রভাবিত হয়। হ্যাকিং প্রতিরোধে ১৯৯২ সালে কম্পিউটার এথিকস ইনস্টিটিউট কম্পিউটার এথিকস এর বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা তৈরি করে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১. অন্যের ক্ষতি করার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার না করা।

২. অন্যের কম্পিউটার এর ডেটার উপর নজরদারি না করা।

৩. অনুমতি ব্যতিরেকে অন্যের কম্পিউটার রিসোর্স ব্যবহার না করা।

৪. অন্যের বুদ্ধিদীপ্ত বা গবেষণালব্ধ ফলাফলকে নিজের মালিকানা বলে দাবি না করা।

গ. রহিমের থিসিসের কাজটি কেন শিক্ষক কর্তৃক গৃহীত হলো না তা নিচে আলোচনা করা হলো-

নৈতিক মূল্যবোধ হলো সুনির্দিষ্ট কিছু নৈতিক ধারণা, যা মানুষ নিজের ভিতর ধারণ করে এবং এগুলো কারো সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের দ্বারা অতিমাত্রায় প্রভাবিত হয়। রহিম তার থিসিস পেপার প্রস্তুত করার জন্য ইন্টারনেট থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন লাইব্রেরি থেকে ও ওয়েবসাইট হতে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তা কোনরূপ পরিবর্তন না করে তার অ্যাসাইনমেন্টে সংযোজন করে। রহিম অন্যের লেখা কপি করে নিজের নামে প্রকাশ করেছেন। যা প্লেজারিজম নামে পরিচিতি। এটি একটি অনৈতিক কর্মকান্ড।

ঘ .তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নৈতিকতার বিচার এ রহিমের আচরণ সম্পূর্ণ নৈতিকতা বিরোধী। তাই তার অ্যাসাইনমেন্ট শিক্ষকের নিকট গৃহীত হলো না।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নৈতিকতার বিচার এ রহিমের আচরণ সম্পূর্ণ নৈতিকতা বিরোধী। তাই তার অ্যাসাইনমেন্ট শিক্ষকের নিকট গৃহীত হয়নি। ফলে রহিমের পরবর্তী করণীয় কী তা নিচে উল্লেখ করা হলো-

ক. তার থিসিস পেপার এ অনুমতি ব্যতিরেকে অন্যের কম্পিউটার রিসোর্স ব্যবহার না করা।

খ. অন্যের বুদ্ধিদীপ্ত বা গবেষণালব্ধ ফলাফলকে নিজের মালিকানা বলে দাবি না করা।

গ. ইন্টারনেট থেকে কোন তথ্য হুবহু থিসিস পেপারে অন্তর্ভুক্ত না করা 

ঘ. ইন্টারনেট থেকে কপিকৃত তথ্য কিছুটা পরিবর্তন করে থিসিস পেপারে অন্তর্ভুক্ত করা. ইন্টারনেট থেকে কপিকৃত তথ্যগুলোর উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়া 

ঙ. ইন্টারনেট থেকে কপিকৃত তথ্যগুলোর উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়া 

চ. থিসিস পেপারে অন্তর্ভুক্ত অন্যের তথ্য নিজের বলে দাবি না করা। এই সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করলে রহিম সাহেবের থিসিস পেপার তার শিক্ষকের নিকট গৃহীত হবে বলে আমি মনে করি।

২. নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. যে প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা ও বৈধতা যাচাই, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, আধুনিকীকরণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয় তাকে তথ্য প্রযুক্তি বা ইনফরমেশন টেকনোলজি সংক্ষেপে আইটি (IT) বলা হয়। ডেটা কমিউনিকেশন ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিকে যোগাযোগ প্রযুক্তি বা কমিউনিকেশন টেকনোলজি বলা হয়। এটি একটি আরেকটির পরিপূরক। এ দুটি ব্যবস্থার সমন্বয়কে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা ICT বলা হয়।

খ. বিশ্বগ্রাম হচ্ছে এমন একটি সামাজিক বা সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা, যেখানে পৃথিবীর সকল মানুষই একটি একক সমাজে বসবাস করে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে পারস্পরিক চিন্তা চেতনা, অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি কৃষ্টি ইত্যাদি বিনিময় করতে পারে ও একে অপরকে সেবা করতে পারে।

বিশ্বগ্রাম তৈরির প্রধান কারণ হচ্ছে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ। আর এ যোগাযোগ মূলত ইলেকট্রনিক যোগাযোগ বা ইন্টারনেট। ফলে বলা হয়ে থাকে কানেক্টিভিটিই হচ্ছে বিশ্বগ্রামের মেরুদন্ড।

গ. ড. মাকসুদ সাহেবের গবেষণায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। জিন প্রকৌশল বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে বংশগতির প্রযুক্তিবিদ্যা।

যে পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো জীবের জিনোমের মধ্যে নতুন জিন যোগ করা বা কোনো জিন অপসারণ করা বা পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয়, সে পদ্ধতিকে জিন প্রকৌশল বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলা হয়।

এক্ষেত্রে ড. মাকসুদ সাহেব গবেষণায় থাকাকালীন অবস্থায় বীজের গবেষণা কাজে বায়োইনফরমেটিক্সকে কাজে লাগিয়ে বীজের জিনোম সিকুয়েন্স বা জিনোম কোড সম্পর্কে ধারনা পেয়েছেন। পরবর্তীতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে বীজের জীনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে নতুন জাতের উন্নতমানের বীজ উৎপাদন করেছেন যা বাংলাদেশ কৃষি অধিদপ্তর কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করছে এবং কৃষক নতুন জাতের বীজ থেকে ধানের বাম্পার ফলন পেয়েছে। ফলে খাদ্য ঘাটতি পূরণে ড. মাকসুদ সাহেবের ব্যবহৃত প্রযুক্তি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং খুবই ফলপ্রসূ। উন্নত বীজ উৎপাদন ছাড়াও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। যেমন: বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব থেকে তৈরি হচ্ছে জীবন

রক্ষাকারী ঔষধ। মানুষের বিভিন্ন ধরনের রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কৃষিবিজ্ঞানিরা অধিক ফলনশীল উন্নতমানের খাদ্যদ্রব্য (ধান, মটর,

শিম ইত্যাদি) উৎপাদন করছে।

নানা ধরনের বিষাক্ত ও ক্ষতিকর পদার্থগুলো নষ্ট করে ফেলা যাচ্ছে।

ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অপরাধি সনাক্তকরণ এবং সন্তানের পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নির্ণয় করা যায়।

টিস্যুকালচার পদ্ধতিতে পাতা থেকে গাছ তৈরি অথবা প্রাণীদেহের বিশেষ কোষগুচ্ছ থেকে কোনো বিশেষ অঙ্গ তৈরির কাজে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

রিকম্বিনেট ডিএনএ তৈরি করার মাধ্যমে প্রয়োজন মতো ও পরিমাণ মতো বিশুদ্ধ মানব ইনসুলিন ও মানুষের বৃদ্ধিনিয়ন্ত্রনকারী হরমোন উৎপাদন করা যাচেছ।

ঘ. পেটেন্ট দাবি কারির দাবি সম্পূর্ণরূপে অনৈতিক। প্রথমত এটি প্লেজারিজমের ইঙ্গিত দেয়। প্লেজারিজম হলো অন্যের লেখা বা গবেষণালব্ধ তথ্য নিজের নামে চালিয়ে দেয়া। ইন্টারনেটে পৃথিবীর প্রায় সব বিষয়েই কোনো না কোনো তথ্য আছে। এসব তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রকৃত তথ্য দাতার অবদান স্বীকার করা না হলে তা প্লেজারিজমের মধ্যে পড়বে। তথ্যসূত্র উল্লেখ ব্যতিত কোন ছবি, অডিও, ভিডিও এবং তথ্য ব্যবহার করা একটি অন্যায় কাজ।

তথ্যের অননুমোদিত ব্যবহার মারাত্মকভাবে ব্যক্তির প্রাইভেসিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একইসাথে গবেষণালব্ধ আবিষ্কারের পেটেন্ট রাষ্ট্রিয়ভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এক্ষেত্রে প্যাটেন্টের মেধাস্বত্ত আইনি ব্যবস্থার মাধ্যম কপিরাইট করিয়ে রাখলে পরবর্তীতে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয় না।

নৈতিকতা হলো মানুষের কাজ কর্ম, আচার ব্যবহারের সেই মূলনীতি যার ওপর ভিত্তি করে মানুষ একটি কাজের ভালো বা মন্দ দিক বিচার বিশ্লেষণ করতে পারে। সকল ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি নতুন মাত্রা থাকে যা অবশ্যই বিবেচনায় আনতে হবে। নৈতিকতা মানুষকে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে পারে। কী করা উচিত, কী করা অনুচিত তা নৈতিকতার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।

যে কোনো প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ব্যক্তির নৈতিকতার বিষয়ে নিম্নলিখিত নিয়মসমূহ মেনে চলা উচিত:

1. অনুমতি ব্যতিত অন্যের ফাইল, গোপন তথ্য সংগ্রহ না করা।

ii. বিনা অনুমতিতে তথ্য সংক্রান্ত রিসোর্স ব্যবহার না করা। অন্যের বুদ্ধিবৃত্তি সংক্রান্ত ফলাফল আত্মসাৎ না করা।

iii.

৩. নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. ইনফরমেশন সিস্টেম বা তথ্য ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিকে তথ্য প্রযুক্তি বলা হয়।

খ. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবের এককোষ থেকে অন্য জীবে স্থানান্তর করে রিকম্বিনেট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে মানব দেহের জন্য ইনসুলিন তৈরি হয় যা ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তি শরীরে গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। সুতরাং বলা যায় তথ্য প্রযুক্তির সাম্প্রতিক প্রবণতায় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডায়াবেটিস রোগীরা উপকৃত হচ্ছে।

গ. উদ্দীপকে গ স্থানে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হচ্ছে ভার্চুয়াল রিয়েরিটি। প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনা উদ্রেকারী বিজ্ঞাননির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো সফটওয়্যার নির্মিত একটি কাল্পনিক পরিবেশ যা ব্যববহারকারীর কাছে বাস্তব জগৎ হিসেবে বিবেচিত হয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হচ্ছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত সিমেন্স থাকে মডেলিং ও অনুরূপ বিদ্যার প্রযোগের মাধ্যমে মানুষ কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক ইন্দ্রিয় যাহা পরিবেশের সাথে সংযোগ স্থাপন বা উপলব্দি করতে পারে। উদ্দীপকে বাবু '' স্থানে গিয়ে বিশেষ ধরনের হেলমেট ও চশমা পরে অনেক মজা করে ড্রাইভিং করে।

ঘ. বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে আঙ্গুলের ছাপ, হ্যান্ড জিওমেট্রি মুখ-মন্ডল, চোখের রেটিনা স্বাক্ষর, কন্ঠস্বর ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে অদ্বিতীয়ভাবে চিহ্নিত করা হয়।

উদ্দীপকে বাবু তার বন্ধু নিয়ে ক, স্থানে গেল এবং সেখানে প্রবেশের জন্য আঙ্গুল ব্যবহৃত হলো। এরপর তারা খ স্থানে প্রবেশের জন্য সেখানে চোখ ব্যবহৃত হলো। এখানে ক ও খ উভয় স্থানেই বায়োমেট্রিক্স ব্যবহূত হয়েছে। '' স্থানে ব্যবহৃত চোখের রোটিনা দ্বারা নিরাপত্তায় ব্যবহৃত মেশিন অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাছাড়া এই পদ্ধতিতে ডেটা রিকগনিশন ও ভেরিফিকেশন করা ঝামেলাপূর্ণ। অন্যদিকে '' স্থানে ব্যবহৃত আঙ্গুলের ছাপ নেওয়ার মেশিনটি কম দামী ও সহজ লভ্য। এটির ডেটা রিকগনিশন ও ভেরিফিকেশন করা অত্যন্ত সহজ। তাই ক স্থানে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি অধিকতর ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

৪. নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. মানুষের চিন্তাভাবনাগুলোকে কৃত্রিম উপায়ে কম্পিউটার বা কম্পিউটার প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রের মাধ্যমে রূপ দেওয়ার ব্যবস্থাকে Artificial Intellegence বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলা হয়।

খ. যে পদ্ধতির মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজনে কোনো জীবের জিনোমের মধ্যে নতুন জিন যোগ করে বা কোনো জিন অপসারণ করে বা পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে জিন বেশি ব্যবহার উপযোগী করা হয়। সেই পদ্ধতিকে জিন প্রকৌশল বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলা হয়।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে কোনো জীব বা খাদ্য (ধান, মটর, শিম, টমেটো) থেকে উন্নতমানের জীবে বা চারা উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন নতুন জাতের চারা উৎপাদন করা যাচ্ছে। উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন জীব উৎপন্ন করা যাচ্ছে।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত দরজায় যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো বায়োমেট্রিক্স। বায়োমেট্রিক্স হচ্ছে এক ধরনের কৌশল বা প্রযুক্তি যার মাধ্যমে মানুষের শারীরিক কাঠামো, আচার-আচরণ, বৈশিষ্ট্য, গুণাগুণ, ব্যক্তিত্ব প্রভৃতি দ্বারা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত বা শনাক্ত করা যায়। বায়োমেট্রিক্স এর মূল কাজই হচ্ছে প্রতিটি মানুষের যে অনন্য বৈশিষ্ট্য আছে তাকে খুঁজে বের করা এবং প্রতিটি মানুষকে সেই বৈশিষ্ট্যের আলোকে পৃথক পৃথকভাবে চিহ্নিত করতে সাহায্য করা। বায়োমেট্রিক্স এর সুবিধা ও অসুবিধা নিম্নে দেওয়া হলো।

বায়োমেট্রিক্স-এর সুবিধা:

১. যেহেতু সিস্টেমটি অনুভূতিহীন, সুতরাং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই এবং নিরাপত্তাও নিখুঁত। 

. প্রাথমিক খরচ বেশি হলেও সার্বিকভাবে খরচ কম। 

বায়োমেট্রিক্স-এর অসুবিধা:

. আলোর প্রতিফলন মুখমন্ডলের ছবির ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে, ফলে ১ মাঝে মাঝে এ সিস্টেমটি মুখমন্ডল চিনতে পারে না।

২. শারীরিক ফিটনেসের ওপর কণ্ঠস্বরের তীব্রতার ওঠানামা হয়। ফলে কোনো কোনো সময় সিস্টেমটি কণ্ঠস্বর ঠিকমতো চিনতে পারে না। 

৩. প্রতিটি স্বাক্ষর একই রকম হয় না ফলে এক্ষেত্রেও সমস্যা হয়।

৪ . ইনস্টলেশন খরচ বেশি।

৫. সিস্টেমটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য দক্ষ লোকের প্রয়োজন।

ঘ . উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রযুক্তিটি হলো ভিডিও কনফারেন্সিং। টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই বা ততোধিক ভৌগলিক অবস্থানে অবস্থানরত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে কথোপকথন ও পরস্পরকে দেখতে পারার মাধ্যমে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাকে ভিডিও কনফারেন্সিং বলে। এটি একটি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় এমনকি এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেকোন ব্যক্তি ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্স করতে পারে। শিক্ষক-ছাত্র, ডাক্তার রোগী, রাজনীতিবিদ জনগণ, গবেষক এমনকি পারিবারিক আত্নীয়, স্বজনের সাথে যোগাযোগ এর এটি একটি জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম। টেলিমেডিসিন সার্ভিসে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ডাক্তার ও রোগী পরস্পরের সম্মুখীন হয়ে একে অন্যকে দেখে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারেন। তাছাড়া অপারেশনের মতো জটিল কাজেও ভিডিও কনফারেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। যেহেতু এই প্রযুক্তিতে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের মধ্যে কথোপকথন ও পরস্পরকে দেখতে পারে ফলে অনুভুতি ও আবেগ এখানে প্রবলভাবে কাজ করে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন স্থানের ছবি এখানে জীবন্তভাবে দেখতে পাওয়া যায়। আর এটা সম্ভব শুধু এটি প্রযুক্তি ব্যবহার করেই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের উল্লেখিত প্রযুক্তিটি বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে- উক্তিটি যথার্থ।

৫. নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. ঘর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে বংশগতির প্রযুক্তিবিদ্যা। যে পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো জীবের জিনোমের মধ্যে নতুন জিন যোগ করা বা কোনো জিন অপসারণ করা বা পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয়, সে পদ্ধতিকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলা হয়।

খ. ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করার পদ্ধতিকে ই-কমার্স বলা হয়। ই-কমার্সের কারণে বর্তমানে ঘরে বসেই পণ্য ক্রয় ও বিক্রয় করা যায়। ই-কমার্স সাইটগুলোতে পণ্যের বিবরণ ও মূল্য দেয়া থাকে। যে কেউ ঘরে বসেই পণ্য অর্ডার করতে পারে এবং ক্রেডিট কার্ড অথবা ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) পদ্ধতিতে পণ্য ক্রয় করতে পারে।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ পদ্ধতি টেলিমেডিসিন নামে পরিচিত। ভিডিও কনফারেন্সিং, ইন্টারনেট ইত্যাদি প্রযুক্তির সাহায্যে বহু দূরবর্তী স্থান থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণ, রোগীর সাথে মতবিনিময় ইত্যাদি কার্যক্রম বর্তমানে বিশ্বগ্রামের কারণে শুরু হয়েছে। এ চিকিৎসা পদ্ধতিকেই টেলিমেডিসিন বলা হয়। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এক দেশে অবস্থান করে অন্য দেশের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করা যায়। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীরা ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবহার করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডাক্তারদের নিকট থেকে টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করতে পারে। সরকারের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানীয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট জটিলতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে অনলাইনে বা মোবাইল প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দূরবর্তী স্থানে দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া যায়। কারণ স্থানীয় পর্যায়ে সকল সুযোগ সুবিধা যেমন- প্রযুক্তিগত সুবিধা, দক্ষতা নাও থাকতে পারে কিন্তু বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে সব প্রযুক্তির অধিক্য থাকায় সহজেই জটিল রোগের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব।

ঘ. উদ্দিপকে উল্লেখিত গ্রামের বেকার যুবকেরা ইউনিয়ন পরিষদ তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ঘরে বসে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। কম্পিউটারে প্রশিক্ষিত হওয়ার কারণে গ্রামের যুবকেরা আজ স্বাবলম্বী। উল্লেখিত অর্থ উপার্জন পদ্ধতিকে আউটসোর্সিং বলা হয়। কোনো নির্দিষ্ট কাজ নিজেরা না করে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন্যকে দিয়ে করিয়ে নেওয়াকে আউটসোর্সিং বলে। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং পেশায় এসে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করার মাধ্যমে সুমির মতো দেশের লাখ লাখ শিক্ষিত ও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন বেকার যুবক-যুবতি বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারছে। নিজের বাড়িতে বসে বা ঘরে বসে নারী-পুরুষ সকলেই এমনকি অভিজ্ঞ গৃহিনীরাও নিজের পছন্দমতো কাজ করতে পারছে। এদের মাধ্যমে দেশে আসছে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা যা দেশের অর্থনীতির চাকাকে বেগবান করছে। বিশ্বগ্রামের অনেক অবদানের মধ্যে কর্মসংস্থান অন্যতম। তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের কল্যাণে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। এসব কর্মক্ষেত্রের খবরা-খবর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ ইউনিয়ন পরিষদ তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে গ্রামের যুবসমাজ জানতে পারে। বিশ্বগ্রাম ব্যবস্থার কারণে তথ্যের অবাধে আদান-প্রদান হয়, এতে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হয়। এভাবে উদ্দীপকে বিশ্বগ্রামের কর্মসংস্থান অবদানটি সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

৬. নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. ন্যানোটেকনোলজি হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে ন্যানোমিটার স্কেলে একটি বস্তুকে বা পদার্থকে তার আনবিক পর্যায়ে রেখে নিপুণভাবে ব্যবহার করা যায় অর্থ্যাৎ এর পরিবর্তন, পরিবর্ধন, ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায়।

খ. মানুষের চিন্তা-ভাবনা অথবা বুদ্ধিমত্তার পদ্ধতিটাকে কৃত্রিম উপায়ে প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্র বা কম্পিউটারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাটাই হলো আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমতা। ১৯৫৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের MIT এর অধ্যাপক জন ম্যাককের্থি সর্বপ্রথম আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স শব্দটির সাথে সকলকে পরিচয় করিয়ে দেন। ইন্টেলিজেন্স বা বুদ্ধিমত্তা শব্দটি কতগুলো বিশেষ গুণের সমষ্টিগত রূপ যেমন: কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ধারণা করতে পারা, সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষ নেয়া, কোন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারা, অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারা, ভাষা বুঝতে পারার সক্ষমতা এসবই বুদ্ধিমত্তার অংশ। এ বুদ্ধিমত্তা বা ইন্টেলিজেন্স এর আগে কৃত্রিম শব্দটি তখনই বসানো যায় যখন এ গুণগুলোকে কোনো সিস্টেমের মাঝে সিমুলেট করা সম্ভব হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে তিনটি প্রধান এলাকায় গ্রুপভুক্ত করা যায়। এগুলো হলো-বুদ্ধিভিত্তিক বিজ্ঞান (Cognitive Science), রোবোটিক্স (Robotics), ন্যাচারাল ইন্টারফেস (Natural Interface)

গ. উদ্দিপকে উল্লেখিত সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধিরা ঢাকায় বসেই বাংলাদেশে আগত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাক্ষাৎকার গ্রহণ করছেন। এক্ষেত্রে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে স্বাক্ষাৎকার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

ভিডিও কনফারেন্সং-এর মাধ্যমে দূরে থেকেও অডিও, ভিডিও এর মাধ্যমে ছবি দেখে ও কথা বিনিময় করে আলাপ আলোচনা করা যায়। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কিংবা এক দেশ থেকে আরেক দেশে বিভিন্ন ব্যক্তি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেন। অধিকন্তু ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবস্থায় টেলিভিশনের পর্দায় অংশগ্রহণকারীরা পরস্পরের সম্মুখীন হয়ে একে অন্যকে দেখে কথোপকথনে অংশগ্রহণ করেন। এ ব্যবস্থায় ক্যামেরা থেকে সংগৃহীত ছবি এবং মাইক্রোফোন ও স্পিকার থেকে সংগৃহীত শব্দের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান হয়। এক পাশের ব্যক্তি শব্দ ও ছবির প্রতি উত্তরে অন্য পাশের ব্যক্তির শব্দ ও ছবি প্রেরণের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সিং সম্পন্ন হয়। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের জন্য যে সব উপাদানগুলো প্রয়োজন তা হলো- মাল্টিমিডিয়া কম্পিউটার, ওয়েব ক্যামেরা, ভিডিও ক্যাপচার কার্ড, মডেম ও ইন্টারনেট সংযোগ।

ঘ.  উদ্দীপকে উল্লেখিত নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনায় বায়োমেট্রিক সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। বায়োমেট্রিক্স হচ্ছে ব্যক্তি শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে মানুষের কতগুলো জৈবিক ও আচরণগত বৈশিষ্ট্যকে ব্যবহার করা হয়। জৈবিক বা শারীরিক বৈশিষ্ট্য: ফিংগার প্রিন্ট, হ্যান্ড জিওমেট্রি, আইরিস বা রেটিনা স্ক্যান, ফেইস রিকগনিশন, ডিএনএ। আচরণগত বৈশিষ্ট্য: ভয়েস রিকগনিশন, সিগনেচার ভেরিফিকেশনটাইপিং কি-স্ট্রোক। বায়োমেট্রিক সিস্টেম একটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা। এর জন্য আগে থেকে একটি সফটওয়‍্যার তৈরি করে নিতে হয় এবং যে বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বায়োমেট্রিক ব্যবহার করা হবে তার জন্য উপযুক্ত হার্ডওয়্যার অর্থাৎ স্ক্যানিং ডিভাইস প্রয়োজন হয়। বায়োমেট্রিক সিস্টেম দুটি পর্যায়ে কাজ করে: প্রথমত, কোনো ব্যক্তির বায়োমেট্রিক ডেটা বায়োমেট্রিক ডিভাইস দ্বারা স্ক্যান করে ভেরিফিকেশনের জন্য ডেটাবেজে রেখে দেয়া হয়। দ্বিতীয়ত, ভেরিফিকেশনের সময় উত্ত ব্যক্তির স্ক্যানকৃত বায়োমেট্রিক ডেটা, ডেটাবেজে রক্ষিত ডেটার সাথে মিলিয়ে দেখা হয়। যদি নতুন স্ক্যানকৃত ডেটা, ডেটাবেজে রক্ষিত ডেটার সাথে পুরোপুরি মিলে যায় তাহলে সিস্টেমটি উত্ত ব্যক্তিকে চিনতে পারে। আর না মিললে উক্ত ব্যক্তিকে চিনতে পারেনা।

উদ্দীপকে উল্লেখিত রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ফিংগার প্রিন্ট ব্যবহৃত হচ্ছে যা শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পরে আবার কন্ঠস্বরও রেকর্ড করা হচ্ছে যা আচরণগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পরে। এ দুটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে শারীরিক বৈশিষ্ট্যের বায়োমেট্রিক সিস্টেমে আচরণগত বৈশিষ্ট্যের বায়োমেট্রিক্স সিস্টেম হতে অধিক কার্যকর। কারণ মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যসমূহ সহজে পরিবর্তীত হয় না। পক্ষান্তরে আচরণগত বৈশিষ্ট্যসমূহ পরিবর্তনশীল। সুতরাং বলা যায় উদ্দীপকে উল্লেখিত রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত আঙুলের ছাপ বা ফিংগার প্রিন্ট পদ্ধতির বায়োমেট্রিক্স, কন্ঠস্বরের মাধ্যমে নিবন্ধিত বায়োমেট্রিক সিস্টেমের চেয়ে অধিক কার্যকর।

Post a Comment

Previous Post Next Post