ভিয়েতনাম
দীর্ঘদিন ফরাসিদের অধীনে ছিল। ভিয়েতনামের এক নেতা হোচিমিন এক ভাষণে তাদের অধিকার
রক্ষার জন্য স্বাধীনতার মন্ত্রে ভিয়েতনামবাসীকে উজ্জীবিত করেন এবং যুদ্ধবিধস্ত
দেশ পুনর্গঠনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
ক.তমদ্দুন মজলিস কী?
খ. যুক্তফ্রন্ট কেন
গঠন করা হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের হোচিমিন- ন-এর সঙ্গে সাদৃশ্য আছে এদেশের কোন নেতার যিনি মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. যুদ্ধবিধ্বস্ত
দেশ পুনর্গঠনে উক্ত নেতার উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ মূল্যায়ন কর।
৩ নম্বর সৃজনশীল
প্রশ্নের উত্তর
ক. তমদ্দুন মজলিস
হচ্ছে অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ।
খ. পাকিস্তান
প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগ দীর্ঘদিন নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক
সরকার গঠনের কোনো ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। তাছাড়া প্রাদেশিক সরকার নিয়ে কেন্দ্রীয়
সরকারের টালবাহানা পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই পূর্ব বাংলার
প্রাদেশিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে
যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়।
গ. উদ্দীপকের হোচিমিনের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমানের সাদৃশ্য আছে। যিনি বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে
উজ্জীবিত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি।
তিনি এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভিয়েতনাম যেমন ফরাসিদের
অধীনে ছিল, এ দেশও তেমনি
একসময় পাকিস্তানের অধীনে ছিল। ভিয়েতনামের নেতা হোচিমিন ভাষণের মাধ্যমে দেশবাসীকে
অধিকার সচেতন করেছিলেন। তদ্রূপ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হবার
প্রেরণা পায় ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়। এ ভাষণই
বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা। এরপর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত
স্বাধীনতাকে মূলমন্ত্র ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার বলিষ্ঠ ও আপসহীন নেতৃত্বের গুণে অর্জিত হয়
এদেশের স্বাধীনতা। আর তার দক্ষতার ফসল হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করা। তাই
উদ্দীপকের হোচিমিন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কার্যক্রম পরস্পর
সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. উদ্দীপকে
বঙ্গবন্ধুর কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব
নিয়েই বঙ্গবন্ধুর শাসনামল শুরু হয়েছিল। আর শেষ হয়েছে এক গৌরবময় অর্জনের
মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধু নতুন দেশের প্রথম শাসক হিসেবে যা কিছু অর্জন করেছিলেন দেশের
জন্য, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
১৯৭২ সালে দেশে ফিরে সবার আগে দেশের মূল নিয়ামক সংবিধান রচনায় মনস্থির করেন। এ
লক্ষ্যে তিনি অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন। গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংবিধান
প্রণয়ন কমিটি তৈরি করেন যা দেশকে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান
উপহার দেয়। ইতিহাসে এত দ্রুত সংবিধান রচনার ঘটনা খুবই কম। দেবের সম্পদ বৃদ্ধিতে
অবাঙালি শিল্পপতিদের পরিত্যক্ত কলকারখানা জাতীয়করণ করেন। ফলে শ্রমিকরা রাষ্ট্রীয়
সম্মানজনক অবস্থানে চলে আসে। বঙ্গবন্ধুর অন্যতম অর্জন শিক্ষাখাতে। তিনি প্রাথমিক
বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন ও নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করার মাধ্যমে জাতিকে
সুশিক্ষিত করার প্রকল্প হাতে নেন। এছাড়া অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি
পাঁচসালা পরিকল্পনা ও শোষণহীন সমাজের জন্য দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধুর অন্যতম অর্জন হচ্ছে অনন্য পররাষ্ট্রনীতির ফলে দ্রুততম সময়ে ১৪০টি
দেশের স্বীকৃতি। মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর সহায়তায় মিত্রবাহিনীকে দ্রুত ফিরিয়ে
নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন । আন্তর্জাতিক বিশ্বের বিভিন্ন সংগঠন তথা কমনওয়েলথ ও
জাতিসংঘের সদস্যপদপ্রাপ্তি এবং জাতিসংঘের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ প্রদান বঙ্গবন্ধুর
বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্জন। এসকল অর্জন ব্যতীত সদ্য স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্বের
বুকে মাথা উঁচু করে দাড়ানো সম্ভব ছিল না এবং দেশকে সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে পরিচালনা
করাও সম্ভব হতো না। তাই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর অর্জনসমূহ যথার্থ,
সময়োপযোগী এবং আবশ্যক
ছিল।
