রিয়ার বয়স সতেরো
পেরিয়ে আঠারোয় পড়েছে। ওর সমবয়সি অনেকেই বিয়ে-থা করে রীতিমতো সংসারী। কিন্তু রিয়ার
জন্ম থেকেই হাড় দুটো অসাড় হওয়ায় অন্যদের মতো তার সংসার করা হয়নি। রিয়ার বিধবা মা
সেলিনা বেগম এতে বিচলিত নন। ছোট ছেলে পনেরো বছরে রাতুলের চেয়ে কোনো অংশে রিয়ার
আদর-যতœ তিনি কম করেন না।
পাড়ার দু’একজন অবশ্য রিয়ার বিকাশের পথে জিন-ভূতের আছরকে দায়ী করে। কিন্তু ওসবকে
পাত্তা দেন না সেলিনা বেগম।
ক. সুভা জলকুমারী হলে কী করত?
খ. প্রতাপকে নিতান্ত
অকর্মণ্য লোক কেন বলা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের সেলিনা
বেগম এবং ‘সুভা’ গল্পের সুভার মায়ের বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের রিয়া কি
‘সুভা’ গল্পের সুভা? তোমার উত্তরের
স্বপক্ষে যুক্ত দাও।
ক. সুভা জলকুমারী হলে
জল থেকে সাপের মাথার মণি প্রতাপের জন্য ঘাটে রেখে দিত।
খ. প্রতাপ কাজকর্ম করে সংসারের উন্নতির কোনো
চেষ্টা করছে না বলে তাকে নিতান্ত অকর্মণ্য লোক বলা হয়েছে। ‘সুভা’ গল্পে গোঁসাইদের
ছোট ছেলে প্রতাপ। সংসারের জন্য কাজে তার মন নেই। অকর্মণ্য লোক বলে অনাত্মীয়রা তাকে
নিয়ে নানা ধরনের কাজ করিয়ে নেয়। অলস সময়ে সে ছিপ ফেলে মাছ ধরে। কাজকর্ম করে
সংসারের উন্নতির চেষ্টা করে না বলে প্রতাপকে নিতান্ত অকর্মণ্য লোক বলা হয়েছে।
গ. প্রতিবন্ধী
সন্তানের প্রতি মায়ের দৃষ্টিভঙ্গির দিকটিতে উদ্দীপকের সেলিনা বেগম এবং ‘সুভা’
গল্পের সুভার মায়ের বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ‘সুভা’ গল্পে আমরা দেখতে পাই সুভা
বাক্প্রতিবন্ধী। বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী সন্তানের প্রতি সুভার মা মনে মনে অসন্তুষ্ট।
তিনি সুভাকে নিজের নিয়তির দোষ বলে মনে করেন। সুভাকে তিনি গর্ভের কলঙ্ক মনে করেন
এবং কন্যার এ ত্রুটিকে নিজের লজ্জার কারণ হিসেবে ভাবেন। উদ্দীপকে আমরা ‘সুভা’
গল্পের সুভার মায়ের বিপরীত মানসিকতার দিকটি দেখতে পাই। উদ্দীপকের রিয়ার মা সেলিনা
বেগম প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে মোটেই চিন্তিত নন। বরং অন্য সন্তানের মতোই রিয়ার যতœআত্তি করেন। সমাজের লোকদের নেতিবাচক কথায়
তিনি কর্ণপাত করেন না। দৃষ্টিভঙ্গিগত এ পার্থক্যই উদ্দীপকের সেলিনা বেগম ও ‘সুভা’
গল্পের সভার মায়ের মধ্যে বৈসাদৃশ্য তৈরি করেছে। উত্তরের সারবস্তু: প্রতিবন্ধী
সন্তানের প্রতি সহানুভূতিশীলতায় উদ্দীপকের সেলিনা বেগম এবং ‘সুভা’ গল্পের সুভার মা
বিপরীতমুখী হওয়ায় তাদের মধ্যে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. শারীরিক
প্রতিবন্ধকতায় সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও পরিবারে অবস্থানের ক্ষেত্রে বৈপরীত্য থাকায়
উদ্দীপকের রিয়া ‘সুভা’ গল্পের সুভা নয়। ‘সুভা’ গল্পের সুভা বাকপ্রতিবন্ধী। সে
পিতামাতার কাছে বোঝাস্বরূপ। মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক বিবেচনায় নিজের লজ্জার কারণ মনে
করত। কেউ তার সাথে মিশতে চায় না। সুভাও নিজেকে সবার কাছ থেকে আড়াল করতে চায়।
উদ্দীপকে আমরা ‘সুভা’ গল্পের বিপরীত দিকটি দেখতে পাই। এখানে রিয়া প্রতিবন্ধী হলেও
তার মা তাকে নিয়ে বিচলিত নন। রিয়ার ভাইয়ের মতো রিয়াকেও তিনি সমান আদর-যতœ করেন। পাড়ার লোকজনের বাজে কথায় কান না দিয়ে
রিয়ার মা রিয়াকে সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। উদ্দীপকের রিয়া
ও ‘সুভা’ গল্পের সুভা শারীরিক প্রতিবন্ধী। সমাজের লোকেরা তাদের দুজনকে নিয়েই নানা
নেতিবাচক কথা বলে। তবে সুভার মায়ের মতো রিয়ার মা এসব কথায় কর্ণপাত করেন না। সুভার
মা যেমন সুভাকে নিজের লজ্জার কারণ মনে করেন,
রিয়ার
মা তেমনটি মনে করেন না। বরং ছেলের মতো মেয়েকেও সমান যতেœ মানুষ করেন। মায়ের দৃষ্টিভঙ্গি আর
সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির দিক থেকে উদ্দীপকের রিয়া ‘সুভা’ গল্পের সুভা হয়ে ওঠেনি।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের রিয়া এবং ‘সুভা’ গল্পের সুভা উভয়েই বিশেষ
চাহিদাসম্পন্ন হলেও মর্যাদা প্রাপ্তিতে তারা সমধর্মী না হওয়ায় তারা একে অপরের
পরিপূরক হতে পারেনি।
