২য় অধ্যায় প্রমিত ভাষা ব্যবহার করি
রচনামূলক প্রশ্নের উত্তর
১. জিভের অবস্থানের ভিত্তিতে স্বরধ্বনিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ? উদাহরণসহ লিখ ।
জিভের অবস্থানের ভিত্তিতে স্বরধ্বনি পাঁচ ধরনের হয় । যথা-
সম্মুখ স্বরধ্বনি,পশ্চাৎ স্বরধ্বনি, মধ্য স্বরধ্বনি, উচ্চ স্বরধ্বনি এবংনিম্ন স্বরধ্বনি।
'ই' উচ্চারণের সময়ে জিভ সামনে উঁচু হয়; তাই জিভের অবস্থানের ভিত্তিতে 'ই' সম্মুখ
স্বরধ্বনি। একইভাবে 'এ', 'অ্যা'-এগুলোও সম্মুখ স্বরধ্বনি। আবার 'উ' উচ্চারণের সময়ে জিভ
পিছনে উঁচু হয়; তাই জিভের অবস্থানের ভিত্তিতে 'উ' পশ্চাৎ স্বরধ্বনি। একইভাবে 'ও', 'অ'-
এগুলোও পশ্চাৎ স্বরধ্বনি। 'আ' উচ্চাণের সময়ে জিভের অবস্থান মাঝখানে থাকে; তাই 'আ' মধ্য
স্বরধ্বনি। যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিভ বেশি উঁচু হয়, সেগুলো উচ্চ স্বরধ্বনি। ই, উএ দুটি উচ্চ
স্বরধ্বনি। আবার 'আ' উচ্চারণে জিভ নিচু থাকে; তাই এটি নিম্ন স্বরধ্বনি। বাকি স্বরধ্বনিগুলো
উচ্চারণের সময়ে জিভ একটু উঁচু হয়; তাই এ, অ্যা, অ, ও মধ্য স্বরধ্বনি।
২. ঠোটের অবস্থানের ভিত্তিতে স্বরধ্বনিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ? উদাহরণসহ লিখ ।
ঠোঁটের অবস্থানের ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ধরনের হয় । যথা-
প্রসূত স্বরধ্বনি, গোলাকৃত স্বরধ্বনি ,সংবৃত স্বরধ্বনি এবং বিবৃত স্বরধ্বনি
যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট প্রসারিত হয়, সেগুলোকে বলে প্রসূত স্বরধ্বনি। 'ই', 'এ', 'অ্যা'-এগুলো প্রসূত স্বরধ্বনি।
যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট গোল হয়, সেগুলোকে বলে গোলাকৃত স্বরধ্বনি। 'উ', 'ও', 'অ'-এগুলো গোলাকৃত স্বরধ্বনি।
যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে, সেগুলোকে বলা হয় সংবৃত স্বরধ্বনি। 'ই', 'এ', 'উ', 'ও'- এগুলো সংবৃত স্বরধ্বনি।
আর যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে, সেগুলোকে বলে বিবৃত স্বরধ্বনি। 'অ্যা', 'আ', 'অ' এগুলো বিবৃত স্বরধ্বনি।
৩. প্রমিত ভাষা কাকে বলে ? প্রমিত ভাষা কয় ধরনের ?
অঞ্চলভেদে ভাষার ভিন্ন ভিন্ন রূপ থাকে। ভাষার এইসব রূপকে বলে আঞ্চলিক ভাষা।
ভাষার এই আঞ্চলিক রূপ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগে কিছু সমস্যা তৈরি করে। সেই সমস্যা দূর করার জন্য ভাষার একটি রূপকে প্রমিত হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যাতে সব অঞ্চলের মানুষ তা সহজে বুঝতে পারে। একই কারণে দেশের যাবতীয় আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে, শিক্ষা কার্যক্রমে, দাপ্তরিক কাজে, গণমাধ্যমে, সাহিত্যকর্মে ভাষার প্রমিত রূপ ব্যবহৃত হয়। সকল অঞ্চলের মানুষ সহজে বুঝতে পারে ভাষার এমন রূপের নাম প্রমিত ভাষা।
বাংলা প্রমিত ভাষার দুটি রূপ আছে: কথ্য প্রমিত ও লেখ্য প্রমিত। কথ্য প্রমিত ব্যবহৃত হয় আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলার সময়ে, অন্যদিকে লেখ্য প্রমিত ব্যবহৃত হয় লিখিত যোগাযোগের কাজে।
কবিতা-গল্প-উপন্যাসে কখনো কখনো শব্দের কথ্য প্রমিত রূপ দেখা যায়। তবে আনুষ্ঠানিক গদ্যে শব্দের কথ্য প্রমিত রূপের পরিবর্তে লেখ্য প্রমিত রূপ ব্যবহার করা শ্রেয়। যেমন, শব্দের কথ্য প্রমিত রূপ ধুলো, ফিতে, ভেতর ইত্যাদি। এগুলোর লেখ্য প্রমিত রূপ-ধুলা, ফিতা, ভিতর ইত্যাদি।
৪. ১০টি আঞ্চলিক শব্দকে প্রমিত শব্দে পরিবর্তন করো ।

